19/05/2026
নীহার বানু খু/নের রহস্য 😢🕯️
“চার মাস পর মাটির নিচ থেকে যখন মেয়েটির কঙ্কাল বের করা হলো, তখনও তার পায়ে লাল-সবুজ নকশার স্যান্ডেলটি ছিল…” আর গলায় ঝুলছিল ছোট্ট রুপার তাবিজ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই মেধাবী মেয়েটি জানত না, পরিচিত একজন মানুষের বিকৃত ভালোবাসাই তাকে পৃথিবী থেকে এভাবে মুছে দেবে…!
_________________________________________
😶🌫️ স্বাধীনতার পর তখনও বাংলাদেশ যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। শহীদ পরিবারের সন্তানরা স্বপ্ন দেখে নতুন জীবন গড়ার।
সেই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নীহার বানু ছিলেন সবার চোখে শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী এক তরুণী।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে উঠে আসা এই মেয়েটির জীবনে কষ্ট ছিল, কিন্তু স্বপ্নও ছিল অনেক বড়।
১৯৫৩ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া নীহারের বাবা নজীবুর রহমান ছিলেন রাজশাহী কো-অপারেটিভ অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার। ১৯৭১ সালের মু/ক্তিযু/দ্ধে পাকিস্তানি হা/নাদার বাহিনীর হাতে তিনি শহীদ হন। বাবার মৃ/ত্যুর পর পুরো পরিবার যেন হঠাৎ করেই অন্ধকারে ডুবে যায়।
_________________________________________
💔 পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে তখন বড় বোন মঞ্জিলা বেগম মায়ের মতো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিনি পেশায় চিকিৎসক ছিলেন।
পরিবারের সবাই চেয়েছিল, নীহার পড়াশোনা শেষ করে সুন্দর একটা জীবন পাক।
নীহারও ঠিক সেভাবেই এগোচ্ছিলেন। ১৯৭৬ সালে তিনি স্নাতকোত্তর পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে নওগাঁর এক প্রকৌশলীর সঙ্গে তার বিয়ের কথাও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
_________________________________________
কিন্তু কেউ জানত না, নীরবে আরেকজন মানুষ তার জীবন নিয়ে ভয়ংকর এক পরিকল্পনা করে ফেলেছে…!
_________________________________________
🖤 আহমেদ হোসেন বাবু—নীহারের সহপাঠী। একই বিভাগে পড়তেন। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে একতরফা আসক্তি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই জানতেন, বাবু নীহারকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু নীহার তাকে ভাইয়ের মতোই দেখতেন।
বাবুর কাছে এই প্রত্যাখ্যান ধীরে ধীরে এক ভয়াবহ আবেশে পরিণত হয়।
_________________________________________
রাজসাক্ষী হওয়া এনামুল হকের জবানবন্দি অনুযায়ী, বাবু প্রায়ই বলতেন—
“নীহারকে না পেলে আমি বাঁচব না। সে অন্য কাউকে বিয়ে করবে, এটা আমি মেনে নিতে পারব না।”
_________________________________________
😨 ১৯৭৬ সালের ২৭ জানুয়ারি।
দুপুরের সময়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ‘মিনা মঞ্জিল’ নামের বাড়িটির সামনে দুটি আলাদা রিকশা এসে থামে।
একটিতে নীহার বানু। অন্যটিতে বাবু।
নীহার হয়তো ভেবেছিলেন, পরিচিত বন্ধুর ডাকে এসেছেন। হয়তো কোনো দরকারি কথা আছে।
কিন্তু তিনি জানতেন না, বাড়িটির ভেতরে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল আরও কয়েকজন।
ঘরে ছিলেন এনামুল হক, আহসানুল হক ও শহীদুল ইসলাম নীলু।
নীহার ভেতরে ঢোকার পরপরই প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানালা-দরজাও আটকে দেওয়া হয়।
_________________________________________
সেই মুহূর্তে হয়তো নীহারের মনে প্রথমবারের মতো ভয় ঢুকে গিয়েছিল…!
⚫ এরপর বাবু সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন।
নীহার ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন—
“আপনি এসব কী বাজে কথা বলছেন? আপনার সঙ্গে আমার ভাই-বোনের সম্পর্ক!”
তিনি আরও বলেন, আবার এমন কথা বললে তিনি চিৎকার করবেন।
এই কথাগুলোই যেন বাবুর ভেতরের উন্মাদনাকে আরও হিংস্র করে তোলে।
_________________________________________
😢 হঠাৎ করেই নীহারের শাড়ির আঁচল গলায় পেঁচিয়ে ধরে বাবু বলতে থাকেন—
“এখনো রাজি হও… না হলে এখান থেকে ফিরতে দেব না!”
নীহার প্রাণপণে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।
তিনি হাত-পা ছুঁড়ছিলেন। বাবুর হাত পর্যন্ত কামড়ে দেন।
কিন্তু তখন অন্যরাও তাকে চেপে ধরে রাখে।
_________________________________________
একজন মেয়ের শেষ লড়াই…
একজন মানুষের বাঁচার আকুতি…
চারদিক বন্ধ ঘর…
আর কয়েকজন মানুষের নীরব নিষ্ঠুরতা…!
_________________________________________
💔 কিছু সময় পর নীহার নিস্তেজ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান।
শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।
একটি স্বপ্নময় জীবন সেদিন শেষ হয়ে যায় ভয়ংকর অন্ধকারের মধ্যে।
এনামুলের জবানবন্দিতে উঠে আসে, সেদিন নীহারের পরনে ছিল খয়েরি রঙের চেক শাড়ি, হলুদ ব্লাউজ, নীল কোট। পায়ে ছিল বাটার হাই হিল স্যান্ডেল।
গলায় চারকোনা রুপার তাবিজ।
চুল লম্বা বেণি করা।
এই ছোট ছোট বর্ণনাগুলোই পরে পুরো বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেয়…!
_________________________________________
🪦 হ/ত্যার পর লা/শ গুম করার পরিকল্পনা করা হয়।
মিনা মঞ্জিলের ভেতরেই মাটি খুঁড়ে নীহারকে পুঁতে ফেলা হয়।
তারপর দিনের পর দিন সবাই স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করতে থাকে।
_________________________________________
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নীহার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার পাগলের মতো খুঁজতে থাকে মেয়েটিকে।
কিন্তু কেউ জানত না, তিনি তখন মাটির নিচে নিঃশব্দে পড়ে আছেন…!
_________________________________________
⏳ প্রায় সাড়ে চার মাস পর—১৯৭৬ সালের ১২ জুন।
অবশেষে উদ্ধার করা হয় নীহার বানুর কঙ্কাল।
সেই দৃশ্য যারা দেখেছিল, তারা নাকি বহুদিন দুঃস্বপ্ন দেখেছে।
কারণ কঙ্কাল হয়ে যাওয়া দেহের পায়ে তখনও ছিল সেই লাল-সবুজ কারুকাজ করা স্যান্ডেল।
গলায় ঝুলছিল রুপার তাবিজ।
একজন মেয়ের শেষ পরিচয় হয়ে রয়ে গিয়েছিল কয়েকটি জিনিস…!
_________________________________________
⚖️ এই ঘটনা পুরো দেশে তীব্র আলোড়ন তোলে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটিকে প্রথম বহুল আলোচিত অরাজনৈতিক হ/ত্যাকা/ণ্ড হিসেবে ধরা হয়।
_________________________________________
১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে উত্তরাঞ্চলের বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার শুরু হয়।
বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির ৩০২, ৩৬৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা পরিচালিত হয়।
অভিযুক্ত করা হয় সাতজনকে।
তাদের মধ্যে প্রধান আসামি ছিলেন আহমেদ হোসেন বাবু।
এছাড়া ছিলেন আহসানুল হক, শহীদুল ইসলাম নীলু, এনামুল হক, রুহুল আমীন ফেতু, আজিজুর রহমান আজু ও ওয়াহেদুল ইসলাম।
_________________________________________
🕯️ বিচারের সময় এনামুল হককে রাজসাক্ষী করা হয়। তার জবানবন্দিতেই বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনার ভয়ংকর বিবরণ।
১৯৭৭ সালের ২৯ আগস্ট আদালত এই ঘটনাকে “পূর্বপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার ভয়াবহ হ/ত্যা” বলে মন্তব্য করে।
তিনজনকে মৃ/ত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
রুহুল আমীন ফেতুকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল—প্রধান আসামি বাবু ও আহসানুল তখনও পলাতক।
_________________________________________
পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাবু বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। কেউ বলেছে জার্মানিতে, কেউ বলেছে অন্য কোথাও।
কিন্তু নীহার বানুর পরিবারের কাছে এসব কোনো সান্ত্বনা ছিল না।
_________________________________________
😔 একটা মেয়ের জীবন শুধু “না” বলার কারণে শেষ হয়ে গিয়েছিল।
তিনি কাউকে অপমান করেননি, প্রতারণা করেননি—শুধু নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
আর সেই স্বাধীন সিদ্ধান্তই কিছু মানুষের অসুস্থ মানসিকতার কাছে অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।
আজও নীহার বানুর গল্প শুনলে প্রশ্ন জাগে—
একজন মানুষ কীভাবে ভালোবাসার নামে এতটা নির্মম হতে পারে?
_________________________________________
💬 আপনি কী মনে করেন—একতরফা আসক্তি ও বিকৃত মানসিকতা কি আজও সমাজে একইভাবে ভয়ংকর রূপে রয়ে গেছে?
নীহার বানুর জন্য একলাইন শ্রদ্ধা লিখুন। পোস্টটি শেয়ার করুন, যেন মানুষ বুঝতে শেখে—“না” মানে “না”।
_________________________________________
#নীহার_বানু
#রাজশাহী_বিশ্ববিদ্যালয়
#বাংলাদেশের_আলোচিত_হত্যা
#সত্য_ঘটনা
#অপরাধের_ইতিহাস
#বাংলার_রহস্য