17/09/2022
চুরি হওয়া বাইকগুলি যাচ্ছে কোথায়? প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটে চুরি হচ্ছে বাইক আবার প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পার করে আনা মোটরসাইকেল সড়কে নামানো হচ্ছে কাস্টমস নিলামের ভুয়া কাগজে। বাজারমূল্যের অর্ধেক দাম হওয়ায় যুবকদের কাছে দিন দিন এ মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। আর এ ব্যবসার নেপথ্যে জরিত সাবেক এক বিজিবি এখনো ধরা ছোঁড়ায় বাহিড়ে। এসব ঘটনায় আটকানো গাড়িগুলো হচ্ছে ইয়ামাহা কোম্পানির ফেজার, আর ওয়ান ফাইভ, এফজেডএস, টিভিএস কোম্পানির এপাসি, বাজাজ কোম্পানির পালসার ও সুজুকি কোম্পানির জিআইএক্সএক্স মডেল।
সম্প্রতি পাঁচলাইশ থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার শহিদুল আলম ওরফে সম্রাট প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, প্রায় দেড় বছর আগে খায়রুজ্জামান রিপন নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। তার বাড়ি রংপুরের হারাগাছ। তিনি বিজিবিতে এবং র্যাবে চাকরিরত ছিলেন। তিনি এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। খায়রুজ্জামান ওরফে রিপন তিনি এসবের মুল হোতা তিনি সৈয়দপুরের এক প্রিন্টের দোকানে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে এসব চোরাই গাড়ী বাজারের থেকে অনেক কম রেটে বিক্রি করেন। গ্রেপ্তার হওয়া শহিদুল ওরফে সম্রাট জানান, খায়রুজ্জামানের মাধ্যমে পরিচয় হয় জনৈক সবুজের সাথে। সবুজ তার সহযোগী। দুই বছর আগে সবুজের কাছ থেকে কাস্টম নিলামের কাগজপত্রসহ মোটরসাইকেল এনে বিক্রি করেন নগরীতে। তারপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পরেন।
সম্রাটের দেয়া তথ্য দেয়া অনুযায়ী, রংপুরের হারাগাছ এলাকার খায়রুজ্জামান রিপন কাস্টমস নিলামের ভুয়া কাগজ, রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাঠায়। নগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা এ মোটরসাইকেল ব্যবসায় জড়িত। আর সম্রাট আর রহিম গাড়িগুলো বাজারে বিক্রি করেন।
বাজারে ইয়ামাহা কোম্পানির একটি আর ওয়ান ফাইভ গাড়ির মূল্য চার লাখ টাকা হলেও কাস্টম নিলামের কাগজসহ একই মানের গাড়ি দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায় অনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা দামের এপাসি এক লাখ ২০ হাজার, দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা দামের ফেজার এক লাখ ৬০ হাজার, দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা দামের এফজেডএস এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা সরবরাহ করা হয় ভুয়া কাস্টম নিলামের কাগজ দেখিয়ে। নিলামের গাড়ি স্বাভাবিকভাবে পুরাতন হয়ে থাকে। কিন্তু কাস্টম নিলাম লেখা সম্বলিত এসব মোটর সাইকেল সদ্য বাজার থেকে কেনা চকচকে নতুন। যা বর্ডার ক্রস করা।
নিলামের গাড়ি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়ার নিয়ম না থাকলেও কাস্টম নিলাম লেখা মোটরসাইকেল এফজেডএসের ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার, আর ওয়ান ফাইভ, ফেজার, জিক্সার পালসার এপাসি ৭০ হাজার টাকা দিলে রেজিস্ট্রেশন নম্বরও পাওয়া যায় অনায়াসে। সম্রাট জানান, খায়রুজ্জামান সীমান্ত পাড় করে গাড়ী নিয়ে আসেন ও বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই গাড়ী সংগ্রহ করেন। তিনি নিজেকে প্রসাশনের চোখ এড়াতে কোথাও নোমান, কোথাও রিপন আর কোথাও খাইরুজ্জামান বলে নিজের পরিচয় দেন।