13/03/2026
Al Ummah Foundation পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাকাত ও ফিতরা কি? কিভাবে দিতে হয়? কতটুকু আদায় করতে হয়? যাকাত ও ফিতরার পার্থক্য গুলো কি কি?
এ সকল বিষয়বস্তুগুলো বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
যাকাত ও ফিতরা ইসলামের ফরজ ও ওয়াজিব বিধান, যা সম্পদ পবিত্রকরণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণে ব্যবহৃত হয়। নিসাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা বা সমমূল্য) সম্পদ এক বছর থাকলে ২.৫% হারে যাকাত ফরজ হয়। অন্যদিকে, রমজানের শেষে ঈদের পূর্বে মাথাপিছু নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য (যেমন: ১.৬৩৫ কেজি গম বা সমমূল্য) দিয়ে ফিতরা আদায় ওয়াজিব
যাকাত ও ফিতরা: বিস্তারিত নিয়ম ও কানুন
১. যাকাত (Zakat)
ফরজ হওয়ার শর্ত: মুসলমান, স্বাধীন, বুদ্ধিমান ও বালেগ হওয়া। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া এবং সম্পদ এক চন্দ্র বছর (হিজরি বর্ষ) মালিকানায় থাকা।
নিসাব: সাড়ে ৭ তোলা (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম) সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম) রূপা বা এর সমমূল্যের নগদ টাকা, ব্যবসার পণ্য, বা বাড়তি সম্পদ।
হিসাব ও হার: সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পদের ২.৫% বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত হিসেবে দিতে হবে।
যাকাত দাতা: নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে যাকাত ফরজ।
যাকাত গ্রহীতা: দরিদ্র, মিসকিন, ঋণী, যাকাত আদায়কারী, মুসাফির, বা আল্লাহর পথে জিহাদকারী (মূলত কোরআনে বর্ণিত ৮টি খাত)
২. ফিতরা (Sadaqatul Fitr)
ওয়াজিব হওয়ার শর্ত: ঈদের দিনের সুবহে সাদেকের সময় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সম্পদ (নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলেও) থাকলে ফিতরা ওয়াজিব।
পরিমাণ: গম বা আটার ক্ষেত্রে ১.৬৩৫ কেজি (আধ সা'), অথবা খেজুর, কিশমিশ, পনির, বা যব-এর ক্ষেত্রে ৩.২৭০ কেজি (এক সা')।
মূল্য পরিশোধ: বর্তমানে খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে তার সমমূল্য নগদে আদায় করাও জায়েজ ।
সময়: রমজান মাস থেকে ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত, তবে ঈদের নামাজের আগে দেয়া উত্তম।
দায়িত্ব: পরিবারের প্রধানের পক্ষ থেকে পরিবারের সকলের (স্ত্রী, সন্তান, কাজের লোক) ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব।
৩. যাকাত ও ফিতরার সাধারণ নিয়ম ও পার্থক্য
পার্থক্য: যাকাত ফরজ হয় সম্পদের ওপর এবং ১ বছর স্থায়ী হতে হয়। ফিতরা ওয়াজিব হয় মাথাপিছু এবং ১ বছর স্থায়ী হওয়া শর্ত নয়।
বণ্টন: আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং অভাবী মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেওয়া উচিত ।
নিষেধাজ্ঞা: বাবা-মা, দাদা-দাদী, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী এবং ধনী ব্যক্তিকে যাকাত বা ফিতরা দেওয়া যাবে না। মসজিদের নির্মাণ কাজ বা প্রশাসনিক কাজে যাকাত দেওয়া যায় না, তবে গরিবদের জন্য আলাদা ফান্ডে দেওয়া যায়।
পদ্ধতি: নগদ টাকা, কাপড়, বা খাদ্যদ্রব্য কিনে দেওয়া যায়।
যাকাত ও ফিতরা সঠিকভাবে আদায়ের মাধ্যমে সমাজে বৈষম্য হ্রাস পায় এবং ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়।