15/04/2026
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ন্যাশনাল হেডকোয়ার্টারস ভলান্টিয়ারদের পক্ষ থেকে বিশেষ ঘোষণাঃ
প্রিয় ভলান্টিয়ার ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।
আপনাদের অনেকের অনুরোধকে সম্মান করে পেইজ থেকে শেষ পোস্টটা ডিলেট করা হলো৷ তবে কেন এই পোস্টটি দেয়া হয়েছিলো, সেই বিষয়টি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। মূলত, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বৃহত্তর স্বার্থে এবং বঞ্চিত ভলান্টিয়ারদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে পেইজের একজন মডারেটর যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগের সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর মুনতাসির মাহমুদের লিখাটা শেয়ার করে। আমরা সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং পোস্টটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এবার আসি মূল ঘটনায়।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি একটি মানবিক সংগঠন হলেও বিভিন্ন সময় এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এই প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করেছে, যা থেকে ভলান্টিয়াররাও মুক্ত ছিলো না। গত ৫ই আগস্ট ২০২৪, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর হেডকোয়ার্টার এবং বিভিন্ন ইউনিটের কমিটিতে থাকা ছাত্রলীগের লোকজন পালিয়ে যায় অথবা দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দেয়।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা ঘটে ন্যাশনাল হেডকোয়ার্টার এ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে হেডকোয়ার্টারের নিয়মিত ও পুরনো ভলান্টিয়ারদের বের করে দেয়া হয়। এবং এই কাজে নেতৃত্ব দেয় এক রহস্যময় চরিত্র, যার নাম রায়হান। এই রায়হান ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়াও সাধারণ ভলান্টিয়ারদের নির্যাতন করে এবং হুমকি দিয়ে হেডকোয়ার্টার এ আসতে বাধা দেয়। রায়হান তার ভাই ব্রাদার এবং ব্যক্তিগত বহিরাগত লোক দিয়ে হেডকোয়ার্টার ভরিয়ে ফেলে। এমনকি নারী ভলান্টিয়ারদের হেনস্তা করা এবং হুমকি দেয়ার অভিযোগ এসেছে, যার প্রমাণও আমাদের হাতে আছে।
আপনারা অনেকে সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর মুনতাসির মাহমুদকে নিয়ে অনেক অভিযোগ দেন। কিন্ত প্রকৃত পক্ষে তিনিও এসব বিষয় ভালো ভাবে অবগত ছিলেন না। আর রেড ক্রিসেন্টে কত অবৈধ নিয়োগ, দলীয় নিয়োগ এবং বিশাল বিশাল দুর্নীতি হয়েছে, তা কমবেশি সবাই জানেন৷
তিক্ত হলেও সত্য, মুনতাসির মাহমুদ রেড ক্রিসেন্টে যুক্ত হওয়ার আগেই রায়হান গং সাবেক ডিরেক্টর আমাদের সবার প্রিয় জাফর ভাইকে জিম্মি করে আগের কমিটি স্থগিত করতে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়, আগের ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকানো, অব্যাহত হুমকি দেয়া সহ এমন কোনো অপকর্ম বাকি নাই, যা তারা করে নাই৷
আপনারা কি জানেন, এই রায়হানের পরিচয় কি? আমরা যারা দীর্ঘদিন ভলান্টিয়ার ছিলাম, তাদেরকে সে বের করে দিয়েছে৷ এতদিন থেকেও আমরা জানি না, রায়হানের বাড়ি কই, পড়াশুনা কই, কোথায় থাকে বা কি করে৷ তাকে দেখে মনে হয় বয়স ৩৫ কিন্ত কি করে কেউ জানে না৷
রায়হান নিজেকে জুলাইয়ের নেতা দাবি করে ভলান্টিয়ারদের জেলে ঢুকাইছে, ছাত্রলীগ বানাইছে, কিন্ত জুলাইতে তাকে আমরা রাজপথে দেখি নাই। এই রায়হানই বহিরাগত এনে ডিরেক্টরের রুমে জাফর ভাইকে জিম্মি করতো, দাবি না মানলে বের হতে দিবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এরমধ্যে আগের কমিটির বিরুদ্ধে তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়া হয় এবং তাদেরকে শাস্তির সুপারিশ করা হয়। পুরান ভলান্টিয়ারদের মাইনাস করা হয়। এসব ঘটনা ঘটে মুনতাসির ভাই আসার আগেই।
তারও ৪ মাস পর রেড ক্রিসেন্টে আসেন ডেপুটি ডিরেক্টর মুনতাসির মাহমুদ। প্রথমে ভুল বুঝলেও তিনি যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন ২ পক্ষের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে। এরমধ্যে রেড ক্রিসেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক মারামারির ঘটনা ঘটে হেডকোয়ার্টার এ। ভলান্টিয়াররা একজন আরেকজনকে গাছের ডাল ভেঙে পুলিশের সামনেই পিটায়, রক্তাক্ত করে৷ সেদিন মুনতাসির ভাই নির্যাতিত ভলান্টিয়ারদের পক্ষে সর্বোচ্চ সাহসিকতার সাথে সবকিছু সামাল দেন৷ কিন্ত যাদেরকে তিনি মাইর থেকে বাচিয়েছিলেন, তারাই পরে সবচেয়ে বড় বেঈমানি করে।
মুনতাসির ভাই ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন রায়হান গং দের আসল চরিত্র। যখন তিনি পুরাতন ভলান্টিয়ারদের পক্ষে কথা বলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা গুলা উঠিয়ে নিতে চান, তখনই রায়হান গং মুনতাসির ভাইয়ের বিরুদ্ধে লাগে। যেটার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমরা অনেকেই৷
মুনতাসির ভাইকেও তারা জিম্মি করে৷ তার আগে রায়হান গং কিছু বোর্ড মেম্বার এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় চেয়ারম্যানকেও হাত করে নেয়। সেই চেয়ারম্যান রায়হানের কথা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না৷ এই অসাধু চক্র প্রথমে সাবেক ডিরেক্টর ইমাম জাফর শিকদারকে মাইনাস করে, যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ থেকে উনাকে সরিয়ে দেয়৷ জাফর ভাই চলে যাওয়ার পর মুনতাসির ভাইকে তারা বিভিন্ন ভাবে চাপ দিতে থাকে৷ কিন্ত আমরা সাক্ষী, মুনতাসির ভাই যখন নিরপরাধ ভলান্টিয়ারদের পক্ষ নেন এবং মামলা তুলে নিতে চান, তখন রায়হান গং মুনতাসির ভাইয়ের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেয়। কমপক্ষে ৫০ জন ভলান্টিয়ার দিয়ে চেয়ারম্যানের হোয়াটসঅ্যাপে মুনতাসির ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ায় রায়হান, যেই মেসেজ আমি নিজে দেখেছি।
রেড ক্রিসেন্টে এটা প্রতিষ্ঠিত করা হয় যে, যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগের সাবেক ডিরেক্টর ইমাম জাফর শিকদার সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ এবং মাফিয়া৷ বিভিন্ন অপবাদ ছড়ানো হয়৷ চেয়ারম্যানের কাছে বলা হয়, মুনতাসির মাহমুদ গোপনে জাফর ভাইয়ের লোক৷ সেই চেয়ারম্যান আজীজ কোনভাবেই জাফর ভাইকে দেখতে পারতেন না৷ কেউ জাফর ভাইয়ের সাথে কথা বললেও তাকে বদলি করে দেয়া হতো৷ মুনতাসির ভাই একমাত্র কর্মকর্তা, যিনি প্রকাশ্যে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। এবং যার ফলে উনার চাকরি চলে যায় এবং উনার ৫ মাসের বেতন আটকে রাখা হয়৷ মুনতাসির ভাইয়ের বুঝতে সময় লেগেছিলো, কিন্ত উনার মধ্যে আমরা অসততা, অন্যায় বা লোভ দেখি নাই। উনি প্রকৃত অর্থে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উন্নতির জন্য আন্তরিক ভাবে কাজ করতে চেয়েছিলেন৷
আরেকটা তিক্ত সত্য বলি, সবার আগে আমাদের নিজেদের সমালোচনা করা উচিত৷ রেড ক্রিসেন্টের টক্সিক অবস্থা দেখে অনেক ভালো মানুষ এখান থেকে চলে গেছে। এখানে কত দুর্নীতি, ভুয়া নিয়োগ, ক্লাস এইট পাস ভুয়া সার্টিফিকেট ওয়ালা লোকজন বড় কর্মকর্তা হয়েছে, সবই আমরা জানি৷ আমরা নিজেরা একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে থাকি, কয়জন সত্যিকার অর্থে সোসাইটির ভালোর জন্য কাজ করি??
আসুন, আগে নিজেরা ভালো হই৷ ব্যক্তি স্বার্থে এমন আন্তর্জাতিক একটা প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত না করি। আজকে বাধ্য হয়ে কিছু সত্য তুলে ধরেছি, কিন্ত এমন আরো বহু না বলা কথা রয়ে গেছে।
মহান স্রষ্টা আমাদের এই প্রিয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনুক, এটাই প্রার্থনা।
বিনীত,
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,
ন্যাশনাল হেডকোয়ার্টারে ৯ বছর পুরনো একজন নিবেদিত ভলান্টিয়ার।