Live and let live (বাঁচ এবং বাঁচতে দাও) এই শ্লোগানটি সামনে রেখে ২০০৭ সালের ১১ই জুলাই “সার্বজনীন পরিবেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন” (ইউইএইচআরএফ) নামের একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক দাতব্য সংগঠন আত্নপ্রকাশ করেছিলো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সোসাইটি এ্যাক্ট ১৮৬০ -এর অনুকুলে বৈধ অনুমোদন নিয়েই -এর শুভ যাত্রা শুরু হয়।
[গভঃ রেজিষ্ট্রেশন নং: এস ৬৮৪৬ (৩৪) ২০০৭]
সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশকে প্রকৃতির
লীলা নিকেতন বলা হয়।
অপূর্ব সৌন্দর্য, শস্য সম্পদ ও নানা প্রকার বৈচিত্র্যে ভরা এরূপ দেশ পৃথিবীতে ছিলো বিরল,ফুলে ফলে সৌন্দর্যে ভরা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হয়ে কবি লিখেছিলেন-
“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি” ।
বিগত ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। এর উত্তর দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা রাজ্য, মিজোরাম ও বার্মা (মায়ানমার), দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ, বহু নদ-নদী এর ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনভাগে ভাগ করা যায় | যথাঃ টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি, পার্বত্য চট্টগ্রামের শৈলশ্রেণী, জলপ্রপাত একে অপূর্ব সৌন্দর্য দান করেছে।
কিন্তু দুঃখজনক সত্য হচ্ছে, এই সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ আজ হারিয়ে ফেলতে চলেছে তার সৌন্দর্য আর ঐতিহ্য।
বাংলাদেশে উচ্চমাত্রায় শব্দ দুষনের কারনে প্রতিবছর কয়েক লাখ মানুষ শ্রবনশক্তি নষ্ট হয়ে বধিরতায় পরিনত হচ্ছে। মটরযান, শিল্প, ওয়েল্ডিং এবং প্রচারনায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রন করা না হলে বাংলাদেশের বড় বড় শহরগুলো অচিরেই বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়বে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার কারণে পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছেই। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ক্ষতি করছে ফসল, ফলগাছের। এর প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি।ইটভাটা থেকে প্রতিনিয়ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ হয়, যা ইটভাটার পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ি, পরিবেশ এবং মানবদেহের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় যেমন দেশের নদী ও জলাশয়গুলো চলে যাচ্ছে অবৈধ দখলদারের হাতে, তেমনি বৃক্ষ নিধনের জন্য সুন্দরবনসহ অন্যান্য বনও উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাই দূষণমুক্ত দেশ গড়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মনে রাখতে হবে এই পরিবেশের উপর যেমন আছে মানুষের অধিকার ঠিক তেমনই মানুষের উপরও আছে পরিবেশের অধিকার আছে।
এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় উল্লেখ্য যে,
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি দারিদ্র পীড়িত দেশ। এদেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে। বাংলাদেশ স্বাধীন, স্বার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, উন্নয়নশীল একটি দেশ। তবুও এদেশের অনেক লোকের স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা জমি নেই আর বাড়ীঘর থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না কারন তাদের রেল লাইন, রাস্তার ধারে বিভিন্ন স্থানে কুকুর, বিড়ালের সাথে ঘুমাতে হয়। তারা এমনই দরিদ্র যে সকালে কী খাবে, তাদের সন্তাানদের কী খাওয়াবে এই চিন্তায় তাদের দু’চোখে ঘুম থাকেনা। বিভিন্ন রোগ, অভাব তাদের নিত্য সঙ্গী। আবার এমনও দেখা যায় যে কতো ভাই বোনেরা কত সুন্দর পোশাক, গাড়ী ইত্যাদি নিয়ে বিলাসবহুল ভাবে দিনাতিপাত করছে আর তারা খেয়ে যা ফেলে দেয় সেই উচ্ছিষ্ট খাবার কাক আর কুকুরের সাথে যুদ্ধ করে অসহায় গরীব লেকেরা সংগ্রহ করে নিজেদের ক্ষুধা-নিবারনের প্রানন্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে!!
রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন দেখি বিশ্বের ইতিহাস। যে পৃথিবী এতো আধুনিক ও উন্নত সেই পৃথিবীতে মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ মাখলুকাত (সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব) হওয়া সত্বেও কেনো এত অবহেলিত হচ্ছে!?
আর কেনইবা মানুষে মানুষে এত সংঘাত? আসলে আমরা মানুষরাই এর জন্য দায়ী! আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের মনুষ্যত্ববোধকে জলান্জলি দিচ্ছি নিজের স্বার্থের কাছে। বিষিয়ে তুলছি পৃথিবী, নিজ জন্মভূমি, নিজ পরিবার আর নিজের আত্মাকে। শুধু তাই নয়,আমরা মানবজাতি নিজের ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভুলে গিয়ে দুষিত করে তুলছি প্রকৃতিক পরিবেশকেও। এরই ধারবাহিকতায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও পরেছে তীব্র পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশকে দরিদ্রমুক্ত, পরিবেশ দুষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রানপন দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সরকারের একার পক্ষে এই সকল সমস্যা দুর করা সম্ভব নয়।
এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এদেশের কয়েকজন স্থায়ী,সচেতন, আদর্শবান, শিক্ষিত সুনাগরিকদের পক্ষ থেকে একটি স্থায়ী কমিটি গঠন পূর্বক (সার্বজনীন পরিবেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন) নামক একটি সংগঠনের আওতায় সমগ্র বাংলাদেশের ভূমিহীন, ছিন্নমূল, হত দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, অবহেলিত ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে পাঁচটি মৌলিক অধিকার যেমনঃ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশের পরিবেশ দুষণরোধে কিছু কিছু কাজ করে যাচ্ছে সেই ২০০৭ সাল থেকে। বিগত ২০০৭সন থেকে ২০১২সনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই দাতব্য সংগঠনটি বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষদের কল্যানে নিরলসভাবে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে গেছে নিরবে নিভৃতে; বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগকালিন সময়ে ত্রান বিতরন কার্যক্রম পরিচালনা করা সহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন বস্তিতে বিভিন্ন সময় শিশুখাদ্য ও শিশুদের পোশাক বিতরন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এই সংগঠনটি।
সার্বজনীন পরিবেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন বরাবরই ছিলো একটি প্রচার বিমুখ সংগঠন।
এখানে উল্লেখ্য যে, এই সংগঠনটি কোন প্রকার সরকারী,বেসরকারী অথবা বৈদেশিক অনুদান ছাড়াই সংগঠনের সাধারন সদস্য ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আর্থিক অনুদান দিয়েই পরিচালিত হয়েছে।
সার্বজনীন পরিবেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ২০১৩সালের শেষের দিকে নিজেদের আর্থিক অসামর্থতার কারনে এবং কোন প্রকার সরকারী অনুদান বা বৈদেশিক অনুদানের অভাবে তাদের গতানুগতিক কার্যক্রম অনেকটা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলো, তবে এই সংগঠনটি জনসচেতনতামুলক বিভিন্ন প্রচারনার কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রেখেছে সকল সময়ই।
অবশেষে ২০১৬সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে পরিচালনা পর্ষদের এক জরুরী বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনটি আবারও পরিবেশ আন্দোলনের সাথে নিজেদেরকে যুক্ত করে নেয়। এবং তার পাশাপাশি এই সংগঠনটি পূর্বের মত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষদের কল্যানে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম চালু করার উদ্দ্যোগ গ্রহন করে, কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশের ছিন্নমুল পথশিশুদের জন্য “একটুখানি ভালোবাসা” ( A LITTLE LOVE ) নামের একটি বিশেষ প্রকল্প।
এই প্রকল্পটির মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে, অসহায় ক্ষুধার্ত পথশিশুদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১দিন দু’মুঠো ভালো খাবার খাওয়ানোর আয়োজন করা।
এখানে উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পটির সাথে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ আর বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সকল শ্রেনীর মানুষ যুক্ত থাকতে পারবে বিভিন্ন রকম সহায়তা করার মাধ্যমে।
এছাড়াও “সার্বজনীন পরিবেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন” তাদের মেমোরেন্ডামে উল্লেখিত Source of Fundএর ৪নং ধারার অনুকুলে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশনা ও প্রচারনার কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে নেয় এবং “বাংলাদেশ প্রেস টোয়েন্টিফোর” নামে একটি অনলাইন নিউজ এজেন্সি চালু করে।
এবং ২০১৬সালের ১১ই জুলাই অত্র সংগঠনের ৯ম বর্ষপূর্তির দিন পরিচালনা পর্ষদের সংখাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতিক্রমে সংগঠনের নতুন ও পুর্ণাঙ্গ একটি গঠনতন্ত্র/সংবিধান প্রকাশ করে।