16/05/2026
আপনার প্রশ্ন : রাতদিন সংসারের কাজ করি, তবু কাজ যেন ফুরোতে চায় না। বাচ্চাদের খাওয়ানো, নিজেরা খাওয়া এসবের প্রস্তুতি, ক্লিনিং এগুলো করতে করতে দিন শেষ। নিজের জন্যে কোনো সময় নেই। প্রায় দিনই পেটে ক্ষুধা চেপে সব কাজ করে যাই। ছোট সন্তান মা ছাড়া কিছু বোঝে না। তাকে রেখে ওয়াশরুমেও যাওয়া যায় না। বড় সন্তানের অনেক প্রশ্ন, তাকেও এটেন্ড করতে হয়। ঝগড়াটা লেগে যায় ওদের বাবার সাথে। কাজের চাপ, ঘন ঘন ক্ষুধা, নিজের লক্ষ্যের প্রতি সময় কম দিতে পারা, নিজের অযত্ন- সব মিলে আমি ক্লান্ত ও বিষণ্ন হয়ে থাকি। আমাকে এমনকিছু বলেন যাতে আমি আনন্দ নিয়ে থাকতে পারি। এনার্জি পাই।
গুরুজীর উত্তর: সংসারের কাজ শেষ হলে তো আপনি শেষ! সংসারের কাজ যদি শেষ হয়ে যায় তো আপনি করবেনটা কী?
আসলে সংসারে সবকিছু অটো হয়ে যায় না। যদি সব অটো হয়ে যেত তাহলে বৈচিত্র্য থাকত না।
এখন এই যে আপনি আনন্দ নিয়ে থাকতে চাচ্ছেন, এটা একটা পজিটিভ মাইন্ডসেট। এই পজেটিভ মাইন্ডসেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আর আপনি কিন্তু খুব লাকি। আপনার দুটো বাচ্চা আছে। আল্লাহ না করুক, এমন তো হতে পারত যে আপনাদের বাচ্চা হচ্ছে না। আমি বহুজনকে দেখেছি বাচ্চার জন্যে তাদের কী আকুতি! তিন বার আইভিএফ করেছে, কিন্তু সাকসেসফুল হয় নি। চতুর্থবার করেছে, পঙ্গু বাচ্চা হয়েছে। আমি নিজে জানি।
এখন বড় বাচ্চা তার প্রশ্নের শেষ নাই। আরে প্রশ্নের শেষ থাকলে তো বাচ্চাই থাকবে না! বাচ্চা মানেই তার কোয়েশ্চেন এবং আপনার বাচ্চা নিঃসন্দেহে ইন্টেলিজেন্ট বাচ্চা যে প্রশ্ন করতে পারে, তার কৌতূহল আছে।
তো অতএব কী করবেন? কাজটা কিন্তু খুব সিম্পল। আনন্দ করেন! বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে আপনার ক্ষুধা লেগে যায়। হাজবেন্ডকে বলেন, আমার খাবার নিয়ে আসো, আমাকে খাইয়ে দাও। আমি বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছি, তুমি আমাকে খাওয়াও।
ঘরে ছাতু রাখবেন। কলা রাখবেন। বাচ্চাকে বলবেন যে তুই খা আমিও খাই। অর্থাৎ একসাথে দুই কাজ করা। বাচ্চা খাচ্ছে বাচ্চার খাবার, আপনি খান আপনার খাবার। আর খেতে খেতে বলেন যে বাবু খাও খাও খাও। এতে তার খাওয়ার অনুপ্রেরণা আরো বাড়বে। মা যে খাচ্ছে সে এটা বুঝতে পারবে।
আর আপনি খুব ভালো মা যে বাচ্চাকে বুকের দুধ দিচ্ছেন। আমরা সবাই দোয়া করি আপনার বাচ্চা বুদ্ধিমান এবং ভালো বাচ্চা হোক। আমরা যে ভালো মানুষ ভালো দেশের কথা চিন্তা করি সেই ভালো দেশের ভালো মানুষ হবে এবং এরাই দেখা যাবে যে সেই ভালো দেশ গড়ছে।