13/11/2025
You can read it!
১৭৮৭ সালের মহাবন্যার আগের সময়ে জেমস রেনেলের মানচিত্র অবলম্বনে তৈরিকৃত উত্তরবঙ্গের নদীর চিত্র।
১৭৬২ আরাকান ভূমিকম্প এবং ১৭৮৭ তিস্তা অববাহিকায় মহাবন্যার মধ্যবর্তী সময়ের মানচিত্র এটা।
তিস্তার প্রবাহ তখন আত্রাই এবং পুনর্ভবা দিয়ে ভাটিতে নামতো।
এখনকার তিস্তা অংশেও একটা ছোট তিস্তা আছে দেখুন।সেটা আসলে বুড়িতিস্তা।পাশে আছে ঘাঘট নদী।খেয়াল করবেন।
বগুড়ার ডানে এবং জয়পুরহাটের উপরে ছোট একটা নাম আছে (Jenni R)।
যদিও রেনেল এটাকে যবুনা নামে উল্লেখ করেছেন।
১৭৬২ সালের আরাকান ভূমিকম্পে শুধু চট্টগ্রামের পাহাড়-দ্বীপগুলো নয় বরিশাল ফরিদপুর সরাসরি প্রভাবিত হয়েছিল।
বরিশাল-ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চল সৃষ্টি হয়েছিল।
১৮৯৭ সালের আসাম ভূমিকম্পে ঢাকা জেলার উত্তরাঞ্চলের খালের মুখগুলো ভরাট হয়ে যায়।সিলেট ছাড়াও ঢাকা ময়মনসিংহ বেল্টের অধিকাংশ দালান ধ্বংস হয়ে যায়।
এই দুটোই ছিল আট মাত্রার উপরের ভূমিকম্প।
মহাবন্যায় যমুনার সৃষ্টির কথা যারা হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপনাদের কল্পিত ১৭৮৭ ভূমিকম্পটি শুধুই কি এই ছোট্ট জেনাই নদীর উপর হয়েছিল কিনা?
একদম চিকন হয়ে লম্বালম্বি?
তেমনটা না হলে তিস্তা থেকে ভাটির দিকে জিনাই নদীর পশ্চিমে অনেক নদী থাকলেও তিস্তার পানি কুড়িগ্রাম গাইবান্ধার মাঝামাঝি দিয়ে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে মিশে এরপর জোনাই নদীতে গেল কেন?
বড় ভূমিকম্প ঘটলে আশেপাশের বিস্তৃত এলাকা এবং জেনাইয়ের মত আরো ছোট ছোট নদী বড় হবার কথা ছিল না?
কিছুদিন আগে সিকিম কোচবিহারে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিভাবে বাংলাদেশের তিস্তায় বিভিন্ন কাঠ এবং পশু ভেসে এসছিল সেটা খেয়াল আছে নিশ্চয়ই।
এবার চিন্তা করে দেখেন ১৭৮৭ সালের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত টানা তিন মাস ধরে চলে।
রংপুরের লোক উঁচু মাচায় আশ্রয় নেয়।
জুলাই মাসে বৃষ্টি থামে।
১ আগস্ট থেকে আবার শুরু হয় টানা বৃষ্টি।
২৭ আগস্টের দিনটি রংপুরবাসীদের নিকট ছিল কেয়ামতের মত।
ঐ দিন আত্রাইয়ের দিকে যাওয়া লম্বাটে তিস্তা নুড়িপাথরে ভরাট হয়ে গিয়ে দক্ষিণ-পূর্বে দিকে বুড়িতিস্তা,ঘাঘট,মানস(এই মানচিত্রে নামটি নেই)নদী ধরে রংপুর জেলায় প্রবেশ করতে শুরু করে তীব্রবেগে।
মুহূর্তেই অগভীর ওসব নদী ভরাট হয়ে গিয়ে গ্রামের পর গ্রাম নদীর মত হয়ে যায়।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে তিস্তার পাহাড়ি প্রবাহ পরিপূর্ণভাবে ব্রহ্মপুত্রের সাথে এখনকার নদীর মত সংযুক্ত হয়ে যায়।
ব্রহ্মপুত্র প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোনের মত বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহমুখী হয়েছে।সেই বাঁকটি তিস্তার নুড়িপাথরে ভরাট হয়ে যায়।
বিপুল জলরাশি জোনাই নদী ধরে দক্ষিণে যেতে থাকে।
তবেই গোয়ালন্দের মোহনা পর্যন্ত এখনকার যমুনা নদীর মত হয়ে উঠতে জোনাই নদীর পরবর্তী প্রায় ত্রিশ বছর লেগেছিল।
পাথরের ভরাট হয়ে গেলেও ব্রহ্মপুত্র সেই বাঁক যেহেতু প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার প্রস্থের ছিল তাই পানিপ্রবাহ হঠাৎ করেই একদম শূন্য হয়ে যায়নি ময়মনসিংহের দিকে।
ধীরে ধীরে ময়মনসিংহের পানি কমেছে।যমুনায় বেড়েছে
এই প্রক্রিয়াটা ছিল প্রায় ত্রিশ বছরের।
যারা শতভাগ আপত্তি করবেন উপরের কথাগুলোয় তারা আগে মাহবুব সিদ্দিকীর লেখা 'তিস্তার মহাপ্লাবন যমুনা নদীর সৃষ্টি' বইটি কিনে,পড়ে এরপর পয়েন্ট ধরে ধরে বিতর্ক করতে পারেন।
লেভেল ছাড়া তর্ক করা ঠিক?
একজন বই পড়ে পড়ে কথা বলবে আর অন্যজন একান্তই অনুমান নির্ভর কথা বলবে,এমনটা হওয়া উচিত?
যমুনার তখন তিনটা নাম প্রচলিত ছিল জোনাই,জেনাই এবং যবুনা।
জেমস রেনেল লিখেছেন Joobna