07/05/2026
সংগ্রাম থেকে স্বাবলম্বিতা - কামরুন নাহার বেগমের অনুপ্রেরণার গল্প।
রাজশাহীর পবা উপজেলার এক গ্রামের বাসিন্দা কামরুন নাহার বেগম একজন স্বামী পরিত্যক্তা সংগ্রামী নারী। তাঁর জীবনের একমাত্র অবলম্বন তাঁর ছেলে। দুই সদস্যের এই ছোট্ট পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখা একসময় ছিল তাঁর জন্য কঠিন সংগ্রাম।
২০২৪ সালে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)-এর জীবিকা উন্নয়ন কর্মসূচির মাঠ পর্যায়ের জরিপে তাঁর বাস্তব চিত্র সামনে আসে। এরপর তাঁকে ধান, সবজি ও গরু পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং যাকাত তহবিল থেকে (কোনো ঋণ নয়, তাঁর অংশ) প্রয়োজনীয় মূলধন প্রদান করা হয়।
শুরুতে তার মূলধন থেকে ১৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ গ্রহণ করে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। সেখান থেকে তিনি ২০,০০০ টাকা মুনাফা অর্জন করেন এবং মূলধন যৌথ তহবিলে জমা রাখেন। তাঁর সক্ষমতা বিবেচনায় পরবর্তীতে তাঁকে সবজি চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে ১০,০০০ ও ৮,০০০ টাকা বিনিয়োগ নিয়ে পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে তিনি ৫০,০০০ টাকার বেশি বিক্রয় করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে উনি সিজেডএম আয়োজিত গরু লালন-পালন বিষয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এই অর্জিত পুঁজি ও তহবিল থেকে ২৮,০০০ টাকা নিয়ে নিজের সঞ্চয়ের সঙ্গে যুক্ত করে একটি গাভী ক্রয় করেন। বর্তমানে সেই গাভীর একটি ৮ মাস বয়সী বাছুর রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বাড়িতে কালো এলাচ, অরিগানো, দারুচিনি, তেজপাতাসহ নানা ধরনের মসলা ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন, যা দিয়ে নিজের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত অংশ প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করছেন।
আজ তাঁর গাভী, বাছুর এবং লিজকৃত জমির ফসল মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,০০,০০০ টাকারও বেশি। তাঁর গড় মাসিক আয় এখন প্রায় ২৫,০০০ টাকা।
একসময় যে নারী অভাবের সঙ্গে লড়াই করতেন, আজ তিনি আত্মমর্যাদা নিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।
আপনার যাকাত ও সদাকাহ এমন অসংখ্য মানুষের জীবনে পরিবর্তনের আলো জ্বালাচ্ছে।