22/05/2026
"রাইয়ানের শেষ রক্ষা হলো না, কিন্তু খাদিজা ও শারমিনকে কি আমরা বাঁচাবো না?"
নাম: শারমিন আক্তার
গ্রাম: চাড়াখালী, উপজেলা: জিয়ানগর, জেলা: পিরোজপুর
বর্তমান পরিস্থিতি: চরম দারিদ্র্য, দুই সন্তানের গুরুতর অসুস্থতা (এক সন্তানের মৃত্যু) এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব।
সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি: একটি মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ
গত ২১ মে দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিট। পিরোজপুর সদর হাসপাতালের করিডোর কেঁপে উঠেছিল এক মায়ের বুকফাটা কান্নায়। হামে আক্রান্ত হয়ে মাত্র এক বছর বয়সে মারা গেছে শারমিনের কোলের শিশু রাইয়ান। কিন্তু শারমিনের জগত এখানেই স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপায় নেই; তার ৪ বছরের কন্যা শিশু খাদিজা আক্তারও এখন একই হাসপাতালে হামের সাথে পাঞ্জা লড়ছে। শেষ সম্বল সন্তানকে হারিয়ে মা শারমিন এখন প্রায় পাগলপ্রায়। নিজের ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর সন্তানের চিকিৎসার খরচ—সব মিলিয়ে এক অন্ধকার অতলে দাঁড়িয়ে আছেন এই নারী।
অবর্ণনীয় অতীত: জীবনের প্রতি পদে বঞ্চনা
শারমিনের জীবনের গল্প কোনো সাধারণ গল্প নয়, এটি এই সমাজের বুকে এক নির্মম ক্ষত।
শৈশবের ট্রমা: ছোটবেলায় মাকে হারানো শারমিনের বাবা ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন। শৈশবেই তিনি প্রথম পাশবিক ধর্ষণের শিকার হন। অথচ সমাজ বিচার না করে সামান্য টাকার বিনিময়ে অপরাধ "মিটমাট" করে দেয়।
পাচার ও একাকী লড়াই: কিশোরী বয়সেই মানবপাচারের শিকার হয়ে ভারতের দিল্লিতে যান। সেখানে বিয়ে এবং মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়সে প্রথম সন্তান ইমনের জন্ম হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী তাকে ফেলে চলে যায়। কোলে শিশু নিয়ে দেশে ফিরে মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে, না খেয়ে রাত কেটেছে শারমিনের।
পাশবিকতার পুনরাবৃত্তি: গত ২৮ অক্টোবর রাতে স্বামীর পাওনা মাত্র ৫ হাজার টাকার অজুহাতে শুভ জমাদ্দার নামের এক ব্যক্তি ঘরে ঢুকে শারমিনকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই নিয়ে তিনি ইন্দুরকানী থানায় মামলাও করেছেন। আইন-আদালত আর ভাগ্যের ফেরে আজ তিনি নিঃস্ব।
আমাদের হস্তক্ষেপ ও পূর্বের সহায়তা
চরম সংকটের মুহূর্তে স্থানীয় সংগঠন 'এইচডিটি' (HDT) এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশি কানাডিয়ান নাগরিক নাসির উদ্দিন হাওলাদারের পক্ষ থেকে শারমিনকে খাট, লেপ-তোশক, প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকার বাজার সহায়তা এবং বড় ছেলে ইমনের মাদ্রাসায় পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হয়েছিল। এমনকি শারমিনের সিজারিয়ান অপারেশনের খরচও সংগঠনটি বহন করে। কিন্তু একটি মিথ্যা পারিবারিক মামলার কারণে কিছুদিন তাকে সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়, যার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাময়িকভাবে সব সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। আর এই সুযোগেই অভাব আর মহামারি তার কোল খালি করে দেয়।
কেন এখন শারমিনের পাশে দাঁড়ানো জরুরি?
শারমিন কেবল একজন ভুক্তভোগী নন, তিনি আমাদের সমাজের এক চরম অবহেলার প্রতীক। তার অপরাধ একটাই—তিনি দরিদ্র। আজ তার কোলের শিশু রাইয়ান সঠিক পুষ্টি আর চিকিৎসার অভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। হাসপাতাল শয্যায় ছটফট করছে আরেক সন্তান খাদিজা।
আমাদের করণীয় ও বাজেট লক্ষ্যমাত্রা:
শারমিনকে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাতে এবং তার পরিবারকে পুনর্বাসন করতে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে তহবিল প্রয়োজন:
১. জরুরি চিকিৎসা সহায়তা: চিকিৎসাধীন কন্যা খাদিজার ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার।
২. দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন: শারমিনের স্থায়ী কর্মসংস্থান বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি তৈরি করে দেওয়া, যাতে তাকে আর কারও মুখাপেক্ষী হতে না হয়।
আপনি যেভাবে চান হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন, প্লিজ
একটা জীবন কতবার ধ্বংস হলে সমাজ তার কান্না শুনবে? শারমিনের জীবনের এই আর্তনাদ আমাদের মানবিক বোধের কাছে একটি বড় প্রশ্ন। রাইয়ানকে আমরা ফেরাতে পারিনি, কিন্তু খাদিজা আর শারমিনকে কি আমরা একটু আলো দেখাতে পারি না?
আপনার একটি ছোট অবদান বাঁচাতে পারে একটি পরিবারকে।
বিস্তারিত জানতে: সাংবাদিক মোঃ আহাদুল ইসলাম