Durjoy

Durjoy Social Development Movement

জাতি হিসাবে বাঙ্গালীর একটি গৌরব উজ্জল ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীনচেতা ঈশা খাঁর বীরত্ব, অসীম সাহসী শেরেবাংলা ফজলুল হকের দুর্দান্ত মেধা, মাস্টারদা সূর্যসেনের সশস্ত্র ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, অত্যন্ত সাধাসিধা জীবনধারার অধিকারী জননেতা মৌলানা ভাসানীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, রফিক-জব্বারদের মাতৃভাষা রক্ষায় পৃথিবীর একমাত্র ভাষা আন্দোলন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ডাকে সমগ্র জনগোস্টির স্বাধীনতার জন্য মরিয়া হয়ে উ

ঠা, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে একজন নির্ভীক মেজর জিয়ার রেডিও ঘোষনায় নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ৩০ লক্ষ প্রান ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে মাত্র নয়মাসে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামারিক বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে একটি নতুন রাষ্ট্রের সৃষ্টি- বাংলার গৌরবের সাক্ষী। কেবল রাষ্ট্রনায়ক, সমরনেতা বা রাজনীতিবিদরাই বাঙ্গালীর অহংকার নন, বহুভাষাবিদ ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, বিজ্ঞানী কুদরত ই খুদা, বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিজ্ঞানী জগদেশ চন্দ্র বসু, নারীশিক্ষার অগ্রদুত বেগম রোকেয়া, সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্থপতি এফ আর খান, চলচিত্রকার সত্যজিৎ রায় সহ হাজারো কৃতিসন্তান বাঙ্গালী জাতিকে মহিমান্বিত করেছেন। জাতিকে দিয়েছেন দিক নির্দেশনা এবং মহৎ কাজ করে যাবার উদ্দীপনা।

আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর যদি হিসেব মিলাতে বসি তবে দেখতে পাবো জাতি হিসাবে আমরা কি কি অর্জন করতে পেরেছি আর কতটা ব্যর্থ হয়েছি। ১৯৭১ থেকে ২০২১, এই সময়ে আমরা খাদ্য উৎপাদন প্রায় তিনগুন বাড়াতে সক্ষম হয়েছি, ধান ও মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমরা যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করেছি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তিনভাগের একভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি, নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনীতির মুলধারায় নারীদের একটি বিশাল অংশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেছি, সদ্যজাত শিশু ও প্রসুতি মায়ের মৃত্যুহার কমাতে এবং মানুষের গড় আয়ু বাড়াতে সক্ষম হয়েছি, পদ্মাসেতু সহ বহু অবকাঠামোর আমুল উন্নয়ন সংঘটিত করতে পেরেছি, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছি, শিল্প-বানিজ্য-সেবা বহুগুনে বৃদ্ধি করতে পেরেছি, এককোটির বেশি জনশক্তি বিদেশে রপ্তানি করে জাতীয় আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছি, জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী মিশনগুলোতে আমরা সবচেয়ে বেশি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহন করাতে পেরেছি, দুনিয়ার বৃহৎ জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের অধিকারি হবার পাশাপাশি বিশ্বমানের রপ্তানিমুখী জাহাজ তৈরি করছি এবং আমাদের জাতীয় ও মাথাপিছু আয় কয়েকগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। এসকল প্রাপ্তি আমাদের অনেক আনন্দ দেয়, আমরা গর্বিত হই। কিন্তু আমাদের কিছু ব্যর্থতা এই অর্জনগুলোর উজ্জ্বল্য ম্লান করে দিচ্ছে। একটা সভ্য জাতি হিসাবে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি, হারিয়ে ফেলছি আমাদের মুল্যবোধ, স্বকীয়তা এবং মানবিকগুনগুলো।

বিজ্ঞানের কল্যানে প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। উন্নত দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা এগুলো ব্যবহার করছি ঠিকই কিন্তু জাতি হিসাবে আমরা এখনও তাদের কাছাকাছি পৌছুতে পারিনি। কিন্তু কেন পারিনি? আত্মবিশ্লেষণ করলেই এর উত্তরগুলো বেরিয়ে আসবে। এক এক করে একটু বলি। আমরা জাতি হিসাবে নোংরা-আমাদের ঘরবাড়ির আংগিনার বাইরে বা রাস্তার আশেপাশে তাকালেই সেটার প্রমান পেয়ে যাবেন এছাড়া পরিবেশ দূষণতো আছেই। আমরা অনেকটাই অলস-পছন্দমত চাকরি জুটছে না বলে দিনের পর দিন আমরা বাবার উপর নির্ভরশীল থাকি কিন্তু ছোট-খাট হলেও নিজে কিছু করার চেস্টা করি না, প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো টাকায় বিলাসিতা করি, এখনও আমরা স্ত্রীর বাড়ি থেকে যৌতুক পাবার লোভ করি। আমাদের উৎপাদনশীলতা কম- আমরা নিজের দক্ষতা না বাড়িয়ে কাজে ফাকি দিতে চেস্টা করি। মেধা বা দক্ষতা দিয়ে নয়, চাটুকারিতার জন্য আমাদের পদোন্নতি হয়। আমরা অনেক পরশ্রীকাতর- অন্যের সুখ আমাদের সহ্য হয়না, অন্যকে বিপদে ফেলে নিচে নামাতে না পারলেও অন্তত তার বদনাম করতে ছাড়ি না। আমরা সুস্থ বিনোদনও করতে জানি না-বাঙ্গালীর বিনোদনের চরম উপাদান পরচর্চা-পরনিন্দা। আমরা ঝগড়াপ্রবন- তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা মারামারি-মামলাবাজি করি। আমরা গুনিজনদের সম্মান করার পরিবর্তে তাদের দোষত্রুটি খুজে বেড়াই। অন্যকে হেয় করে আমরা সুখ পাই। আমরা বলি বেশি, শুনি কম এবং কাজ করি আরো কম।

পরিশ্রম ছাড়া অতিদ্রুত ধনী হবার প্রবনতা আমাদের সবার মধ্যে কমবেশি বিরাজ করে-বাঙ্গালীর মত দুর্নীতিপরায়ণ, ঘুষখোর এবং অনৈতিক মানুষের সংখ্যা অন্যান্য জাতিতে অনেক কম। মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষ দেশে কমে যাচ্ছে- দুর্ঘটনা কবলিত আহতদের সাহায্য করার মানুষের চেয়ে ঘটনাটা মোবাইলে ধারন করে ভাইরাল করার প্রবণতা বাঙ্গালীদের মধ্যে এখন বেশি। মানুষ হিসাবে আমরা ভন্ড- একদিকে মানুষকে জিম্মি করে ঘুষ খাই, কালোবাজারি করি আবার সেই হারাম উপার্জনের একটি অংশ মসজিদ-মন্দিরে দান করে সৃষ্টিকর্তার কাছে দুনিয়া ও আখেরাত কামনা করি। এছাড়া আদব-লেহাজ কমে যাওয়া, পারস্পরিক সহিষ্ণুতা লোপ পাওয়া, ব্যভিচার ও ধর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়া, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ও বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়ে যাওয়ারমত বিষয়গুলো আমাদের সমাজের দুর্বলতার দিকগুলো দিনদিন স্পষ্ট করে তুলছে। এই ব্যার্থতার দায় কার? যুবসমাজের, অভিবাবকদের, শিক্ষকদের, নেতাদের, সরকারের, ধর্মীয়গুরুদের, সাংবাদিকদের, আইনজীবীদের না বিনোদনকর্মীদের ? এই ব্যর্থতার দায় আসলে সবার। আমরা সবাই কেবল নিজের স্বার্থটাই দেখেছি এবং দীর্ঘসময় ধরে সমাজকে আমরা কলুষিত হতে দিয়েছি। আজ আঠারো কোটি জনসংখ্যার ভিড়ে কতজন আদর্শ মানুষ খুজে পাওয়া যাবে বলুনতো ? হয়তো হাজার-বিশেক কিংবা তারো কম। ধর্ম, বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে এখন আদর্শ মানুষের সংখ্যা নগণ্য এবং অতিদ্রুত এই সংখ্যা কমে আসছে।

আমরা কি আরো রসাতলে যাবো না এবার ঘুরে দাড়াবো, সিদ্ধান্তটা আমাদেরই নিতে হবে এবং এখনই। দেরি অনেক হয়ে গিয়েছে, কিন্তু সম্ভাবনা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। অন্যরা পারলে আমরাও পারবো, বাঙ্গালীরা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে জানে। নব্বইয়ের গনআন্দোলনের অভিজ্ঞতা সেটাই প্রমান করে দিয়েছিল। এছাড়া ইরান পারলে, জাপান পারলে, সিঙ্গাপুর পারলে, ভিয়েতনাম পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন? অবশ্যই পারবে, তবে এজন্য দরকার সঠিক দিকনির্দেশনা। একটি দক্ষ, সৎ ও মানবীয়গুনসম্পন্ন জাতি তৈরি করতে হলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার পাশাপাশি তথ্য, উৎসাহ এবং প্রশিক্ষন দিয়ে একটি সোনারজাতি এখনও তৈরি করা সম্ভব। সঠিক পরিচর্যায় একসময় বাঙ্গালী জাতি জ্ঞানে, দক্ষতায় ও চরিত্রে দুর্জয় হয়ে উঠবে। সালাম ঠুকবে তখন বিশ্ববাসী, বাংলাদেশী পরিচয় বা পাসপোর্ট দেখে কেউ নাক সিটকাবে না। আমাদের বুঝতে হবে সম্মান অর্জন করতে হয়, কেউ দিয়ে দেয় না।

দুর্জয় কেবল একটি ডিজিট্যাল প্লাটফর্ম নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের নাম। এটি কোন ব্যক্তি নয়, একটি জাতির আত্মপরিচয়। দুর্জয় বাঙ্গালী জাতিকে আন্দোলিত করার একটি প্রয়াস। কিন্তু এই আন্দোলনে কোন একক নেতা থাকবেন না। যারা দেশকে ভালবাসেন এবং বাঙ্গালী জাতির আত্মউন্নয়নে গঠনমূলক অবদান রাখতে চান, তাদের জন্য এটি উন্মুক্ত। এটি একটি অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক, অসাংস্কৃতিক, সামাজিক প্লাটফর্ম যেখানে ধর্ম, বর্ণ, পেশা, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে যেকেউ সদস্য হতে পারবেন, কেউ বাধা দিবে না। দুর্জয়ে জাতির উন্নয়নের জন্য যেকোন ইতিবাচক এবং শিক্ষামূলক পোস্ট শেয়ার করা যাবে। তবে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল, সস্তা বিনোদন বা ভাইরাল হবার জন্য কোন পোস্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। কেউ যদি ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা ব্যবসায়িক কোন পোস্ট প্রচার করেন বা সরকার/রাস্ট্র বিরোধী কোন মন্তব্য দেন বা কাউকে বা কোন গোস্টিকে হেয় করে অপমানজনক পোস্ট দেন তবে তাকে/তাদেরকে স্থায়ীভাবে ব্লক করে দেয়া হবে এবং প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থাও নেয়া হবে। শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গঠনমুলক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হবে।

আসুন নিজেকে গড়ি তবে জাতিকে গড়া সম্ভব হবে। একজন একজন করে সবাই যদি আদর্শ বাঙ্গালী হই তবে দেশের লাভ হবে। আর বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়লে এতে আমাদের ব্যাক্তিগত উপকারই হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যদি জ্ঞানে, দক্ষতায়, সততায়, আচারে-ব্যবহারে, নৈতিকতায় দুর্জয় হয়ে যায়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে আরেকটি উন্নত জাতির উত্থান বিশ্ব দেখতে পাবে ।

Address

Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Durjoy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Durjoy:

Share