03/01/2026
তীব্র শীতের রাতে যখন আমাদের কাছে কম্বলের নিচ থেকে বেরোনোর চিন্তাটুকুও বিলাসিতা মনে হয় ঠিক সেই সময়েই ব্যস্ত শহরের অলি-গলি আর ফুটপাতে কাঁপতে থাকে কিছু মানুষ। যাদের আমরা নাম দিয়ে নয়, তাচ্ছিল্যের অভিধা দিয়ে চিনি ফকির, মিসকিন, টোকাই।
আমাদের দ্রুত পায়ের শব্দে, গাড়ির হর্নে আর কোলাহলে তাদের অস্তিত্ব ঢেকে যায়; অথচ তাদের বুকের ভেতর জমে ওঠা আর্তনাদ শীতের চেয়েও হিমশীতল।
শহর যখন আলোয় ভিজে থাকে, তখনও তারা অন্ধকারেই বাস করে। আমরা শীতের কামড় এড়িয়ে ঘরে ফিরি, তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই দেখি, তবু দেখি না। অনুভব করি না কাঁপতে থাকা সেই শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘশ্বাস। জানতে চাই না, এই হিমরাত্রিতে তাদের রাত কোথায় ফুরায়, কোন ফুটপাতের কোণে কিংবা কোন বন্ধ দোকানের শাটারের নিচে তাদের স্বপ্ন আশ্রয় খোঁজে।
কোথায় তাদের ভোরের সূর্য ওঠে? আদৌ কি ওঠে?
আমাদের মতো কি তাদের সকালও মিষ্টি?
আমরা যখন হাতে গরম চা নিয়ে রোদের আদরে চোখ মেলি, তখন কি তাদের মনেও কোনো কোমল অনুভূতির জন্ম হয়?
নাকি কাঁপতে কাঁপতে তারা অভিশাপ পাঠায় সেই সমাজকে, যে সমাজ তাদের দেখেও দেখেনি?
এই প্রশ্নগুলো খুব কম মানুষই করতে চায়। কারণ প্রশ্ন মানেই দায়িত্ব।
তাই প্রতিবারের মতো এবারও আমরা ঘরের উষ্ণতা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছি আপনাদের আমানত কাঁধে নিয়ে। ছুটে গিয়েছি ঢাকা শহরের সেইসব অলি-গলিতে, যেখানে মানুষের কষ্ট যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে চাপা পড়ে থাকে। Young Leading Generation-এর সদস্যরা আপনাদের ভালোবাসা পৌঁছে দিয়েছে তাদের হাতে আর মুহূর্তের জন্য হলেও ফুটপাতে ফুটেছে হাসি, শীতের বুক চিরে জন্ম নিয়েছে একটু উষ্ণতা।
আমরা চাই, এই উষ্ণতা ক্ষণস্থায়ী না হোক।
শীতকাল যেন কারো জন্য আজাব হয়ে না দাঁড়ায়। রমজান, ঈদ কিংবা আনন্দের কোনো উৎসব যেন কারো নীরব চোখের জলে ডুবে না যায়। এই স্বপ্ন নিয়েই আমরা প্রতিবছর এমন উদ্যোগ হাতে নিই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, মানুষ হয়ে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে।
এই পথে চলার শক্তি আসে আপনাদের সহযোগিতা আর দোয়া থেকে।
সেই দোয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় কম্বল, যএটার উষ্ণতা কখনো কমে না। আপনাদের আরো বেশি সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
#2026