28/07/2020
আসসালামু আলাইকুম,
আমাদের পেইজে অনেকেই কমেন্ট করেছেন যে আমাদের পেইজের দামের অনেক কমে তারা আরো বড় গরু কিনেছেন। তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। এই লেখাটি যাদের উপর কুরবানি ফরয হয়েছে তাদের জন্য।
আমরা অনেকেই জানি যে বাংলাদেশ তার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভয়াবহ বন্যার মাঝে দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য অনেক কৃষক তাদের ফসল হারাচ্ছেন, হারাচ্ছেন তাদের সর্বস্ব। আমরা নিজেরাই আজ বন্যার পানি পেরিয়ে গরু কিনতে গিয়েছি। এখন কৃষকদের অবস্থা খুবই করুণ। যেই গরু তারা নিজেদের শ্রম, ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছেন, সেই গরুই তাদের বিক্রি করে দিতে হচ্ছে কিছু টাকার জন্য। গরু পালার টাকা তো উঠছেই না বরং বেঁচে থাকার তাগিদে কিছু টাকা হাতে পাবার জন্য অর্ধেক দামে তারা গরু বিক্রি করছেন।
মুসলিম ভাইদের কাছে একটাই অনুরোধ, কম টাকায় বেশী গোস্ত লাভের আশায় এই কৃষকদের খারাপ অবস্থার সুবিধা নিবেন না। এবছর সবমিলিয়ে সবার অবস্থাই তুলনামূলক খারাপ, কিন্তু আমরা যাতে গরু কিনার পরে গরুর মালিককে জিজ্ঞেস করি তিনি খুশি কি না। কারণ, কুরবানি জিতার খেলা না, কে কত কম দামে কত বড় গরু কিনল তা মহান আল্লাহ তা’লার কাছে বিবেচ্য না, কুরবানি আমাদের মনের পশুকে কুরবানি দেয়ার পরীক্ষা। শেষ করতে চাই পবিত্র কুরআনের আয়াত দিয়ে,
"আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোস্ত এবং রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি)" - সূরা হাজ্জ, আয়াত নং: ৩৭
তাই, নিজেরা নিজেদের প্রশ্ন করি, উপরওয়ালার কাছ থেকে নিজেদের কুরবানি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আগেই। সকলকে ইদুল আযহা মুবারাক।