13/05/2026
টাঙ্গাইল মওলানা ভাসানী ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেদিন গিয়েছিলাম আমাদের ছেলেমেয়েদের সাথে দেখা করতে। অনলাইনে ওদের সাথে প্রায় ই কথা হয়; কিন্তু কোথায় যেন একটা গ্যাপ থেকে যাচ্ছে। ওদের নিয়ে আমাদের কতটা উৎকণ্ঠা তা যেন ওদের বুঝাতে পারছিলাম না। ওদের ইন-এক্টিভনেস আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
তাই, ওদের কাছে গিয়েছিলাম, সরাসরি দেখতে, কথা বলতে; একে আমরা Moral Parent's Day নাম দিয়েছি। ঐ দিনটা শুধু ওদের জন্য, বছরের পর বছর ওদের প্যারেন্টিং করছি, কাছ থেকে দেখে খুব ভাল লাগল, ওরাও আমাদের কাছে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা!
বকাবকিও কম করিনি, কোর্সে জয়েন না করা, এক্টিভ না থাকা, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা, কমিউনিকেশন স্কিল চ্যারাভ্যারা ... আচ্ছামত ঝেড়েছি! আবার, জড়িয়ে ধরে ছবি তুলেছি, মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে বলেছি... বাবারে আর একটু চেষ্টা কর, আর একটু এক্টিভ হ ... সামনে চমৎকার একটা জীবন অপেক্ষা করছে। ওরা কথা দিয়েছে, ওরা আরো দায়িত্বশীল হবে, ৬ মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। ওরা যদি কথা রাখে তাহলে আবার যাব ওদের ক্যাম্পাসে।
জার্নি টা ছিল অসাধারন! দুইটা গাড়িতে ৯ জন। আমি আর রানা ভাই ( Afsana Rahman ম্যাডামের ) ড্রাইভার! রাস্তা ফাকা পেয়ে রানা ভাই ১২০ তুলে ফেলেছেন, আমিও তার পিছুপিছু; হঠাত পুলিশের হাতে কট! আমি গিয়ে লাজুক হাসি দিয়ে পুলিশ কে বললাম; ভাই ঘুরতে যাচ্ছি, কেস দিয়ে মনটা খারাপ করে দিয়েন না। পুলিশও দেখলাম পটে গেল; সেও হাসি চেপে রাখতে পারলনা। বল্ল; স্যার, সাবধানে যাইয়েন, এই রাস্তায় খুব এক্সিডেন্ট হয়!
পথে নাস্তা করলাম, কি যেন হোটেল টার নাম?? চিমটা চিমটা তন্দুরি; গ্যাসের অভাবে রুটি নাকি ফুলাতে পারেনি।
এরপর টাঙ্গাইল ভার্সিটি। চমৎকার গোছানো গাছানো ছিমছাম ক্যাম্পাস। মওলানা ভাসানীর মাজারের পাশে মসজিদে জুম্মা পড়লাম। ছেলেমেয়েদের বললাম, দেখ, এটা হচ্ছে সোশ্যাল লিডারের সম্মান। পলিটিক্যাল লিডার এক সময় দাপটে থাকে আর ক্ষমতা গেলে দৌড়ের উপর; আর সোশ্যাল লিডারের সম্মান আজীবন।
টাঙ্গাইলে লান্স করে ছুটলাম ময়মনসিংহ এর দিকে; মধুপুর এর বনভুমীর বুক চিরে এত সুন্দর রাস্তা!! মনে পড়ে গেল মালয়েশিয়ায় ড্রাইভিং এর কথা। পথে পোলাপানের আবদারে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলা। মধুপুর গিয়ে আনারস না খেলে কি হয়?? পোলাপান অবশ্য ক্ষেত থেকে চুরি করে খেতে চাচ্ছিল; ঝাড়ি দিয়ে থামালাম; পরে বাজার থেকে একগাদা কিনে নিয়ে গেলাম BAU এর ছেলেমেয়েদের সাথে খাব বলে।
মুক্তাগাছার মিস্টি খেলাম; যতটা গল্প শুনে গেছি আহামরি কিছু মনে হল না; অবশ্য যারা বেশি চিনি পছন্দ করে তাদের কাছে ভাল লাগতে পারে। পাশে জমিদার বাড়ি দেখাও হল।
কৃষি ভার্সিটি পৌছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল; ছেলেমেয়েগুলো ৩-৪ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছিল। এখানে আগেও গিয়েছি। এই ক্যাম্পাসে ঢুকলে অন্যরকম ভাললাগে; এত বড় ক্যাম্পাস!! বিশালতার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া। এখানে নারসিং কলেজের কিছু মেয়ে আছে। ওদের আন্তরিকতা ছেড়ে আর ফিরতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু কি আর করা, সন্ধার পর রওনা হতে হল।
ঢাকায় ফিরতে রাত প্রায় ১ টা বাজল! সেই সাত সকাল থেকে ১ মিনিটের জন্যও রেস্ট নেই; সারাক্ষণ টানটান উত্তেজনা; হয় ড্রাইভিং নয়ত ছেলেমেয়েদের সাথে কথা বলা। ঢাকা ভার্সিটিতে অন্যদের নামিয়ে যখন মিরপুর বাসায় ফিরছিলাম তখন মাথা আর কাজ করছিল না। শতশতবার যাতায়াত করা রাস্তা রাতের আধারের মধ্যে অপরিচিত লাগছিল। পরে Google মামা'র হেল্প নিয়ে রাস্তা চিনে বাসায় ফিরলাম।
আমার প্রতিটি দিন যায়, এই ছেলেমেয়েদের নিয়ে। ওরা যদি আমাদের আন্তরিকতাটা একটু বুঝে, আমাদের কথামত চলে তাহলেই আমাদের শান্তি। আমাদের একমাত্র চাওয়া ওদের সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ!
সামনে কোন ক্যাম্পাস? কারা দাওয়াত দিবে???