31/10/2025
সুবর্ণচরের প্রবীণ বটবৃক্ষ জনাব সৈয়দ উর রহমান গতকাল ৩০ অক্টোবর ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
সুবর্ণচর উপজেলা কল্যাণ সমিতি , ঢাকা এই মহান মানুষের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। পরিবার ও শোক সন্তপ্ত সুবর্ণচরবাসীর মতো আমরাও শোকাহত।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যক ও সুবর্ণচরের কৃতি সন্তান জনাব সিরাজুল ইসলাম মুনির লিখেছেন, "অভাবনীয় এক মৃত্যু সংবাদ
আমাদের ছোটো ফুপা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী গতকাল ৩০ শে অক্টোবর সন্ধ্যায় এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। আমার ছোটো ফুপু বকুলও গত ১০ জানুয়ারি,২০২৫ হঠাৎ করে পরপারের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। দুজনের মৃত্যুই ছিল আকস্মিক, অভাবনীয়। ছোটো ফুপু ফজরের সালাত আদায় করবেন বলে অজু করতে উঠেছেন। তখন তাঁর ডাক আসে। ছোটো ফুপা সন্ধ্যার পর বললেন,শরীর খারাপ লাগছে। হাসপাতাল যাওয়ার পথে তিনিও ডাক পেয়ে গেলেন।
আমার আব্বা ছিলেন তাঁর ভাইবোনদের সবার বড়ো। আব্বাও চার বছর আগে প্রাতঃরাশ শেষে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং সেই বিশ্রামই চির বিশ্রামের ডাক হয়ে গেল তাঁর জন্য। সেই চলে যাওয়ার ঘটনাও আমাদের জন্য ছিল অভাবনীয়। তারপর থেকে আমাদের সবারই অপেক্ষায় থাকা, কখন কার ডাক আসে। একটু দেরী করেই ডাক এলো,গত বছরের নভেম্বরে, আব্বার পিঠেপিঠি ছোটো ভাই মান্নান চৌধুরী সাহেবের। তিনি আমার জন্মদাতা পিতা নন, আমাকে বড়ো করেছেন,শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন আমার এই কাকু। আমার কাকীমার পরিবারে আমিই তাঁদের বড়ো ছেলে। কাকুর মৃত্যুতে আমি দ্বিতীয়বার পিতৃহীন হলাম। তারপর থেকে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে আমাদের পরিবারে। আমরা এখন হিসেব করে চলি,কার পরে কে আসছি। জানি না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরপর কাকে ডাক দিবেন!
আমার দাদার নামানুসারে 'বজলের রহমান ভূঁইয়া পরিবার' নামে আমাদের পরিবারের একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে। আমাদের সকল রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়রাই এই গ্রুপের সদস্য। আমরা কেউই নিজেদের আলাদা সত্ত্বা মনে করি না। ছোটো ফুপা আমাদেরই অংশ। তাঁর মৃত্যুর খবরও আমি আমাদের গ্রুপ থেকেই পাই।
ছোটো ফুপা মানুষ হিসেবে ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তাঁকে আমি বা অন্য কেউ কখনো শারীরিক শ্রমের বা সংসারের কোনো কাজ করতে দেখেনি। তার কাজ করার জন্য কিছু লোক সবসময়ই তাকে ঘিরে থাকত। তিনি যেন এই শতাব্দীর শেষ নবাব। তিনি ছিলেন সাদা পোশাকের বাবুসাব। মানুষের বিপদ-আপদে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, নানাবিধ সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যায় মানুষ তাঁর কাছেই ছুটে আসত,তিনি সে-সব সমাধান করে দিতেন। আমাদের অঞ্চলের স্কুল-কলেজ-মসজিদ-মাদ্রাসাসহ সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান তাঁর অংশগ্রহণ ও আর্থিক দানে গড়ে উঠেছে। তাঁর মতো একজন মানুষের চলে যাওয়া, আমাদের পরিবার ও সমাজের জন্য এক অপার শুন্যতা বয়ে নিয়ে এসেছে।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি তাঁকে জান্নাতেও সম্মানিত মানুষ হিসেবে কবুল করেন।"