05/10/2025
আমার বয়স ২৬ বছর। আমি পরিবারের বড় মেয়ে এবং আমার চার মাসের একটি ছেলে আছে। আমি সব সময় শহরে বড় হয়েছি। আমার স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় তাকে বছরের অর্ধেক সময় শিপে থাকতে হয়। তাদের বাসা গ্রামে এবং এটি একটি যৌথ পরিবার। তাই আমি তাকে বিয়ের আগেই বলেছিলাম, সে যখন দেশে থাকবে, আমি তার সাথেই থাকব; কিন্তু সে যখন শিপে থাকবে, আমি আমার বাবার বাড়িতে থাকব। সে এতে রাজি ছিল এবং সেই অনুযায়ীই আমরা চলি। সমস্যা এখন আমার বাবার বাড়িতে। আমার বাবা-মা যে আমাকে ভালোবাসেন, তা আমি জানি। তারাও চান যে আমি তাদের সাথে থাকি কিন্তু এখন আমি এখানে থাকলে মা কেমন যেন খুঁতখুঁত করেন। তার সব কাজ সময়মতো শেষ করতে হয়। তিনি একটু গোছালো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করেন। আমিও তেমন, কিন্তু এখন ছোট বাচ্চা থাকায় আমি সব কাজ সময়মতো করতে পারি না। এমন না যে সব কাজ আমাকেই করতে হয়। কাজ বলতে, সকালে নিজের নাস্তা নিজে বানিয়ে খাই আর রুমগুলো গুছিয়ে রাখি। আর বিকেলে সবার জন্য নাস্তা আমিই তৈরি করি। বাকি সব কাজ মা আর কাজের লোক করে।
আমি আবার চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, এটাও আমার বাবা-মায়ের ইচ্ছা। আমার বা আমার স্বামীর খুব একটা ইচ্ছা বা প্রয়োজন নেই,সারাজীবন তাদের খুশি রাখতে এবং তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে ভালো ভালো ফলাফল করেছি। এখন তারা বলেন যে আমাকে একটা চাকরি পেতেই হবে, অথচ চাকরি পাওয়ার জন্য দিনে আট থেকে দশ ঘণ্টা যে পড়াশোনা করতে হয়, সেই সুযোগ তারা দেন না। তাদের কথা অনুযায়ী, বাচ্চা তারা মাঝে মাঝে দেখভাল করেন এবং আমাকে রান্না করতে হয় না। এখন সমস্যা হলো, এখানে আমাকে এসব করতে হয় না ঠিকই, কিন্তু তাদের সময়সূচি অনুযায়ী চলতে হয়। যার কারণে দিনের প্রথম ভাগে আমার কোনো পড়াই হয় না আর বিকেলে বা রাতে আমার পড়ার আর শক্তি বা মেজাজ থাকে না। তখনও বাচ্চা তো আছেই। কিন্তু তারা এসব বুঝতে চান না, আবার এখন শুরু হয়েছে যে, আমার শরীর মোটা হয়ে যাচ্ছে আমাকে দেখতে বেশি বয়স্ক লাগছে। আমি আগে থেকেই একটু স্বাস্থ্যবান, খেলেই মোটা হই এমন শরীর আমার। তাই সব সময় আমাকে মেপে খেতে হতো। কিন্তু এখন আমি বাচ্চাকে শুধু বুকের দু-ধ খাওয়াই, কীভাবে মেপে খাব? নিজেকে ঠিক করতে আমার এক বছর সময় তো লাগবেই।
আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো, তবুও বাড়তি কিছু খেতে হলে আমাকে কিনে খেতে হয়। মাসিক খরচের টাকা মায়ের হাতে থাকে আর প্রতিদিন একটি ডিম বরাদ্দ। এর চেয়ে বেশি খেতে হলে আমাকে কিনে খেতে হয়। এসব আবার আমার বাবা জানেন না। আর বাবা-মা কোনো কারণে রাগ করলে বা কথা শোনালে আমার খুব মন খারাপ হয়ে যায়। মোট কথা, তাদের সাথে থাকলে আমি মানসিক চাপে থাকি কিন্তু তারা চান আমি তাদের সাথেই থাকি, এতে নাকি তারা ভালো থাকেন। আমি আবার তাদের অনেক ভালোবাসি। কী করলে আমি ভালো থাকব আর তারাও ভালো থাকবেন, তা আমি বুঝতে পারি না। উল্লেখ্য, আমার একমাত্র ছোট ভাইয়ের সাথে তাদের ব্যবহার সম্পূর্ণ আলাদা। তার কাছে তাদের ভালো ব্যবহার ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই।