11/05/2025
বড় সমস্যার ছোট সমাধান
১০ মে ২০২৫ তারিখের একটি জাতীয় ইংরেজী দৈনিকে জানলাম দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ব্যবসা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ২৭ এপ্রিল পযর্ন্ত দেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা ১৯,৬২৭ টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৩৫,৫৯৭ টি। বিশেষ প্রতিবেদনে অনুমান করলাম এর জন্য কেউ দায়ী নয়। মালিকগণ বলেছেন তারা আবেদন করেছেন কর্তৃপক্ষ সময়মত লাইসেন্স দিচ্ছে না। আবার কর্তৃপক্ষ বলছেন তাদের পরিদর্শনের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নাই। সে জন্য বাস্তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে লাইসেন্স দেয়া যাচ্ছে না।
এ দেশে সবই সম্ভব। কারণ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালানো যায়, বৈধ নিবন্ধন ছাড়া সড়কে অটোরিকসা চালানো যায়। প্রতিদিন সবাই শুধু স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও আশার কথা বলেন। বাস্তবে ফলাফল অতি নগন্য। আলোচ্য বিষয়ে একটি সহজ সমাধান করা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নতুনভাবে করা বা নবায়ন করার ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি চালু করা যায়। ধাপসমূহ নিম্নরূপঃ
(১) নবায়নের জন্য যে সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রয়োজন তা হলোঃ (ক) নতুন বা হালনাগাদ নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্স; (খ) স্বত্বাধিকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র, টিআইএন, ব্যাংক একাউন্ট, ইমেইল, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, মোবাইল নাম্বার; (গ) প্রয়োজনীয় অফিস বা স্থাপনার বৈধ মালিকানা বা ভাড়ার চুক্তিপত্র; (ঘ) যন্ত্রপাতির মৌলিক তথ্যাবলী; (গ) লোকবল ও বিশেষজ্ঞদের বিস্তারিত তথ্যাবলী; (ঙ) নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা; (চ) স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত একজন চিকিৎসকের সনদপত্র; (ছ) নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদানের রশিদ বা মোবাইল বা কার্ডের মাধ্যেমে পরিশোধ করা হলে ট্রানজেকশনের প্রমাণক।
(২) স্বত্বাধিকারী বা তার পক্ষে যে কোন একজন অনলাইনে গুগল সীটে নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণ করবেন। সবগুলো ঘর যথাযথভাবে পূরণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত আসবে। নির্ধারিত অনলাইন ফরম পূরণ করার পর স্বত্বাধিকারী আবেদন পত্রটি সাবমিট করবেন। স্বয়ংক্রিভাবে তার নিকট প্রাপ্তি স্বীকারের ম্যাসেজ চলে যাবে। প্রয়োজনে এ ভাবে তার নামে একটি ই-সনদ চলে যাবে। এ সনদের মাধ্যমে তিনি ব্যবসা করতে থাকবেন। ই-সনদের একটি ইউনিক নাম্বার থাকবে যা দিয়ে ওয়েবসাইট বা ইউটিউবে ঐ প্রতিষ্ঠানকে সনাক্ত করা যাবে।
(3) কোন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সেবা বা পরীক্ষার মান সম্পর্কে কোন অভিযোগ উত্থাপন করলে বা গণমাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন প্রতিবেদন প্রকাশ হলে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সবার আগে প্রয়োজন আমাদের মানবিকতার পরিবর্তন । সবকিছু ঢাকা থেকে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে সব ব্যক্তি পরিদর্শন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন তাদের নীতি-নৈতিকতার নিশ্চয়তা কতটুকু? তার চেয়ে ভাল মেশিন লার্নিং বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের সহায়তায় নেয়া। নতুন লাইসেন্স করা বা পুরনো লাইসেন্স নবায়ন করার পদ্ধতি যত সহজ হবে ততবেশি মানুষ সেবা পাবে। সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়ে যাবে। বৃদ্ধি পাবে জিডিপিতে স্থানীয় সম্পদের যোগান। ব্যবসা বলি আর বিনিয়োগ বলি মানুষের মনের ভাষা বুঝতে হবে। সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। তবেই সমাজে সুশাসন নিশ্চিত হবে।
ড. আবুল হোসেন
সাবেক সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ইমেইল: [email protected]