03/12/2024
💠💠 ANIMAL CRUELTY IS CORRELATED WITH OTHER CRIMES.
🔶 ৮বছরের আলিফ তার সমবয়সী রাফির সাথে খেলা করছে। এক পর্যায়ে খেলার কোন এক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়। এতে আলিফ ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ইট নিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তারপর আলিফ সেই ইট দিয়ে মাথায় উপুর্যুপরি আঘাত করলে রাফি মারা যায়। আলিফকে জিজ্ঞেস করা হয় এই কাজ সে কিভাবে করলো ?? সে উত্তরে বললো যে সে কিছুদিন আগে একটি বাচ্চা কুকুরকে এভাবে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে। সেই ঘটনা থেকেই সে এভাবে মারতে শিখেছে।
🔶আকবর সাহেব চাকুরীজীবি, তার স্ত্রী গৃহিণী। তাদের দুজন সন্তান আছে, দুজনই ছেলে ; একজনের বয়স সাত আরেকজনের দুই বছর। একদিন শুক্রবার ওনার সাত বছর বয়সী ছেলে কোথা একটি বাচ্চা বিড়াল নিয়ে আসলো এবং বললো আমি ওকে পালবো। আকবর সাহেব রাজি হলেন। তার ছেলেটি বাচ্চা বিড়াল নিয়ে খেলা শুরু করলো। এক পর্যায়ে একটি রশি দিয়ে গলা বেঁধে জানালা দিয়ে বাইরে ঝুলিয়ে রাখলো। বাচ্চা বিড়ালটি ব্যথায় অনেক জোড়ে চিৎকার করতে লাগলো। আকবর সাহেব ও তার স্ত্রী দেখেও কিছু বললেন না, তাদের আদরের সন্তান খেলা করছে এজন্য। একসময় বাচ্চা বিড়ালটি নিস্তেজ হয়ে গেলো এবং মারা গেলো। আকবর সাহেব ও তার স্ত্রী সন্তানকে কিছুই বললেন না।
রবিবার আকবর সাহেব অফিসে চলে গেলেন।
ওনার স্ত্রী দুপুরে গোসল করার জন্য বাথরুমে গেলেন। গোসল শেষে বের হতেই তার বড় ছেলে দৌড়ে এসে বললো, মা ছোট ভাইকে ঐ বিড়ালের বাচ্চার মত ফাঁসি দিয়েছি। একথা শুনে আকবর সাহেবের স্ত্রী দৌড়ে রুমে গিয়ে দেখেন জানালায় তার ছোট ছেলে গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায় মৃত ঝুলে আছে ।
🔶আসলামের বয়স ১৯, কোন কাজ করে না। খায়দায় আর আড্ডাবাজি করে,মাঝেমধ্যে নেশা করে, নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে। অনেক বলেও বাবা- মা তাকে কোন কাজে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। একদিন তার বাসায় ফেরার পথে তার বাসার গলির এক বাড়িওয়ালা ( নাম রতন মিয়া) তাকে ডেকে বললো, একটা কাজ করে দিবি, পাঁচশ টাকা দিবো। 'কি কাজ?'। ঐ যে কুকুরটারে দেখতাসোস ঐটারে মাইরা ফেলবি।'
'কেন মারুম, অয়তো কাওরে কিছু কয় না। ' 'না বলুক, আমি কুকুর পছন্দ করি না। তুই বলবি যে কুকুর পাগল হইয়া গেসে, ৩/৪ জনরে কামরাইসে রাতে, এরজন্য মাইরা ফেলসি। পাগল কুকুর শুনলে কেও তোরে কিছু কইবো না। ' আসলাম সেই রাতেই কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। কয়েকজন জিজ্ঞেস করলে সে বলে কুকুর হঠাৎ পাগল হইয়া গেসিলো, ৩/৪ জনরে কামড়াইসে, তাই মাইরা ফেলসি। ' কেও কিছু বললো না। সেই টাকা দিয়ে সে নেশা করলো। এর প্রায় মাসখানেক পর আসলাম তার বাসার গলিতে ঢুকতেই দেখতে পেলো অনেক মানুষ, তার মধ্যে দুজন মানুষ অনেক জোড়ে চিৎকার চেচামেচি করছে। ভালো করে খেয়াল করে দেখলো রতন মিয়ার সাথে ঐ গলিরই আর একজন বাড়িওয়ালার তুমুল ঝগড়া, হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গিয়েছে। লোকজন ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। একসময় দুজনকে আলাদা করে যার যার বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হলো। সেদিন সন্ধ্যার পর আসলাম বাসা থেকে বের হবার পর তাকে দেখে রতন মিয়া ডাক দিলো,তার ঘরে নিয়ে গেলো। ঘরে রতন মিয়া ছাড়া কেও ছিলো না তখন। আসলামকে তিনি বললেন, তোরে টাকা দিমু, মারতে পারবি?? আসলাম : কোন কুকুর মারতে হইবো? 'কুকুর না, মানুষ। ঐ লিটইন্নারে (যে বাড়িওয়ালার সাথে তার হাতাহাতি হয়েছে) । পাঁচ হাজার টাকা দিমু। ' ' কি কন, পাঁচ হাজার। পঞ্চাশ হাজার দিবেন, নাইলে কাম করুম না। ' তারপর শুরু হলো দেনদরবার যা বিশ হাজার টাকার চুক্তিতে শেষ হলো। আসলাম তিনদিনের সময় নিলো, তাকে ৫,০০০ টাকা অগ্রীম দিলো রতন মিয়া । সেই টাকা দিয়ে সে নেশা করলো। চুক্তির শেষ দিনে (৩য় দিনে) রাতে লিটন সাহেব তার দোকান থেকে বাসায় ফিরছিলেন। বাসার কাছাকাছি আসতেই পেছন থেকে কেও তার গলায় প্রচন্ড জোড়ে ছুড়ি ঢুকিয়ে দৌড় দিলো। ঘাতকের মুখ রুমাল দিয়ে ঢাকা, রাস্তায় তখন ৪/৫ জন যারা ছিলেন ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই হতভম্ব। লিটন সাহেব মারা গেলেন। আসলাম এলাকা থেকে বের হয়ে রতন মিয়াকে কল করে বললেন, 'কাম শেষ, রাইতে বাকি টাকা দিয়া দিবেন।' সেই রাতেই তার পুরো টাকা পরিশোধ করলেন রতন মিয়া। সেই আসলাম পরবর্তীতে হয়ে গেলো একজন প্রফেশনাল কন্ট্রাক্ট কিলার।
উপরের ঘটনাগুলোর চরিত্র কাল্পনিক, কিন্তু ঘটনাগুলো সত্য। আমাদের সমাজে অহরহ এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমাদের দেশে যখন কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, তখন প্রচলিত গৎবাঁধা নিয়ম অনুযায়ী অপরাধীকে গ্রেফতার করে মামলা দেয়া হয়। তারপর দীর্ঘ সময় যাবত সে মামলা চলে, একসময় রায় হয়। কোন অপরাধীকে যখন পুলিশ বা অন্য কোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করে, তখন কখনোই কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা অপরাধ বিশেষজ্ঞ তাকে জিজ্ঞেস করেন না তার অপরাধের হাতেখড়ি কিভাবে হলো? অর্থাৎ তার জীবনের প্রথম অপরাধ কি ছিলো?
যদি একথা প্রত্যেক অপরাধীকে জিজ্ঞেস করা হতো, তাহলে আমি ১০০℅ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি অপরাধীদের একটি বড় অংশই একথা বলতো যে তাদের জীবনের ১ম অপরাধ ছিলো কোন প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বা প্রাণী হত্যা ।
👇👇কয়েকটি আর্টিকেলের লিংক দেয়া হলো। সময় নিয়ে লিংকগুলো ওপেন করে পড়ে নিবেন। তাহলে একটি স্পষ্ট ধারনা পাবেন যে প্রাণী নিষ্ঠুরতার সাথে অন্যান্য অপরাধ কিভাবে সম্পর্কিত ।
🔹(1) Harming animals and massacring humans: Characteristics of public mass and active shooters who abused animals.
https://onlinelibrary.wiley.com/doi/abs/10.1002/bsl.2385
🔹(2) Animal cruelty facts and stats.
https://www.humanesociety.org/resources/animal-cruelty-facts-and-stats #:~:text=Intentional%20cruelty%20to%20animals%20is,to%20adequately%20take%20care%20of.
🔹(3) The Link Between Animal Cruelty and Human Violence.
https://leb.fbi.gov/articles/featured-articles/the-link-between-animal-cruelty-and-human-violence
🔹(4) Animal Cruelty: A Serious Crime Leading to Horrific Outcomes.
https://cops.usdoj.gov/html/dispatch/04-2019/animal_cruelty.html
🔴 পরিশেষে সেইসব কুলাঙ্গার বাবা- মাকে উদ্দেশ্য করে একটি উপদেশ দিতে চাই যারা তাদের সন্তানকে ছোটবেলায় প্রানী নিষ্ঠুরতা এবং প্রাণী হত্যার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তারা যেন সন্তানকে দিয়ে প্রাণী নিষ্ঠুরতা বা প্রাণী হত্যা না করিয়ে এলাকার কিশোর গ্যাং এ সন্তানকে যুক্ত করে দেয়। তাহলে অনেক অবলা প্রাণী নিষ্ঠুরতার হাত থেকে রেহাই পাবে।। একই উপদেশ কতিপয় কুলাঙ্গার বয়োজ্যেষ্ঠের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।।