14/04/2026
দেখুন ভাই, যারা এ ধরনের স্বভাবের অধিকারী, তারা জন্মগতভাবেই এমন হয়—হঠাৎ করে নয়।
আপনারা যে ধর্মের দোহাই দিয়ে এসব নিন্দা করছেন, সেই ধর্মে আসলে কী বলা আছে, তা কি সত্যিই যাচাই করেছেন?
“মুখান্নাস” নামে একটি পরিভাষা রয়েছে, যার অর্থ হলো মেয়েলি স্বভাবসম্পন্ন পুরুষ—অর্থাৎ জৈবিকভাবে পুরুষ হলেও যার আচরণ বা প্রকাশভঙ্গি নারীর মতো। যদি এটি জন্মগত বা স্বাভাবিক হয়, তবে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
আপনারা যে হাদিস উল্লেখ করেন—যেখানে রাসুল (সা.) কাউকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন—সেটির একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেখানে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সেই স্বভাবের ছিলেন না; বরং সুযোগ নেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আচরণ করছিলেন। সেই কারণেই তাকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এত বড় অপরাধের পরও কি তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল? না, দেওয়া হয়নি।
আরেকজন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও নির্বাসনের ঘটনা আছে, কারণ সে নারীদের গোপন বিষয় পুরুষদের কাছে প্রকাশ করত।
অন্যদিকে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মুঘল বা উসমানীয় সাম্রাজ্যে এই ধরনের ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক অবস্থানে ছিলেন—বিশেষ করে রাজপরিবারের নারী সদস্যদের ব্যক্তিগত দায়িত্বে।
এখন সমকামিতার শাস্তি নিয়ে যারা অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন, তাদের জন্য প্রশ্ন: শরিয়াহ অনুযায়ী শাস্তি কার্যকর করার শর্ত কী?
যদি প্রকাশ্যে শারীরিক সম্পর্ক ঘটে এবং তা চারজন প্রত্যক্ষ সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, তবেই বিচার সম্ভব। তাও একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা থাকতে হবে। এবং সেই শাস্তি মূলত বিবাহবহির্ভূত যৌনসম্পর্কের (জিনা) বিধানের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ—
অবিবাহিত হলে: ১০০ বেত্রাঘাত
বিবাহিত হলে: রজম (পাথর নিক্ষেপ)
অতএব, বাস্তবতা হলো—এই শাস্তি প্রয়োগের জন্য কঠোর প্রমাণ ও নির্দিষ্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন।
কিন্তু আপনারা সেসব নিয়ে কোনো আলোচনা করেন না। বড় অন্যায় বা সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন না। বরং দুর্বল ও সংখ্যালঘু মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই যেন আপনাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এতে স্পষ্ট হয়—আপনাদের লক্ষ্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা নয়, বরং সুবিধামতো অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার
“মুখান্নাস” বলতে ইসলামি পরিভাষায় সেইসব পুরুষকে বোঝানো হয়, যাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নারীর মতো স্বভাব, আচরণ বা অভিব্যক্তি দেখা যায়। অর্থাৎ তারা জৈবিকভাবে পুরুষ হলেও তাদের চলাফেরা, কথা বলার ভঙ্গি বা আচরণে নারীত্বের প্রকাশ থাকে।
ইসলামি আলোচনায় এই ধরনের ব্যক্তিদের দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—
একদল, যাদের এই স্বভাবটি প্রকৃতিগত বা স্বাভাবিক;
অন্যদল, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে নারীর মতো আচরণ করে।
প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে—অর্থাৎ যাদের স্বভাব প্রকৃতিগত—তাদেরকে গুনাহগার হিসেবে গণ্য করা হয়নি, কারণ এটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো বিষয় নয়। বরং তাদেরকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থার মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে কিছু বর্ণনায় দেখা যায় যে, তারা নারীদের কাছে অবাধে যাতায়াত করতে পারত। এর পেছনে যুক্তি ছিল—তাদের মধ্যে নারীদের প্রতি কোনো যৌন আকাঙ্ক্ষা নেই বলে ধরা হতো, ফলে তারা নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতো না। এই কারণেই কিছু ক্ষেত্রে নারীরা তাদের সামনে পর্দার কঠোরতা শিথিল করত।
তবে এই বিষয়টি সর্বজনীন কোনো বিধান ছিল না; বরং শর্তসাপেক্ষ ছিল। যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে নারীদের প্রতি আকর্ষণ বা অনৈতিক উদ্দেশ্য দেখা যেত, তাহলে তার ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল হয়ে যেত।
অন্যদিকে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের আচরণ করত বা এই পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা বা অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করত, তাদের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। হাদিসে এমন ঘটনাও পাওয়া যায়, যেখানে একজন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, কারণ সে নারীদের ব্যক্তিগত তথ্য পুরুষদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল।
এ থেকে বোঝা যায়, মূল পার্থক্যটি ছিল—স্বভাবগত প্রবণতা ও ইচ্ছাকৃত আচরণের মধ্যে। স্বভাবগত ক্ষেত্রে সহনশীলতা প্রদর্শন করা হয়েছে, আর প্রতারণামূলক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের ক্ষেত্রে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।