18/09/2026
তুরস্কের বিখ্যাত যে দুই মসজিদে আজান হয় একই সাথে | Mamun Abdullah - Beyond Borders
ইস্তাম্বুলের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় দেড় হাজার বছরের জীবন্ত ইতিহাস—ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া। ট্রামে চড়ে ইস্তাম্বুলের প্রাচীন অলিগলি পেরিয়ে যখন আমরা আয়া সোফিয়া চত্বরে পৌঁছালাম, তখনই ভেসে এলো এক সুরলিত আজানের প্রতিধ্বনি। একদিকে আয়া সোফিয়া, অন্যদিকে ঐতিহাসিক সুলতান আহমেদ ব্লু মস্ক—দুই মিনার থেকে যুগলবন্দি আজানের এই স্বর্গীয় আবহ মুহূর্তেই মন ভরিয়ে দেয়।
খ্রিস্টীয় ৫৩২ সালে বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে চার্চ হিসেবে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটি দীর্ঘ শতাব্দী ধরে ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী হয়েছে। ১২০৪ সালে ক্যাথলিকদের দখল এবং ১২৬১ সালে পুনরায় অর্থোডক্সদের নিয়ন্ত্রণে আসার পর, ১৪৫৩ সালে সুলতান ফাতিহ মুহাম্মদের ইস্তাম্বুল বিজয়ের মাধ্যমে আয়া সোফিয়া এক নতুন রূপ পায়। বিজয়ের পর জোরপূর্বক নয়, বরং নিজ অর্থে ক্রয় করে এটিকে মসজিদে রূপান্তর করেন সুলতান ফাতিহ। যিশুখ্রিস্ট, মা মেরি ও ফেরেশতাদের মোজাইক ধ্বংস না করে সম্মানজনকভাবে প্লাস্টার করে সংরক্ষণ করা, গম্বুজ সুরক্ষায় চারটি মিনার এবং অনন্য মিম্বার ও মেহরাব স্থাপন—সব মিলিয়ে এটি স্থাপত্যকলার এক অমর বিস্ময়।
১৯৩৪ সালে জাদুঘরে পরিণত হওয়ার দীর্ঘ ৮৬ বছর পর, ২০২০ সালে তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে আয়া সোফিয়া পুনরায় নামাজের জন্য উন্মুক্ত হয়। মেঝে থেকে প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু সোনালী গম্বুজ, রাজকীয় মার্বেল পাথরের ওজুখানা এবং আধুনিক লাইটিং সিস্টেমের অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ তথ্যচিত্র।
ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দিন এবং ঐতিহাসিক সব ভ্রমণের নিয়মিত আপডেট পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল বাটনটি অন রাখুন।