06/10/2024
প্লাস্টিক, পলিথিন বা পলিপ্রোপাইলিন এর তৈরি সামগ্রী ব্যবহার ও উৎপাদন মানব স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সঙরকখন ও কৃষির জন্য ক্ষতিকারক বলে সরকার ২০০২ সালে তা ব্যান বা বন্দ করে দেন কিন্তু ৪ বছরের মাথায় সেই আইন প্রয়োগ অকার্যকর হয়ে যায়। সরকার শুধু হতাস না বেকায়দায় পড়ে যায়। দেশে প্রতিদিন ৫০৩০টি পলিথিন উৎপাদন ফ্যাক্টরি ইউনিট থেকে বছরে ৮ লাখ টন প্লাস্টিক উৎপাদন হয় এবং ১৪ মিলিয়ন পলিথিন ব্যাগ তৈরি করে। এ সব ফ্যাক্টরিতে প্রায় ১.২ মিলিয়ন মতো জনবল প্লাস্টিক তৈরি ও প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কাজের সাথে জড়িত।
পলিথিন বা পলিপ্রোপাইলিন কেন সমস্যা কারণ প্রতি বছর প্রায় ২.৫ কোটি সিঙগেল ইউজ পলি ব্যাগ তৈরি, ব্যাবহার ও পরিবেশে বর্জ্য হিসাবে ফেলে দেওয়া হচ্ছে যা অপচনশীল বা ননডিকমপোজেবল যা এগুলো মাটিতে, পানিতে, ড্রেনে, রাস্তা ঘাট, নদী, সমুদ্র ও কৃষি জমিতে জমা হয়ে থাকে। যার ফলে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট করে, পানিতে পড়লে দূষণ তৈরি, ড্রেনে পানি প্রবাহ বন্ধ করে ময়লা পানি চারিদিক ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ তৈরি ও পরিবেশ সহ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
পলিথিন ব্যাগ সর্বসাধারণের জন্য এটি এতই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে যে একে বাদ দিয়ে বিকল্প চিন্তা করা মুস্কিল হয়ে পড়েছে। যাহোক এই ক্ষতিকর পলিথিন সামগ্রী অবশ্যই বন্দ করতে হবে আর সেজন্য মাননীয় পরিবেশ উপদেষ্টা সুপার মার্কেটগুলো থেকে ১ অক্টোবর থেকে এর ব্যবহার, উৎপাদন ও বাজারজাত বন্দ করে অ্যাকশনে চলে গেছে এবং এর সাথে সাথে ১ নভেম্বর থেকে কাঁচা বাজার গুলো থেকে বন্ধের অভিযান শুরু হবে। এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই কারণ ১৯৯৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর পত্রিকার মাধ্যমে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিল পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কি ব্যবহার করা যায়। আমি এই আহ্বানের ভিত্তিতে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠা ব্যাপি একটি প্রস্তাবনা রচনা করে জমা দিয় কোন কারণে এটি বাস্তবায়ন হয়নি। আমার কথা ছিল পলিথিনের বিকল্প হবে উন্নত ব্যবহারযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় পাটজাত সামগ্রী ব্যাগ যা দামের দিক থেকে সহজে বহনের দিক থেকে যথাযথ হবে। আমার আরো বক্তব্য ছিলো এই পাটজাত দ্রব্য কে যথাযথ ব্যবহারযোগ্য ও গ্রহনযোগ্য করতে গেলে উন্নত গবেষণা করে একটা পর্যায়ে আসতে হবে যাতে সর্বস্তরের লোকজন এটি মেনে নিতে পারে ও স্বল্প মূল্যে ক্রয় করতে পারে।
আর একটি কথা পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কাগজের ঠোঙগা বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার কোন ভাবেই পরিবেশের ও অর্থনৈতিক দিক থেকে যথাযথ হবে না কারণ কাগজ তো কাঠ বা বাঁশ থেকে তৈরি যা প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ পড়বে ও পরিবেশ নাশ করবে। আর কাপড়ের ব্যাগ ব্যাবহার হতে থাকলে কটন উৎপাদন বাড়াতে হবে যা আমাদের দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় কোন ভাবেই কারণ কটন আমাদের আমদানি করতে হয়। বরং পাটকে আরো উন্নত গবেষণার মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলতে হবে। আর পাট উৎপাদন হয়তো বেড়ে যাবে যাতে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে ও আরো উৎপাদনে মনযোগী হবে।
আর একটি কথা বলার প্রয়োজন যে প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাবহার ও বাজারজাত বন্ধ হলে প্রায় ৫ হাজার ফ্যাক্টরি অবশ্যই অনুপাদনশীল ও বন্ধ হয়ে এবং এর সাথে জড়িত কর্মীরা বেকার হয়ে যাবে। কাজেই বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে যাতে ফ্যাক্টরি গুলো বিকল্প কোন উৎপাদনে ব্যবহার করা যায় কিনা, না হলে গোপনে এরা পলিথিন ব্যাগ ও বোতল উৎপাদনে জড়িত হবে। ফলে আইনের প্রয়োগ ব্যহত হবে। এটি আইনের প্রয়োগকে সাসটেইনেবল করতে সহজ হবে।