01/06/2025
নারীর স্তন স্বাস্হ্য সুরক্ষা শুরু হোক তার নিজের হাতেই :-
আমি বাংলাদেশের সকল মহিলাদের স্তন ক্যান্সার সচেতন হবার জন্য আমার প্রোফাইল সহ দি ব্লু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশনের সকল পেজে পাঁচ স্তরের একটি নিজে স্তন পরীক্ষার পদ্ধতি আপনাদের সকলের মঙ্গলার্থে উৎসর্গ করলাম । আমার এই প্রচেস্টায় বাংলাদেশের নারীরা যদি একবিন্দু উপকৃতও হয় সেই পুন্যের প্রতিটি শিশির বিন্দু যেন আমার বড় বোন আইরিন পারভীন বাঁধনের স্বর্গীয় আত্মাকে তৃপ্ত করে । ও এত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চায়নি । ও প্রবলভাবে বেঁচে থাকতে চাইতো - সবার কাছে হায়াতের জন্য দোয়া চাইতো আর অবিরাম ভাল কাজ করে যেত , নির্যাতিত আর ব্যথিতের জন্য দোয়া করতো । আমাদের মত বোন হারানোর আর প্রিয়জন হারানোর কস্ট নিয়ে কাউকে বেঁচে থাকতে না হয় সেই কামনায় আমাদের আগামীর পথ চলা। উন্নত বিশ্বের মতো আমরা স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার শুন্য দেখতে চাই । সচেতনতা , উন্নত চিকিৎসা আর কাছের মানুষ দের স্নেহ প্রবন হাতই পারে এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে। আসুন আমরা বেঁচে থাকি , একা নয় , সবাইকে নিয়ে - স্তন ক্যান্সার রোগীদের জন্য তহবিল গঠন করি , সহানুভূতির হাত সম্প্রসারণ করি । বেঁচে থাকাটা আনন্দের , বেঁচে থাকার মধ্যেই শক্তি । স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের বিজয় কেতন উডিয়ে আমরা বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখি । আপনারাও আমাদের সাথে থাকুন আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সহযাত্রী হোন । সকলের কল্যান হোক ।
নিজে নিজে স্তন টিউমার পরীক্ষার পদ্ধতি :-
আমরা নারীরা প্রতি মাসে এক থেকে দুইবার পাঁচটি ধাপে এই স্ব পরীক্ষা অনুশীলন করতে পারি । নিম্নে ধাপ সমূহ পর্যায়ক্রমে ছবি সহ উপস্থাপন করা হলো:-
১নং এবং ২ নং ধাপ বা পদ্ধতি:
* প্রথমে দুই কাঁধ সোজা করে দুই বাহু কোমরে রেখে আয়নার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং আপনার স্তনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন ।
* স্তনের নিম্নোক্ত বিষয বা সমস্যা গুলোতে মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে :-
#স্তনের আকার আকৃতি এবং রং স্বাভাবিক আছে কিনা।
#দুই স্তনের আকৃতি একই ধরনের এবং কোনো স্তনের আকৃতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ,বিকৃতি , কোন তরল জাতীয় কিছু নিসৃত হওয়া , কূচকে যাওয়া অথবা চাকার মত ফোলা কিংবা শক্ত কিছু অনুভুত হয় কিনা।
#সাধারণ অবলোকনে এই ধরনের কোন অস্বাভাবিকতা কিংবা পরিবর্তন দেখা গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
#লক্ষ্য রাখতে হবে স্তনের চামড়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন , স্তন বৃন্তের গর্তে ঢুকে যাওয়া , কূচকানো এবং অন্য কোনো পরিবর্তন ।
#স্তন বৃন্তের অস্বাভাবিক অবস্হান অথবা উল্টে গর্তে ঢুকে যাওয়া অথবা লাল হয়ে যাওয়া , রাস ওঠা বা অন্য কোন তরল বা রক্ত নির্গমন হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট পরামর্শ পুর্বক বিভিন্ন পরীক্ষা যেমন স্তনের আল্ট্রাসাউন্ড বা মেমোগ্রাম করাতে হবে।
ছবি ১ এবং ২
৩নং ধাপ বা পদ্ধতি:-
* আয়নার সামনে প্রথমে এক নম্বর এবং পরে দুই নম্বর ধাপের মত দাড়িয়ে দু স্তন বৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক রক্ত ,দুধ , পূজ, হলুদ রং তরল বা পানি জাতীয় কিছু ক্ষরণ হয় কিনা তা সুক্ষ ভাবে দেখতে হবে।
*আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দুই কাঁধ সোজা রেখে হাত কোমরে রেখে স্তন পরীক্ষা করতে হবে এবং বিষয়টি নিশ্চিত পুর্বক ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
৪নং ধাপ বা পদ্ধতি :-
*প্রথমে মাথার নীচে হাল্কা একটি বালিশ দিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে ।
* ডান স্তন পরীক্ষার সময় ডান হাত মাথার নীচে রেখে বাম হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে ।
*বাম স্তন পরীক্ষার সময় বাম হাত মাথার নীচে রেখে ডান হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে ।
*হাতের মাঝের কয়েক টি আংগুল একত্র করে শক্ত অথচ সহনীয় ভাবে আংগুলের গোড়া দিয়ে স্তন পরীক্ষা করতে হবে চিত হওয়া অবস্হায় হাল্কা চাপে,চক্রাকারে । এক্ষেত্রে গোলাকৃত স্তনকে চার ভাগের এক ভাগ করে ভাগ করে নিয়ে প্রত্যেক ভাগকে একইভাবে পরীক্ষা করতে হবে ।
*পুরু স্তনের উপর -নীচ , একপাশ -অন্য পাশ এবং কলার বোন বা ক্লাভিকল থেকে পেটের উপর ভাগ পর্যন্ত পরীক্ষা করতে হবে। বগলের নীচ থেকে কোমরের ভাজ পর্যন্ত চামড়া বা টীস্যু পরীক্ষা করতে হবে।
*স্তন বৃন্ত থেকে শুরু করে চক্রাকারে স্তনের বহির্ভাগ পর্যন্ত
পরীক্ষা করতে হবে।এখন আবার আংগুল গুলোকে লম্বালম্বী, উপর-নীচ বাগান লন করার মতো ঊপায়ে স্তনকে পরীক্ষা করতে হবে।
*এই পদ্ধতি সনাক্তকরণ মহিলাদের জন্য সুবিধাজনক হিসাবে ধারনা করা হয়।
*চামড়ার ঠিক নীচে স্তনের অস্বাভাবিকতার জন্য হাল্কা চাপ,স্তনের মধ্যভাগের জন্য মাঝারি চাপে এবং একদম পাঁজর পর্যন্ত ভিতরকার অস্বাভাবিকতা নিশ্চিতকরন বা সনাক্তকরণের জন্য সহনীয় জোরে চাপ দিতে হবে।
*শোয়া অবস্হানে ডান হাত দিয়ে বাম স্তনের এবং বাম হাত দিয়ে ডান স্তনের পরীক্ষা করতে হবে। গভীরতর টীস্যুর ক্ষেত্রে মোটামুটি জোরচাপে হাতের সামনের তিনটি আংগুল একসাথে করে স্তনের পরীক্ষা করতে হবে ।
* উপরোক্ত ভাবে স্তন পরীক্ষার পর কোন চাকা , শক্ত কোন কিছু অনুভুত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ।
৫নং ধাপ বা পদ্ধতি:-
* সবশেযে স্তনকে পরীক্ষা করতে হয় বা স্তনের পরিবর্তন অনুভব করতে হয় দাড়িয়ে বা বসা অবস্হানে ।
* এ ধাপেও ডান স্তন পরীক্ষার সময় ডান হাত সোজাভাবে উঁচু করে কান বরাবর রাখতে হবে এবং বাম হাত দিয়ে চার নম্বর ধাপের মত একই ভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
* বাম স্তন পরীক্ষার ক্ষেত্রে একইভাবে উপরের নিয়ম অনুসরন করতে হবে।
*অনেক মহিলা ভেজা বা পিচ্ছিল অবস্হায় স্তন পরীক্ষা ভালো ভাবে করতে পারে বলে ভেজা অবস্হায় বা গোসলের সময়কে প্রাধান্য দেয়। এই ধরনের অনুশীলন বা পরীক্ষার ক্ষেত্রে চার নং ধাপের বর্নিত সকল পদ্ধতি , ভঙ্গিমা বা হস্ত সন্চালনা অনুসরন করতে হবে ।
* উক্ত অনুশীলনের পরে কোন চাকা , স্তনের পরিবর্তন বা অন্য কোন সমস্যা দেখা গেলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা সাপেক্ষ চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে ।
তথ্য Ayesha Shelley