Be the first to know and let us send you an email when NEXUS Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
২০১৬ সালের ৪ই মার্চ মাতৃভূমির দারিদ্র্যতা হ্রাসের এক পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে তরুনদের সংগঠন 'নেক্সাস ফাউন্ডেশন'। নেক্সাসের সদস্যবৃন্দ বুকে ধারন করছে একটি স্লোগান: 'Holding Hands, we will develop our Bangladesh'.
৫ জন নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এটি সংগঠনে রুপান্তরিত হয়। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০ জন।
নেক্সাস ফাউন্ডেশন হঠাৎ করেই জন্ম নেয় নি। এই ফাউন্ডেশন গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছিল নেক্সাসের ফাউন্ডার, প্রেসিডেন্ট ইয়াসিন উদ্দীন ইমনের জীবনের একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা।
"২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ ইমন হাইকোর্ট রোড দিয়ে হেটে বাসায় যাচ্ছিলেন। পথ চলার এক পর্যায়ে তিনি লক্ষ করলেন কিছু দূরত্বে গাড়ি থেকে একটি লোক বের হয়েছে। বের হওয়া মাত্রই সেই লোকের কাছে এসে একটি বাচ্চা হাত পেতে আবদার করছিল। লোকটি প্রথমে বাচ্চাটিকে এড়িয়ে গিয়েছে। পুনরায় বাচ্চাটি আবদার করলে লোকটি তাকে ধমক দিচ্ছিলো। তারপর আবারো বাচ্চাটি আবদার করলে, লোকটি রাগান্বিত হয়ে তাকে হাত দিয়ে ধাক্কা দেয়। বাচ্চাটি রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে। ছোট্ট বাচ্চাটির মাথা থেকে ঝরে অবিরাম রক্ত। সাথে সাথে লোকটি গাড়িতে উঠে চলে যায়। তৎক্ষণাৎ পাশ থেকে একটি মহিলা এসে বাচ্চাটিকে কোলে করে নিয়ে যায়।"
এই দৃশ্য দেখার পর ইমনের আবেগপ্রবণ হৃদয় কেঁদে ওঠে বাচ্চাটির জন্য। ঘটনার পর তিনি সারাদিন বেশ মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন। তারপর তিনি তার ৫ জন বন্ধুদের জানান, তিনি পথশিশুদের জন্য কিছু করতে চান। যেমন: শিক্ষা, অভাবমোচন প্রভৃতি। যাতে আর কোনো বাচ্চাকে এমন কারো কাছে হাত পাততে না হয়। আর সেখান থেকেই নেক্সাস ফাউন্ডেশনের জন্ম। আর সেই ইমন নেতৃত্ব দিচ্ছেন মানবসেবায় নিয়োজিত এই সংগঠনটিকে।
১০০ জনের মাঝে একবেলা খাবার বিতরন না করে একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চিন্তা থেকে এসেছে নেক্সাসের 'স্বাবলম্বী' প্রকল্প। এটি নেক্সাসের বছরব্যাপী একটি প্রকল্প। উক্ত প্রকল্পের আওতায় দেশে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দেশের যেকোনো প্রান্তে রক্ত পৌছানোর জন্য রয়েছে 'নেক্সাস ব্লাড স্কোয়াড'। এটি নেক্সাসের একটি অঙ্গ সংগঠন। এই স্কোয়াডের সদস্যবৃন্দ যেকোনো মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগীর কাছে প্রয়োজনীয় রক্ত পৌছানোর ব্যবস্থা করছে।
'Education for all' প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌছে দেওয়া হচ্ছে।
মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য 'সেলাই মেশিন' প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে মহিলারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
হাঁড়কাপুনি শীতের মৌসুমে শীতবস্ত্র এবং পবিত্র ঈদে 'ঈদ বাজার' বিতরন করা হচ্ছে।
জাতীয় এবং উৎসবের দিবসগুলোতে ইভেন্ট আয়োজন করে পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরনের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করছে নেক্সাস।
তরুন এবং অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আয়োজন করে জনসাধারনকে সচেতন এবং দেশপ্রেমে উদ্বদ্ধু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে মাঠ পর্যায়ে নেক্সাসের সদস্যবৃন্দ চষে বেড়ায়।
যেকোনো দূর্যোগে (বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকান্ড, মানবিক বিপর্যয়) তৎক্ষণাৎ ত্রানসামগ্রী পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে নেক্সাসের অদম্য দলের সদস্যবৃন্দ।
'স্বাবলম্বী' প্রকল্প!! নেক্সাসের একটি বছরব্যাপী প্রোজেক্ট। এই প্রকল্পটি যাকাতের অর্থ এবং নগদ অনুদানের অর্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেমনঃ রিকশাসহ জীবিকা নির্বাহের বিভিন্ন উৎস সামগ্রী প্রদান, বিভিন্ন পন্যদ্রব্য দিয়ে টং তৈরী করে দেওয়া প্রভৃতি।
'স্বাবলম্বী ০১' হস্তান্তর করা হয় দেলোয়ার হোসেন দেলু মিয়া নামে এক হতদরিদ্র লোককে। নেক্সাসের যে গুনটি আমরা বিগত চার বছর যাবৎ ধরে রেখেছি এবং অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছি, সেটি হচ্ছে: আমরা যাকে যেখানে যেই পরিমানেরই সাহায্য দেই না কেন, আমাদের মনিটরিং টিম সাহায্যপ্রার্থীর বাসায় গিয়ে তার অবস্থা বিবেচনা করে তারপর সাহায্য প্রদান করে। উল্লেখ্য আমরা ২০১৭ সালের প্রবল বন্যায় ৩৫০ পরিবারের জন্য খাবার প্যাকেট নিয়ে টাঙ্গাঈলের ভুড়ুয়ারচরে গিয়েছিলাম। আমাদের টিম সেই প্রতিকূল পরিবেশ বন্যাকবলিত এলাকায়ও লাইনে দাঁড় করিয়ে সাহায্য দেয় নি। ৩৫০ টি পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার প্যাকেট হস্তান্তর করে এসেছিল। দেলু মিয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয় নি। হস্তান্তরের পূর্বে তাকে আমাদের মনিটরিং টিম যাচাই-বাছাই করে চিহ্নিত করেছিল। দেলু মিয়া কামরাঙ্গীর চরে ভাড়া থাকেন।
পৈতৃকসূত্রে এই হতভাগার কোনো ভিটেমাটি জোটে নি। তার বাবা কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে সকল জমি-জমা বিক্রয় করা হয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের জন্য। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তার বাবার মৃত্যু হয়। তারপর পেটের দায়ে দেলু মিয়া মা, স্ত্রী ও ছেলে সন্তানসহ ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে আসেন। সে একটি ভাড়া রিকশা চালাতো। কিন্তু বর্তমানে দেলু মিয়া একটি রিকশার মালিক। নেক্সাস ফাউন্ডেশন তাকে 'স্বাবলম্বী ০১' প্রকল্পের আওতায় একটি রিকশা প্রদান করে।
নির্দিষ্ট পরিমানে কিছু সঞ্চয়, রিকশা বিক্রয় না করা এবং মাদক সেবন না করার শর্ত তার সামনে উপস্থাপন করা হয়। উক্ত শর্তে দেলু সম্মতি দিলে তাকে স্বাবলম্বী প্রকল্পের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এবং বিনামূল্যে একটি রিকশা প্রদান করা হয়।
আমাদের মোবাইল এবং বিকাশ নম্বরঃ ০১৬২৪২৫৪৩০৬, ০১৯৯৫২৬৯৫৯০