13/06/2026
Gen Z কি সত্যিই মানসিকভাবে বেশি দুর্বল, নাকি তারা শুধু আগের প্রজন্মের চেয়ে নিজের অনুভূতি নিয়ে বেশি সৎ?
অনেক অভিভাবকই প্রশ্ন করেন - 'আমাদের সময় তো এত ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি বা ট্রমা ছিলো না! মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যে কোন বিষয় ছিলো বা তার জন্য কারোর সাথে কথা বলতে হয় এমন তো কিছুই শুনিনি। তাহলে Gen Z-র কী হলো? তাদের কেন এতো সমস্যা? এই মোবাইল ইন্টারনেট এসেই ছেলেমেয়েদের নষ্ট করে দিয়েছে!'
গবেষণা বলছে, বিষয়টি আসলে একটু ভিন্ন।
Gen Z রা মানসিক সমস্যায় আগের প্রজন্মের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি ভুগছে বিষয়টা এমন নয়, বরং তারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে, সাহায্য চাইতে এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করছে বা তাদের অনুভূতি শেয়ার করতে পারছে।
আগের প্রজন্মের অনেক মানুষও উদ্বেগ, বিষন্নতা, ট্রমা বা বার্নআউটের মতো মানসিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছেন। তবে সেই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা প্রায়ই লজ্জা, দুর্বলতা কিংবা “পাগলামি”র সঙ্গে যুক্ত ছিল।তাই অনেকে মানসিক স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে দিয়ে গেলেও শেয়ার করার সুযোগ পাননি বা ভেবেছেন এইটা বড় কোন সমস্যা না এমনি এমনি ঠিক হয়ে যাবে।
এখানেই বড় একটা পার্থক্য রয়েছে।
Gen Z সেই নীরবতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসছে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে।
বর্তমান প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত সীমারেখা (Boundaries), ট্রমা এবং Self-care সম্পর্কে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তথ্য পাচ্ছে, সেবা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম পাচ্ছে।
ফলে তারা নিজেদের অনুভূতি বুঝতে, চিহ্নিত করতে এবং তা নিয়ে কথা বলতে বেশি সক্ষম হচ্ছে। এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া সচেতনতা যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি বিভিন্ন ধরনের চাপও সৃষ্টি করেছে।
যেমন, একে অপরের সাথে তুলনা, FOMO (Fear of Missing Out), অনলাইন সমালোচনা, সাইবার বুলিং এবং অবাস্তব জীবনযাপনের প্রদর্শন অনেক তরুণের মধ্যে উদ্বেগ, চাপ এবং আত্মসম্মানবোধের সমস্যাও বাড়িয়েছে।
এছাড়াও Gen Z বেড়ে উঠেছে বৈশ্বিক মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে। গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা মানুষের মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
কিন্তু সবচেয়ে আশার বিষয় হলো তারা সাহায্য চাওয়াকে দুর্বলতা নয়, সাহস হিসেবে দেখে।একসময় মানুষ কষ্ট লুকিয়ে রাখতে শিখত। বর্তমান প্রজন্ম শিখছে কষ্টকে স্বীকার করতে।
থেরাপি নেওয়া, কাউন্সেলিং করা বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলা তাদের কাছে দুর্বলতার নয় বরং আত্মসচেতনতা, এবং সাহসী পদক্ষেপ মনে হয়।
.............
মুন হীরা
অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট
লেট'স টক
অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 01313-965511