Bangla Typography

Bangla Typography Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangla Typography, Community Service, Dhaka.

মাজার নয়, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙ্গুন।
11/09/2024

মাজার নয়, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙ্গুন।

বিপ্লবী বাঘা যতীন লাল সালাম...(বিপ্লবী বাঘা যতীন বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছে। শহীদ বাঘা যতীনের প্রয়াণ দিবস স্মরণে উল্লেখযোগ্য আয়ো...
10/09/2024

বিপ্লবী বাঘা যতীন লাল সালাম...
(বিপ্লবী বাঘা যতীন বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছে। শহীদ বাঘা যতীনের প্রয়াণ দিবস স্মরণে উল্লেখযোগ্য আয়োজন নেই। বিপ্লবী বাঘা যতীন মিডিয়াতেও ব্রাত্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদ বিপ্লবী বাঘা যতীনের মৃত্যুবার্ষিকীতে মিডিয়ায় সংকুলান না হওয়ায় অগত্যা আমার মতো সেলিব্রিটিহীন সংগঠকের সহজ অনুশীলন হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোস্ট চালান। লেখাটি আগ্রহী পাঠকের জন্য নিবেদন করছি।)
১০৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ
শহীদ বাঘা যতীন: অরক্ষিত পৈতৃকভিটা ও জন্মভিটায় বিস্মৃত এক বিপ্লবী
⏺️সুজন বিপ্লব
যার কারণে স্বাধীন স্বদেশ গৌরব করে, যার কারণে প্রান্তিক স্থান সুমহান ইতিহাস হয়ে উঠলো, যার কারণে মানুষ অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলো, যে মাটির সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, সেই মহাপ্রাণ আজ ভিটে ছাড়া! তাঁর নাম বিপ্লবী বাঘা যতীন, যার স্মৃতিহীন নির্জীব পৈতৃক বসতবাড়ি ও জন্মভিটা। অগ্নিযুগের বিপ্লবী বাঘা যতীনের স্মৃতি সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পৈতৃক বসত ভিটা ও জন্মভিটা দখলমুক্ত করতে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ ইতিহাসে তিনি অমরত্ব পেয়েছেন। বিপ্লবী বাঘা যতীনের হলদিঘাট বুড়ি বালামের তীরে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলার বিদ্রোহী কবি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচনা করেছিলেন-
“বাঙালির রণ দেখে যা তোরা
রাজপুত, শিখ, মারাঠী জাত
বালাশোর, বুড়ি বালামের তীর
নবভারতের হলদিঘাট।”
নবভারতের হলদি ঘাট বুড়ি বালামের তীরে যে সংগ্রামের কথা কবি উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, তাঁর সেনাপতি ছিলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, তিনি বাঘা যতীন নামেই সমধিক পরিচিত। শৈশব থেকেই শারীরিক শক্তির জন্য বিখ্যাত ছিলেন যতীন্দ্রনাথ। বাঘা যতীন নামের সাথে তাঁর সাহসিকতার একটি ঘটনা জড়িত আছে। একবার কয়াগ্রামে গিয়েছিলেন যতীন্দ্রনাথ। সেই সময় গ্রামে বাঘের খুব উৎপাত ছিল। বাঘের আক্রমণে ধস্তাধস্তি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাঘ হত্যাসহ দেশমাতৃকার জন্য আত্মনিবেদনে বাঘা যতীন পরিচয়কে সার্থকতা দিয়েছেন।
পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে যতীন উপস্থিত হলেন তার পৈতৃক ভিটা ঝিনাইদহে। সেখানে ঠিকাদারের ব্যবসা শুরু করলেন তিনি যশোর-ঝিনাইদহ রেলপথ নির্মাণ উপলক্ষে। ব্যবসার সুবাদে তিনি সাইকেলে অথবা ঘোড়ার পিঠে চড়ে জেলায়-জেলায় অবিশ্রাম ঘুরে গুপ্তসমিতির শাখাগুলোকে সন্নিহিত করে তুললেন। তখন ১৯১১ সাল চলছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বিপ্লবের কৌশল পরিবর্তন করেন যতীন। সপরিবারে ফিরে আসেন ঝিনাইদহ পিতৃনিবাসে। শুরু করেন ব্যবসা। ব্রিটিশ সরকার ভাবে যতীন শুধরে গেছে। এই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগান। বাংলার বিপ্লবীদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে থাকেন। তখন তার চিন্তা সমগ্র ভারত নিয়ে। নরেন সন্ন্যাসী ছদ্মনামে সমগ্র ভারতে ঘুরে ঘুরে বিপ্লবীদের একত্রিত করতে থাকেন তিনি। এভাবে কাটে আরো দুই বছর।
বাঘা যতীন বাংলার সন্ত্রাসবাদী বৈপ্লবিক আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। তাঁর প্রচেষ্টায় তৎকালীন নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া, যশোর জেলাভুক্ত ঝিনাইদহসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বিপ্লবী দলের কার্যক্রম ব্যাপকতা লাভ করে। তিনি ছিলেন সর্বভারতীয় যুগান্তর দলের প্রধান নেতা। বাঘা যতীন ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের দ্বিতীয় পর্বের অন্যতম নায়ক।
বীর বিপ্লবী বাঘা যতীনের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের রিশখালি গ্রাম হলেও মাতুলালয় কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার কয়া নামক গ্রামে ৭ ডিসেম্বর ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম হয়। সশস্ত্র সংগ্রামের এক পর্যায়ে সম্মুখযুদ্ধে উড়িষ্যার বালেশ্বরে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বালাসোর হাসপাতালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু ঘটে ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ (বয়স ৩৫) বালেশ্বর, উড়িষ্যা, ব্রিটিশ ভারত অধুনা উড়িষ্যা, ভারত। জার্মানি থেকে অস্ত্রাদি ভর্তি জাহাজ পৌঁছে গেলে ১৯১৫-১৯১৭-এর মধ্যে স্বাধীন ভারতের অভ্যূদয়ের ঘটনা ইতিহাসে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভবনা ছিল। তবুও বাংলা ও বাঙালি তথা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম মহানায়ক বাঘা যতীনের বীরোচিত অকাল মৃত্যু একইসাথে বিপ্লবী উত্থান আশঙ্কায় উপবেশিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিতকে দূর্বল করে ফেলে।
উড়িষ্যার বুড়িবালামের যুদ্ধের মামলায় ব্যারিস্টার জে.এন রায়ের এক প্রশ্নের উত্তরে তৎকালীন পুলিশের ডেপুটি প্রধান টেগার্ট বলেন, ( I had to do duties but I have a great admiration for him. He was the only Bengalee who died fighting from a trench.
আমাকে কর্তব্য পালন করতে হতো কিন্তু তার জন্য আমার একটি বড় শ্রদ্ধা ছিল। তিনি একমাত্র বেঙ্গলাই ছিলেন যিনি দেশের মুক্তি জন্য খাঁজ থেকে যুদ্ধ করতেন।)
যুদ্ধ করে বাঘা যতীন দেশের মুক্তির জন্য জীবন দান করে শুধু টেগার্ট সাহেবের শ্রদ্ধাই অর্জন করেননি বরং সমগ্র বিশ্বের সংগ্রামী মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ্য জুড়ে আছেন
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দেশে তীব্র গণজাগরণ উঠেছিল। সেই সময় যতীনের স্পষ্টবাদী আহ্বান “আমরা মরব, জগৎ জাগবে।” হাজার-হাজার সাহসী যুবক বাঘা যতীনের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। বাঘা যতীন বলেছিলেন, তিনি হয় ‘স্বাধীন দেশের নাগরিক’ হয়ে ফিরবেন, নতুবা ‘স্বাধীন দেশের স্বপ্ন’ হবেন। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়টাই হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
বাঘা যতীন কুষ্টিয়ার মাতুলালয় কয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের রিশখালি গ্রামে। বাঘা যতীনের জীবন-সংগ্রামের বিপ্লবী স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক ভিটা ও জন্ম ভিটা বেদখলে থাকায় সংরক্ষণের বন্দোবস্তহীনতার কারণে প্রজন্মের কাছে ব্রাত্য হয়ে গেছে। অরক্ষিত পৈতৃক ও জন্ম ভিটায় বিস্মৃত নির্ভীক বিপ্লবী বাঘা যতীন তথা যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের রিশখালী গ্রামে বাবার বাড়ি-সম্পত্তির সবটুকুই বেহাত হয়ে গেছে। ঝিনাইদহ জেলা শহরে একটি সড়কের নামকরণ ছাড়া উল্লেখ করার মতো আর কিছুই করা হয়নি তাঁর নামে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ভুলে যেতে বসেছে বিপ্লবী বাঘা যতীনের নাম। ১৯৮৭ সালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক চাঁদা তুলে ৬ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে তাঁর স্মৃতি রক্ষায় 'বাঘা যতীন' নামে একটি ক্লাব গড়ে তুললেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেটিও অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে বিপ্লবী বাঘা যতীনের পৈতৃক বসত ভিটা।
নবগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষে ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে শৈশবে ওই গ্রামেই বাবা উমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, মা শরৎশশী ও বোন বিনোদ বালার স্নেহে বেড়ে ওঠেন এই বীর বাঙালি। বাবার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর মা ও বড় বোনের সঙ্গে কুষ্টিয়ার কয়া গ্রামে মামবাড়ি চলে যান। মৃত্যুর শতবছর পেরিয়ে গেলেও এই অগ্নিপুরুষের নিজ গ্রামে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে গড়ে ওঠেনি তেমন কিছুই। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঘা যতীনের পৈতৃক বসত ভিটা দখল নিয়ে দ্বিতল ভবন ও ব্যবসা করছেন প্রভাবশালী এক মিল-চাতাল মালিক। বিপ্লবী বাঘা যতীনের বাবা উমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর পরিবারসহ মামাবাড়ি চলে যাওয়ার পরে সেখানে বিরেঞ্চী পাটনী নামে এক ব্যক্তি বসবাস করতেন। কীভাবে বাঘা যতীনের বাবার বসত ভিটা একসময় ইউনিয়নের জনৈক সাবেক চেয়ারম্যানের হয়ে গেল তাও জানে না এলাকাবাসী। এ বিষয়ে বসবাসকারীদের দাবি মোতাবেক, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে জনৈক খগেন্দ্রনাথ নামে এক ব্যক্তি থেকে বিপ্লবী বাঘা যতীনের বসত ভিটার ২৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। সরকার যদি বাঘা যতীনের স্মৃতিরক্ষায় জায়গা ফেরত নিতে চায় তবে তিনি ন্যায্যমূল্যের বিনিময়ে ফেরত দেবেন বলেও জানা যায়। 'বিপ্লবী বাঘা যতীন একাডেমি'র একটি কমিটি থাকলেও দৃশ্যমান কোন একাডেমি ভবন তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজনসহ এই বিপ্লবীর পৈতৃক ভিটার জায়গা উদ্ধারের উদ্যোগে ভাটা পড়েছে। বিপ্লবী এই বীর কুষ্টিয়ার কয়া গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রিশখালী গ্রামে শৈশবে বেড়ে উঠেছেন। ১৮৮৪-৮৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি একমাত্র বোনের সঙ্গে চলে যান ভারতের কৃষ্ণনগরে। পরে ১৯১১ সালের দিকে তিনি আবারও পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসেন। সে সময় তিনি ঝিনাইদহে ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। বিপ্লবী এই বীর এ মাটির সন্তান। অকুতোভয় বীরযোদ্ধার স্মৃতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। বাঘা যতীনের বীরত্বের ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার নেই কোন উদ্যোগ।
কুষ্টিয়ার কয়াগ্রামের জন্মভিটা সম্পর্কে জেলার কুমারখালী ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের ডকুমেন্টস অনুয়ায়ী বাঘা যতীনের মামাদের ভিটে-মাটি কোনকিছুই বিক্রি করে যাননি। তাঁদের বসতবাড়িতে একটি কলেজ স্থাপিত হয়েছে। নামকরণ করা হয়েছে ‘কয়া কলেজ’। কলেজটি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ১৯৯৩-৯৪'র দিকে শুরু হয়। সেসময় কলেজটির নাম বাঘা যতীন করার দাবি থাকলেও এটি পাত্তা পায়নি। কলেজটি এমপিওভুক্ত হয় ১৯৯৯ সালে। তখনও কলেজটির নামকরণ বাঘা যতীন করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা গ্রহণ করা হয়নি। ক্ষমতাসীনদের সংকীর্ণতা আর হীনমন্যতায় ব্রিটিশকাঁপানো এ বিপ্লবীর বাড়িতেই গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে অবলীলায় তাঁকেই বাতিল করে দেয়া হয়েছিল। কয়া কলেজের নাম এখনো বাঘা যতীন কলেজ করা হয়নি। বাঘা যতীনের সব ধরনের স্মৃতিই এখান থেকে মুছে দিতে অনেক আগে থেকেই অপচেষ্টা চলমান রয়েছে। একশ্রেণীর মানুষ ক্ষুদ্রস্বার্থে আত্মবিক্রয় করে এসব বিখ্যাত মানুষদের বিশাল অবদান তুচ্ছজ্ঞান করে।
ইতিহাসের সাক্ষ্য ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বিপ্লবী বাঘা যতীনেরা আমাদের পূর্বসূরি, তাদের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১'র মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এসব কিছুই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য ও প্রোজ্জ্বল অধ্যায়।
অরক্ষিত একটা ম্যুরাল ও আবক্ষ ভাস্কর্য ব্যতীত বাঘা যতীনের পৈতৃক ও জন্ম ভিটে-মাটিতে কোনো চিহ্ন নেই। কুষ্টিয়ার কয়াগ্রামে বাইশ বিঘা অধিক জমিতে তাদের বিশাল বাড়িটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ঝিনাইদহের রিশখালিতে বাঘা যতীনের পিতৃকুলের নামে এখন বসতবাড়ির কোন চিহ্ন পর্যন্ত নেই। তাঁর পৈতৃক জমির সবটুকুই বেদখল হয়ে গেছে। ‘এখানে বাঘা যতীনের বাড়ি ছিল’ এটুকু বলা ছাড়া ঐতিহাসিক দু'টি স্থান তাঁর পৈতৃক ও জন্মভিটায় আর অবশিষ্ট কিছুই নেই। শেকড়ের ইতিহাস বিস্মৃতির মাৎস্যন্যায় যুগের অবসানে রাষ্ট্রকর্তাদের হুঁশ ফিরুক। তাই অসীম সাহসিক বিপ্লবী বাঘা যতীনের অরক্ষিত পৈতৃক ভিটা ও জন্মভিটা দু'টোই সংরক্ষণের তাগিদ রাষ্ট্র কী অনুভব করবেনা?
সুজন বিপ্লব: সংগঠক ও গবেষক
[email protected]

মাজার ভাঙ্গা বন্ধ কর। দয়া করে
07/09/2024

মাজার ভাঙ্গা বন্ধ কর। দয়া করে

ফেলানি থেকে স্বর্ণা দাশসীমান্তে আর কত লাশ!
06/09/2024

ফেলানি থেকে স্বর্ণা দাশ
সীমান্তে আর কত লাশ!

"খেয়াল করেছো কি না --- পৃথিবীতে বেশিরভাগ দেশের জাতীয় সংগীতের মেজাজ কিন্তু সামরিক, আধাসামরিক এবং গির্জা প্রভাবিত! তবে ব্য...
05/09/2024

"খেয়াল করেছো কি না --- পৃথিবীতে বেশিরভাগ দেশের জাতীয় সংগীতের মেজাজ কিন্তু সামরিক, আধাসামরিক এবং গির্জা প্রভাবিত! তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।
আর গানের সুরে রবীন্দ্রনাথ অনেক বেলা গির্জা তাড়িত হলেও এই গানটিতে কিন্তু সে বাউল। বাংলাদেশের বাউল। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে যে আজ রাত গভীর হয়ে যাবে! আজ থাক।
তবে এইটুকু শোনে রাখো, বাংলার বাউলসুরের এই জাতীয় সংগীতটিকে উপলব্ধি করতে পারলে কিন্তু এদেশের আকাশ বাতাস এতোটা বিষময় হতো না, বদনখানি এতোটা বদ, এতোটা মলিন হতো না।
সংগীতকে মুখস্থ না করে ধারণ করতে হয় যে!"
কবি Kafil Ahmed
আগস্ট, ২০১৯

প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : সফল মানুষের প্রতিকৃতিপেশাগত সততা, ব্যক্তিগত জীবনের নীতি-নৈতিকতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সম...
02/09/2024

প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : সফল মানুষের প্রতিকৃতি
পেশাগত সততা, ব্যক্তিগত জীবনের নীতি-নৈতিকতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সমাজ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাÑসর্বোপরি দেশমাতৃকার প্রতি গভীর ভালোবাসা যাঁকে অনন্য অসাধারণ করেছে তিনি প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৩১ সালের ৩১ জুলাই খুলনার শিল্পনগরী (তখন পল্লীগ্রাম) দৌলতপুরের এক শিক্ষানুরাগী নি¤œ মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পিতা শেখ মুহাম্মদ হানিফ পেশায় শিক্ষক। দৌলতপুরের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ মুহসিন উ”চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। মা মরিয়ম খাতুন, গৃহিনী। ছয় ভাই এক বোনের বিশাল পরিবার। ভাই-বোনদের মধ্যে দ্বিতীয়। দৌলতপুর বণিকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার হাতেখড়ি। প্রাথমিক শেষ করে ভর্তি হন পিতার আজীবন কর্ম¯’ল মুহসিন উ”চ বিদ্যালয়ে। ১৯৪৬ সালে মাত্র ১৪ বছর ৭ মাস বয়সে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরবীতে লেটারসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন ব্রজলাল একাডেমি (বি এল কলেজ) থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পূর্বপাকিস্তান বোর্ডে আইএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১৯তম ¯’ান অধিকার করনে। ১৯৫০ সাালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিসটিংশনসহ বিএসসি পাস কোর্সে উত্তীর্ণ হন। বিএসসি পাস কোর্সে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান বোর্ডে দ্বিতীয় ¯’ান অধিকার কারেন। ওই বছরই তিনি আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারি কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং ভর্তিপরীক্ষায় প্রথম¯’ান অধিকার করেন। এই কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তাঁকে মাসিক ২৫ টাকা মেরিট স্কলারশিপ দেয়। এছাড়া সৈয়দপুর মহসিন এস্টেট খুলনার মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করতো, তিনি সেখান থেকেও মাসে ২৫ টাকা বৃত্তি পেতেন। ইঞ্জিনিয়ারিং চূড়ান্ত পরীক্ষায় শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ শতকরা ৭৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক প্রকৌশল ডিগ্রী অর্জন করেন। অভূতপূর্ব ফলাফল করায় তাকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়।
ছাত্র জীবনের অর্জিত ভালো ফলাফল সাধরণত মানুষের ভবিষ্যত জীবন গড়ে দেয়। কিš‘ শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন কিš‘ নিজের শিক্ষকের অসহযোগিতার কারণে সে স্বপ্নপূরণ করতে পারেনি। ১৯৫৮ সালে নির্মাণ জগতে যুক্ত হলেন। দেশের প্রখ্যাত ¯’পতি মাযহারুল ইসলামের আহবানে ১৯৬৪ সালের জুন মাসে ‘বাস্তকলাবিদ’ নামের একটি ফার্ম তাঁর সঙ্গে গড়ে তুললেন।
১৯৬৯ সালে মার্কসবাদী রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে গ্রেফতার করে। পিকিংপš’ী মার্কসবাদীরা তখন সাইক্লোস্টাইল করে ‘মার্কসবাদী’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। ১৯৬৯ সালের দিকে এ পত্রিকার জনপ্রিয়তা খুব বেড়ে যায়, সাইক্লোস্টাইল করে চাহিদা মেটানো যা”িছলো না। তাই প্রিন্টিংয়ের প্রয়োজন। সবার অনুরোধে তিনি সে দায়িত্ব নিলেন। প্রেস থেকে পত্রিকা ছেপে বাসায় আনার পথে রাস্তায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। বিনা বিচারে হাজতবাস করেছেন এক বছর, আর সশ্রম কারাদÐ হলো এক বছর। কারাদÐ শেষ হলেও জেল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়েনি। তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তিনি জেলে আটক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তাঁর পরিবার নিদারুণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলো। স্কুল এবং কলেজ পড়–য়া দুই ভাইকে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকসেনাবাহিনী হত্যা করে। আর বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি প্রথমে ‘শহীদুল্লাহ এন্ড এসোসিয়েটস’ পরে ‘শহীদুল্লাহ এন্ড নিউ এসোসিয়েটস’ প্রতিষ্ঠা করে প্রকৌশল চর্চায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন এবং অনন্য অব¯’ান লাভ করেন। তিনি এর পাশাপাশি সবসময়ই জনগণের মুক্তির সংগ্রামের পাশে থেকেছেন। মানুষের সংকট মোচনে দৃঢ়ভাবে পাশে থেকেছেন, প্রগতিশীল সকল আন্দোলনে সহায়তা করেছেন উদারভাবে। ১৯৯৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির যাত্রা শুরু হয়। গ্যাস রপ্তানি প্রতিরোধ, বন্দর রক্ষা, জ¦ালানী ও বিদ্যুৎ খাতে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লা খনি প্রতিরোধ, সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প বাতিল আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন।

Address

Dhaka

Telephone

01712770042

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangla Typography posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Bangla Typography:

Share