A Bit of Smile Foundation

A Bit of Smile Foundation দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের মুখে হাসি ফোটাই এবং সেই নির্মল হাসির জাদুস্পর্শে আমাদের হৃদয় আলোকিত করি।

13/01/2026

একদা হযরত ঈসা (আঃ) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবরের মাটি ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল। (উল্লেখ্য, হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্যতম প্রধান মুজেযা (অলৌকিক ক্ষমতা) ছিল, তিনি মহান আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারতেন। )

হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "দুনিয়াতে তোমার কাজ কী ছিল?"

লোকটি উত্তর দিল, "হে আল্লাহর নবী! আমি একজন কুলি ছিলাম। মানুষের বোঝা মাথায় বহন করতাম এবং তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতাম। আমার জীবনটি খুব সাধারণ ছিল।"

হযরত ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কবরের অবস্থা কী? তোমার হিসাব-নিকাশ কেমন চলছে?"

লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"একবার আমি এক ব্যক্তির এক বোঝা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) মাথায় করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার দাঁতের ফাঁকে কিছু একটা আটকে গিয়েছিল। আমি মালিকের অজান্তেই সেই লাকড়ির বোঝা থেকে একটি ছোট্ট কাঠি (খিলাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য) ভেঙে নিলাম এবং তা দিয়ে দাঁত খিলাল করলাম।

এরপর যখন আমার মৃত্যু হলো, আল্লাহ তা’আলা আমাকে বললেন, 'হে আমার বান্দা! তুমি কি জানতে না যে আমি তোমাকে আজ এই হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? অমুক ব্যক্তি তার টাকা দিয়ে কাঠ কিনেছিল এবং তোমাকে মজুরি দিয়েছিল তা বয়ে নেওয়ার জন্য। তুমি সেই মালিকের অনুমতি ছাড়া কেন একটি কাঠি ভেঙে নিলে?'

হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কসম, আমি আজ ৪০ বছর ধরে এই একটিমাত্র খড়কুটোর হিসাব দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আজও মুক্তি পাইনি! দয়া করে আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন।"

আমরা অনেক সময় অন্যের অতি ক্ষুদ্র জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করি। আমরা একে খুব তুচ্ছ মনে করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আল্লাহর কাছে ‘আমানত’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অন্যের হক যদি একটি খড়কুটোর সমপরিমাণও হয়, তবুও পরকালে তার কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে।

সূত্র: আয যাহরুল ফাইহ (ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)

24/12/2025

রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ!

১. সুদ (Riba):
যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে কখনো বারকাহ আসতে পারে না।
📖 রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা ২৭৯ — “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা।”

২. অকৃতজ্ঞতা:
যে রিযিককে তুমি তুচ্ছ করো, সেটাই ধীরে ধীরে তোমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
📖 রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম ৭ — “কৃতজ্ঞ হলে বাড়িয়ে দেব, অকৃতজ্ঞ হলে শাস্তি কঠিন।”

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা:
রিযিকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। সম্পর্ক কেটে দিলে রিযিকের দরজা বন্ধ হয়।
📖 হাদিস: “যে রিযিক বাড়াতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”
— বুখারি ২৯৮৬

৪. অসততা:
ব্যবসায় মিথ্যা বললে সাময়িক লাভ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রিযিক নষ্ট হয়।

৫. প্রতারণা:
কারও হক মেরে খেলে প্রতিটি হা/রাম টাকা জীবনে অভাব ডেকে আনে।
📖 হাদিস: “যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের মধ্যে নয়।” — মুসলিম ১০২

৬. সালাত অবহেলা:
আজান–সালাত গুরুত্বহীন মনে করলে রিযিকের বারকাহ কমে যায়।
📖 হাদিস: “রিযিক সালাতে আছে।”
— সহিহ অর্থে বহু বর্ণনায় প্রমাণিত

৭. গীবত:
অন্যের পিঠ পেছনে খারাপ বলা তোমার নিজ জীবনের বারকাহ খেয়ে ফেলে।
📖 সূরা হুজুরাত ১২

৮. অহংকার:
রিযিক উপহার, প্রমাণ নয় যে তুমি শ্রেষ্ঠ।
অহংকার আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়।
📖 হাদিস: “যার অন্তরে অহংকারের অণু পরিমাণ থাকে, সে জান্নাতে যাবে না।”
— মুসলিম ৯১

৯. যাকাত আটকে রাখা:
যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায় এবং ধ্বং/স হতে থাকে।
📖 সূরা তাওবা ৩৪-৩৫

১০. কর্মচারীদের ওপর জুলুম:
যাদের তোমার ওপর কিছুটা অধিকার আছে, তাদের হক না দিলে রিযিক শুকিয়ে যায়।
📖 হাদিস: “মজদুরের মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ করো।”
— ইবন মাজাহ ২৪৪৩

১১. বেচাকেনায় প্রতারণা বা জিনিসের দোষ লুকানো:
এতে সম্পদের বারকাহ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়।

১২. লোভ:
যে শুধু আরও আরও চায় কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ বলে না—সে শেষ পর্যন্ত কম পায়।
📖 হাদিস: “মানুষের মন যদি দুই পাহাড় ভরা সম্পদ পায়, তবুও সে তৃতীয়টি চাইবে।”
— বুখারি ৬৪৩৯

১৩. বাবা–মাকে অবহেলা:
তোমার রিযিক তাদের দোয়া বা অভিশাপের সাথে জড়িত।
📖 হাদিস: “রিযিক ও আয়ু বাড়ে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখলে।”
— মুসলিম (হাসান সনদে বহু রেওয়ায়েতে প্রমাণিত)

১৪. জুলুম করে সম্পদ অর্জন:
জুলুমের সম্পদে কোনো বারকাহ নেই, বরং ধ্বং/স ডেকে আনে।

১৫. সদকা অবহেলা:
সদকা কখনো সম্পদ কমায় না, বরং বাড়ায়।
📖 হাদিস: “সদকা সম্পদ কমায় না।”
— মুসলিম ২৫৮৮

১৬. হিংসা:
অন্যের রিযিক দেখে মন খারাপ করা নিজের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

১৭. নারীদের ও বাচ্চাদের প্রতি জুলুম:
যাদের যত্নের অধিকার সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রতি অন্যায় করলে রিযিক উঠে যায়।

১৮. মিথ্যা কসম খাওয়া:
টাকা বা ব্যবসার জন্য মিথ্যা শপথ বারকাহ পুড়িয়ে ফেলে।
📖 বুখারি ২০৮৭

১৯. অলসতা:
রিযিক চেষ্টা করা মানুষের কাছে আসে।
যারা চেষ্টা করে না, ভাগ্যও দরজা খোলে না।

২০. তাকদির নিয়ে অসন্তুষ্টি:
আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করা ভবিষ্যতের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

📖 হাদিস: “আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকলে সে হৃদয়কে পরিপূর্ণ করেন।”
— তিরমিজি ২৫১০

23/12/2025

আদালতে ২ ভাইর মা-ম-লা ,ধন-সম্পত্তির জন্য নয়। বিস্তারিত পড়ুন অবাক হবেন।
মানুষ সাধারণত ভাবেই যে ভাই-বোন আদালতে গেলে নিশ্চয়ই সেটা উত্তরাধিকার কিংবা জমি-জমার ঝগড়া, কিন্তু সৌদি আরবের এই বাস্তব ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে...

একজন বৃদ্ধ মানুষ, হিজাম আল-গামদি, নিজের ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়াতে বাধ্য হন...
কিন্তু তাদের বিবাদ অর্থ নিয়ে নয় বরং দু’জনই মায়ের খোঁজ–খবর রাখা ও তাঁর সেবা করার দায়িত্ব নিতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন...

❤️ হিজাম দৃঢ়ভাবে দাবি করলেন যে তিনি সবসময় মায়ের যত্ন নিয়েছেন এবং মাকে ছাড়া তিনি নিজের জীবন কল্পনাও করতে পারেন না, কিন্তু তাঁর ছোট ভাই বললেন "হিজাম নিজেও তো এখন বয়স্ক" তাকে বিশ্রাম নেওয়া উচিত, তাই মায়ের দায়িত্ব তিনিই নিতে চান...
👉 আদালতের পরিবেশ মুহূর্তেই আবেগে ভরে ওঠে, দুই ভাই আদালতে দাঁড়িয়ে কাঁপা কণ্ঠে নিজেদের মাকে দেখভাল করার সম্মান পাওয়ার জন্য আকুতি জানাতে থাকেন...

👉 বিচারক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ে গেলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি মাকে আদালতে আনতে বললেন এবং নিজেই জানতে চাইলেন, তিনি কার সঙ্গে থাকতে চান..?
👉 মায়ের উত্তর শুনে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন...
❤️ তিনি বললেন, “আমি কাউকে বেছে নিতে পারবো না, আমার দুই ছেলে আমার বাম আর ডান চোখের মতো"

👉 মা যেহেতু কাউকে বেছে নিতে পারলেন না, তাই বিচারক আতংকিত হয়ে পরেন ভয়ে যে তার ফয়সালা ভুল হলে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিবেন...
👉 পরবর্তীতে যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হলেন...

👉 শেষ পর্যন্ত আদালত ছোট ভাইয়ের পক্ষেই রায় দিলো....
❤️ কারণ সে তুলনামূলকভাবে কম বয়সী এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী...

❤️ রায় ঘোষণার মুহূর্তে আদালতে নেমে এলো গভীর বিষাদের নীরবতা, হিজাম আর সামলে রাখতে পারলেন না নিজেকে, তিনি ভেঙে পড়ে কাঁদতে লাগলেন...
❤️ তিনি ভয় বা রাগে কাঁদছিলেন না...
❤️ তিনি কাঁদছিলেন এই ভাবনায় যে, তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সুযোগটি “হারিয়ে ফেললেন”...
❤️ মায়ের শেষ সময়গুলোতে তাঁকে সেবা করার সুযোগ...
❤️ বেহেশতের সেবার সুযোগ...

👉 আর আমরা বৃদ্ধ মা-বাবাকে যত দূরে রাখতে পারি তার চেষ্টা করি নিরন্তর...
👉 আল্লাহর কাছে আমরা কি জবাব দিবো...???????????

20/12/2025

জুলুম চিরকাল থাকে‌ না। তবে জালিমের প্রতি মানুষের ঘৃণা ও অভিশাপ চিরকাল থেকে যায়।
‘অচিরেই জালিমরা জানতে পারবে, তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল কোথায় হবে।’
(সুরা আশ শু‘আরা : ২২৭)

08/12/2025

কি অদ্ভুত এক বিরোধ!

লোকেরা সাধারণত মনে করে, যখন ভাইবোনেরা আদালতে যায়, তা অবশ্যই সম্পত্তি বা জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই। কিন্তু সৌদি আরবের এই সত্য ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এবং হৃদয়কে আবেগাপ্লুত করে দেয়।

হিজাম আল-ঘামদি নামে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে তার নিজের ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়াতে হয়েছিল। তারা কিন্তু টাকার জন্য লড়ছিলেন না; বরং, প্রত্যেকেই তাদের দুর্বল, বৃদ্ধ মায়ের সেবা শুশ্রুষার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছিলেন।

হিজাম দৃঢ়ভাবে যুক্তি দিলেন যে, তিনি তার মায়ের দেখভাল চালিয়ে যেতে চান যেমনটি তিনি সবসময় করে এসেছেন, এবং বললেন যে তাঁর মা হচ্ছেন তাঁরই জীবন। কিন্তু তার ছোট ভাই একমত হননি, তাঁর ধারণা ছিল যে হিজাম নিজেই ইতোমধ্যে বৃদ্ধ এবং তাঁর পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন।

উভয় ভাই যখন বিচারকের সামনে তাদের মায়ের সেবা করার সম্মান পাওয়ার জন্য আবেদন করলেন, আদালতের পরিবেশ আবেগময় হয়ে উঠল।

কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে বিচারক তাদের মায়েকে আদালতে নিয়ে এসে তাকে পছন্দ করতে বললেন। কিন্তু তাঁর উত্তর সবাইকে আবেগাপ্লুত করল — তিনি বললেন যে তিনি পছন্দ করতে পারবেন না, কারণ তাঁর উভয় সন্তানই তাঁর বাম ও ডান চোখের মতো।

যেহেতু মা সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না, তাই বিচারককে যুক্তির ভিত্তিতে রায় দিতে হয়েছিল।

আদালত শেষ পর্যন্ত ছোট ভাইকে দায়িত্ব দিলেন, তার কম বয়স এবং অধিক শক্তির কারণে।

যখন সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হলো, হিজাম কান্নায় ভেঙে পড়ায় পরিবেশ শোকগ্রস্ত হয়ে উঠল।

তিনি ভয় বা রাগে কাঁদছিলেন না, বরং কাঁদছিলেন এই জন্য যে তিনি তার মায়ের বাকি দিনগুলিতে তাঁর সেবা চালিয়ে যাওয়ার মূল্যবান সুযোগ "হারিয়ে" ফেলেছেন।

(মা অতি বৃদ্ধ হওয়ার তাকে নিয়ে এ বাসা ও বাসায় টানাটানি করতে গেলে উনি কষ্ট পাবেন। এজন্য সময়টা ভাগ করে দেওয়া হয়নি।)

08/12/2025

"
শয়তান ০৩ টি দরজা দিয়ে আক্রমণ করেঃ

( ০১ ) প্রয়োজনের বেশিঃ

মানুষ যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশির পিছু ছুটে, তখন শয়তান এটাকে ব্যক্তির অন্তরে ঢোকার দরজা হিসেবে গ্রহণ করে। এটা থেকে বাঁচার উপায় হলো- মনমতো খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, বিলাস আর আরাম-আয়েশ জাতীয় যা কিছু চায়, সব পূরণ করা যাবে না। যখন আপনি এই দরজা বন্ধ করে দিবেন, তখন শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবেন।

( ০২ ) গাফলতিঃ

যে আল্লাহকে স্মরণ করে, সে একটি মজবুত দুর্গের ভিতর চলে যায়। কিন্তু এরপর সে যদি গাফেল হয়ে পড়ে, তাহলে দুর্গের দরজা খুলে যায় এবং শত্রুরা ঢুকে পড়ে। তখন ব্যক্তিকে বাঁচানো কঠিন।

( ০৩ ) অহেতুক বিষয়ঃ

যে জিনিসের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই কিংবা যে বিষয়ে তার মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই— এমন অহেতুক বিষয়ে যে নিজেকে জড়ায়, শয়তান তাকে পেয়ে বসে।

"

— ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ( রহঃ )

[ সূত্রঃ আল-ফাওয়ায়িদ, ০১ / ২৭৭ ]

07/12/2025

ফজরের নামাজ পড়ার কয়েকটি উপকারের কথা জানা যাক,

১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নফল নামাজ আদায় করল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৩৭৭)

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৫৭৩)

৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ফজরের নামাজ আদায় করল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৩৭৯)

৪. রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘সেই মানুষটি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের আগের এবং সূর্যাস্তের আগের অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করে। (মুসলিম, হাদিস: ১,৩২২)
৫. রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার চেয়ে বেশি ভারি কোনো নামাজ নেই। এ দুই নামাজের ফজিলত যদি তারা জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৫৭)

৬. খলিফা হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)–র বরাতে একটি হাদিসটি জানা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গণিমতের সম্পদ অর্জন করে তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সঙ্গে যায়নি এমন একজন বলল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে ভালো গণিমত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোনো সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখিনি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি দলের কথা বলব না, যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গণিমত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাজের জামাতে হাজির হয়, (নামাজ শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহতায়ালার জিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গণিমতসহ প্রত্যাবর্তনকারী। (সুনানে তিরমিজি: ৩,৬৪১)

৭. সাহাবি আনাস (রা.) বলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের অন্ধকারে মসজিদগুলোতে যাতায়াতকারীদের কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নুরের সুসংবাদ দাও।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৭৮১)

৮. ফজরের সময় ফেরেশতাদের পালাবদল হয়। আর এ সময় বান্দা যা কিছু করে ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে তা পেশ করে। এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরে বলেছেন, ‘ফেরেশতারা পালাবদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের নামাজে উভয় দল একত্র হন। তারপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে? অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। জবাবে তাঁরা বলেন, আমরা তাদের নামাজে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনো তারা নামাজরত ছিলেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৫৫)
৯. জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, একবার আমরা নবী করিম (সা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ওই চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে।

১০. রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পেছনে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাকো। তারপর সে যদি জেগে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঁট খুলে যায়, অজু করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়, তারপর নামাজ পড়লে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উত্ফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। না হলে সে সকালে ওঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য নিয়ে।’ (বুখারি, হাদিস: ১১৪২)

06/12/2025
05/12/2025

হযরত আয়্যূব আ. আর হযরত সুলাইমান আ.—দুইজনের জীবন দু’দিকে দাঁড়িয়ে থাকা দুই রকমের পরীক্ষা।‌ একজন সব হারিয়েও আল্লাহর দিকে ফিরেছিলেন; আরেকজন সব পেয়েও আল্লাহর দিকে ঝুঁকেছিলেন।
আর আশ্চর্যের বিষয়—দু’জনকে নিয়েই আল্লাহ একই শব্দ ব্যবহার করেছেন
نِعْمَ الْعَبْدُ
কত উত্তম বান্দা!
আয়্যূব আ.-এর উপর বিপদগুলো একসময় ঢেউয়ের মতো এসে পড়েছিল। ঘর পুড়ে গেল, খামার নষ্ট হলো, সন্তান হারালেন, স্ত্রী চলে গেলেন, নিজেও অসুস্থ হলেন। একটা মানুষের ওপর যত কষ্ট একসাথে নামতে পারে—সবই তিনি দেখলেন। কিন্তু হৃদয়ের ভরসা হারালেন না। দেহ দুর্বল হলো, কিন্তু আল্লাহর স্মরণ দুর্বল হলো না।
আর তখনই আল্লাহ বললেন
إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا
“আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি।”
نِعْمَ الْعَبْدُ
“সে কত উত্তম বান্দা।”
إِنَّهُ أَوَّابٌ
“নিশ্চয়ই সে ছিল আমার দিকে ফিরে আসা বান্দা।”
অন্যদিকে সুলাইমান আ.—তিনি ছিলেন রাজা, নবী, ক্ষমতা ও প্রাচুর্যের অধিকারী। আল্লাহ তাঁকে এমন নিয়ামত দিলেন যা আর কাউকে দেওয়া হয়নি—বাতাস তাঁর বশে, জিন তাঁর অধীনে, রাজত্ব তাঁর হাতে।
কিন্তু এত ক্ষমতা, সম্পদ, সম্মান—একটুও তাকে আল্লাহ থেকে দূরে টেনে নিতে পারেনি। তিনি প্রতিটি নিয়ামতের পেছনে আল্লাহকে দেখতেন; শোকর করতেন; বিনয় হারাতেন না।
তার বর্ণনায়ও আল্লাহ একই ঘোষণা দিলেন
وَوَهَبْنَا لِدَاوُودَ سُلَيْمَانَ ۚ نِعْمَ الْعَبْدُ ۖ إِنَّهُ أَوَّابٌ
“আমি দাউদকে সুলাইমান দান করেছি। সে কত উত্তম বান্দা!নিশ্চয়ই সে ছিল আল্লাহমুখী, বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।”
একজন সব হারিয়ে উত্তম বান্দা; আরেকজন সব পেয়ে উত্তম বান্দা।
পরীক্ষা আলাদা, পথ আলাদা—কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টিতে দু’জনই সমান সম্মানিত।
বুঝা গেল—আল্লাহ যার দিকে তাকাতে চান,
তাঁকে কখনো কষ্ট দিয়ে কাছে টানেন, কখনো আবার প্রাচুর্য দিয়ে পরীক্ষা করেন।

যে কষ্টে ধৈর্য ধরে, সে আল্লাহর প্রিয়। যে প্রাচুর্যে শোকর করে, সেও আল্লাহর প্রিয়।
#ধৈর্য #সবর

04/12/2025

ভূমিকম্পের সময় এই দোয়াগুলো পড়তে পারেন—

১. اللَّهُمَّ لَا تُؤَاخِذْنَا بِذُنُوبِنَا، وَلَا تُهْلِكْنَا بِغَضَبِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা তুআখিজনা বিজুনুবিনা, ওয়া তুহলিকনা বিগাদাবিকা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহের কারণে আমাদের পাকড়াও করো না এবং তোমার গজবে আমাদের ধ্বংস করো না।’

২. حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।

অর্থ: ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।’

৩. يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، بِرَحْمَتِكَ نَسْتَغِيثُ

উচ্চারণ: ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুমু, বিরাহমাতিকা নাস্তাগীস।

অর্থ: ‘হে চিরঞ্জীব, হে পালনকর্তা! তোমার রহমতই আমাদের সাহায্য।’

৪. أستغفرُ اللهَ العظيم

উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম।’

অর্থ: ‘আমি মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই।’

28/11/2025

উম্মাহাতুল মু'মিনিনদের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন যাইনাব বিনতে জাহাস (রা)। তিনি সবসময় গরিব-দুখীদের যত্ন নিতেন। এমনকি তার উপাধি হয়ে পড়ে "উম্মুল মাসাকিন" বা মিসকিনদের মা। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর স্ত্রীদের বলেছিলেন, "তোমাদের মাঝে যার হাত সবচেয়ে বেশি লম্বা সে-ই সবার আগে মারা যাবে।" উনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। পরে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরে তাঁর স্ত্রীদের মাঝে সবার আগে যাইনাব (রা) মারা যান।

উনি কেমন বিস্ময়কর দানশীল ছিলেন তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। হযরত ওমর (রা) এর শাসনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীরা সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রীয় ভাতা পেতেন। এর পরিমাণ ছিল বছরে ১২ হাজার দিরহাম! সে সময়ে এটি ছিল বিশাল অংকের অর্থ। এমন অর্থ পাওয়া ছিল রীতিমত সৌভাগ্যের ব্যাপার।

তো, যাইনাবকে ১২ হাজার দিরহাম প্রদান করা হয়। তার সামনে এগুলো ঢেলে দেওয়া হয়। স্বর্ণ মুদ্রার বিশাল এক স্তূপ! এটা দেখে তিনি বলতে লাগলেন-- "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। সুবহানাল্লাহিল আজিম। আল্লাহ আমাদের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।" এরপর তিনি সমস্ত অর্থগুলো পাড়া প্রতিবেশী সবার মাঝে বণ্টন করে দিলেন। অমুক বাড়িতে এই পরিমাণ, তমুক বাড়িতে ঐ পরিমাণ...। এভাবে শেষ পর্যন্ত আর একটি মুদ্রাও বাকি থাকলো না। ১২ হাজার মুদ্রার বিশাল এই স্তূপ নিঃশেষ হয়ে গেলো।

ওমর (রা) এটা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তিনি যাইনাবের বাড়িতে এলেন। দরজায় নক করে বললেন, আমি শুনেছি যে আপনি সমস্ত অর্থগুলো দান করে দিয়েছেন। এই যে আমি আপনার জন্য আরও এক হাজার মুদ্রা নিয়ে এসেছি।

বলুন তো, যাইনাব এই নতুন এক হাজার মুদ্রা দিয়ে কী করলেন? তিনি এই এক হাজারও দান করে দিলেন। এরপর তিনি আল্লাহর কাছে দুয়া করেন— "ও আল্লাহ! পরের বছর আমি যেন এই মুদ্রাগুলো আর না দেখি।"

কারণ, টাকা-পয়সা একটি বড় ফিতনা। কল্পনা করুন, কেউ আপনাকে এখন এক কোটি টাকা দিলো। আপনি এই টাকা দিয়ে কী করবেন? আল্লাহর প্রশংসা করুন যে, আল্লাহ আপনাকে এমন বড় পরিমাণের টাকা দিয়ে পরীক্ষা করছেন না।

তো, পরের বছর অর্থ প্রদানের সময় হওয়ার পূর্বেই যাইনাব (রা) মৃত্যুবরণ করেন। ওমর (রা) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান।

যাইনাব তাঁর নামাজ রোজার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। আয়েশা (রা) নিজেই বলেছেন—"আমি যাইনাবের চেয়ে বেশি মুত্তাকী আর কাউকে দেখিনি।"

—ড. ইয়াসির কাদির আলোচনা থেকে

"The takers may eat better but the givers sleep better."
26/09/2025

"The takers may eat better but the givers sleep better."

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when A Bit of Smile Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share