09/06/2025
যারা ইসলাম প্র্যাকটিস করেন (আমলে, কাজে, কথায়), যারা আল্লাহর দ্বীনকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন, যারা আল্লাহর দ্বীনের জন্য কাজ করতে চান তাদের জন্য তিনটে কথা:
১.
কোনোভাবেই ‘মিথ্যা’ জিনিসটাকে জীবনে আশ্রয় এবং প্রশ্রয় দিবেন না—মিথ্যেটা যত বড় বীর পালোয়ান এসে আপনার সামনে বলে যাক না কেন৷ ইসলাম দুনিয়াতে এসেছে ‘সত্য’ কে প্রতিষ্ঠিত করতে। কুরআনের এক নাম হলো ‘আল ফুরকান’—সত্য আর মিথ্যের মাঝে পার্থক্যকারী। যারা মিথ্যের আশ্রয় নেয়, মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেয়, মিথ্যাকে পুঁজি করে চলে, তাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। মিথ্যে যাদের পুঁজি, তারা দুনিয়াতে কোনোদিন বিজয়ী হতে পারবে না। এটা আল্লাহরই ওয়াদা। কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন—‘বলুন সত্য এসেছে আর মিথ্যা ধ্বংস হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যার ধর্মই হলো ধ্বংস হওয়া’। (আল ইসরা, ৮১)
২.
কখনোই মনে করবেন না যে—আল্লাহর দ্বীনের জন্য আপনার কাজ/আপনার দলের কাজ/আপনার গোষ্ঠীর কাজ অপরিহার্য কিছু। আপনাকে ছাড়া আল্লাহর দ্বীন এগুতে পারবে না, টিকতে পারবে না, বিজয়ী হতে পারবে না—এমনটা কস্মিনকালেও ভাববেন না৷ আল্লাহর দ্বীন আপনার, আমার, আমাদের কারও কোনো প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল নয়। আপনি যখন ছিলেন না তখনও আল্লাহর দ্বীন ছিল, আপনি যখন থাকবেন না তখনও আল্লাহর দ্বীন থাকবে। উস্তায আহমেদ দিদাত রাহিমাহুল্লাহর একটা চমৎকার কথা এখানে প্রণিধানযোগ্য—
‘ইসলাম বিজয়ী হবেই—তোমাকে সাথে নিয়ে অথবা তোমাকে ছাড়াই। কিন্তু ইসলাম ছাড়া তুমি বিজয়ী হতে পারবে না’।
৩.
মনে রাখবেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শুধুমাত্র বিশুদ্ধ নিয়তের কাজগুলোই কবুল করেন। সংখ্যায় আপনি যত কম হোন না কেন, কাজের পরিমাণ যত তুচ্ছই হোক না কেন, যদি সেটা বিশুদ্ধ নিয়ত আর কেবলমাত্র আল্লাহর দ্বীনের জন্যই হৃদয় থেকে উৎসারিত হয়, তাহলে সেই কাজ একদিন না একদিন ফলের মুখ দেখবেই।
আসহাবে কাহাফের যুবকদের কথা চিন্তা করুন। তারা যখন নিজেদের ঈমান আর দ্বীনের নিরাপত্তার স্বার্থে গুহায় লুকোচ্ছিল, তখন তারা ছিল সংখ্যায় একেবারে অল্প কয়েকজন। গোটা দুনিয়া, গোটা সমাজ তাদের বিপক্ষে। তারপর কী হলো? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের এমন নিরাপত্তা দিলেন যে—প্রাকৃতিক চক্রকেও তিনি উল্টেপাল্টে দিলেন তাদের ওই কয়েকজনের জন্য। তাদের যেদিন ঘুম ভাঙল, সেদিন তারা বিস্ময়ের সাথে দেখল যে—একসময়কার পঁচে যাওয়া সমাজে তখন দ্বীনের সুবাতাস বইছে।
আবার, ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আর ইসমাইল আলাইহিস সালামের কথাই ভাবুন। তারা যখন একটার পর একটা পাথর দিয়ে বাইতুল্লাহর ভিত্তিপ্রস্তর বানাচ্ছিলেন, তখন দুনিয়াতে তারা দুজন ব্যতীত আর কেউ ছিল না দেখার।
সেই নিভৃত একাকী কোণে, বিশুদ্ধ নিয়ত আর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুলের সাথে বানানো সেই ঘরটাকে এখন বিলিয়ন বিলিয়ন মুসলমানেরা তাওয়াফ করে।
তাই, যেকোনো কাজ, হতে পারে সেটা একটা শেয়ার পোস্ট, সেটা কোথাও কোনো মন্তব্য, লাইক অথবা রিঅ্যাকশান, যদি মনে করেন যে দ্বীনের জন্যই আপনার অ্যাক্টিভিজম, তাহলে আঁতশি কাঁচের নিচে নিজের নিয়তটাকে একবার পরখ করে নিতে ভুলে যাবেন না।
~ আরিফ আজাদ