25/02/2025
রিমেম্বার: বন্ধুগণ, সতর্কবাতামুলক পোস্ট গত বছরের ২২ ডিসেস্বর দেয়া হয়েছে। সেখানে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে আমাদের পেইজ থেকে আগাম বলে দেয়া হয়েছে। পড়ে দেখতে পারেন;
বিশেষ সতর্কবার্তা:
ঢাকায় অবস্থানরত জুম্ম শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানান পেশায় জড়িত সকল পাহাড়ি মা-বোন, বাপ-ভাইদের সতর্কতার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, রাস্তাঘাটে সবাই সাবধানতা ও সতর্কতার সহিত চলাফেরা করুন (বিশেষত্ব রাতের আধারে)। আপাতত সময়ে তুচ্ছ কারনে অহেতুক কারোর সাথে ঝামেলায়/তর্কে জড়াবেন না (বুঝে নিবেন)। প্রয়োজনে দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করুন। ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যসহ সার্বিক পরিরিস্থতি বিবেচনায় এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতি প্রত্যাশানুযায়ী সরকারের অনুকূলে নেই এবং আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে পরিস্থিতি আরও অবনতি আশংকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নানান কর্মকান্ডে আলোচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সরকারের আনুকুল্যে থাকা মানুষদের প্রতি জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে। তাছাড়া অদৃশ্য ষড়যন্ত্র তো রয়েছেই। তাই এই মুহুর্তে যথাযতভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বা স্বাভারিক রাখতে সরকারের প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে নতুবা অপারগতা দেখাচ্ছে। প্রশাসন ঠিকমত দায়িত্ব পালনে গড়িমসি করছে। চুরি-ডাকাতি-ছিনটাই বেড়ে গেছে (আরও বাড়বে)। ঘটছে হত্যাকান্ডের মত ঘটনাও ।
উল্লেখ্য, সাপ্তাহখানিক আগেও (১৩ ডিসেম্বর) সংসদ ভবন এলাকায় পাহাড়ি বোনদের ইভটিজিং করলে এবং পাহাড়ি ভাইয়েরা তা প্রতিবাদ জানালে পুলিশ প্রশাসনের সামনে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারপিট করে একদল সংঘবব্ধ তরুণ। আশে-পাশের মানুষজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছিল। এতে সবার সামনে থেকে জিশান চাকমা নামের এক পাহাড়ি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নগদ ৩ (তিন) হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা।
তাছাড়া গত পরশু ভোর সকালে কলাবাগানের (পান্থপথ) বাস কাউন্টারের সামনে থেকে এক পাহাড়ি দম্পতির কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রের সাহায্যে প্রকাশ্যে টাকা-মোবাইল ডাকাতির ঘটনা আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি, জেনেছি। সুতরাং সবাই যার যার অবস্থান থেকে নিরাপদে অবস্থান/চলাফেরা করতে ঢাকাস্থ জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো যাচ্ছে এবং সকলের হিতার্থে নিচে কিছু সতর্কবাণী মেনে চলার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে;
সতর্কবাণী:
(১) অতীব জুরুরী না হলে রাতে ভ্রমণ করা বাদ দিন (হিল-ঢাকা-হিল)
(২) জরুরীভাবে যাতায়াতের প্রয়োজন দেখা দিলে রাত ১০ টার পর বাস কাউন্টারের বাইরে যাবেন না
(৩) রাত ৯ টার পর বাসার বাইরে চলাফেরা/ঘুরাফেরা বাদ দিন এবং যদি জরুরী প্রয়োজনে চলাফেরা/ঘুরাফেরা করতে হয় তাহলে চারিপাশ লক্ষ্য রাখবেন
(৪) রাত ৯ টার পর পাঠাও সেবা পরিহার করুন (প্রধান সড়ক ব্যতীত)
(৫) জুরুরীভাবে পাঠাও /ওবার সেবার প্রয়োজন হলে অলি-গলি-চিপা জায়গা পরিহার করুন
(৬) রাস্তাঘাটে তুচ্ছ কারনে সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে অহেতুক তর্ক এড়িয়ে চলুন (নিজে নির্দোষ হলেও)
(৭) কোন কারনে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের শিকারের আভাস পেলে দ্রুত জনসমাগম স্থলে মিশে যাবেন, সামনে যা পান সেই যানে উঠে পড়বেন, চিৎকার করবেন
(৮) গভীর রাতে যাতে বাইরে যেতে না হয় সেজন্যে খাবার স্যালাইন, জ্বরের ওষুধ, পেট ও মাথা ব্যথার ওষুধসহ মেয়েদের প্রয়োজনীয় ওষুধ বাসায় সংগ্রহে রাখুন
(৯) বাসার বাইরে কোথাও গেলে যথাসম্ভব রুমমেটদের বলে যাবেন এবং আপনার অবস্থানের আপডেট শেয়ার করবেন
(১০) জনশূণ্য জায়গায় গভীর রাতে যদি বিপদে পড়েন (ছিনতাই-ডাকাতি) এবং যদি দেখেন সেখান থেকে উদ্ধার হওয়ার কোন অপশন আপনার হাতে নেই, তাহলে দ্রুত হাতে থাকা মোবাইল-মানিব্যাগ সব দিয়ে নিজের জীবনকে রক্ষা করবেন (এটাই বাস্তবতা)
বিদ্র: লেখাটি শুধুমাত্র জুম্মদের ক্ষেত্রে নয়, সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
(জনস্বার্থে শেয়ার দিন)
ঢাকাস্থ জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার’র সাথে থাকুন