09/08/2026
আগামীকাল ১০ আগস্ট, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। অনেকের জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিন কাল হতে যাচ্ছে। আমার জীবনেও এমন একটা দিন এসেছিল। জিপিএ-৫ না পেলেও আমার মন খারাপ হয়নি।
আমার স্কুলে সেবার আমি সবচেয়ে ভালো ফল করেছিলাম। জিপিএ শুনবেন? মাত্র ৪.৬৭!
কিন্তু আমার মনে হেব্বি আনন্দ!
কারণ?
ক্লাস থ্রিতে উঠে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে দেড় বছর নাকানিচুবানি খেয়ে বাড়ি এসে প্রাইমারিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। ২০১১ সালে পিএসসি দিয়ে ২০১২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলাম। এরপর সপ্তম শ্রেণিতে গ্যাপ দিয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। অলরেডি পাঁচটা প্রতিষ্ঠানে পদচারণা হয়ে গেছে।
নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে এসএসসিতে (২০১৬) ওই স্কুলে সবার চেয়ে ভালো ফল করা সত্যিই অনেক আনন্দের ছিল আমার জন্য!
তারপর ভাবলাম, দেশসেরা কোনো একটা কলেজে ভর্তি হবো। ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ, রাজশাহী কলেজ, দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা, সবখানেই চয়েজ দিলাম।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম না। কারণ আমার জিপিএ-৫ ছিল না। A+ ছাড়া এসব কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে চান্স পাওয়া যায় না।
অবশেষে দর্শনা সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম।
কিন্তু সে আরেক বেহাল দশা!
Year-change পরীক্ষায় রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে ফেল করলাম। তারপর এইচএসসি (২০১৮) পরীক্ষার আট মাস আগে থেকে মূলত পড়াশোনা শুরু করলাম। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনার মধ্যেই থাকতাম আমি।
শেষমেশ রেজাল্ট আসল, আবারও ৪.৬৭! A+ মিস।
ভেবেছিলাম মেডিকেলে পড়ব। সেটা আর সম্ভব হলো না।
এডমিশন চলাকালে উদ্ভাসের ক-ইউনিট সেগমেন্টে আমার মেরিট খুব ভালো থাকত। বন্ধুবান্ধব সরাসরি বলত, “ঢাবির কোন সাবজেক্টে পড়তে চাও?”
এরপর এডমিশনে ঢাবি মিস করলাম। সব বিষয়ে ভালো করলেও পদার্থবিজ্ঞানে ডাব্বা মারলাম। ২০১৮ সালের এডমিশন পরীক্ষায় ঢাবির ফিজিক্সের প্রশ্ন ছিল সবচেয়ে ফালতু।
এরপর জাবি, রাবি, ইবিতে ভর্তির সুযোগ হলো। শেষমেশ রাবিতেই ভর্তি হলাম।
বিএসসির রেজাল্ট হলো সিজিপিএ ৩.৩১ (৪-এর মধ্যে), মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৬৮ (৪-এর মধ্যে)।
সামারি করলে দাঁড়ায়:
SSC GPA: 4.67
HSC GPA: 4.67
B.Sc. CGPA: 3.31
Master’s CGPA: 3.68
এতক্ষণে বুঝে গেছেন, আমি কী বলতে চাচ্ছি।
আমি মূলত একজন এভারেজ স্টুডেন্ট ছিলাম। সবসময়ই জাস্ট প্রসেসে টিকে থেকেছি। আমার জীবনে কখনোই A+ পাইনি।
PSC GPA: 4.25
JSC GPA: 4.68
এবার আসি বর্তমান পরিস্থিতিতে।
আমার জীবনের প্রথম বিসিএসেই আমি ক্যাডার। যে বিষয়ে ইয়ার-চেঞ্জ পরীক্ষায় পাস করতে পারিনি, সেই বিষয়ের শিক্ষক আমি।
ইনশাআল্লাহ, আমি কোনো একটা সরকারি কলেজে রসায়নের ক্লাস নেব এবং আমার বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিগুলো রোমন্থন করব।
একই সঙ্গে ব্যাংকারও। কিছুদিন পর ৫০তম বিসিএসের বোথ ক্যাডারে দ্বিতীয়বারের মতো ভাইভা দেব। আরও কত সুযোগ সামনে থাকতে পারে! চাইলে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ-আমেরিকাতেও যেতে পারি।
মোরাল অব দ্য স্টোরি:
জীবনের সবকিছুই আপেক্ষিক। কোনো একটি পরীক্ষা জীবনকে আমূল বদলে দিতে পারে না। একটা-দুইটা পরীক্ষায় ফেল করলে কোনো যায় আসে না। জীবনের এই চলার পথে টিকে থাকাটাই মূল বিষয়।
হারিয়ে যেয়ো না, বন্ধু। স্বপ্ন দেখো, সংগ্রাম করো।
এসএসসিতে কোনো রকমে পাস হলেই জীবন শেষ হয়ে যায় না। ফেল করলেও জীবন শেষ নয়। এমনকি পড়াশোনা ছেড়ে দিলেও জীবনের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। আল্লাহ সব পরিস্থিতিতেই তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণের পথ রাখতে পারেন। দরকার শুধু ব্যক্তির পরিশ্রম, সদিচ্ছা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।
- জহুরুল ইসলাম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)