March Forward: Free Coaching for BCS and Others

Call Directions Website Contact the organization

March Forward: Free Coaching for BCS and Others 'March Forward: Free Coaching for BCS and others' is a free education, training and career mentoring platform for all Bangladeshi young people.
(1)

Our slogan is "Let us Spread Kindness".

"একজন সহকারী কমিশনার আইনানুযায়ী একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট"প্রথম আলো পত্রিকায় ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে শামস নজিব নামে...
10/07/2026

"একজন সহকারী কমিশনার আইনানুযায়ী একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট"

প্রথম আলো পত্রিকায় ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে শামস নজিব নামে প্রথম আলোর এক আইন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন "সহকারী কমিশনার’ হয়ে ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ পরিচয় দেওয়া কতটা যৌক্তিক"? ৪৭তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর এক আইনজীবী ফেসবুক পোস্ট এই বিষয়টিকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে আইনের আংশিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে যে রেফারেন্স দেখানো হয়েছে তা অর্ধেক এবং তাতে প্রশাসন ক্যাডারের প্রতি চূড়ান্ত বিদ্বেষ দেখানো হয়েছে, পরোক্ষভাবে অর্ধ সত্য উপস্থাপন করে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্গানের প্রতি বীতশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়৷

ম্যাজিস্ট্রেট শব্দটি কোথা থেকে আসলো এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর ব্যবহারের পরিধি কোন পর্যায়ে বিস্তৃত সেটি বিশ্লেষণ করা যাক। লেখাটি স্বাভাবিকভাবেই বড় হবে এবং পাঠকদের একটু ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো ব্রিটিশ উপনিবেশিক ব্যবস্থার উত্তরাধিকার বহন করে। সে সময় “ম্যাজিস্ট্রেট” ছিল একটি একক পদ, যেখানে প্রশাসনিক ও বিচারিক—উভয় ক্ষমতাই একই কর্মকর্তার হাতে ন্যস্ত ছিল।

২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মাধ্যমে (Separation of Judiciary) এই একক কাঠামো ভেঙে যায়। তখন থেকেই “ম্যাজিস্ট্রেট” দুই ভাগে বিভক্ত হয়—Judicial Magistrate ও Executive Magistrate। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর 6(2) ধারা অনুযায়ী—“There shall be two classes of Magistrate, namely: -(a) Judicial Magistrate; and (b) Executive Magistrate”
এখানে স্পষ্টভাবে দুই শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নয় এর সপক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা, উপধারাগুলো কোট করার সময় বিজ্ঞ আইনজীবী ও জনৈক আইন কর্মকর্তা কিছুটা চালাকির আশ্রয় নিয়েছেন। কী চালাকি করেছেন তা দেখা যাক।
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১০(১), ১০(৪) ও ১০(৫) মিলিয়ে পড়লেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

বুঝার সুবিধার্তে আইনের অরিজিনাল টেক্সট ব্যবহার করা হলো-
10.(1) In every district and in every Metropolitan Area, the Government shall appoint as many persons as it thinks fit to be Executive Magistrates and shall appoint one of them to be the District Magistrate
সিআরপিসির এই উপধারাটি সেল্ফ এক্সপ্লেনেটরি। অর্থাৎ এখানে সরকার যেকোন জেলায় ও মেট্রোপলিটন এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং তন্মধ্যে একজনকে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিবে সে বিষয়টিই বলা আছে।

10(5) - The Government may, if it thinks expedient or necessary, appoint any persons employed in the Bangladesh Civil Service (Administration) to be an Executive Magistrate and confer the powers of an Executive Magistrate on any such member.
এই উপধারাটি “enabling provision”—অর্থাৎ বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেয়। অনেকে মনে করে থাকেন সরকার প্রশাসন ক্যাডার থেকে জেলায় যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে থাকেন তার সোর্স এই উপধারাটি। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল৷ এখানে বলা হয়েছে।
"The Government may, if it thinks expedient or necessary" অর্থাৎ সরকার যদি জরুরি ও প্রয়োজনীয় মনে করে, তার মানে হলো সরকার জরুরি ও প্রয়োজনীয় মনে না করলে প্রশাসন ক্যাডার থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিবে না। এখানেই উকিল সাহেব ও জনৈক আইন কর্মকর্তা চালাকিটা করেছে।

সরকার এই উপধারা অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে থাকেন বিশেষ পরিস্থিতিতে। যেমন- ধরুন নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী কয়েকশো অতিরিক্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হয়৷ সরকার তখন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের সিনিয়র সহকারী সচিব ও উপসচিবদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ক্ষমতা অর্পণ করে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব দিয়ে পাঠায়।

10(6) Subject to the definition of the local areas under sub-section (4) all persons appointed as Assistant Commissioners, Additional Deputy Commissioners or Upazila Nirbahi Officer in any District or Upazila shall be Executive Magistrates and may exercise the power of Executive Magistrate within their existing respective local areas.

সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার( ভূমি), ইউএনও এবং এডিসি Shall be Executive Magistrate. এই উপধারার ক্ষমতা অনুযায়ীই প্রত্যেক সহকারী কমিশনার বাই ডিফল্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি প্রত্যেক সহকারী কমিশনারের Inherent Power। সরকারকে আলাদা করে ক্ষমতা দেওয়ার দরকারই নেই।
এই উপধারা অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা তাদের লেখার কোথাও নেই। এটাই অতিরিক্ত চতুরতা! এখানে "Shall be" ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে “shall be” একটি বাধ্যতামূলক (mandatory) নির্দেশনা। আইন ব্যাখ্যার স্বীকৃত নীতি অনুযায়ী—
“Shall” ordinarily denotes a mandatory obligation unless context suggests otherwise.

অর্থাৎ, সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ পদাধিকারবলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট—এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়।
যদিও সরকার আলাদা করে পদায়নের প্রজ্ঞাপনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ক্ষমতা অর্পণ করে যেটি নিষ্প্রয়োজন।

এই বিতর্ক বোঝার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতি প্রযোজ্য— Literal Rule (শব্দগত ব্যাখ্যা) আইনের ভাষা স্পষ্ট হলে সেটিকে সরাসরি অর্থে গ্রহণ করতে হয় এবং Expressio Unius Est Exclusio Alterius অর্থাৎ যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাইরে অন্য কিছু ধরে নেওয়া যাবে না। আইন সরাসরি AC, ADC, UNO-কে Executive Magistrate বলেছে।

যেভাবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন, একইভাবে জুডিশিয়াল সার্ভিস এর কর্মকর্তা তথা সিভিল জজদের ধারা- ১১ অনুযায়ী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

শুধু তাই নয়, সরকার চাইলে ১১(৪) উপধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেকোন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন।
উপধারা - ১৯০(৪) অনুযায়ী সরকার চাইলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের কগনিজেন্স তথা মামলা আমলে নেওয়ার ক্ষমতাও অর্পণ করতে পারে।

সিভিল জজদের আলাদা করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর ক্ষমতা অর্পণ করা লাগলেও সহকারী কমিশনারগণ যেদিন জেলায় যোগদান করবেন সেদিন থেকেই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

সিভিল জজদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদ এর ব্যবহার নিয়ে উকিল ও কলাম লেখকদের আপত্তি না থাকলেও প্রশাসন ক্যাডারদের প্রতি কেন যেন অতিরিক্ত গাত্রদাহ! অথচ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উভয়ই একই প্রক্রিয়ায় আইনসিদ্ধ। তাদের কাজের নেচার শুধু আলাদা। ব্রিটিশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সিস্টেমের লিগ্যাসি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তান বহন করে চলেছে। বাংলাদেশে সেপারেশন অফ পাওয়ার ২০০৭ সালে হলেও ভারতে হয়েছে গত শতকের ৫০ এর দশকে ও পাকিস্তানে ৯০ এর দশকে।

ভারতের Crpc, 1973 এর ২০ ধারা এবং বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ এর ১০ ধারা অবিকল একই। এই ধারা অনুযায়ী, সরকার IAS ক্যাডারদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এমনকী, স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রভিশনও সেম।
ভারতের CrPc,1973 এর 20,22,23 ধারাগুলো এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সংক্রান্ত৷ অর্থাৎ ভারতেও এডমিন ক্যাডারের অফিসারগণ নিজেদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে থাকেন।

সেখানে সেপারেশন অফ পাওয়ার নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তাদের জেলা প্রশাসককে যথাক্রমে বাংলায় (জেলা শাসক) ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বলা হয়। সেখানে সুশীলদের অযাচিত আস্ফালন নেই! যতটা বাংলাদেশে আছে সুশীল নামধারীদের অযাচিত আস্ফালন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬(২), ১০, ১২(১), ১৭, ৪২,৬৪, ৬৫, ৯৮,১০০,১০৩,১০৭,১০৬,১০৭,১০৮,১০৯,১১০,১১১,১১১,১১২,১১৩,১১৪,১১৫,১১৬,১১৭,১১৮,১১৯,১২০,১২১,১২২,১২৩,১২৪,১২৫,১২৬,১২৭,১২৯,১৩০,১৩২,১৩৩,১৪৪,১৪৫,১৪৬,১৪৭,১৪৮,১৭৪, ১৯০(৪), ১৯৬ (বি) সহ আরো অসংখ্য ধারা সরাসরি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সংক্রান্ত। এছাড়া আরো অসংখ্য আইনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে বলা রয়েছে। অথচ, জনৈক কলাম লেখকের কথায় যেন মনে হচ্ছে- এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নামে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনাররা জোর করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হতে চাচ্ছেন!!!

সিভিলভিল জজ থেকে নিয়োজিত হয়ে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ যেভাবে নিজেদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিতে পারেন, সহকারী কমিশনার গণও একইভাবে নিজেদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিতে পারেন।
Masud Rayhan

06/07/2026

'সহকারী কমিশনার’ হয়ে ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ পরিচয় দেওয়া কতটা যৌক্তিক?

17/06/2026
স্নাতকোত্তর ও স্নাতক পর্যায়ে দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ সবার উপরে। এটাকে কি ভালো অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিশ্বমানের কো...
31/05/2026

স্নাতকোত্তর ও স্নাতক পর্যায়ে দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ সবার উপরে। এটাকে কি ভালো অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিশ্বমানের কোনো কোনো গবেষণা বলছে এই উচ্চ শিক্ষা উন্নত দেশগুলোর ইন্টারমিডিয়েট মানের চেয়েও অনুন্নত। যুক্তিসহ নিজের মতামত দিতে পারেন।

একটি মত সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর। অন্য মতটি একজন সিনিয়র ঢাবি শিক্ষকের।আপনি কী মনে করেন?
29/05/2026

একটি মত সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর। অন্য মতটি একজন সিনিয়র ঢাবি শিক্ষকের।
আপনি কী মনে করেন?

কাজী নজরুল ইসলামের কোন সৃষ্টির প্রভাব আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি? ১. বিদ্রোহী২. ও-মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ...
25/05/2026

কাজী নজরুল ইসলামের কোন সৃষ্টির প্রভাব আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি?
১. বিদ্রোহী
২. ও-মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, ৩. আমি হব সকালবেলার পাখি
৪, চল্ চল্ চল্
৫. মোর প্রিয়া হবে এসো রানী
৬. এর বাইরে আপনি যা বলতে চান-

আস্থা পুনরুদ্ধারের পরীক্ষায় পিএসসি10/05/2026 গোলাম রব্বানী, ঢাকামাত্র ৯ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফলাফল প্রকাশ করে ...
10/05/2026

আস্থা পুনরুদ্ধারের পরীক্ষায় পিএসসি
10/05/2026


গোলাম রব্বানী, ঢাকা

মাত্র ৯ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফলাফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সর্বশেষ ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফলও প্রকাশিত হয়েছে ১১ দিনের মাথায়। বিসিএসের ইতিহাসে আগে কখনো এত দ্রুত ফল প্রকাশ হয়নি। এর পাশাপাশি বিসিএসের আবেদন ফি কমে হয়েছে ২০০ টাকা। মৌখিক পরীক্ষার নম্বরও কমে হয়েছে ১০০। পিএসপির এই সিদ্ধান্তগুলো প্রশংসিত হচ্ছে সব মহলেই। তবে প্রশাসনিক গতিশীলতার মধ্যেও রয়ে গেছে স্থায়ী সংস্কার ও নন-ক্যাডার নিয়োগের মতো কিছু অমীমাংসিত জটিলতা। সম্প্রতি রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গত ১৮ মাসের সংস্কারের চিত্র তুলে ধরে পিএসসি। জন–আস্থা ফেরাতে কমিশনের বর্তমান উদ্যোগ ও আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

‘ওয়ান ইয়ার বিসিএস’ স্বপ্ন

বিগত কয়েকটি বিসিএসের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পিএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশে নিজেদের রেকর্ড ধারাবাহিকভাবে ভাঙছে। ২০১৯ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করতে সময় লেগেছিল ৮৪ দিন (২৫ জুলাই ২০১৯)। একইভাবে ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশিত হয় ১০২ দিন পর (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। বর্তমান কমিশন ফলাফল প্রকাশে অতীতের সেই দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে গতির সঞ্চার করেছে। সোহরাব (মো. সোহরাব হোসাইন) কমিশনের ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল দিতে ২৭ দিন সময় লেগেছিল, ৪৭তম বিসিএসে মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন ফল প্রকাশ করে মাত্র ৯ দিনে। সেই ধারাবাহিকতায় ৫০তম বিসিএসে ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন প্রার্থীর প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশিত হয় ১১তম দিনে। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে কমিশনের ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ রোডম্যাপ। এর লক্ষ্য একটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটি এক বছরের মধ্যে শেষ করা।

পিএসসি সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু কম সময়ে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে, বিষয়টি এভাবে বললে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বর্তমান কমিশন লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। আগে লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে যেখানে এক বছরের বেশি সময় লাগত, এখন “সার্কুলার ইভাল্যুশন সিস্টেম” চালু করার ফলে তা মাত্র তিন মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। উত্তরপত্রের মার্কিং বৈষম্য দূর করার জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি প্রশ্নের মানসম্মত উত্তর কী হতে পারে, বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে তার একটি সার্বিক মান নির্ধারণ করেন। সেই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। এটি পিএসসির ইতিহাসে ইতিপূর্বে ঘটেনি। আমরা মনে করি, এর ফলে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে মার্কিং বৈষম্যের অবসান হয়েছে এবং মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে।’

গত এক বছরে ৪৪তম থেকে ৪৯তম বিসিএস পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৭২৮ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান কমিশন।

আবেদন ফি ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর হ্রাস

নতুন কমিশনের আরেকটি বড় সংস্কার হলো বিসিএস আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় নামিয়ে আনা। এটি সাধারণ ও অসচ্ছল চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০-তে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তটিও প্রশংসিত হয়েছে। পিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এতে প্রার্থীর ওপর মানসিক চাপ কমবে এবং মূল্যায়নে লিখিত পরীক্ষার ফলই বেশি গুরুত্ব পাবে। ভাইভা বোর্ডে বৈষম্যের সুযোগও কমে আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর পাশাপাশি কম্পিটেন্সি বেজড ইন্টারভিউ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, এর ফলে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি রয়েছে, এ রকম প্রার্থীরাই সামনের দিনে সিভিল প্রশাসনে যুক্ত হবে।

অটোমেশন ও সিলেবাস পরিবর্তনের উদ্যোগ

বিসিএস নিয়োগের প্রতিটি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধে পিএসসি এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় তৈরি হচ্ছে একটি সমন্বিত সফটওয়্যার। এই সংস্কারের বিশেষ দিক হলো চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ‘ইউনিক আইডি’ (Unique ID) বা একক পরিচয়ের ব্যবস্থা। এটি চালু হলে একজন প্রার্থীকে প্রতিবার আবেদনের সময় নতুন করে সব তথ্য দিতে হবে না।

এ ছাড়া প্রশ্নপত্রে গোপন বারকোড এবং মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডের জন্য লটারি পদ্ধতি চালুর ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কয়েক গুণ বেড়েছে বলে পিএসসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য। একই সঙ্গে দেশের চাকরির চাহিদা, প্রশাসনিক পরিবেশ ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সিলেবাসের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন থাকায় পুরোনো সিলেবাস হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে পিএসসি। পিএসসি ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে সিলেবাস হালনাগাদ প্রক্রিয়ার ৫০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

নন-ক্যাডার নিয়োগের অমীমাংসিত জটিলতা

পিএসসির কাজে গতি এলেও নন-ক্যাডার নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা এবং জটিলতা এখনো কাটেনি। ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েও প্রত্যাশিত নিয়োগ না পেয়ে চাকরিপ্রার্থীরা এখনো আন্দোলনে রয়েছেন। ৪৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘কমিশন দ্রুত ফল দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের নন-ক্যাডার নিয়োগের বেলায় কেন এত ধীরগতি? সরকারি দপ্তরগুলোতে ৪ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য থাকলেও আমরা কেন পথে পথে ঘুরছি?’ এ প্রসঙ্গে গত ১৩ এপ্রিলের আলোচনা সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সরকারি চাকরির শূন্য পদ পূরণে সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং নন-ক্যাডার থেকে সর্বোচ্চ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতার অভাব

সংবিধান অনুযায়ী পিএসসি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে এর স্বাধীনতা অত্যন্ত সীমিত, এমন মন্তব্য করেছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পিএসসি ২০১১ সালের পর থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি দপ্তরের মতো কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের মতো বিধি প্রণয়নের স্বাধীনতা পিএসসির নেই।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি পিএসসিকে পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তবে ‘ওয়ান বিসিএস ওয়ান ইয়ার’ রোডম্যাপের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে। এর জবাবে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার পিএসসিকে কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না এবং বাজেটের অর্থ একবারে ছাড় করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় আছে। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিশন নতুন নতুন যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রয়োজন। অর্থাৎ নতুন উদ্যোগের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা না গেলে এসব উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে অব্যাহত রাখা হয়তো সম্ভব হবে না।

পুলিশ ভেরিফিকেশন–জটিলতা

বিসিএস নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ পড়ার বিষয়টি এখনো একটি বড় ক্ষত। ৪৪তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েও রাজশাহীর পুঠিয়ার এক প্রার্থীর নিয়োগ না হওয়ার ঘটনাটি উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে পিএসসি আয়োজিত আলোচনা সভায় জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সচেষ্ট থাকবে।

পিএসসির সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পিএসসিকে নামমাত্র নয়, বরং পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে ‘সাইকোমেট্রিক টেস্ট’ ও ‘ডিওবি টেস্টিং’-এর মতো আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সামগ্রিকভাবে পিএসসি গত ১৮ মাসে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে যে গতির সঞ্চার করেছে, তা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদি ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় এবং মেধার পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত হয়, তবেই পিএসসির প্রতি জন–আস্থা ফিরবে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি।
08/05/2026

শ্রদ্ধাঞ্জলি।

এই পাঁচটি নতুন উপজেলা_সহ মোট উপজেলা কয়টি দাঁড়াবে?
07/05/2026

এই পাঁচটি নতুন উপজেলা_সহ মোট উপজেলা কয়টি দাঁড়াবে?

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অসাধারণ সাফল্য—GRE-তে ৩৩৮/৩৪০বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ...
03/05/2026

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অসাধারণ সাফল্য—GRE-তে ৩৩৮/৩৪০

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ ওবায়দুল্লাহ GRE পরীক্ষায় ৩৪০-এর মধ্যে ৩৩৮ স্কোর অর্জন করেছেন, যা দেশের অন্যতম সেরা ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তার অর্জিত স্কোর—
🔹 Verbal: 168 (99th percentile)
🔹 Quant: 170 (Perfect Score)
🔹 AWA: 5.0 (93rd percentile)

এই ফলাফলের মাধ্যমে তিনি নিজের দক্ষতা ও মেধার প্রমাণ দিয়েছেন এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও গৌরব বয়ে এনেছেন।

শিক্ষাজীবনে এমন সাফল্যকে অনেকেই কঠোর পরিশ্রম, পরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং একাগ্রতার ফল হিসেবে দেখছেন।

Courtesy

Linkers in Barishal

©

Address

Aysha Shopping Complex, 85, New Circular Road, Mouchak
Dhaka
1217

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when March Forward: Free Coaching for BCS and Others posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to March Forward: Free Coaching for BCS and Others:

Shortcuts

Share