Satkania Foundation

Satkania Foundation আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আপনিও দান করুন বিকাশ/নগদ/রকেট:- ০১৯৭৯-৪৬৮৮৩৮

সাপ্তাহিক লাইভ আলোচনা সভা-পর্ব-৩০০তারিখ: ১১ মে ২০২৬, সোমবার সময়: সন্ধা ৭.১৫মিনিট (বাংলাদেশ সময়)আলোচক: আবু আব্দুল্লাহ মাস...
08/05/2026

সাপ্তাহিক লাইভ আলোচনা সভা-পর্ব-৩০০
তারিখ: ১১ মে ২০২৬, সোমবার
সময়: সন্ধা ৭.১৫মিনিট (বাংলাদেশ সময়)
আলোচক: আবু আব্দুল্লাহ মাসউদুর রহমান
দাওয়াহ ও তাবলীগ বিষয়ক সম্পাদক, নরসিংদী জেলা জমঈয়তে আহলে হাদীস
বিষয়: হজ্জের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযীলত

08/05/2026
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ায় পড়ার পাশাপাশি যারা নিজেদের দক্ষ, যোগ্য, কিতাবি আলেম হিসেবে গড়ে তুলতে চাও তোমাদের জন...
07/05/2026

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ায় পড়ার পাশাপাশি যারা নিজেদের দক্ষ, যোগ্য, কিতাবি আলেম হিসেবে গড়ে তুলতে চাও তোমাদের জন্য "আবু বকর আস-সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সেন্টার ফর এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (AACER)" বিভিন্ন ধরনের কোর্সের আয়োজন করেছে, আলহামদুলিল্লাহ।

ঠিকানা: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট থেকে ৩০০ মিটার উত্তরে, (ইবি ল্যাব: স্কুলের বিপরীত পাশে) শান্তিডাঙ্গা, ইবি, কুষ্টিয়া।

📞 যোগাযোগ:
01521-780648 (whta's app)
01841-963599 (call/whta's app)
01767-797645 (call/whta's app)

27/04/2026

✅✅ যুলহজ্জের প্রথম দশ দিন

আল্লাহ তাআলার প্রত্যেক কাজ বা সৃষ্টি হিকমতে ভরপুর প্রত্যেক বস্তুতে তাঁর প্রতিপালকত্বের দলীল এবং একত্বের সাক্ষ্য বিদ্যমান। তাঁর সকল কর্মেই পরিস্ফুটিত হয় তাঁর প্রত্যেক মহামহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত গুণ। কিছু সৃষ্টিকে কিছু মর্যাদা ও বিশেষ গুণ দ্বারা নির্দিষ্ট করা, কিছু সময় ও স্থানকে অন্যান্যের উপর প্রাধান্য ও গুরুত্ব দেওয়ার কর্মও তাঁর ঐ হিকমত ও মহত্বের অন্যতম।

আল্লাহ পাক কিছু মাস, দিন ও রাত্রিকে অপরাপর থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; যাতে তা মুসলিমের আমল বৃদ্ধিতে সহযোগী হয়। তাঁর আনুগত্যে ও ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং কর্মঠ মনে নতুন কর্মোদ্যম পুনঃ পুনঃ জাগরিত হয়। অধিক সওয়াবের আশায় সেই কাজে মনের লোভ জেগে ওঠে এবং তার বড় অংশ হাসিলও করে থাকে বান্দা। যাতে মৃত্যু আসার পূর্বে যথা সময়ে তার প্রস্তুতি এবং পুনরুত্থানের জন্য যথেষ্ট পাথেয় সংগ্রহ করে নিতে পারে।

শরীয়তে নির্দিষ্ট ইবাদতের মৌসম এই জন্যই করা হয়েছে যাতে ঐ সময়ে ইবাদতে অধিক মনোযোগ ও প্রয়াস লাভ হয় এবং অন্যান্য সময়ে অসম্পূর্ণ অথবা স্বল্প ইবাদতের পরিপূর্ণতা ও আধিক্য অর্জন এবং তাওবাহ করার সুযোগ লাভ হয়।

ঐ ধরনের প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ মৌসমেরই নির্দিষ্ট এক একটা ওযীফাহ ও করণীয় আছে; যার দ্বারায় আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা যায়। সেই সময়ে আল্লাহ পাকের বিশেষ অনুগ্রহ ও করুণা আছে; যার দ্বারায় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পুরস্কৃত করে থাকেন। অতএব সৌভাগ্যশালী সেই হবে, যে ঐ নির্দিষ্ট মাস বা কয়েক ঘণ্টার মৌসমে নির্দিষ্ট ওযীফাহ ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজ মওলার সামীপ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে। আর সম্ভবতঃ তাঁর অনুগ্রহের অধিকারী হয়ে পরকালে জাহান্নাম ও তাঁর ভীষণ অনলের কবল হতে নিষ্কৃতি পাবে।

আমল ও ইবাদতের নির্দিষ্ট মৌসমসমূহে আল্লাহর অনুগত ও দ্বীনদার বান্দা লাভবান হয় এবং অবাধ্য ও অলস বান্দা ক্ষতির শিকার হয়। তাই তো মুসলিমের উচিত, আয়ুর মর্যাদা ও জীবনের মূল্য সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত হওয়া এবং সেই সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত অধিকরূপে করা ও মরণাবধি সৎকার্যে অবিচল প্রতিষ্ঠিত থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

(وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتّى يَأْتِيَكَ الْيَقِيْن)

অর্থাৎ, ‘‘তোমার ইয়াকীন উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের উপাসনা কর।’’ (কুঃ ১৫/৯৯)

সালেম বিন আব্দুল্লাহ (রহ.) বলেন, ‘ইয়াকীন’ (সুনিশ্চয়তা) অর্থাৎ মৃত্যু। অনুরূপ বলেছেন মুজাহিদ, হাসান, কাতাদাহ প্রভৃতি মুফাসসিরগণও।[1]

আল্লাহ তাআলা যুলহাজ্জের প্রথম দশ দিনকে অন্যান্য দিনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দান করেছেন। আল্লাহর রসূল (সা.) বলেন। ‘‘এই দশ দিনের মধ্যে কৃত নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় আর কোন আমল নেই।’’ (সাহাবাগণ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি?’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে এমন কোন ব্যক্তি (এর আমল) যে নিজের জান-মাল সহ বের হয় এবং তারপর কিছুও সঙ্গে নিয়ে আর ফিরে আসে না।[2]

তিনি আরো বলেন, ‘‘আযহার দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক পবিত্রতর ও প্রতিদানে অধিক বৃহত্তর আর কোন আমল আল্লাহ আয্যা অজাল্লার নিকট নেই।’’ বলা হল, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি?!’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে এমন ব্যক্তির (আমল) যে নিজের জানমাল সহ বহির্গত হয়, অতঃপর তার কিছুও সঙ্গে নিয়ে আর ফিরে আসে না।’’[3]

আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ছিলাম। অতঃপর আমলসমূহের কথা উত্থাপন করলাম। তিনি বললেন, ‘‘এই দশ দিন ছাড়া কোন এমন দিন নেই যাতে আমল অধিক উত্তম হতে পারে।’’ তাঁরা বললেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ?’ তিনি তার গুরুত্ব বর্ণনা করলেন, অতঃপর বললেন, ‘‘জিহাদও নয়। তবে এমন কোন ব্যক্তি যে নিজের জান-মাল সহ আল্লাহর রাস্তায় বের হয় এবং তাতেই তার জীবনাবসান ঘটে।’’[4]

অতএব এই দলীলসমূহ হতে প্রমাণিত হয় যে, সারা বছরের সমস্ত দিনগুলি অপেক্ষা যুল হাজ্জের ঐ দশ দিনই বিনা বিয়োজনে উত্তম। এমন কি রমযানের শেষ দশ দিনও ঐ দশ দিনের চেয়ে উত্তম নয়।

ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন, ‘মোট কথা বলা হয়েছে যে, এই দশদিন সারা বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম দিন; যেমনটি হাদীসের উক্তিতে প্রতীয়মান হয়। অনেকে রমযানের শেষ দশ দিনের উপরেও এই দিনগুলিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, যে নামায, রোযা, সাদকাহ ইত্যাদি আমল এই দিনগুলিতে পালনীয় ঐ আমলসমূহই ঐ দিনগুলিতেও পালনীয়। কিন্তু (যুলহাজ্জের) ঐ দিনগুলিতে ফরজ হাজ্জ আদায় করার অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’

আবার অনেকে বলেছেন (রমযানের) ঐ দিনগুলিই শ্রেষ্ঠ। কারণ, তাতে রয়েছে শবেকদর, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।

কিন্তু এই দুয়ের মধ্যবর্তী কিছু উলামা বলেন, (যিলহাজ্জের) দিনগুলিই শ্রেষ্ঠ এবং রমযানের রাত্রিগুলি শ্রেষ্ঠ। অবশ্য এইভাবে সমস্ত দলীল সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর আল্লাহই বেশী জানেন।[5]

উক্ত দলীলসমূহ এই কথার প্রমাণ দেয় যে, প্রত্যেক নেক আমল (সৎকর্ম); যা এই দিনগুলিতে করা হয় তা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। অর্থাৎ, ঐ কাজই যদি অন্যান্য দিনে করা হয় তবে ততটা প্রিয় হয় না। আর যা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় তা তাঁর নিকট সর্বোত্তম। আবার এই দিনগুলিতে আমল ও ইবাদতকারী সেই মুজাহিদ থেকেও উত্তম, যে নিজের জান-মাল সহ জিহাদ করে বাড়ি ফিরে আসে।

অথচ বিদিত যে, আল্লাহর রাহে জিহাদ ঈমানের পর সর্বোৎকৃষ্ট আমল। যেহেতু আবূ হুরাইরাহ (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কোন আমল সবচেয়ে উৎকৃষ্ট?’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহ ও তদীয় রসূলের প্রতি ঈমান।’’ সে বলল, ‘তারপর কি?’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর পথে জিহাদ।’’ সে বলল, ‘তারপর কি?’ তিনি বললেন, ‘‘গৃহীত হাজ্জ।’’[6]

কিন্তু পূর্বোক্ত হাদীসসমূহ হতে প্রতিপাদিত হয়েছে যে, বৎসরের অন্যান্য দিনের সকল প্রকার আমল অপেক্ষা যুলহাজ্জের ঐ দশদিনের আমল আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম ও প্রিয়তম। সুতরাং ঐ দশ দিনের আমল যদিও জিহাদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ নয়, তবুও অন্যান্য দিনের আমলের তুলনায় শ্রেষ্ঠতর; যদিও বা সেই আমল (অন্যান্য দিনে) শ্রেষ্ঠ। আর নবী (সা.) কোন আমলকে ব্যতিক্রান্ত করেননি। তবে এমন এক জিহাদের কথা উল্লেখ করেছেন যা সর্বোৎকৃষ্ট জিহাদ; যাতে মুজাহিদ শহীদ হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসে না; যার ঐ আমল উক্ত দশ দিনের সমস্ত আমলের চেয়েও উত্তম।

কোন বস্তুকে যখন সাধারণভাবে শ্রেষ্ঠ বলা হয়, তখন তার এই অর্থ নয় যে, ঐ বস্তু সর্বাবস্থায় ও সকলের পক্ষেই শ্রেষ্ঠ। বরং অশ্রেষ্ঠও তার নির্দেশিত বিধিবদ্ধ স্থানে সাধারণ শ্রেষ্ঠ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর হতে পারে। যেমন, জিহাদ সাধারণভাবে শ্রেষ্ঠ আমল। কিন্তু অশ্রেষ্ঠ কোন নেক আমল তার নির্দেশিত নির্দিষ্ট ঐ দশ দিনে করা হলে তা জিহাদ থেকেও শ্রেষ্ঠতর।

অনুরূপভাবে, যেমন রুকু ও সিজদার মধ্যে তাসবীহ পাঠ কুরআন পাঠ হতেও উত্তম। (বরং ঐ অবস্থায় কুরআন পাঠ অবৈধ।) অথচ কুরআন পাঠ সাধারণ সর্ববিধ তাসবীহ ও যিকর হতে উত্তম।[7]

যুলহাজ্জের এই দশ দিনের ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্ব বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রতিপন্ন হয়ঃ-

১। আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলির শপথ করেছেন। আর কোন জিনিসের নামে শপথ তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্যেরই প্রমাণ। আল্লাহ পাক বলেন, ‘‘শপথ ঊষার, শপথ দশ রজনীর----।’’

(সূরা ফাজ্র১-২ আয়াত)

ইবনে আব্বাস (রা.) ইবনে যুবাইর (রা.) প্রভৃতি সলফগণ বলেন, ‘নিশ্চয় ঐ দশ রাত্রি বলতে যুলহাজ্জের দশ দিনকে বুঝানো হয়েছে।’ ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, ‘এটাই সঠিক।’ শাওকানী (রহ.) বলেন, ‘এই অভিমত অধিকাংশ ব্যাখ্যাদাতাগণের।’[8]

অবশ্য ঐ দশ রাত্রি বলতে এই দশ দিনকেই নির্দিষ্ট করে বুঝার ব্যাপারে কোনও ইঙ্গিত আল্লাহর রসূল (সা.)-এর নিকট হতে আসেনি; যা সুনিশ্চিতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। যার জন্যই এই ব্যাখ্যায় মতান্তর সৃষ্টি হয়েছে, আর আল্লাহই এ বিষয়ে অধিক জানেন।

২। নবী (সা.) সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, এই দিনগুলি দুনিয়ার সর্বোকৃৎষ্ট দিন। যেমন পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।

৩। তিনি এই দিনগুলিতে সৎকর্ম করার জন্য সকলকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। যেহেতু এই দিনগুলি সকলের জন্য পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ এবং হাজীদের জন্য পবিত্রস্থানে (মক্কায়) আরো গুরুত্বপূর্ণ।

৪। তিনি এই দিনগুলিতে অধিকাধিক তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল ও তাকবীর পড়তে আদেশ করেছেন।[9]

৫। এই দিনগুলির মধ্যে আরাফাহ ও কুরবানীর দিন রয়েছে।

৬। এগুলির মধ্যেই কুরবানী ও হাজ্জ করার মত বড় আমল রয়েছে।

হাফিয ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, ‘একথা স্পষ্ট হয় যে, যুলহাজ্জের প্রথম দশ দিনের বিশেষ গুরুত্বের কারণ; যেহেতু ঐ দিনগুলিতে মৌলিক ইবাদতসমূহ একত্রিত হয়েছে যেমন, নামায, রোযা, সদাকাহ এবং হাজ্জ। যা অন্যান্য দিনগুলিতে এইভাবে জমা হয় না।[10]

[1] (ইবনে কাসীর ৪/৩৭১) [2] (বুখারী, আবূ দাঊদ) [3] (দারেমী ১/৩৫৭) [4] (আহমাদ, ইরওয়াউল গালীল ৩/৩৯৯) [5] (তাফসীর ইবনে কাসীর ৫/৪১২) [6] (বুখারী ১৬নং) [7] [8] (তাফসীর ইবনে কাসীর, ফাতহুল কাদীর ৫/৪৩২) [9] (সহীহ তারগীব ১২৪৮নং) [10] (ফাতহুল বারী ২/৪৬০)

আজানের জবাব, আজানের পরে দুআ এবং আজানের ফাঁকে ফাঁকে দুআর বিধানপ্রশ্ন: আজান শুনলে কী কী করণীয়? আর আমরা জানি, আজান ও ইকামত ...
25/04/2026

আজানের জবাব, আজানের পরে দুআ এবং আজানের ফাঁকে ফাঁকে দুআর বিধান

প্রশ্ন: আজান শুনলে কী কী করণীয়? আর আমরা জানি, আজান ও ইকামত এর মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কবুল হয়। কিন্তু আজানের উত্তর দেয়ার ফাঁকে ফাঁকে কি আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া চাওয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে কি? দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
উত্তর:
আজানের উত্তর দেওয়ার সময় মাঝপথে আলাদাভাবে দোয়া করার বিশেষ কোনো নির্দেশ বা আমল হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সুন্নত সম্মত নিয়ম হলো, মুয়াজ্জিনের প্রতিটি বাক্যের উত্তর দেওয়া এবং আজান শেষ হলে প্রথমে দরুদ অতঃপর আজানের বিশেষ দোয়া পাঠ করা।
আজান শুনলে যে সকল করণীয় সেগুলো ধারাবাহিকভাবে নিচে উল্লেখ করা হল:

◈ ১. আজানের জবাব:

আজান চলাকালীন মুয়াজ্জিন যা বলেন, শ্রোতার জন্য হুবহু তা-ই বলা সুন্নাত। তবে মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলেন তখন উত্তরে বলতে হয়:

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

[সহিহ বুখারি, ৬১৩; সহিহ মুসলিম, ৩৮৫]

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরোক্ত হাদিসের আলোকে ফজর নামাজে মুয়াজ্জিন যখন "হাইয়া আ'লাল ফালাহ" বলার পরে বলবে, 'আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম' তখন তার জবাবে তা-ই বলতে হবে। এক্ষেত্রে "সাদাকতা ওয়া বারাকাকতা বা বারারতা' বলার হাদিসটি সনদগতভাবে দুর্বল।

◈ ২. আজান শেষে দরুদ পাঠ ও দোয়া:

আজান শেষ হওয়ার পর রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করতে হয় এবং এরপর আজানের বিশেষ দোয়াটি পড়তে হয়।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

إذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ

"যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে তখন সে যা বলে তোমরাও তা-ই বলো। এরপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো।" [সহিহ মুসলিম, ৩৮৪]

◈ ৩. আজানের বিশেষ দুআ পাঠ এবং তার ফজিলত:

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শোনার পর বলে:

«اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ؛ حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ দাওয়াতিত তা-ম্মাহ, ওয়াস সলা-তিল ক্ব-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল অসীলাতা ওয়াল ফাদীলাহ, ওয়াবআসহু মাক্ব-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়াআত্তাহ।

অর্থ: “হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের আপনিই মালিক। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আপনি ‘অসীলা’ (জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান) ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই ‘মাক্বামে মাহমুদ’ (প্রশংসিত স্থান)-এ পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।”
কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।" [সহিহ বুখারি: ৬১৪]

◈ ৪. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া:

আজানের উত্তর শেষ করার পর থেকে ইকামতের আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। এ সময়ে আপনি আল্লাহর কাছে যা খুশি চাইতে পারেন। হাদিসে এসেছে:

«الدُّعَاءُ لَا يُرَدُّ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ»

"আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।"
[সুনানে আবু দাউদ, ৫২১; জামে তিরমিজি, ২১২]
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
"الدعاءُ لا يُرَدُّ بين الأذانِ والإقامةِ . قالوا : فماذا نقولُ يا رسولَ اللهِ ؟ قال : سَلُوا اللهَ العافيةَ في الدنيا والآخرةِ"
“আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমরা তখন কী বলব? তিনি বললেন: তোমরা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের 'আফিয়াত' (নিরাপত্তা) প্রার্থনা করো।" [সুনান তিরমিজি: ৩৫৯৪-হাসান]

মোটকহলো, আজানের উত্তর দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে দোয়া নয় বরং আজান মনোযোগ দিয়ে শোনা ও আজানের জবাব দেওয়া সুন্নাত। আজান শেষ করে দরুদ ও আজানের দুআ পাঠের পর ইকামতের আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

মুআবিয়া (রা.)-এর প্রতি কটুক্তিকারীদের জ্ঞানভিত্তিক জবাব:প্রশ্ন: আমি পড়েছি যে, মুয়াবিয়া আহলে বাইতকে হত্যার কারণ ছিলেন। ত...
19/04/2026

মুআবিয়া (রা.)-এর প্রতি কটুক্তিকারীদের জ্ঞানভিত্তিক জবাব:

প্রশ্ন: আমি পড়েছি যে, মুয়াবিয়া আহলে বাইতকে হত্যার কারণ ছিলেন। তাই তাঁর প্রতি আমার মনে ঘৃণা কাজ করে। আহলে বাইতকে বাদ দিয়ে তিনি নিজে কীভাবে রাজা হওয়াকে বৈধ মনে করলেন? আমার কাছে তাঁর ভালো কাজ থাকল কি না-তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস সেই মহিলার ব্যাপারে স্পষ্ট—যে অনেক ভালো কাজ করত কিন্তু তার উদ্দেশ্য বা অন্তর ভালো ছিল না। তাই নবিজি বলেছিলেন: "সে জাহান্নামি।"
আমার মনে হয় একই কথা মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমি আরও মনে করি, যারা তাঁদের অভিশাপ (লানত) দেয় তারা সঠিক। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাঁদের অভিশাপ দেই না। কারণ এটি নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ ছিল না। তো আসলে মুয়াবিয়া, ইয়াজিদ এবং আহলে বাইতের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল তা কি আমাকে জানানো সম্ভব?

উত্তর:

الحَمْدُ لِلَّهِ وَالصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، وَبَعْدُ:

হে প্রশ্নকারী, আপনার কথার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভুল করেছেন। যা প্রতীয়মান হয়, আপনি আহলে সুন্নাতের কিতাব পড়া বা তাদের থেকে শোনার তাওফিক পাননি। বরং যা পড়েছেন বা শুনেছেন তা সম্ভবত শিয়া-রাফিজি ও তাদের অনুসারীদের নিকট থেকে হয়েছে। তাই আপনার কাছ থেকে এসব ভুল তথ্য এসেছে।

আমরা আপনার সামনে কয়েকটি জ্ঞান ভিত্তিক পর্যালোচনা উপস্থাপন করব। এগুলো মনোযোগ সহকারে পড়লে আশা করি, উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

আমাদের এই ওয়েবসাইটের প্রতি সুধারণা পোষণ ও আস্থা রাখার জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

❑ ১. আপনি ‘মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান’ ও তার ছেলে ‘ইয়াজিদ’-কে একই বিচারে ফেলেছেন, যা একটি বড় অন্যায় ও জুলুম। কেননা মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একজন মর্যাদাবান সাহাবি, যার জন্য আহলে সুন্নাত ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই দুআ করে থাকে। তার মাধ্যমে আহলে বাইতের কারও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বা তাদের বিরুদ্ধে কোনও যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। কিন্তু তার ছেলে ইয়াজিদ সাহাবি নয়। তার খিলাফতকালেই হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। আহলে সুন্নাতের কেউ কেউ তাকে লানত (অভিসম্পাত) করেন। কিন্তু তার ব্যাপারে মধ্যপন্থি মত হলো, আমরা তাকে ভালোবাসি না এবং অভিশাপও করি না।

❑ ২. মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একজন মর্যাদাবান সাহাবি, মহামান্য রাজা, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি নাজিলকৃত ওহি (কুরআন) লেখকদের অন্যতম, ইসলামের গভীর জ্ঞান সম্পন্ন ফকিহ সাহাবি—যার সাক্ষ্য দিয়েছেন ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। এবং আহলে সুন্নাতের বড় আলেমরা তার মর্যাদা ও ন্যায়পরায়ণতা স্বীকার করেছেন। যেমন━

✪ ক. আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রা. বেশি উত্তম নাকি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহ.?

তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! মুআবিয়ার নাকে যে ধুলো রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে প্রবেশ করেছিল তা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ-এর চেয়ে হাজার গুণ বেশি উত্তম। মুআবিয়া রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে নামাজ পড়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শুনেন তার কথা যে তার প্রশংসা করে); তখন মুআবিয়া বললেন: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের রব, সব প্রশংসা তোমারই)। এর পর আর কী বলা যায়! [‘ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান’, ইবনে খাল্লিকান, ৩/৩৩]

✪ খ. জাররাহ আল মাওসিলি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে মু‘আফা ইবনে ইমরানকে জিজ্ঞাসা করতে শুনলাম: হে আবু মাসউদ! উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের তুলনায় কেমন?

তিনি প্রচণ্ড রাগান্বিত হয়ে বললেন: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো সাহাবির সাথে অন্য কাউকে তুলনা করা যায় না। মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার লেখক, সাহাবি, জামাতা এবং তার ওহির আমিন (বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য)।” [‘আশ শারি‘আহ’ লিল আজুররি, ৫/২৪৬৬-২৪৬৭]

✪ গ. আ‘মাশ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ও তার ন্যায়বিচার উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: যদি তোমরা মুআবিয়াকে পেতে! তারা বলল: হে আবু মুহাম্মাদ, তার সহনশীলতা বোঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম বরং তার ন্যায়বিচার।” (অর্থাৎ মুআবিয়া (রা.)-এর ন্যায়বিচার অত্যন্ত উচ্চমাত্রার ছিল — যা সাধারণভাবে লোকেরা কল্পনাও করতে পারে না। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ন্যায়পরায়ণ খলিফা ছিলেন। কিন্তু ইমাম আ‘মাশ বলছেন, মুআবিয়ার ন্যায়বিচার ছিল আরও ব্যাপক ও গভীর।) [‘আস সুন্নাহ’ লিল খাল্লাল, ১/৪৩৭]

✪ ঘ. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

“কেননা মুআবিয়া সম্পর্কে তাওয়াতুর তথা অসংখ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত নিশ্চিত সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন যেমন অন্যদের নিযুক্ত করেছিলেন, তিনি তার সঙ্গে জিহাদ করেছেন, তিনি তার কাছে ওহি লেখার জন্য আমিন (বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য) ছিলেন, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহি লেখাতে কখনো তার প্রতি সন্দেহ করেননি। আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি লোকজনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী—তাকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন। আল্লাহ সত্যকে উমরের জবান ও অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি তার শাসনকালে কখনো তার প্রতি সন্দেহ করেননি।” [‘মাজমু‘ ফাতাওয়া’, ৪/৪৭২]

❑ ৩. মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা শরয়ি বিধান নয়। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলি বিন আবি তালিব ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)মা)-এর মধ্যে ঘটে যাওয়া ফিতনা বা যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন এবং উভয় পক্ষকেই মুমিন ও সত্যপন্থী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যদিও আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সঙ্গীরা সত্যের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন বলে সাক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর বাতিলের সিল মারা হয়নি। বরং বরং তারা নিজেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সত্যের অনুসন্ধানে ছিলেন — অর্থাৎ তারা উসমান (রা.)-এর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছিলেন।

◆ ক. আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَقْتَتِلَ فِئَتَانِ دَعْوَاهُمَا وَاحِدَةٌ

“কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না দুটি দল যুদ্ধ করে যাদের দাবি এক।” [বুখারি ৩৪১৩, মুসলিম ১৫৭]

◆ খ. আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

تَمْرُقُ مَارِقَةٌ عِنْدَ فُرْقَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَقْتُلُهَا أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ

“মুসলিমদের মধ্যে একটি বিভক্তির সময় একটি দল বেরিয়ে যাবে (বিদ্রোহ করবে); যে দলটি তাদের হত্যা করবে সে দলটিই হকের অধিক নিকটবর্তী হবে।” [মুসলিম ১০৬৪]

➧ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই সহিহ হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যুদ্ধরত উভয় পক্ষ—আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সঙ্গীগণ এবং মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সঙ্গীগণ—সত্যের ওপর ছিলেন। তবে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সঙ্গীরা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সঙ্গীদের চেয়ে সত্যের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। কারণ আলি বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)ই সেই ‘মারিকিন’ বা দলছুটদের (হারুরিয়া খারিজি) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যারা একসময় আলির দলেই ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আলির পক্ষ ত্যাগ করে তাঁকে ও তাঁর সমর্থকদের কাফির সাব্যস্ত করে এবং তাঁর সঙ্গে চরম শত্রুতা ও যুদ্ধে লিপ্ত হয়।” [মাজমুউল ফাতাওয়া" [৪/৪৬৭]

➧ ইবনে কাসির (রাহ.) বলেছেন: “এই হাদিসটি নবুওয়াতের অন্যতম এক নিদর্শন। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, বিষয়টি ঠিক সেভাবেই ঘটেছে। এতে সিরিয়াবাসী ও ইরাকবাসী—উভয় পক্ষকেই মুসলিম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাফেজি (চরমপন্থী শিয়া) ও মূর্খ লোকেরা সিরিয়াবাসীদের কাফির বলে যে দাবি করে, এটি তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

এই হাদিস থেকে আরও বোঝা যায় যে, আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গীগণ সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী ছিলেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাও এটিই—আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)ই সঠিক সিদ্ধান্তে ছিলেন। যদিও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)ও ইজতিহাদ (তথা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত) করেছিলেন এবং ইনশাআল্লাহ তিনি এ জন্য সওয়াব পাবেন। তবে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন বৈধ ইমাম তাই তিনি দ্বিগুণ সওয়াব পাবেন। যেমনটি সহিহ বুখারিতে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

إِذَا اجْتَهَدَ الْحَاكِمُ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا اجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ

"যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করেন এবং তার সিদ্ধান্ত সঠিক হয় তবে তিনি দুটি সওয়াব পাবেন। আর যদি তিনি ইজতিহাদ করে ভুল করেন তবে তিনি একটি সওয়াব পাবেন।" (সহিহ বুখারি)।”
[আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৭/৩১০]

❑ ৪. মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুদ্ধ খিলাফত বা রাজত্বের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকারীদের বিচার ও কিসাস (হত্যা প্রতিশোধ) নিশ্চিত করার দাবিতে। অন্যদিকে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থান ছিল—খিলাফত ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সুসংহত হওয়ার আগে এই বিচার সম্ভব নয়।

➧ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন:

"মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আলির সাথে যুদ্ধ করার সময় খিলাফতের দাবি করেননি এবং তাঁর জন্য খিলাফতের বায়আতও নেওয়া হয়নি। তিনি নিজেকে খলিফা হিসেবে বা খিলাফতের যোগ্য মনে করে লড়াই করেননি—মুয়াবিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা এটি স্বীকার করতেন এবং কেউ তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিজেও তা মেনে নিতেন। মুয়াবিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা আলি ও তাঁর বাহিনীর ওপর প্রথমে আক্রমণ করাকে উচিত মনে করেননি এবং তাঁরা তা করেনওনি। বরং যখন আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সঙ্গীরা দেখলেন যে, যেহেতু মুসলিমদের খলিফা একজনই হবেন তাই মুয়াবিয়াদের ওপর তাঁর আনুগত্য ও বায়আত করা ওয়াজিব। আর তাঁরা এই ওয়াজিব পালন না করে আনুগত্যের বাইরে অবস্থান করছেন—তখন তিনি (আলি) তাদের সাথে লড়াই করা সমীচীন মনে করলেন যাতে আনুগত্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে তাঁরা (মুয়াবিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা) বলছিলেন যে, এই বায়আত তাঁদের ওপর ওয়াজিব নয়। আর যদি এই কারণে তাঁদের সাথে যুদ্ধ করা হয় তবে তাঁরা মজলুম বা অন্যায়ের শিকার হবেন।

তাঁদের যুক্তি ছিল: উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মজলুম হিসেবে শহিদ হয়েছেন—এ বিষয়ে মুসলিমরা একমত। আর তাঁর হত্যাকারীরা আলি (রা.)এর বাহিনীতে রয়েছে এবং তাঁরা প্রভাবশালী। আমরা যদি বায়আত করতে অস্বীকার করি তবে তারা আমাদের ওপর জুলুম করবে। আর আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)তাদের ঠেকাতে পারবেন না,-যেমনটি তিনি উসমানকেও রক্ষা করতে পারেননি। আমাদের ওপর কেবল এমন খলিফাকে বায়আত করা আবশ্যক, যিনি আমাদের ইনসাফ দিতে পারবেন এবং আমাদের ওপর ইনসাফ কায়েমে সক্ষম...।"
[মাজমুউল ফাতাওয়া-৩৫/৭২, ৭৩]

সুতরাং মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আহলে বাইতের প্রতি কোনো শত্রুতা পোষণ করতেন না এবং তাঁদের প্রতি তাঁর মনে কোনো বিদ্বেষও ছিল না। বরং অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের মতোই তিনি আহলে বাইতকে শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা দান করতেন।

➧ ইবনে কাসির রাহ. ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ [৮/১৩৩] গ্রন্থে মুগিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: যখন মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছাল তখন তিনি কাঁদতে শুরু করলেন।
তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, "আপনি তাঁর জন্য কাঁদছেন অথচ তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন?" তখন তিনি বললেন, "তোমার ধ্বংস হোক! তুমি জানো না মানুষ আজ কতটা শ্রেষ্ঠত্ব, ফিকহ এবং ইলম হারাল।"

❑ ৫. সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের (ইজমা) মাধ্যমেই মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বর্তমান থাকা সত্ত্বেও কেউ তাঁর শাসনের বিরোধিতা করেননি।

➧ ইমাম ইবনে হাজম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

"প্রথমে হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বায়আত হয়। এরপর তিনি মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তখন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে তাঁদের দুজনের চেয়েও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা বেঁচে ছিলেন—যারা মক্কা বিজয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ ও জিহাদ করেছিলেন। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তা সত্ত্বেও তাঁদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলেই মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইমামত বা নেতৃত্ব মেনে নেন। এটি একটি নিশ্চিত ইজমা (সাহাবিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত)।

এটি এ বিষয়েরও প্রমাণ যে, কোনো শ্রেষ্ঠতর ব্যক্তি থাকা অবস্থায় তাঁর চেয়ে কম মর্যাদার কাউকে নেতা বানানো বৈধ।

পরবর্তীতে এমন কিছু মানুষের উদ্ভব হয়েছে যাদের আল্লাহর কাছে কোনো ওজন নেই; তারা নিজেদের ভ্রান্ত মতাদর্শ দিয়ে কোনো দলিল ছাড়াই এই ইজমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় চাই।" [আল ফিসাল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল ৪/১২৭]

❑ ৬. আপনি বলেছেন, “তিনি কীভাবে নিজেকে ‘আহলে বাইতকে বাদ দিয়ে রাজা হওয়ার অনুমতি দিতে পারেন?”—এর উত্তরে আগেই বলেছি যে, শাসনকর্তা হওয়ার জন্য লোকেদের মধ্যে সর্বোত্তম হওয়া শর্ত নয়; বরং কম উত্তম ব্যক্তি উত্তম ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও শাসন করতে পারেন। আর উপরন্তু, আহলে বাইতই সর্বোত্তম মানুষ নন।

তাছাড়া মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপার ছিল ভিন্ন। স্বয়ং হাসান ইবনে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)—যিনি আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত—মুআবিয়ার পক্ষে খিলাফত ছেড়ে দেন এবং সকল সাহাবি—আহলে বাইতসহ—তাঁর বাইয়াত করেন। এতে করে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়, যাতে তিনি হাসানের প্রশংসা করে বলেন যে, আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলমানদের দুটি দলের মধ্যে সন্ধি করাবেন।

আবু বাকরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন হাসানকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বের করে মিম্বারের ওপর উঠালেন এবং বললেন:

ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ

“আমার এই পুত্র সর্দার। আশা করা যায়, আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলমানদের দুটি দলের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দেবেন।” [বুখারি ৩৪৩০ ও ২৫৫৭]

হাফিজ ইবনে হাজার (রাহ.) বলেছেন: এই ঘটনার উপকারিতার মধ্যে রয়েছে, নবুওয়াতের নিদর্শন এবং হাসান ইবনে আলি রা.-এর মর্যাদা। কারণ তিনি রাজত্ব ত্যাগ করেছিলেন দুর্বলতা, লাঞ্ছনা বা কোনো ত্রুটির কারণে নয় বরং আল্লাহর কাছে যা আছে তার প্রতি আগ্রহ ও মুসলমানদের রক্ত রক্ষার জন্য—যাতে তিনি দ্বীনের বিষয় ও উম্মতের কল্যাণ লক্ষ্য রাখেন।

এতে খারিজিদের প্রতিও উত্তর রয়েছে, যারা আলি ও তাঁর সঙ্গী এবং মুআবিয়া ও তাঁর সঙ্গীদের তাকফির করত (কাফের বলত)। অথচ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, উভয় দলই মুসলিম। … আর এতে প্রমাণিত হয় যে, উত্তম ব্যক্তি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কম উত্তম ব্যক্তির খিলাফত বৈধ। কারণ হাসান ও মুআবিয়া উভয়েই খিলাফত লাভ করলেন অথচ সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. ও সাঈদ ইবনে যায়িদ রা. (যিনি ছিলেন একজন বদরি সাহাবি) জীবিত ছিলেন।” [‘ফাতহুল বারী’, ১৩/৬৬-৬৭]
সুতরাং হে প্রশ্নকারী ভাই! মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে আপনার বিচার পুনর্বিবেচনা করুন। আপনি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন, তা চরম জুলুম। মুআবিয়ার মর্যাদা ও ফজিলতের কিছু অংশ আমরা এখানে উল্লেখ করেছি এবং উম্মাতের আলেমদের থেকে তা উদ্ধৃত করেছি। আহলে সুন্নাতের কেউ কখনো মুআবিয়া রা. সম্পর্কে আপনার উক্তির সাথে একমত হবে না।

সুতরাং এখন আপনার উক্তি থেকে তওবা করা এবং এই মর্যাদাবান সাহাবিকে তার যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা ছাড়া উপায় নেই। তিনি মুসলিম রাজাদের মধ্যে সর্বোত্তম। তাঁর হাতে ও তাঁর সময়ে অনেক দেশ বিজিত হয়েছে এবং এ কারণে আল্লাহর দ্বীনে বহু লোক দলে দলে প্রবেশ করেছে।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি আপনাকে হক ও সঠিক পথের দিশা দান করুন এবং আপনাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানান।

❖ আমরা আপনাকে নিম্নের বইগুলো পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি:

১. شبهات وأباطيل حول معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما

( শুবহাতুন ওয়া আবাতিলু হাওলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)মা।)
“মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও অসার ধারণার খণ্ডন।”

২. سل السِّنان في الذب عن معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه

( সাল্লুস সিনানি ফিদ দিফা-ই আন মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান [রাদিয়াল্লাহু আনহু])
“মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতিরক্ষায় উন্মুক্ত তলোয়ার।”

৩. من فضائل وأخبار معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه

( মিন ফাদায়িলি ওয়া আখবারি মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান [রাদিয়াল্লাহু আনহু])
“মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা ও ঘটনাবলি।”

৪. الأحاديث النبوية في فضائل معاوية بن أبي سفيان

(আল আহাদিসুন নাবাউয়িয়্যাহ ফি ফাদায়িলি মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান।)
“মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের মর্যাদায় বর্ণিত নবিজি )সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম(-এর হাদিসসমূহ।”

এছাড়াও পড়ুন:

৫. "أمير المؤمنين معاوية بن أبي سفيان" - محمد مال الله
(আমিরুল মুমিনিন মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান)—মুহাম্মাদ মাল আল্লাহ।
“মুমিনদের নেতা মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রা.।”

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বই যা মুহাম্মাদ মাল আল্লাহ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া-এর আলোচনা থেকে সংগ্রহ, বিন্যাস ও টীকাযুক্ত করেছেন।

৬. "العواصم من القواصم" - ابن العربي المالكي
(আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম)—ইবনুল আরাবি আল মালিকি।

“পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী বিপর্যয় থেকে রক্ষাকারী ঢাল।” (ইসলামের ইতিহাসের কঠিন ফিতনাগুলো থেকে বাঁচার সুরক্ষাকবচ)।

৭. "منهاج السنة النبوية" - شيخ الإسلام ابن تيمية
(মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাউয়িয়্যাহ)—শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ।

নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম-েএর সুন্নাহর সুস্পষ্ট পথ। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা রক্ষায় একটি কালজয়ী বিশাল গ্রন্থ।
[islamqa info প্রশ্ন নং ১৪০৯৮৪]
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

শ্যালিকা ও ভাবীর সাথে পর্দার বিধান ও বেপর্দা নারী সামনে এসে গেলে করণীয়প্রশ্ন: নারীদের পাশাপাশি যেহেতু পুরুষদের ও মাহরাম...
14/04/2026

শ্যালিকা ও ভাবীর সাথে পর্দার বিধান ও বেপর্দা নারী সামনে এসে গেলে করণীয়

প্রশ্ন: নারীদের পাশাপাশি যেহেতু পুরুষদের ও মাহরাম নন-মাহরাম মেনে পর্দা করা ফরজ। তাই একজন পুরুষের ক্ষেত্রে তার স্ত্রীর বোন (শ্যালিকা) এবং ভাবী যেহেতু সেই পুরুষের জন্য নন-মাহরাম। এ ক্ষেত্রে একজন পুরুষ শ্বশুরবাড়িতে গেলে তার স্ত্রীর বোন কিংবা ভাবীর সাথে কি কথা বলতে পারবে? আর যেহেতু বাড়ির মহিলারা পরিপূর্ণ পর্দা করে না সেহেতু শ্বশুরবাড়ির মহিলারা সামনে পড়ে গেলে সালাম দিয়ে "কেমন আছেন" এসব কথা বলা কি জায়েজ হবে, নাকি সামনে পড়লেও মাথা নিচু করে এড়িয়ে যাওয়া একজন পুরুষের জন্য উত্তম হবে? বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর:
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, একজন পুরুষের জন্য তার শ্যালিকা এবং ভাবী ‘অস্থায়ী হারাম’ বা নন-মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সাথে পর্দার বিধান পালন করা ফরজ।

নিম্নে আপনার প্রশ্নের আলোকে উত্তর প্রদান করা হল:

❑ শ্যালিকা ও ভাবীর সাথে কথা বলা:

একজন পুরুষ তার শ্যালিকা বা ভাবীর সাথে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তবে যদি বিশেষ প্রয়োজনে কথা বলতে হয় তবে সরাসরি দেখা না করে পর্দার আড়াল থেকে সংক্ষেপে এবং স্বাভাবিক কণ্ঠে, গাম্ভীর্য বজায় রেখে (ইচ্ছাকৃত কোমল বা আকর্ষণীয় ভঙ্গীতে নয়) প্রয়োজনীয় কথা বলা জায়েজ। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনও প্রকার ফেতনা বা আকর্ষণ সৃষ্টি না হয় বা অন্তরে কোনও ধরণের লালসাকে স্থান দেওয়া যাবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا

"হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য সাধারণ নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তোমরা পরপুরুষের সাথে কোমল বা আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না; পাছে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সংগত ও সদ্ভাবপূর্ণ কথা বলো।" [সূরা আহযাব: ৩২]

অধিকাংশ তাফসিরবিদের মতে, যখন নবী-পত্নীদের মতো পবিত্র চরিত্রের নারীদের জন্য এই সতর্কতা প্রয়োজন হয় তবে অন্য সাধারণ নারীদের জন্য এটি পালন করা আরও বেশি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।

মূলতঃ এই আয়াতটি মুসলিম নারীদের কথোপকথনের একটি মৌলিক নীতিমালা (Code of Conduct) নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রয়োজনবশত পরপুরুষের সাথে কথা বলতে হলে তা হতে হবে গম্ভীর, শালীন এবং আকর্ষণমুক্ত; যেন কোনো কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তি কুমতলব পোষণ করার সুযোগ না পায়।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন:

إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ. فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوُ؟ قَالَ: "الْحَمْوُ الْمَوْت

"তোমরা (নন মাহরাম) নারীদের নিকট প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকো। একজন আনসারি সাহাবি প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসুল! দেবরের (বা শ্যালক/নিকটাত্মীয়) ব্যাপারে আপনার মত কী? তিনি বললেন: দেবরাদি তো মৃত্যু সমতুল্য।" [সহিহ বুখারি: ৫২৩২ও সহিহ মুসলিম: ২১৭২]

এখানে 'হামউ' বলতে স্বামীর ভাই (দেবর) বা স্ত্রীর ভাই-বোন অর্থাৎ নিকটাত্মীয় নন-মাহরামদের বোঝানো হয়েছে। তাদেরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করার কারণ হলো, তাদের সাথে পর্দার শিথিলতার কারণে চারিত্রিক স্খলন বা ফেতনার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

❑ শ্বশুরবাড়িতে যদি মহিলারা পরিপূর্ণ পর্দা না করে এবং হঠাৎ সামনে কোনও বেপর্দা নারী এসে যায় তাহলে কী করণীয়?

এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা কর্তব্য:

✦ যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে, অপ্রত্যাশিতভাবে শ্বশুর বাড়িতে বেপর্দা নারীর মুখোমুখি হয়ে গেছেন তাহলে প্রথমত নজর পড়ার সাথে সাথে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।" [সূরা নূর: ৩০]

✦ ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে দৃষ্টি অবনত রেখে কেবল সালাম দিয়ে বা সামান্য কুশল বিনিময় করে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়তে হবে। তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকে তাহলে সালাম ও কুশলাদি বিনিময় থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক।

পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে এমন পরিবেশে অবস্থান না করাই একজন আত্মমর্যাবান মুত্তাকি পুরুষের জন্য নিরাপদ।
সামাজিকতার দোহায় দিয়ে বা অপ্রয়োজনে সেখানে দাঁড়িয়ে অযথা দ্বীর্ঘ আলাপচারিতা ও গল্পগুজবে লিপ্ত হওয়া শোভনীয় নয়।

✦ জ্ঞাতব্য যে, একজন পুরুষ যখন এমন বেপর্দা নারীদের নিকটে নিজের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে পর্দার বিধান মেনে চলবে তখন সেটি তাদের জন্যও একটি নীরব দাওয়াত হিসেবে কাজ করতে পারে।

✦ তাছাড়া অযথা কথা বলার মাধ্যমে শয়তান মনে কুমন্ত্রণা দেওয়ার সুযোগ পায়। তাই আল্লাহভীতি এবং নিজের আমল-আখলাক রক্ষার স্বার্থে যতটুকু সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।

মোটকথা, আত্মমর্যাদাবান মুত্তাকি পুরুষের জন্য নিরাপদ হলো অপ্রয়োজনে পরনারীর সাথে মেলামেশা এড়িয়ে চলা এবং দৃষ্টি ও চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষায় সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে রাখা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে হেফাজত করুন এবং ইসলামের বিধিবিধানগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দু্ল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

Address

House-56, Road-3, Block-B, Ward-54, Turag
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Satkania Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share