21/10/2025
বন বিভাগের চিহ্নিত ১২ ক্ষতিকর বৃক্ষের শীর্ষস্থান দখল করী ইউক্যালিপটাস গাছ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০০৮ সালে সরকার প্রজ্ঞাপন জারী করে নিষিদ্ধ করলেও কতিপয় বিদেশী দাতাগোষ্ঠীর প্রেসক্রিপশনে দেশীয় কিছু NGO হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে তার উৎপাদন ও বিনামূল্যে বিতরনের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ করতে।
ইউক্যালিপটাস লাগায় যারা - পরিবেশের শত্রু তারা
দেশীয় গাছ লাগায় যারা - মাতৃভূমির বন্ধু তারা।
ক্ষতিকর বৃক্ষ নির্মূল কর - ইকোসিষ্টেম রক্ষা কর।
#প্রকৃতি_সুরক্ষা_ও_সবুজায়নের_নামে_ইউক্যালিপটাস_ও_আকাশমনির_মত_হানাদার_বৃক্ষ_রোপন_বন্ধ_হোক
কেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা সহ অসংখ্য দেশে নিষিদ্ধ পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর বিদেশী আগ্রাসী বৃক্ষ ইউক্যালিপটাস সহ ইপিলইপিল, আকাশমনি, সেগুন, রাবার, ঝাউ, তেলপাম, রেইনট্রি , আফ্রিকান টিউলিপ, পাউলোনিয়া, একাশিয়া, একাশিয়া হাইব্রিড, পাইন, ম্যালালুকা, সাফিয়ান, কেকারান্দা, লংগু, রয়্যাল পাম, আপসাইড ডাউন ট্রি, সিলভার ওক সহ দুই শতাধিক বিদেশী ক্ষতিকর গাছ আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে।আমাদের বুঝে উটার আগেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্টান সুকৌশলে ভুল তথ্য নির্ভর প্রেসক্রিপশন দিয়ে দেশীয় কতিপয় লোভী NGO এর সহযোগীতায় সারাদেশের মানুষের হাতে বিনামূল্যে ধরিয়ে দিয়েছে এসব গাছ। আমরা চাইলে যেখানে একটি ফলের গাছ বা ঔষধি গাছ লাগিয়ে প্রকৃতি পরিবেশকে সমৃদ্ধ করতে পারতাম, সেখানে এসব ক্ষতিকর বৃক্ষ রোপন করে মাটির উর্বরতা শক্তি শুধু ধ্বংস করিনি বরং ভূ-গর্ভস্থ পানির ভান্ডারকে ধ্বংস ও দূষিত করে দিয়েছি।
এতে পরিবেশ প্রকৃতি যেমন ধ্বংস করেছে তেমনি দেশীয় ভেষজগুণ সম্পন্ন উপকারী বট, অশ্বত্থ, শিমুল, পলাশ, জারুল, হিজল, শেওড়া, গাব , জবা, কদম, ডুমুর, আতা, বেল, আখন্দ, ভেরেণ্ডা, মাদার, তেঁতুল, ছাতিম, পাকুড়, কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু গাছের মত পরিবেশের উপকারী ভেষজ গাছের অনুপস্থিতিতে ভেঙ্গে পড়ছে আমাদের ইকোসিস্টেম। অথচ এদেশের বেশির ভাগ বৃক্ষের ফুল ও ফল রসালো সরস ও শোভাপূর্ণ। তাই এসব বৃক্ষকে ঘিরে অসংখ্য পশু-পাখির আবাস গড়ে ওঠেছে আর তারাই এদেশের প্রকৃতি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। অথচ দেশের সব নার্সারিতে দেশীয় প্রজাতির এসব গাছের চারা পাওয়া না গেলেও আকাশমনি ইউক্যালিপটাসের মত ক্ষতিকর বৃক্ষের চারা ব্যাপকভাবে উৎপাদন করে।
তেমনি বিভিন্ন গাছের গঠন বিশেষে পশু-পাখি তাদের আশ্রয় নির্বাচন করে। বিভিন্ন প্রজাতির শালিক, শ্যামা, টিয়া, ঘুঘু, বুলবুলি, মাছরাঙা, ফিঙ্গে, বক, বাজপাখি, চিল , কাঠবিড়ালী, বাদুড়সহ অসংখ্য পশুপাখি যাদের জন্য ইউক্যালিপটাস বা আকাশমনি কোন ভূমিকা রাখেনা বরং তাদের খাদ্যশৃঙ্খলকে ব্যাহত করে।
দেশীয় বৃক্ষ বিনাশ করে প্রকৃতি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্বক হুমকি আছে এসব গাছে তা জেনেও শুধুমাত্র দ্রুত কাঠ উৎপাদনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লাভের আশায় ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে আনার পর থেকে সরকারী উদ্যোগে সামাজিক বনায়নের আওতায় এসব ক্ষতিকর বৃক্ষ লাগানো হয় সর্বত্র। এতে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছর ধরে এদেশের প্রকৃতি পরিবেশের সাথে সহনশীল দেশীয় বৃক্ষগুলো। প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে , স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনা, নদীর ধার, রাস্তার দু'পাশ , পুকুরপাড়, ক্ষেতের আইল সর্বত ইউক্যালিপটাসের দখলে।
ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি কিভাবে ইকোসিষ্টেমকে ধ্বংস করে তার কিছু উদাহারন তুলে ধরা হলঃ
১|★ ইউক্যালিপটাস অত্যান্ত শুষ্ক গাছ হবার কারনে প্রাকৃতি বা অপ্রাকৃতিক যেকোন ভাবে বনে বা গাছে আগুন লাগলে দ্রুত সমগ্র গাছে ছড়িয়ে পড়ে। এই গাছ সারা বছর খোসা ছাড়ে ফলে গাছের গোড়ায় খসে পড়া খেসা ও গাছ থেকে ঝুলে থাকা খোসার মাধ্যমে সহজে নিজেকে ও আশপাশের গাছ পালাতে আগুন ছড়িয়ে দিতে সহযোগীতা করে নিজেই। তার চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হল ইউক্যালিপটাস গাছের ঝড়ে পড়া পাতায় থাকা তৈলাক্ত দাহ্য পদার্থ আগুনের দহন শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে ফলে সমগ্র বনে দাঁবানলের জন্ম দিতে বিষ্ফোরকের কাজ করে।
২|★ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি দ্রুত বর্ধনশীল এবং শুষ্ক গাছ হবার কারনে যত বড় হোকনা কেন প্রাকৃতিক দূর্যোগের দমকা হাওয়ায় নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা ফলে ডাল পালা বা সম্পূর্ণ গাছটি ভেঙ্গে পড়ে ঘরবাড়ী রাস্তাঘাট বিদ্যুত লাইন ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে। তাই ঘরবাড়ী ও রাস্তার পাশে কোন ভাবেই এসব গাছ লাগানো উচিত নয়।
৩|★এদেশে বাণিজ্যিক কাঠের চাহিদা মেটানোর সহজ সমাধান হিসেবে ইউক্যালিপটাস বা আকাশমনি আমদানী করা হলেও তা কখনো উন্নত মানের কাঠ উৎপাদন করেনা। অত্যান্ত শুষ্ক কাঠ হবার কারনে তা দ্রুত উই পোকার আক্রমনের শিকার হয়, মজবুত শক্ত কাঠ না হওয়ায় এসব গাছের নির্মিত ফার্নিচার পেরক ও আটা বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনা ফলে দ্রুত নড়বড়ে ও নষ্ট হয়ে যায় ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র । এগুলো পু:ন মেরামতের তেমন সুযোগ থাকেনা বলে অল্প সময়ে নষ্ট হবার কারনে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার ফার্নিচার নষ্ট হয়ে জ্বালানী কাঠ ছাড়া কোন কাজে আসেনা অথচ দেশীয় প্রজাতির টেকসই কাঠের ফার্নিচার শত বছরেও নষ্ট হয়না।
৪★অতিমাত্রায় শুষ্ক এসব কাঠের ফার্নিচার রং করতে সাধারন কাঠের চেয়ে কয়েকশগুন বেশি তারপিন রজন গালা সহ বিভিন্ন ক্যামিক্যল ব্যবহার করতে হয় তাতে মেরামত বা রং এর ব্যবহার বেশি হবার কারনে অন্যান্য ফার্নিচারের চেয়ে খরচ বেশি হয় ও অপচয় বাড়ে।
৫|★সাধারন চিরহরিৎ বৃক্ষ যেমন বাতাসের আদ্রতা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে কিন্তু ইউক্যালিপটাসের পাতার উপরে মোমের চকচকে প্রলেপ থাকার কারনে আদ্রতা হ্রাস করার পরিবর্তে আদ্রতা রোধ করে তাই পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় অন্যান্য গাছ যে ভূমিকা রাখে তার স্থান দখল করে বেড়ে উটা ইউক্যালিপটাস বরং বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করে তাই এ ধরনের বৃক্ষ রোপন করা কখনো উচিত নয়।
৬|★| পুষ্টিহীন অত্যান্ত আঁশযুক্ত দুর্গন্ধময় বিষাক্ত ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ ও পাখির খাদ্যশৃঙ্খল সহায়ক নয়। ফলে একটি অঞ্চলে ইউক্যালিপটাসের উপস্তিতি মারাত্বক প্রভাব সৃষ্টি করে, পাখির সংখ্যা কমে যাবার ফলে ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমনে কৃষককে পোকাদমনে রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা। অন্যদিকে রাসায়নিক সার উৎপাদিত ফসলের গুনগতমানের শুধু ক্ষতি করেনা বরং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও অনুজীবী ধ্বংসের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে এবং বৃষ্টির পানির সাথে ধুয়ে এসব রাসায়নিক সার ভূ-গর্ভস্থ পানির ভান্ডার ও নদী-নালা খাল-বিলের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে।
৭|★| সাধারন গাছ যেখানে ১০০-০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ঠিকে থেকে পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিজেকে ঠিকিয়ে রাখতে পারে, সেখানে ইউক্যালিপটাস ৩০ ডিগ্রি ফারেন হাইটে কাঁপতে শুরু করে এবং ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে মারা যায়।
৮|★| জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ভূমির পরিমান বাড়তে থাকলেও ইউক্যালিপটাস লবন সহিষ্ণু নয় বিধায় জলবায়ু পরিবর্তন বা উপকূলীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ কোন ভূমিকা রাখতে পারেনা।
৯|★| পশুপাখি ও জীবজন্তুর জীবনচক্রে কোন উপকারে আসেনা বরং তাদের স্বাভাবিক জীবনচক্রকে ব্যাহত করে।
১০|★| বৃক্ষের ধর্ম হল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গাছের পাতা কার্বনডাইঅক্সাইড শুষে নিবে আর অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ুমণ্ডল কে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি পৃথিবীতে সূর্যের বেগুনী রশ্মি কে প্রতিহত করবে কিন্তু ইউক্যালিপটাস বা আকাশমনি তার ব্যাতিক্রম, তারা শেকড়ের মাধ্যমে খাদ্যে সংগ্রহ করে নিজেকে দ্রুত বর্ধিত করে।
১১|★| অতি মাত্রায় ভূ-গর্ভস্থ খাবার পানির স্থরকে শুষে নেবার ফলে তার গভীর শেখড়ের মাধ্যমে মাটির বিভিন্ন স্থরে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান যেমন আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরাইড, ফ্লোরাইড দ্রুত ভূ-গর্ভস্থ খাবার পানির স্থরে ছড়িয়ে পড়ে এবং দূষতি করে তুলে।
১২|★| পুকুর ও ধানক্ষেতে ঝড়ে পড়া আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাসের পাতা পঁচে মাটি ও পানির গুনগত মান নষ্ট করে ফলে বাস্তুতন্ত্রে অবদান রাখা উপকারী পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ মারা যায় এবং খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাহত করে। ফলে ছোট মাছ ও মাছের পোনার খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয় অন্যদিকে কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি শুষে নিয়ে মাটিকে শুকনো ও ঝুরঝুরে করে দেয় ফলে ফসলের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও অনুজীব ঠিকে থাকা দুরুহ হয়ে পড়ে ।
১৩|★| আকাশমনি বা ইউক্যালিপটাস গাছের ডালে কোনো পশু-পাখি বাসা বাঁধতে পারে না। এমনকি বসে বিশ্রামও নিতে পারে না। এর পাতা ফুল ফল গরু-ছাগলেরও খাবার উপযোগী নয়। এমনকি এদের ওপর কোনো মাইক্রো ফ্লোরা-ফোনা (ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী) জন্মাতে পারে না। যাকে এককথায় বলা যায় আগ্রাসী আত্মকেন্দ্রিক!
১৪|★| একটি পরিপক্ব ইউক্যালিপটাস গাছ দৈনিক ২৫০-৩৫০ লিটার পর্যন্ত পানি শোষন করে এবং ১০ -১৫ ফুট ব্যাসার্ধ সহ নিকটস্ত জলাধারের পানি শুষে নেয় ও ভূগর্ভের ১৫০ - ৩৫০ ফুট নিচের পানিও শোষণ করে। এই প্রক্রিয়াটি দিন রাত ২৪ ঘণ্টাই চলতে থাকে বলে দ্রুত মাটিতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
১৫|★| আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাসে গাছ যেখানে থাকে তার আশেপাশের মাটি শুষ্ক ও রুক্ষ এবং উর্বরা শক্তিহীন করে ফেলে। ফলে অন্যান্য গাছ পর্যাপ্ত পানি ও মাটির উর্বরতা শক্তি থেকে বঞ্চিত হয় ফলন কমে যায় এবং লতাগুল্ম সহ প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া ছোট গাছগুলো মারাপড়ে।
১৬|★| ইউক্যালিপটাসের পাতায় এক ধরনের অ্যান্টিসেপটিক থাকায় এর নিচে ছোট গাছ বাড়তে পারে না বরং কৃষি জমি পুকুর জলাশয়-জলাধার যেখানেই এর পাতা ঝরে পড়ে সেখানেই পরিবেশের উপকারী পোকা মাকড় ও কীটপতঙ্গ সহ অণুজীবের জীবন চক্র ব্যাহত হয়।
১৭|★| ইউক্যালিপটাস গাছের পাপড়িহীন ফুলের মিহি রেনু সহজে বাতাসে ছড়িয়ে গিয়ে মানুষের শ্বাসনালীতে ঢুকে শ্বাসকষ্ট এবং হার্টের রোগব্যাধি সৃষ্টি করে।
১৮|★| পরিপক্ব ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেললেও মাটির উর্বরতা ফিরে আসতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগে।
১৯|★| সারাদেশে প্রায় ৫০০ কোটির অধিক ইউক্যালিপটাস আমাদের দেশীয় ফল উৎপাদনকে ব্যাহত করেছে, ফলজ গাছের জায়গা দখল করেছে ফলে প্রতি বছর দেশে ফলের চাহিদা পূরনে বিদেশ থেকে হাজার কোটি টাকার ফল আমদানী করতে হয়।
২০|★| দেশের উত্তরাঞ্চল সহ যেসব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ইউক্যালিপটাস সৃজন হয়েছে, সেই সব অঞ্চলে পশুপাখি কীটপতঙ্গের খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাহত হবার ফলে পরাগায়ন ও ফুলের অঙ্কোরোধগম হার কম হবার কারনে ধান ও রবিশস্য এবং ফলমূলের উৎপাদন আশংকাজনক ভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কৃষি জমি ও নদীর তীরের উর্বরাশক্তি যুক্ত পলিমাটিতে তামাকের মত ক্ষতিকর পাতা উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েছে।
পরিশেষে নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার ভাষায় শুধুমাত্র একটি বট বৃক্ষ ৫০ বছরে প্রকৃতি পরিবেশ জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য কতটা অবদান রাখে তার সামান্য একটি হিসাবে দেখিয়েছেন। ৫০ বছরে শুধুমাত্র একটি বটগাছ ২৫ লাখ টাকার অক্সিজেন, মানুষের উপকারী জীবজন্তুর খাবার জোগায় ২০ হাজার টাকার, মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে লাভ হয় ২ লাখ টাকা, বাতাসের আর্দ্রতা বাড়িয়ে বৃষ্টিপাতে সহায়তায় বাঁচায় ৩ লাখ টাকা এবং বায়ুদূষণ ঠেকানোর জন্য সাশ্রয় হয় ৫ লাখ টাকা।
অথচ আজ মানুষ নগদ প্রাপ্তির জন্য দেশী বৃক্ষ সাবাড় করে বনায়নের নামে ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি সহ ক্ষতিকর বৃক্ষ সৃজন করছে। একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় একটি বটবৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণ করে কয়েকশ বছর শতকোটি প্রাণীর নিশ্চিত নিরাপদ আবাস ও আহারের ব্যবস্থা করতে পারেন। তাই সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে বিদেশী গাছ নয় বরং বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বৃক্ষ রোপণ করা এই মুহুর্তে খুবই জরুরি।
A N M Moazzem Hossain
Chairman
Save The Nature Of Bangladesh