16/03/2026
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ:
লায়ন এম.এস.খান।
মহাসচিব--- MTPS.
আজ সোমবার, হাজার রজনির শ্রেষ্ঠ রজনি পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। মুসলমানদের কাছে এটি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও পুণ্যময় একটি রাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন। পবিত্র কোরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।
"মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি" MTPS. মহাসচিব লায়ন এম.এস.খান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বলেন, এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়। এ রাতের গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরতে পবিত্র কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও আছে। ‘শবেকদর’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ সম্মান, মর্যাদা, গুণ, সম্ভাবনা বা ভাগ্য। সে অর্থে শবেকদর মানে মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনি। আরবিতে একে বলা হয় ‘লাইলাতুল কদর’, যার অর্থ সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত।
এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন,রমজান মাসের শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই এই মহিমান্বিত রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, অন্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদত করলে তার চেয়েও বেশি সওয়াব লাভ করা যায়। এ কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ ও অধিক সওয়াবের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতে রাতটি কাটাবেন।
তিনি আরো বলেন, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।
আসুন আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। বাণীতে তিনি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি, পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত যেন সবার ওপর বর্ষিত হয় এবং দেশ ও জাতি শান্তি, সম্প্রীতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়।