01/10/2026
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তান পড়াচ্ছেন, নাকি শুধু শুধু টাকা ঢালছেন?
আগে শোনা যেত, পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষ এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস বা একটু বিনোদন করে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে পুরো বিষয়টি উল্টে গেছে। এখন বিনোদন, কনসার্ট আর আড্ডার আড়ালে নামমাত্র ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই মনস্তত্ত্ব বুঝে গেছে,,ভালো শিক্ষক নেই, ল্যাব বা গবেষণার সুযোগ নেই, তাতেও কিছু যায় আসে না; কোনো মতে কয়েকটা ক্লাস করিয়ে ঘন ঘন অনুষ্ঠান, নাচ-গান আর কনসার্টের ব্যবস্থা করলেই শিক্ষার্থীরা খুশি। শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই, এসব পেলেই তারা সন্তুষ্ট! এই কারণেই বি ও সি ক্যাটাগরির প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় এখন এই সস্তা পথেই হাঁটছে। টাকা দিয়ে যেন পড়ালেখা নয়, বরং কনসার্ট আর ড্যান্সের টিকিট কাটা হচ্ছে!
বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিত্র আরও স্পষ্ট হয়:
এ-ক্যাটাগরির নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়: এমন ২টি টপ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে ৩৬৫ দিনই নাচ-গান, কনসার্ট আর উন্মাদনা নিয়ে মেতে থাকা হয়। শিক্ষার আবহের চেয়ে সেখানে বিনোদন আর সংস্কৃতির চর্চায় বেশি সময় যায়। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাচ দেখলে মনে হয় যেন যাত্রাপালার নাচ চলছে!
বি ও সি ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয়: এগুলোতে ৯০% ক্ষেত্রে কোনো সঠিক পড়াশোনাই হয় না। মানসম্মত ল্যাব বা শিক্ষক নেই, কিন্তু সারাদিন-রাত চলছে কনসার্ট, নাচ আর হ্যাংআউট।
অভিভাবকদের চোখ খোলা রাখা জরুরি:
গ্রামের বা শহরের অনেক অভিভাবক রক্তপানি করা কষ্টের উপার্জিত টাকা সেমিস্টার ফি হিসেবে গুনে দেন সন্তানকে মানুষ করার আশায়। কিন্তু শুধু শুধু টাকা ঢালার আগে সন্তানকে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর আগে ও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টং দোকান, আশেপাশের ক্যাফে বা আড্ডার জায়গাগুলোতে গিয়ে নিজে খোঁজ নিন। আপনি পাঠাচ্ছেন পড়ালেখা করতে, অথচ সেখানে প্রকাশ্যে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও উন্মুক্ত নেশার দৃশ্য চোখে পড়ে যা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ হতে পারে না।
শুধু ক্যাম্পাসেই শেষ নয়, সেমিস্টার ব্রেকের নামে ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে যেসব ট্যুরে যাচ্ছে, সেখানেও শিক্ষার কোনো ছোঁয়া নেই; বরং সেখানেও চলছে নেশা আর অনিয়মের মহোৎসব।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি:
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই-বোনেরা এসব দেখে আবার খুব বেশি খুশি হবেন না। পার্থক্য শুধু একটাই,,,প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এসব অপসংস্কৃতি করা হয়, আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ফ্রিতে করা হয়! অভিভাবকেরা যেহেতু কষ্টের টাকা দেন, তাই তাঁদের সতর্ক করতেই এই বাস্তবতা তুলে ধরা।
অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা ও পরামর্শ:
১. সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এবং ক্লাসের বাইরে কী করছেনিয়মিত খতিয়ে দেখুন।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের রঙিন প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন বা ফেসবুকের কনসার্টের ভিডিও দেখে ভর্তি করাবেন না।
৩. যদি সন্তানকে সিএসই, ট্রিপল ই-র মতো কোনো শক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং বা লাইফ সায়েন্সের মতো কারিগরি ও কনটেন্ট-ভিত্তিক বিষয়ে ভর্তি না করান, তবে তাকে অন্ধের মতো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে না পাঠানোই শ্রেয়।
৪. আর অন্য যেকোনো সাধারণ বিষয়ে পড়াতে চাইলে শতবার খোঁজখবর নিয়ে মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। তা না হলে কষ্টের টাকা ঢেলে সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে।