13/09/2024
স্বৈরাচারী একক ক্ষমতায় কুক্ষিগত বাংলাদেশ বেসবলের ভবিষ্যৎ!
বাংলাদেশ বেসবলের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বেসবলের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক/ কোচ/ অফিসিয়াল/ সাবেক ও বর্তমান জাতীয় দলের সকল খেলোয়াড়গণ গত ৫ই সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম হতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পর্যন্ত পথযাত্রা রেলি এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
বাংলাদেশ বেসবল-সফটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনের একক কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতি মধ্য দিয়ে সকল সংবিধানের ধারা /উপধারা লঙ্ঘন করে অনির্বাচিত একটি অকার্যকর এডহক কমিটি দ্বারা কোন জবাবদিহিতা ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে।
এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ একরকম পরিবারতান্ত্রিক গঠন করে, খেলাটির প্রচার প্রসার বিরত রেখে সর্ব মহল হতে নিজেদের আড়াল রেখে কোনরকম জবাবদিহিতা ছাড়াই একক ক্ষমতায় দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কুক্ষিগত করে রাখছে।
এসময় প্রতিবাদী বিক্ষিপ্ত খেলোয়াড়গণ দাবি আদায়ের ৮টি দফা প্রস্তাবিত করে, দফাগুলো হলঃ
১।অবিলম্বে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল সদস্যের পদত্যাগ এবং অনির্বাচিত ও অকার্যকর এডহক কমিটি বিলুপ্তকরণ ;
২।নতুন কার্যকরী এডহক কমিটি গঠন;
৩।নতুন কমিটিতে সাবেক খেলোয়াড়,নারী ও অভিজ্ঞ একটিভ সংগঠকদের মূল্যায়ন;
৪।জাতীয় নারী ও পুরুষ দলের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকাস্থ পল্টন মাঠ কিংবা বিকল্প নির্দিষ্ট মাঠ বরাদ্দ;
৫।বছরে বেসবল ও সফটবলের সর্বনিম্ন ৪টি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ,১টি মেজর লীগ,কলেজ লীগ এবং ইয়থ টুর্নামেন্টের আয়োজন;
৬।প্রতি বছর লোকাল কোসেস-আম্পায়ারস তৈরির লক্ষ্যে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ;
৭।পেশাদার পুরুষ, নারী বেসবল ও সফটবলের জাতীয় দল গঠন;
৮।বাংলাদেশ বেসবল-সফট এসোসিয়েশনকে,বাংলাদেশ বেসবল সফট ফেডারেশনে রূপান্তর;
বেসবল-সফটবল হল আন্তর্জাতিক পর্যায় একটি জনপ্রিয় খেলা যা অলিম্পিক খেলায় অন্তর্ভুক্ত। তাই অনেক খেলোয়াড় আগ্রহ হয়ে অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত প্রশিক্ষণ নিয়ে খেলাটি শিখছে।
এসোসিয়েশনের দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতালোভী দুর্বৃত্ত কর্মকর্তাদের জন্য আজ সেসব খেলোয়াড়গণ নানান সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের ২৩৯ নম্বর কক্ষটি বাংলাদেশ বাংলাদেশ বেসবল-সফটবল এসোসিয়েশনকে বরাদ্দ দিয়ে থাকলেও সেখানে এসোসিয়েশনের কোন কার্যক্রম করতে দেখা যায় না,সবসময় কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকে।
উল্লেখ্য অলিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জনপ্রিয় এই খেলাটি পাঁচ বছর ধরে একটি বাহিনী পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে, আর কোন বাহিনী ,বিভাগ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা,কিংবা ক্লাবে এর প্রচারণা ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ কিংবা আগ্রহ নেই।
জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের যোগ্য খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে অবগত না করেই কোনরকম ট্রাইল বাছাই পর্ব ছাড়াই শুধুমাত্র বাংলাদেশ পুলিশের পুরুষ দলকে জাতীয় দল হিসেবে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাচ্ছে,যাতে করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আসন্বিত সাফল্য অর্জন হয়না।
বাংলাদেশে কোন এক এনজিওর সাথে সম্পৃক্ত এক জাপানি ব্যক্তিকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশের মাঠে শুধুমাত্র পুলিশ দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করান।এহেন অন্য কোন বাহিনী বা সিভিল খেলোয়াড়দের কোন প্রকার সম্পৃক্ত বা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়না।
এই দুটি ব্যাক্তি দ্বারা "বাংলাদেশ বেসবল সফটবল এসোসিয়েশন" জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে সংবিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে একক বাহাদুরিতে ১৮ বছর ধরে ব্যক্তিগত এনজিও প্রতিষ্ঠান রুপে পরিনত করেছে।
সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন কথায় কথায় খেলোয়াড়দের বহিষ্কারের হুমকি দেন,কোন কোচ নিজ খরচে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চাইলেও তাদের তিনি এসোসিয়েশন থেকে অনুমতি দেননা।
খেলোয়াড়দের তিনি মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিয়ে, পরবর্তীতে এদের সঠিক মূল্যায়ন না করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেন। ফলে অনেক ভালো খেলোয়াড়দের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে ভবিষ্যৎ কেরিয়ার নষ্ট হচ্ছে, হতাশ হয়ে কেউ কেউ বিদেশ আবার অন্যান্য ছোটখাটো পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
একরকম ইচ্ছাকৃতভাবেই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক একক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য খেলাটির প্রচার প্রসার হতে বিরত রাখেন।
দেশে উন্নয়নমূলক অনেক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশগ্রহণে ব্যাহত হয় শুধু আমিনুল ইসলাম লিটন এবং এনজিও এর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তির একক মাতব্বরিতে।