16/01/2026
শবে মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গৌরবময় ও অলৌকিক রাত। “মেরাজ” শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে বিশেষ সম্মান দান করেন এক অনন্য সফরের মাধ্যমে।
১. শবে মেরাজের সময় ও প্রেক্ষাপট:
হিজরতের প্রায় এক বছর আগে, নবুওয়তের দশম বছরে, রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে শবে মেরাজ সংঘটিত হয় বলে অধিকাংশ আলেম মত পোষণ করেন। এই সময়টি ছিল রাসূল ﷺ-এর জীবনের অত্যন্ত কষ্টকর সময়—প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালিব (রা.) ইন্তেকাল করেছেন, তায়েফে গিয়ে তিনি অপমান ও নির্যাতনের শিকার হন। এই দুঃসময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সান্ত্বনা ও সম্মান দান করেন মেরাজের মাধ্যমে।
২. ইসরা :
মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস
শবে মেরাজের প্রথম অংশকে বলা হয় ইসরা। ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) নবী ﷺ-কে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে যান মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসে। তিনি “বুরাক” নামক এক বিশেষ বাহনে আরোহণ করেন। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী সকল নবী ও রাসূলদের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন, যা তাঁর নবুয়তের সর্বজনীনতা প্রমাণ করে।
৩. মেরাজ :
আসমানে আরোহণ
এরপর শুরু হয় মেরাজ—অর্থাৎ আসমানে আরোহণ। নবী ﷺ একে একে সাত আসমানে ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন নবীর সাথে সাক্ষাৎ করেন—
১ম আসমান: হযরত আদম (আ.)
২য় আসমান: হযরত ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.)
৩য় আসমান: হযরত ইউসুফ (আ.)
৪র্থ আসমান: হযরত ইদরিস (আ.)
৫ম আসমান: হযরত হারুন (আ.)
৬ষ্ঠ আসমান: হযরত মূসা (আ.)
৭ম আসমান: হযরত ইবরাহিম (আ.)
এরপর তিনি পৌঁছান সিদরাতুল মুনতাহা নামক স্থানে, যেখানে জিবরাঈল (আ.)-এরও যাওয়ার ক্ষমতা ছিল না। সেখান থেকে নবী ﷺ আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে উপস্থিত হন।
৪. নামাজ ফরজ হওয়া:
শবে মেরাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়া। প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়, পরে হযরত মূসা (আ.)-এর পরামর্শে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়, কিন্তু সওয়াব ৫০ ওয়াক্তেরই সমান রাখা হয়। এটি নামাজের গুরুত্ব ও মর্যাদা প্রকাশ করে।
৫. শবে মেরাজের শিক্ষা:
শবে মেরাজ আমাদের শেখায়—
আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও ধৈর্য
নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া,
দুঃখ ও কষ্টের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসে,নবী ﷺ-এর মর্যাদা ও অবস্থান কত উচ্চ।
শবে মেরাজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি ঈমান মজবুত করার, নামাজ কায়েম করার এবং আল্লাহর নৈকট্য অর