20/01/2026
ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা:) এর লাশ পড়েছিল তিনদিন। এসময় তাঁর জানাযায় অংশ নিয়েছিলো ১২ জন পারিবারিক সদস্য ও বন্ধূ। তাঁকে কোনো খাটিয়া দেয়া হয়নি, গোসল দেয়া হয়নি। কাফনের কাপড়ও পরানো হয়নি। যে কাপড়ে তিনি মারা যান, সে কাপড়েই তাঁকে কবরে নিয়ে যাওয়া হয়।তাঁকে দাফন করা হয়েছিল ইহুদী কবরস্থানে। ওই জানাজা পড়িয়েছিলেন হজরত জাবির (রা:)। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া লাশ কবরে নামানো হলো। দাফনের পর আয়শা (রা:) কিছু বলতে চাইলেন, কিন্তু নীরবতা বজায়ে রাখবার জন্য তাঁদের চুপ থাকতে হলো। নীরবেই চলে গেলেন উসমান (রা:)।
মুসলমানদের প্রিয় নবী, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাযা এককভাবে হয়েছিল। দীর্ঘ আটদিন পর দাফনের ব্যবস্থা হয়েছিল। জায়গার সংকীর্ণতার কারণে জামা‘আত করা সম্ভব হয়নি (আহমাদ হা/২০৭৮৫; মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১৪২৭৩)। ঘরের মধ্যে খননকৃত কবরের পাশেই তাঁর লাশ রাখা হয়। অতঃপর আবুবকর (রা:)-এর নির্দেশক্রমে দশ দশজন করে ভিতরে গিয়ে জানাযা পড়েন। জানাযায় নির্দিষ্ট কোন ইমাম ছিল না। তারা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে জানাযা পড়ে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে রাসূল (স:)-এর পরিবার-পরিজন, অতঃপর মুহাজিরগণ, অতঃপর আনসারগণ জানাযার ছালাত আদায় করেন। এভাবে পুরুষ, মহিলা ও বালকগণ পরপর জানাযা পড়েন।
ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার জানাযা উড়াইয়া খেলাফতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছিল। আব্বাসীয় জামানায় ঐ কবর গুলো খুঁড়ে লাশগুলো বের করা হয়েছিল।
হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও মুসলমানদের আদর্শিক নেতা।
হজরত ওসমান (রা:) কোরআনের সংস্কারক ও প্রভাবশালী খলিফা ও মুসলমানদের কাছে কর্মগুনে অতি সম্মানিত।
ইয়াজিদ মুসলিম ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে সময়ের সাথে সাথে, সত্য প্রকাশ্যে এলে।
ভেড়ার অধিক সংখ্যাকে পাল বলে, বাঘের কি পাল হয়? নিম্নজাত, সহজলভ্যতার সঙ্কট হয়না, সভ্যতার সংকট হয় যোগ্যতম ব্যক্তিত্বের অভাবে। জানাযার সংখ্যা দিয়ে পাপ, মুর্খতা, অশ্লীল নিম্ন জাতক জাতে ওঠে না।
✅✅✅ইসলামের তৃতীয় খলিফা,
হজরত উসমান (রাঃ)—
তিনি শহীদ হন মদিনায়।
তাঁর জানাজা পড়ানো হয় হাশশে কাওকাব নামক স্থানে।
তা-ও গভীর রাতে, অত্যন্ত গোপনে।
কারণ কী ছিল?
বিদ্রোহীদের ভয়।
আর আশঙ্কা—অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এই কারণেই মাত্র অল্প কয়েকজন সাহাবি তাঁর জানাজায় উপস্থিত থাকতে পেরেছিলেন।
ইসলামের চতুর্থ খলিফা,
হজরত আলী (রাঃ)—
তিনি শহীদ হন কুফায় (বর্তমান ইরাক)।
তাঁর জানাজাও পড়ানো হয় কুফার বাইরে, এক গোপন স্থানে।
কারণ তখনও একই—
খারেজিদের ভয়।
আশঙ্কা ছিল, তারা কবর পর্যন্ত আক্রমণ করতে পারে;
যেমনটা আজকের কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী করে থাকে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—
এতে কি তাঁদের সুমহান মর্যাদা এক বিন্দুও কমে গেছে?
খারেজিদের ভয়ে তখন অনেকেই জানাজায় উপস্থিত হতে পারেননি—
এটা বাস্তবতা, অবমাননা নয়।
অন্যদিকে,
রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ইয়াজিদের জানাজার আয়োজন করা হয় ..... মানুষও হয় হাজার হাজার |
তাহলে কি শুধু জানাজায় মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায়
ইয়াজিদ মহান বা সম্মানিত হয়ে গিয়েছিল ??
ইতিহাস কখনোই জানাজার ভিড় দিয়ে বিচার হয় না—
বিচার হয় চরিত্র, ন্যায় ও কর্ম দিয়ে।
যারা জানাজা নিয়ে এ ধরনের তুলনা করেন,
তারা যেন মনে রাখেন—
এই যুক্তিই একসময় ইয়াজিদের অনুসারীরাও ব্যবহার করত।
©©
"সংগৃহীত"