23/04/2026
সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টিতে লুকিয়ে আছে এক বিস্তীর্ণ বিশ্ব; যেখানে মানবজীবনের ক্ষুদ্রতম অনুভূতি থেকে শুরু করে সময়ের গভীরতম সত্য—সবকিছুই ধরা পড়ে নিখুঁত সৌন্দর্যে। 'পথের পাঁচালী' (১৯৫৫) থেকে 'অপুর সংসার' (৯৫৯)—প্রতিটি ফ্রেমে তিনি এঁকেছেন জীবনের অনাবিল অথচ অতি সাধারণ সত্য, যেখানে কষ্ট আছে, আনন্দ আছে আর আছে এক অদ্ভুত নীরবতা। 'নষ্টনীড়ে'র বাসিন্দা একাকিনী 'চারুলতা' (১৯৬৪)-কে আর কেউ এত নিখুঁত আঁচড়ে পর্দায় আঁকতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে।
সেই ষাটের দশকে মনগড়া 'দেবী'র (১৯৬০) প্রতি সমাজের অন্ধ বিশ্বাসের দিকে তর্জনী নিক্ষেপ করতেও দুবার ভাবেননি এই সাহসী শিল্পী। এছাড়া ফেলুদাই হোক কি প্রফেসর শঙ্কু—এরা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শুনিয়ে যাচ্ছে কৌতূহল ও আশার গল্প। তার ভাষায়—“সিনেমার কাজ হলো মানুষকে এটা মনে করানো যে তারা বাস্তব কিছু দেখছে।” আর তিনি সেটাই করেছেন—বাস্তবতাকে এমনভাবে স্পর্শ করেছেন যে, তা হয়ে উঠেছে শিল্প, আর শিল্প হয়ে উঠেছে জীবনের প্রতিচ্ছবি।
আজ তার প্রয়াণ দিবসে, এই কিংবদন্তিকে স্মরণ করতে গিয়ে আমরা ফিরে যাই আমাদের নির্মল অনুভূতিগুলোর কাছে, যেখানে ছোট্ট এক গ্রামের পথও হয়ে ওঠে মহাকাব্য, আর এক ফোঁটা অশ্রুও হয়ে ওঠে চিরন্তন শিল্প।