13/09/2026
উপকূলের হার না মানা এক নারীর গল্প: সেলিনা নাহারের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার লড়াই
লবণাক্ত পানি আর নিত্যদিনের সংগ্রামের জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন। এই প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন আবাদচন্ডিপুর গ্রামের সেলিনা নাহার।
ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি গভীর টান ছিল সেলিনা নাহারের। কৃষিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। আর এই স্বপ্ন পূরণে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর স্বামী মো. মোজাহেরুল ইসলাম, যিনি সবসময় জুগিয়েছেন সাহস।
ভাগ্য পরিবর্তন শুরু হয় যখন তিনি যুক্ত হন সিসিডিবির আরবি-সিপিআরপি-প্রকল্পের সহযোগিতায় গড়া ‘আবাদচন্ডিপুর নারীকল্যাণ সমিতি’র সাথে। ফোরাম থেকে মাত্র ৩০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির আঙিনায় শুরু করেন মুরগির খামার। প্রথম দফায় ২৫০টি বাচ্চা তুলে ৪৫ দিন পরিচর্যার পর বিক্রি করেন ৭০,০০০ টাকার মুরগি! সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে লাভ আসে ৩০ হাজার টাকা।
সেলিনা নাহার এখন নিজের উপার্জিত আয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি পরিবারে ফিরিয়ে এনেছেন সচ্ছলতা। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ৩০০টি মুরগির বাচ্চা, আর সামনে আরও বড় কিছু করার অদম্য স্বপ্ন।
সহযোগিতা আর সুযোগ পেলে আমাদের উপকূলের নারীরাও যে পাহাড় সমান বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেলিনা নাহার সেটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।