01/12/2025
উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপম্যান্ট (এএসডি)-র উদ্যোগে ডিয়াকনি কাটেস্ট্রোফেন হিলপে (ডিকেএইচ) এর আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতায় টেকনাফে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুশ্রম, শিশু পাচার, মাদকের অপব্যবহার, নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন শোষণ-নির্যাতন ও অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যুতে এ সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে। বস্তুত এ সভাটি গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ইং সকাল ১০টায় টেকনাফ উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
এএসডি'র প্রকল্প ব্যবস্থাপক রোকন উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টেকনাফের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ হাবীবুর রহমান, টেকনাফ উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহরাব হোসেন, সাবরাং কোয়াংছড়ি পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক সি এইচ সি পি আবদুর রহমান, টেকনাফ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফের একমাত্র সম্প্রচার গণমাধ্যম কমিউনিটি রেডিও নাফ ৯৯.২ এফএম এর সিনিয়র বার্তা সম্পাদক সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ মামুন, ওয়াল্ড রিনিও (সাথী), ইপসার মো: মুহসীন ও শ্রাবণী সহ বিভিন্ন এনজিও কর্মীবৃন্দ প্রমূখ।
বাৎসরিক এ সভার মাধমে বিভিন্ন সামাজিক নেতিবাচক ইস্যুতে একটা ধারণা নেওয়া যায়। এএসডি'র উপস্থাপনায় পরিলক্ষিত হয় শিশুর বিভিন্ন ঝুঁকিতে থাকা মানবাধিকার পরিপন্থী। সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন শোষণ, যৌন নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়ন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ব্যবহারের ঝুঁকিও অনেকাংশেই হুমকিস্বরুপ। সমাজ থেকে জেন্ডার বৈষম্য দূরীভূত না হলে উন্নয়নের নীতি ও গতি ব্যাহত হবে। সকল নেতিবাচক ইস্যুতে উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে এএসডি শিশু, কিশোর-কিশোরীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্যারেন্টস গ্রুপের জন্য কাজ করছে। এছাড়াও জেন্ডার বৈষম্য দুরীকরণে এদিকে নিতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করছে। উক্ত সভায় উপস্থিত সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। আলোচনায় কর্ম এলাকার বিভিন্ন সমস্যা বা ঝুকি চিহ্নিতকরণ, শিশু সুরক্ষা, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং যৌন শোষণ ও নির্যাতন ইত্যাদি ইস্যুগুলোকে প্রধান্য দিতে বলা হয়। এ ধরণের সভা পরবর্তী কার্যকর কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্থবায়ন প্রক্রিয়ায় অন্যান্য সংস্থার সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করে যেতে হবে। সকল নেতিবাচক বিষয়ে কমিউনিটির সচেতনতামূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। ইয়ুথ ফোরামের সদস্য, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এতদ সংক্রান্ত ইস্যুতে মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।
টেকনাফের সাবরাং কোয়াংছড়ি পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক সি এইচ সি পি আবদুর রহমান বলেন, সরকার আশ্রয়ন প্রকল্প গুলো তৈরি করেছেন ইউনিয়নের ভূমিহীন অসহায় অনেকটা যাযাবর মানুষদের নিয়ে। আশ্রয়ন প্রকল্প বা আশ্রয়ন গ্রামের ১০০% মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন। দারিদ্রতার কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে এএসডি কাজ করেন। ঝরেপড়া শিশুদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো ফিরিয়ে পাওয়ার জন্যে, ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এএসডি কাজ করছেন। এই অসহায় মানুষগুলোর স্বপ্নকে বাঁচানোর জন্য এএসডি সুন্দর প্রোগ্রাম চলমান রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রকল্প ডিজাইনিংয়ের সময় ব্যয় সাশ্রয় করে কিভাবে এক্সটেনশন করা যায়, কিভাবে সাসটেইনেবল করা যায় চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে প্রজেক্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে, অসহায় মানুষগুলোর স্বপ্নগুলো হারিয়ে যাবে। তাদের স্বপ্নকে বাঁচানোর জন্য আমরা যে যেভাবে পারি চেষ্টা চালাতে হবে। আমরা মনে করি এখানে সবাইকে সফল হতে হবে এমন নয়, তাদের মধ্য থেকে এক দুই জন সফল হলেও এএসডি প্রোগ্রাম সফল।
সাংবাদিক ভাইয়েরা হলেন জাতির বিবেক, তাই সাংবাদিক ভাইদের দায়িত্ব নিয়ে এই বিষয়ে দুকলম লিখতে হবে। হয়তো আপনাদের লিখনির কারণে, যারা প্রকল্পগুলো ডিজাইন করেন বা কর্তৃপক্ষ আছেন তাদের অবশ্যই নজরে আসবে। তাঁদের নজরে আসলে এই প্রকল্পগুলো চলমান থাকবে আর অসহায় মানুষগুলোর হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন ফিরে পাওয়ার এবং বাস্তবায়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে ইনশাহআল্লাহ।
প্রধান অতিথি টেকনাফের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, সভা শেষে আলোচিত করণীয় কাজগুলোর পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা আনয়ন, জীবন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, ঝরে-পড়া শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধ, শিশুর শোষণ ও নির্যাতন বন্ধকরণ ও শিশুশ্রম নির্মূলে ইয়ুথ ফোরামকে সম্পৃক্ত করে সুষ্ঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে। সর্বোপরি শিশু, কিশোর- কিশোরীর উন্নয়ন তথা শিশু অধিকার নিশ্চিতকরনে উন্নয়ন সংস্থা এএসডি অবহেলিত এ এলাকায় নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথিবৃন্দ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন, নিয়মিত বাড়ী পরিদর্শন, উঠান বৈঠক, প্যারেন্টস ও কেয়ার গিভারস্ গ্রুপ ও শিশু সুরক্ষা কমিটির নের্তৃত্বকে সামনে এনে মূল্যবান মতামত প্রদান করেছেন। এএসডি মূলতঃ ইয়ুথ ফোরামকে যুক্ত করে কিশোর - কিশোরীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় টেকনাফে কাজ করে যাচ্ছে। শিশু সুরক্ষার জন্য শিশু অধিকার বিষয়সমূহে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। যেখানে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন শোষণ ও নির্যাতনকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে।