16/10/2026
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী ‘প্রোগ্রাম ফ্যাসিলিটেশন ওয়ার্কশপ’
অদ্য ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)-এর আয়োজনে পিকেএসএফ-এর এগ্রো-মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের অর্থায়নে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গাস্থ ‘আইডিএফ ইনোভেশন হাব’-এ অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী ‘প্রোগ্রাম ফ্যাসিলিটেশন ওয়ার্কশপ’ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। বিগত ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া উক্ত কর্মশালায় দেশের ৩৪টি সহযোগী উন্নয়ন সংস্থার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রাণিসম্পদ খাতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের সংস্থা পর্যায়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান, স্থানীয় দেশীয় জাতের গরু যেমনঃ আরসিসি, মিরকাদিম, পাবনা ক্রস, নর্থ বেঙ্গল গ্রে জাতের গরু এবং মহিষ পালন সম্প্রসারণ, সার্কুলার ইকোনমি মডেলের আওতায় বাণিজ্যিকভাবে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের কর্মকৌশল চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে এআই (AI), আইওটি (IoT) ও সোলার প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু সহনশীল জাত উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী পর্বে আইডিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ফোকাল পারসন মুহাম্মদ শাহ আলম এবং মূল প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপক মজনু সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে খাদ্যের উচ্চমূল্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব অন্যতম। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আইওটি (IoT) এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর সাশ্রয়ী প্রাণিখাদ্য উদ্ভাবনে আমাদের গবেষণায় বিশেষ জোর দিতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে আইডিএফ-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, “দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে শুধুমাত্র মাইক্রোফাইন্যান্স যথেষ্ট নয়; বরং আমাদের ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন উদ্ভাবন ও প্রায়োগিক গবেষণায় যারা এগিয়ে আসবেন, আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাবৃন্দ মাঠপর্যায়ে টেকসই প্রাণিসম্পদ রূপকল্প বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।