13/02/2025
জালালউদ্দিন রুমি একবার একটা বনের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময়, একটা তিতির পাখি ধরে ফেলেন। রুমি যখন ভাবছেন যে, পাখিটাকে কীভাবে খাবেন, আগুনে ঝলসে, নাকি তরকারি রান্না করে!
এমন সময় পাখিটি বলে ওঠে.....!
‘রুমী তুমি তোমার এই জীবনে এতো গোশত খেয়েছে, অথচ তোমার এই আমিষের আকুতি শেষ হয়না। তুমি যদি আমাকে মুক্ত করে দাও, তাহলে আমি তোমাকে তিনটি পরামর্শ দেবো, যা তোমার জীবনকে সন্তোষ্টি আর শান্তিতে ভরে দেবে।’
রুমি কিছুটা বিচলিত হয়ে বলেন....!
“আমার হাতে বসেই প্রথম পরামর্শটা দাও, যদি পছন্দ না হয়, সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করবো তোমাকে।”
পাখিটি রাজি হয়ে বলল....!
পাখিটি বললো, তুমি সব সময় তোমার বন্ধুদের উদ্ভট সব আলোচনায় বিচলিত হয়ে পড়ো। এর চেয়ে তাদেরকে, তাদের মতো থাকতে দাও। তাতে তোমার জীবন শ্রেয়তর হবে।’
রুমি কিছুটা চিন্তা করে নিয়ে ভাবতে থাকেন, পাখিটার কথায় যুক্তিবোধ আছে। সুতরাং দ্বিতীয় পরামর্শ দিতে বলেন।
পাখি বলে.....!
তুমি আমায় ছেড়ে দিলে, ওই গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় পরামর্শটা দেবো।’
রুমি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাখিটিকে ছেড়ে দেন, আর পাখি গিয়ে কাছেই একটি গাছের ডালে বসে।
পাখিটা এবার তার দ্বিতীয় পরামর্শের কথা বলে....!
রুমী অতীতকে কখনো পালটানো যায় না। সুতরাং বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করো। আর ভবিষ্যতের জন্য বাঁচো। যা হোক বড় বোকামি করেছো তুমি।
আমার পেটের মধ্যে তিন কেজি হীরা আছে। তুমি এটা পেলে, তোমার তিনপুরুষ বসে বসে খেতে পারতে।’
সাংঘাতিক ঘাবড়ে গিয়ে, রুমি তিতিরের পেছনে রেগে ছুটতে থাকেন, তাকে আবার ধরতে। পাখি তখন জোরে জোরে বলে...…!
রুমি, তুমি দেখছি আমার পরামর্শ একেবারেই শুনলে না। আমার নিজেরই ওজন যেখানে দুই কেজির বেশি নয়,সেখানে আমার পেটে কী করে তিন কেজি হীরা থাকবে!
তুমি দেখছি এখনো উদ্ভট আর বোধহীন কথায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছো! দ্বিতীয়ত, আমি এরই মাঝে তোমাকে ছেড়ে গেছি, তোমার জীবনে এখন আমি অতীতের বিষয়।’
পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে, রুমি তখন তৃতীয় পরামর্শের জন্য অনুরোধ করেন।
তিতির পাখিটি বলে....!
রুমি শোনো..!
সবাইকে উপদেশ দিতে যেওনা। শুধু তাদের উপদেশ দাও, যারা সেটা শুনবে, মনে রাখবে। মনে রেখো, কিছু কাপড় এতো জীর্ণ হয়ে যায় যে, যা আর কখনো সেলাই করা যায় না।" তাই নিজের জন্য সময় ও বুদ্ধি ব্যায় করো। কারন সময় অতিমূল্যবান এবং তা ক্রমশই তোমার জিবন থেকে কমে যাচ্ছে।