01/09/2024
প্রথম ঘটনা.
আমার মনে আছে, আমাদের উস্তায মাওলানা Kazi Fazlul Karim হাফিজাহুল্লাহ কারবালা মাদরাসায় একবার ছাত্রদের নিয়ে বয়ান করছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি নিজের ফারেগ পরবর্তী জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, আমি ফারেগ হওয়ার পর উস্তাযকে বললাম, আমার ইসলামী স্বরাষ্ট্রনীতি নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে। আমি কী করতে পারি। তখন উস্তায বললেন, ‘তোমার এই বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিন্তু আমাদের কওমী মাদরাসায় এ বিষয়ে কোন তাখাস্সুস নেই।’ আমার জানা নেই কাজি সাহেব পরবর্তীতে তার এই বিষয়ে কোন সহযোগিতা পেয়েছিলেন কি-না।
দ্বিতীয় ঘটনা.
ফারেগ হওয়ার পর পারিবারিক কারণেই আমাকে খেদমতে যোগ দিতে হয়েছে। কিন্তু একসময় আমি পড়াশুনা করার সিদ্ধান্ত নিই। আমার পছন্দের বিষয় ছিল ইতিহাস। এই বিষয়ে পড়াশুনা করার জন্য পুরো বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছি। না কোন তাখাস্সুস পেয়েছি, না এমন কাউকে পেয়েছি যিনি আমাকে এই বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিবেন। অনেকের কাছে পরামর্শ করে শায়খ Atik Ullah এর কাছে গেলাম, সাক্ষাত করলাম। তিনি আমাকে তার প্রতিষ্ঠান এবং মাশগালা দেখিয়ে বললেন, ‘আপনাকে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ আমার হাতে নেই।’ আমি উনার ওজর বুঝলাম এবং ইতিহাসকে একাডেমিক ভাবে শেখার জায়গা থেকে ফিরে এলাম।
ইতহাস, স্বরাষ্ট্রবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, চিকিৎসা বিজ্ঞান এগুলোর সঙ্গে কী দ্বীনের কোন সম্পর্ক নেই? আপনি অবশ্যই এটা মানবেন, এগুলোর সঙ্গে আমাদের জীবন সম্পৃক্ত। তাহলে এই বিষয়গুলোর সঙ্গে দ্বীনের সম্পর্ক কেন হবে না?
দ্বীন যদি একজন মুসলমানের পরিপূর্ণ জীবনের নিদের্শিকা হয় তাহলে তার অসুস্থতায় কেবল রুকয়ার মাধ্যমেই কী সমাধান করার চেষ্টা করা পরিপূর্ণ দায়িত্বশীলতা? একটি সমাজ ব্যবস্থা যদি ধ্বংসের দ্বারমুখে উপনীত হয় তখন তাকে কেবল নসিহার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবেন?
এ ক্ষেত্রে আমাদের টেকনিক্যালি কোন পদ্ধতি অবলম্বন করার চেষ্টা করা প্রয়োজন হবে না? এই টেকনিক্যাল পদ্ধতি শেখাকে আপনি কেন দ্বীন বলবেন না?
আমি সচেতনভাবেই বলছি, দেওবন্দ মাদরাসা সৃষ্টি হয়েছে একদল যোগ্য আলিম তৈরির মিশনকে বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে এবং এই মিশন প্রতিটি যুগেই প্রয়োজন। কিন্তু যিনি বা যাকে আমরা আলিম হিসেবে তৈরি করছি তার কাজ কী হবে? তার কাজকে তিনি কোন ‘স্থান-কাল-পাত্রে’ বাস্তবায়ন করবেন। এই বিষয়ে দায়িত্বশীল কোন রোডম্যাপ কী এই পর্যন্ত তৈরি করার সদিচ্ছা পোষণ করেছে কি এই প্রতিষ্ঠানগুলো কিংবাদের অভিভাবকগণ! এই প্রতিষ্ঠানের কাজ কী কেবলই হুরুফি শিক্ষা দেওয়া?
আপনারা কওমি মাদরাসা থেকে ফারসি তুলে দিতে চান, মানতিক উঠিয়ে দিতে চাচ্ছেন। শামছে বাযেগানা বিলুপ্ত করেছেন। ফুনুনিয়াত বাদ দিয়েছেন। দুওম পড়ার প্রয়োজন অনুভব করছেন না। কেন?
নিশ্চয় বলবেন, সময়ের তাকাযা এসেছে তাই। সময়ের তাকাযা অনুযায়ী যদি কিছু বাদ দেওয়া যায় তাহলে সময়ের তাকাযা অনুযায়ী গ্রহণ করতে আপনদের এতো দ্বিধা কেন?
আমার কথা, মুসলমানদের সন্তানদের জ্ঞান শেখার পথকে সংকীর্ণ করে দেওয়ার অথবা সংকুচিত করার অধিকার কোন আলিম, আওলিয়া কিংবা শায়খের নেই।
আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কওমি মাদরাসা ভিত্তিক শিক্ষার দ্বার আরও উন্মোচিত হোক, অবারিত হোক। এই শিক্ষায়তনের প্রবেশ এবং বহির্গমন নিঃসংকোচিত হোক। অথবা এর শাখা-প্রশাখা আরও বিস্তৃত হোক। দেশ এবং জাতির মূল অবকাঠামোগুলোতে আমাদের সন্তানরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখুক এটা আমরা চাই। আমাদের আকাবিরগণ এখনও বেঁচে আছেন। তাদের কাছে আমাদের এই আবেদন।
যদি আকাবিরগণ সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম না হন তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম ঠিকই সিদ্ধান্ত নিবে। সেটা ভুল হলে এক সোয়াব এবং সঠিক হলে দুই সোয়াব।