Quantum Voluntary Blood Donation Program

Quantum Voluntary Blood Donation Program Donate blood, Save lives [Official Page]

রক্তদান মহৎ, কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অসংখ্য রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত সঞ্চালন...
10/06/2026

রক্তদান মহৎ, কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরো গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অসংখ্য রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত সঞ্চালন করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, প্রসূতি মা, ক্যান্সার রোগী, অস্ত্রোপচাররত রোগী কিংবা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়—যে রক্ত দেওয়া হচ্ছে, সেটি কতটা নিরাপদ?

একটি ব্যাগ রক্ত জীবন বাঁচাতে পারে, আবার সঠিক পরীক্ষা ছাড়া সেই রক্তই নতুন রোগ, জটিলতা বা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

বিশুদ্ধ বা নিরাপদ রক্ত বলতে কী বোঝায়?

অনেকেই মনে করেন, রক্তে কোনো রোগ না থাকলেই সেটি নিরাপদ।
বাস্তবে নিরাপদ রক্তের তিনটি মৌলিক শর্ত রয়েছে—

রক্তটি হতে হবে—
১. সংক্রমণমুক্ত
২. সঠিক রক্তের গ্রুপ
৩. রোগীর শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ

কেন রক্ত পরীক্ষা করা হয়?

একজন মানুষ দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও তার রক্তে এমন ভাইরাস বা জীবাণু থাকতে পারে, যা তিনি নিজেও জানেন না।
এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) রক্ত সঞ্চালনের আগে কিছু বাধ্যতামূলক সংক্রমণ পরীক্ষা করার সুপারিশ করে।

WHO সুপারিশকৃত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

HIV (এইচআইভি)
Hepatitis B (হেপাটাইটিস বি)
Hepatitis C (হেপাটাইটিস সি)
Syphilis (সিফিলিস)
Malaria (ম্যালেরিয়া—বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে)

ICT ও ELISA : কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশসহ অনেক দেশে রক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ICT এবং ELISA পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

ICT (Immunochromatographic Test):
এটি দ্রুত ফলাফল দেয় এবং প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের জন্য কার্যকর। তবে কিছু ক্ষেত্রে খুব প্রাথমিক সংক্রমণ শনাক্ত করার সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

ELISA (Enzyme-Linked Immunosorbent Assay):
ELISA তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল এবং নির্ভরযোগ্য। ভাইরাস বা সংক্রমণের ক্ষুদ্র উপস্থিতিও শনাক্ত করার সক্ষমতা বেশি হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত।

NAT Testing : আধুনিক নিরাপত্তার আরেক ধাপ

উন্নত দেশগুলোতে অনেক ব্লাড ব্যাংক এখন NAT (Nucleic Acid Testing) ব্যবহার করে।
এই প্রযুক্তি ভাইরাসের জিনগত উপাদান শনাক্ত করতে পারে।

শুধু গ্রুপ মিললেই কি যথেষ্ট?
উত্তর হলো না।
রোগীর শরীর ও দাতার রক্তের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে থ্রি-ফেজ ক্রস ম্যাচিং করাও দরকার।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয়, রোগীর শরীরে এমন কোনো অ্যান্টিবডি আছে কি না, যা দাতার রক্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে তা পরীক্ষা করা হয়।

ভুল বা অপরীক্ষিত রক্ত কতটা বিপজ্জনক?

HIV সংক্রমণ
হেপাটাইটিস বি অথবা সি
সিফিলিস
ম্যালেরিয়া
তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
হেমোলাইটিক ট্রান্সফিউশন রিঅ্যাকশন
কিডনি বিকল হওয়া
বহু অঙ্গ বিকল হওয়া
এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে।

এক ব্যাগ রক্তের নিরাপত্তার আট ধাপ

একটি নিরাপদ রক্ত রোগীর শরীরে পৌঁছানোর আগে সাধারণত কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে—

১. রক্তদাতা নির্বাচন
২. স্বাস্থ্য ইতিহাস যাচাই
৩. রক্ত সংগ্রহ
৪. সংক্রমণ পরীক্ষা (ICT, ELISA বা NAT)
৫. রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ
৬. থ্রি-ফেজ ক্রস ম্যাচিং
৭. সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ
৮. রোগীর শরীরে সঞ্চালন

রক্ত নেওয়ার আগে রোগী বা স্বজনদের জানা উচিত—

রক্ত কোথায় পরীক্ষা হয়েছে
WHO-স্বীকৃত স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে কি না
ক্রস ম্যাচিং করা হয়েছে কি না
রক্ত সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না।
এসব প্রশ্ন করা রোগীর অধিকার এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।

রক্তদান একটি মহৎ কাজ, কিন্তু নিরাপদ রক্তদান আরও বড় দায়িত্ব। একটি ব্যাগ রক্তের পেছনে থাকে বিজ্ঞান, পরীক্ষা, সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতার সমন্বয়।
কারণ রক্তের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক রোগীর জন্য সঠিকভাবে পরীক্ষিত রক্ত নিশ্চিত করা।

উন্নত বিশ্বে ব্লাড স্টক, আর আমাদের দেশে ডোনার খোঁজারক্তের প্রয়োজন কখনও আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে আসে না—এটা আসে হঠাৎ, অনেক সময়...
10/06/2026

উন্নত বিশ্বে ব্লাড স্টক, আর আমাদের দেশে ডোনার খোঁজা

রক্তের প্রয়োজন কখনও আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে আসে না—এটা আসে হঠাৎ, অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে সংকট মুহূর্তে।
আর তখনই শুরু হয় এক ধরনের অস্থিরতা, দৌড়ঝাঁপ আর দ্রুত সিদ্ধান্তের লড়াই।

দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে এই দৃশ্য খুবই পরিচিত : “কোনো ডোনার পাওয়া যাচ্ছে না”, “এই ব্লাড গ্রুপ লাগবে এখনই”—এই বাক্যগুলো অনেক পরিবারের বাস্তবতা।

কিন্তু পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে এই পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্নভাবে সামলানো হয়। সেখানে রক্তকে “তাৎক্ষণিক খোঁজার জিনিস” হিসেবে নয় বরং
“আগে থেকেই প্রস্তুত একটি মেডিকেল রিসোর্স” হিসেবে দেখা হয়।

আসুন দেখা যাক রক্তদান অন্যান্য দেশে কেমন—

১. জাপান:
এখানে রক্ত সংগ্রহের পর তা সম্পূর্ণভাবে কঠোর পরীক্ষার (HIV, Hepatitis, Syphilis সহ একাধিক স্ক্রিনিং) মধ্য দিয়ে যায় এবং ব্লাড ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। জরুরি অবস্থায় ডোনার খোঁজার প্রয়োজন খুব কমই পড়ে।

২. দক্ষিণ কোরিয়া:
বিশ্ববিদ্যালয়, সামরিক বাহিনী ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করে। এখানে রক্তদানকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়।

৩. সিঙ্গাপুর:
এ দেশে রক্তদান ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও সংগঠিত। ডিজিটাল ডাটাবেজে ডোনার ট্র্যাকিং, রিয়েল-টাইম ব্লাড ইনভেন্টরি ব্যবস্থার মাধ্যম রক্ত সরবরাহ করা হয়।

৪. চীন:
রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বেচ্ছা রক্তদানকে উৎসাহিত করা হয়। বড় শহরগুলোতে আধুনিক ব্লাড ব্যাংক, মোবাইল কালেকশন ইউনিট এবং নিয়মিত ক্যাম্পের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।

উন্নত দেশগুলোতে “ইনস্ট্যান্ট ডোনেশন” নেই কেন?

এই দেশগুলোতে জরুরি মুহূর্তে রক্ত খোঁজার সংস্কৃতি নেই, কারণ—

রক্ত আগে থেকেই সংগ্রহ করা থাকে
প্রতিটি রক্ত কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়
ব্লাড ব্যাংকে সংরক্ষিত রক্ত নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হয়
হাসপাতালভিত্তিক ব্লাড ব্যাংক শক্তিশালী
রক্তকে উপাদানে ভাগ করে (RBC, Plasma, Platelet) ব্যবহার করা হয়
ডিজিটাল সিস্টেমে স্টক ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা হয়

গোল্ডেন আওয়ার : কেন সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

দুর্ঘটনা বা রক্তক্ষরণজনিত রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম ১ ঘণ্টা (Golden Hour) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক রক্ত না পেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। উন্নত দেশগুলো এই ঝুঁকি কমিয়েছে আগেভাগে ব্লাড স্টক রেখে।

এক ব্যাগ রক্ত কত বড় শক্তি?

এক ব্যাগ রক্ত সাধারণত তিনটি ভাগে ব্যবহার করা যায়—

RBC (লাল রক্তকণিকা)→ রক্তস্বল্পতা
Plasma→ রক্ত জমাট ও শক ম্যানেজমেন্ট
Platelet→ ক্যান্সার বা কেমোথেরাপি রোগী
অর্থাৎ একটি রক্তদান একাধিক জীবন বাঁচাতে পারে।

বাংলাদেশ বা অনেক উন্নয়নশীল দেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ ব্লাডের অবকাঠামো সীমিত।
কারণ এখানে—

দুর্ঘটনা
প্রসূতি জটিলতা
থ্যালাসেমিয়া
ক্যান্সার
জরুরি সার্জারি

এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ডোনার পাওয়া জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে ইনস্ট্যান্ট রক্তদান এখনো একটি বাস্তব ও জরুরি মানবিক ব্যবস্থা।

ভবিষ্যতে কী হওয়া উচিত?

মানুষকে রক্ত খুঁজতে হবে না
ব্লাড ব্যাংকে সবসময় পর্যাপ্ত স্টক থাকবে
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রক্তের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে
নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদান হবে সামাজিক সংস্কৃতি

শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা একটাই—
উন্নত দেশগুলো প্রস্তুতি দিয়ে জীবন বাঁচায়, আর অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখনো জরুরি মুহূর্তের মানবিক দৌড়ঝাঁপের ওপর নির্ভর করে।
লক্ষ্য একটাই—জীবন বাঁচানো।

১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে বরাবরের মতোই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজন করছে রক্তদাতা-রক্তগ্রহীতা মিলনমেলা ও তরুণ রক্ত...
09/06/2026

১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে বরাবরের মতোই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজন করছে
রক্তদাতা-রক্তগ্রহীতা মিলনমেলা ও তরুণ রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে আন্তরিক আমন্ত্রণ

থ্যালাসেমিয়া : এক ব্যাগ রক্তের অপেক্ষায় হাজারো জীবনের লড়াইআট বছরের রাফি মাসে একবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকে এক ব্যাগ...
09/06/2026

থ্যালাসেমিয়া : এক ব্যাগ রক্তের অপেক্ষায় হাজারো জীবনের লড়াই

আট বছরের রাফি মাসে একবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকে এক ব্যাগ রক্তের অপেক্ষায়। তার বয়সী অন্য শিশুরা যখন স্কুল, খেলাধুলা আর বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত,
তখন রাফির পরিবারের সবচেয়ে বড় চিন্তা—এই মাসে রক্ত পাওয়া যাবে তো?

রক্ত না পেলে রাফি দুর্বল হয়ে পড়ে।
স্কুলে যেতে পারে না, হাঁটতেও কষ্ট হয়। তার এই অপেক্ষা এক মাসের নয়, এক বছরের নয়—জন্মের পর থেকেই চলমান। কারণ রাফি একজন থ্যালাসেমিয়া রোগী।

বাংলাদেশে রাফির মতো হাজারো শিশু, কিশোর ও তরুণ আজ বেঁচে আছেন অজানা কিছু স্বেচ্ছা রক্তদাতার মানবিকতার ওপর ভর করে। তাই বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের কথা নতুন করে স্মরণ করা প্রয়োজন। কারণ তাদের জন্য রক্তদান কেবল একটি মানবিক কাজ নয়; এটি জীবন বাঁচানোর অন্যতম উপায়।

থ্যালাসেমিয়া কী?

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। এ রোগে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে তখন রোগী দীর্ঘমেয়াদি রক্তশূন্যতায় ভোগে। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
তবে এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে জিনগত বা বংশগত রোগ।

বাংলাদেশের বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অধিকাংশ মানুষ জানেনই না যে, তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক। ফলে অজ্ঞাতসারেই দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া ছড়িয়ে পড়ছে।

কেন হয় থ্যালাসেমিয়া?

থ্যালাসেমিয়ার মূল কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ জিন।
যদি বাবা ও মা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তাহলে তাদের সন্তানের—

>২৫ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার
>৫০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে বাহক হওয়ার এবং
>২৫ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার।

থ্যালাসেমিয়া বাহক মানেই রোগী নয়

বাংলাদেশে একটি বড় ভুল ধারণা হলো, থ্যালাসেমিয়া বাহক মানেই অসুস্থ ব্যক্তি।
বাস্তবে অধিকাংশ বাহক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন দুইজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হয়।
আর এখানেই প্রয়োজন সচেতনতার।

কীভাবে বুঝবেন কেউ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত?

অতিরিক্ত দুর্বলতা
ফ্যাকাশে চেহারা
ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
শ্বাসকষ্ট
বারবার অসুস্থ হওয়া
পেট ফোলা
প্লীহা ও যকৃত বড় হয়ে যাওয়া
হাড়ের গঠনে পরিবর্তন।

কেন নিয়মিত রক্ত লাগে?

থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগীদের শরীর পর্যাপ্ত সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না।
ফলে তাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন দ্রুত কমে যায়। এই ঘাটতি পূরণ করার জন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন হয়।
বেশিরভাগ রোগীকে প্রতি ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পরপর রক্ত নিতে হয়।
একজন থ্যালাসেমিয়া রোগী বছরে ১২ থেকে ২৪ ব্যাগ বা তারও বেশি রক্ত গ্রহণ করতে পারেন।

সময়মতো রক্ত না পেলে কী হয়?

মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
শরীর ভেঙে পড়ে
হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে
লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যায়
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়
শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।

একটি পরিবারের নীরব সংগ্রাম

থ্যালাসেমিয়া শুধু একটি রোগ নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
একজন রোগীর জন্য নিয়মিত রক্ত সংগ্রহ, হাসপাতাল যাওয়া, ওষুধ, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয় অনেক পরিবারকে চরম আর্থিক চাপে ফেলে।
অনেক বাবা-মা মাসের পর মাস শুধু একটি ব্যাগ রক্তের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান।

রক্তের কোনো বিকল্প নেই

বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আজ অনেক বিস্ময়কর আবিষ্কার করেছে। কিন্তু এখনও মানুষের রক্তের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
এটি কোনো কারখানায় রক্ত উৎপাদন করা যায় না। মানুষের রক্ত শুধুমাত্র মানুষের কাছ থেকেই পাওয়া যায়।

প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় সমাধান—

বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং বা রক্ত পরীক্ষা করলে ঝুঁকি সম্পর্কে জানা সম্ভব।

এটি সাধারণত—

CBC,
Hb Electrophoresis,
এবং প্রয়োজন অনুযায়ী HPLC পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক শনাক্ত করা যায়।

যদি বিয়ের আগে দুইজন মানুষ জানতে পারেন যে তারা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক, তাহলে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভবিষ্যৎ সন্তান সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
অনেক দেশ ইতোমধ্যে প্রি-ম্যারিটাল থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।

আমাদের করণীয়—

১. নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করা
২. নিরাপদ রক্তদাতা তৈরি করা
৩. বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করা
৪. পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
৫. থ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি সহমর্মী হওয়া
৬. নিয়মিত রক্তদাতাদের সম্মানিত করা।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের অঙ্গীকার

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস শুধু রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন নয়; এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্ব স্মরণ করার দিনও।

আজকের একটি রক্তদান হয়তো কোনো থ্যালাসেমিয়া শিশুকে আরেকটি মাস বাঁচার শক্তি দেবে, স্কুলে ফেরার সুযোগ দেবে, স্বপ্ন দেখার সাহস দেবে।
আসুন, আমরা নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করি। একই সঙ্গে বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করার সংস্কৃতি গড়ে তুলি।

জীবন বাঁচানোর স্বেচ্ছাসেবী হোন১৯৯৬ সালে শুরু হয় কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম। ২০০০ সালে কোয়ান্টাম ল্যাব যাত্রা শ...
03/06/2026

জীবন বাঁচানোর স্বেচ্ছাসেবী হোন
১৯৯৬ সালে শুরু হয় কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম।
২০০০ সালে কোয়ান্টাম ল্যাব যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মিশন ছিল নিরাপদ ও বিশুদ্ধ রক্তের অভাবে কোনো রোগী যেন মারা না যায়।
কোয়ান্টাম ল্যাবে একজন দাতা রক্ত দেয়ার পর সে রক্ত রোগীর জন্যে নিরাপদ কি না তা যাচাই করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নির্ধারিত পাঁচটি রোগের টেস্ট করা হয়। টেস্টগুলো হলো-
১) এইচআইভি
২) হেপাটাইটিস বি
৩) হেপাটাইটিস সি
৪) সিফিলিস
৫) ম্যালেরিয়া
কোয়ান্টামের মতো স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোতে থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত নিম্নবিত্ত রোগীদের ভিড় অনেক বেশি।
কারণটা সহজ। বিশুদ্ধ রক্ত নিশ্চিত করার জন্যে WHO নির্ধারিত যে পাঁচটি টেস্ট এবং ক্রস ম্যাচিং করাতে হয়, হাসপাতালগুলোতে তার প্রসেসিং চার্জ অনেক বেশি। নিম্নবিত্ত রোগীদের সে সামর্থ্য নেই।
তাই ন্যূনতম প্রসেসিং চার্জে আর দানের অর্থে সামর্থ্যহীনদের বিনা প্রসেসিং চার্জে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ রক্ত সরবরাহ করে আসছি আমরা গত ২৭ বছর ধরে। দিন রাত ২৪ ঘণ্টা। বছরে ৩৬৫ দিন।
এ কার্যক্রমে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কিছু সময় ব্যয় করে আপনার জীবনের সেরা একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আপনি।
যদি আপনি হয়ে থাকেন মেডিকেল/ সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বয়স ২৫-এর কম তাহলে এখনই রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন।
একটা ভাইভার পর আপনি সুযোগ পাবেন নির্দিষ্ট কাজে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেয়ার। মানুষের জীবন বাঁচানোর মত মহৎ কাজে অংশ নেয়ার সওয়াবের পাশাপাশি পাবেন ভলান্টিয়ার সার্টিফিকেট!
মেডিকেল শিক্ষার্থীরা যুক্ত হতে পারবেন প্রিকিং ও মেডিকেল সাপোর্ট কার্যক্রমে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন মোটিভেশন, ক্যাম্প পরিচালনা ও সচেতনতা কার্যক্রমে।
ভলেন্টিয়ারিং সময়কাল: ১৫ জুন – ০৩ জুন ২০২৬
সার্টিফিকেটের জন্যে অংশ নিতে হবে ন্যূনতম ২০ ঘণ্টা
মেডিকেল শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে: https://forms.gle/sm2J6ogxo1ehbSLG8
সাধারণ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে: https://forms.gle/G82P1picD5RB3HDX6
বিস্তারিত: 01712-102154
#কোয়ান্টাম #কোয়ান্টামল্যাব #ব্লাডল্যাব #কোয়ান্টামব্লাডল্যাব #স্বেচ্ছায়রক্তদান #ভলেন্টিয়ার #বিশ্বরক্তদাতাদিবস See less

জীবন বাঁচানোর স্বেচ্ছাসেবী হোন১৯৯৬ সালে শুরু হয় কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম। ২০০০ সালে কোয়ান্টাম ল্যাব যাত্রা শ...
03/06/2026

জীবন বাঁচানোর স্বেচ্ছাসেবী হোন
১৯৯৬ সালে শুরু হয় কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম।
২০০০ সালে কোয়ান্টাম ল্যাব যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মিশন ছিল নিরাপদ ও বিশুদ্ধ রক্তের অভাবে কোনো রোগী যেন মারা না যায়।
কোয়ান্টাম ল্যাবে একজন দাতা রক্ত দেয়ার পর সে রক্ত রোগীর জন্যে নিরাপদ কি না তা যাচাই করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নির্ধারিত পাঁচটি রোগের টেস্ট করা হয়। টেস্টগুলো হলো-
১) এইচআইভি
২) হেপাটাইটিস বি
৩) হেপাটাইটিস সি
৪) সিফিলিস
৫) ম্যালেরিয়া
কোয়ান্টামের মতো স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোতে থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত নিম্নবিত্ত রোগীদের ভিড় অনেক বেশি।
কারণটা সহজ। বিশুদ্ধ রক্ত নিশ্চিত করার জন্যে WHO নির্ধারিত যে পাঁচটি টেস্ট এবং ক্রস ম্যাচিং করাতে হয়, হাসপাতালগুলোতে তার প্রসেসিং চার্জ অনেক বেশি। নিম্নবিত্ত রোগীদের সে সামর্থ্য নেই।
তাই ন্যূনতম প্রসেসিং চার্জে আর দানের অর্থে সামর্থ্যহীনদের বিনা প্রসেসিং চার্জে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ রক্ত সরবরাহ করে আসছি আমরা গত ২৭ বছর ধরে। দিন রাত ২৪ ঘণ্টা। বছরে ৩৬৫ দিন।
এ কার্যক্রমে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কিছু সময় ব্যয় করে আপনার জীবনের সেরা একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আপনি।
যদি আপনি হয়ে থাকেন মেডিকেল/ সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বয়স ২৫-এর কম তাহলে এখনই রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন।
একটা ভাইভার পর আপনি সুযোগ পাবেন নির্দিষ্ট কাজে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেয়ার। মানুষের জীবন বাঁচানোর মত মহৎ কাজে অংশ নেয়ার সওয়াবের পাশাপাশি পাবেন ভলান্টিয়ার সার্টিফিকেট!
মেডিকেল শিক্ষার্থীরা যুক্ত হতে পারবেন প্রিকিং ও মেডিকেল সাপোর্ট কার্যক্রমে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন মোটিভেশন, ক্যাম্প পরিচালনা ও সচেতনতা কার্যক্রমে।
ভলেন্টিয়ারিং সময়কাল: ১৫ জুন – ৩০ জুন ২০২৬
সার্টিফিকেটের জন্যে অংশ নিতে হবে ন্যূনতম ২০ ঘণ্টা
মেডিকেল শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে: https://forms.gle/sm2J6ogxo1ehbSLG8
সাধারণ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে: https://forms.gle/G82P1picD5RB3HDX6
বিস্তারিত: 01712-102154
#কোয়ান্টাম #কোয়ান্টামল্যাব #ব্লাডল্যাব #কোয়ান্টামব্লাডল্যাব #স্বেচ্ছায়রক্তদান #ভলেন্টিয়ার #বিশ্বরক্তদাতাদিবস See less

03/06/2026

"আমার বাবার ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন ছিল"- স্বেচ্ছায় রক্তদাতা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।

#ব্লাডল্যাব #কোয়ান্টামল্যাব

পবিত্র ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছাঈদ মোবারককোরবানির সামাজিকায়নে থাকুক কল্যাণ বহমান     োবারক    #কোরবানির_সামাজিকায়ন   #ত্যাগের...
27/05/2026

পবিত্র ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছা

ঈদ মোবারক
কোরবানির সামাজিকায়নে থাকুক কল্যাণ বহমান

োবারক #কোরবানির_সামাজিকায়ন #ত্যাগের_মহিমা #কল্যাণ_বহমান

রক্ত দেয়ার পরেবিশ্রাম নিনএকটু বিশ্রাম নিন। রক্ত দেয়ার সাথে সাথেই বেরিয়ে যাবেন না বা গাড়ি চালাবেন নাপানি খান প্রচুরদেহের ...
24/05/2026

রক্ত দেয়ার পরে

বিশ্রাম নিন
একটু বিশ্রাম নিন। রক্ত দেয়ার সাথে সাথেই বেরিয়ে যাবেন না বা গাড়ি চালাবেন না

পানি খান প্রচুর
দেহের মোট ওজনের অাট ভাগই রক্ত। আর রক্তের ৫৫ ভাগই হলো রক্তরস বা প্লাজমা, যার ৯০ ভাগই আসলে পানি। সুতরাং আপনি যে রক্ত দেন তার ওজন এক পাইন্টের কম হলেও আসলে এর অর্ধেকটাই পানি। এজন্যেই রক্ত দেয়ার আগে এবং পরে আমরা পর্যাপ্ত পানি খেতে বলি (অন্তত ৫০০ মিলিলিটার)। তাহলেই রক্ত দেয়ার পর ক্ষয়টা দ্রুত পুষিয়ে যায়।

প্রোটিন ও শর্করাজাতীয় খাবার
বেশ পরিমাণ প্রোটিন এবং শর্করা আছে এমন খাবার ও পানীয় খেতে পারেন। যেমন, জুস বা শরবত। কোয়ান্টাম ল্যাবে রক্তদানের পরপরই আমরা ডোনারদের গ্লুকোজ দিয়ে থাকি। এটা খুবই উপযোগী।

ধূমপান ও মদ্যপান
রক্তদানের পরপরই ধূমপান ও মদ্যপান করবেন না।

ব্যায়াম ও শারীরিক কসরত
রক্তদানের পরপরই যেকোনো ধরনের ব্যায়াম যেমন, জিমন্যাসিয়াম এবং নাচ বা দৌঁড়ের মতো শারীরিক কসরতের কাজ করবেন না।

জ্ঞান হারিয়ে ফেললে
রক্তদানের পর কাউকে কাউকে অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখি আমরা। এটা হয় সাধারণত লো ব্লাড প্রেশারের কারণে। ঘাড়ের ধমনীতে ব্যারোরিসিপটর নামে বিশেষ একধরনের নার্ভসেলের কারণে রক্ত দেয়ার পর পরই দেহে খবর হয়ে যায় যে, রক্তচাপ কমে গেছে। এই শূন্যতা পূরণের জন্যে রক্তকণিকাগুলো তখন সংকুচিত হয় এবং রক্তচাপকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। আর রক্ত দেয়ার পর পরই কেউ যদি দ্রুত উঠে যান বা হাঁটতে শুরু করেন, তখন আকস্মিক রক্তচাপ নেমে যাওয়ার ফলে কারো কারো শরীরটাকে হালকা মনে হতে পারে, অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। এটাকে এড়ানোর জন্যে যা করতে পারেন তাহলো, রক্ত দেয়ার পর পরই না উঠে কিছুক্ষণ সটান হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে, এসময় মাথার নিচে যেন কোনো বালিশ বা উঁচু কিছু না থাকে। কারণ মাথাটাকে রাখতে হবে হার্টের লেভেলে, যাতে হার্ট থেকে ব্রেনে পর্যাপ্ত রক্ত যেতে পারে। আর নামার আগে কিছুক্ষণ পা ঝুলিয়ে বিছানায় বসে থাকতে পারেন। আর তারপরও যদি আপনার কোনো অসুবিধা হয়, সেটা দেখার জন্যে আমাদের রয়েছেন উপস্থিত চিকিৎসকগণ।

অপেক্ষা কেন?
একবার রক্ত দেয়ার পর পরবর্তী ছয় থেকে ১২ সপ্তাহ পর আপনি আবার রক্ত দিতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে সাধারণত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। প্রশ্ন হলো, কেন এ সময়টা লাগে? আসলে শ্বেতকণিকা বা অনুচক্রিকার ক্ষয়টা পূরণ হয়ে গেলেও লোহিতকণিকার ক্ষয় পূরণ হতে কিছুটা সময় লাগে। আর লোহিত কণিকার সাথে সুস্থতার একটা সম্পর্ক আছে। কারণ লোহিত কণিকায় থাকে হিমোগ্লোবিন অণু, যার প্রধান কাজই হলো সারাদেহে অক্সিজেন বয়ে নিয়ে যাওয়া। আর হিমোগ্লোবিনে থাকে আয়রন, রক্ত দেয়ার সময় যা কিছুটা হারায়। এটা পূরণ করার জন্যে তখন একদিকে দেহের লৌহভাণ্ডার বেশি বেশি ব্যবহৃত হয়, অন্যদিকে খাবার এবং পানীয় থেকে তৈরি হতে থাকে বেশি বেশি আয়রন।

#রক্তদানেরপরকরণীয় #রক্তদানমহৎদান

23/05/2026

আমাদের বিলাসিতা বনাম অভাবীদের ঈদ

ঈদ আসলেই শহরের মার্কেটগুলো যেন উন্মাদনায় জেগে ওঠে।
শাড়ি, থ্রি-পিস, গাউন, জুতা, গহনা, কসমেটিকস—সবকিছুর ওপর শুরু হয় নতুন করে “চাই, চাই” উৎসব। অথচ বাস্তবতা হলো, অনেকের আলমারি ইতোমধ্যেই ভর্তি। এমন পোশাকও আছে, যেগুলোর ট্যাগ পর্যন্ত খোলা হয় নি। তবুও ঈদ এলেই নতুন পোশাক কিনতেই হবে।
কেন?

কারণ, এটা এখন আর প্রয়োজন নয়—এটা অভ্যাস।
ধীরে ধীরে এই কেনাকাটা মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। এমন এক মানসিকতা, যেখানে “আছে” যথেষ্ট নয়, “নতুন” চাই। একটি জামা একবার ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট হয়েছে মানেই সেটি যেন পুরনো হয়ে গেছে। আবার নতুন কিছু না কিনলে যেন ঈদই পূর্ণ হয় না।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, মানুষ এখন নিজের প্রয়োজন দেখে নয়, অন্যের জীবন দেখে কেনাকাটা করেন।
“ও কিনেছে, আমাকেও কিনতে হবে।”
“ঈদ লুক” দিতে হবে।
“আনবক্সিং” করতে হবে।
“শপিং ব্লগ” বানাতে হবে।
সোশাল মিডিয়া এমন এক প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ নিজের সামর্থ্য নয়, অন্যের প্রদর্শনী দেখে জীবন চালাতে শুরু করেছেন।

অনেকে আবার শুধু সমাজে মান রাখার জন্য ঋণ করে ঈদের শপিং করেন। কিস্তিতে পোশাক কেনেন, ধার করে গহনা নেন। অথচ ঈদের পর সেই ঋণের চাপই তাদের সংসারে অশান্তি ডেকে আনে। যে ঈদ শান্তি ও কৃতজ্ঞতার হওয়ার কথা, সেটাই হয়ে যায় দুশ্চিন্তার কারণ।

আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো—এই সংস্কৃতি আমাদের শিশুদের মধ্যেও ঢুকে যাচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই তারা শিখছে, “নতুন জামা না হলে ঈদ না।”
ফলে ঈদের মূল শিক্ষা—ত্যাগ, কৃতজ্ঞতা, ভাগাভাগি—এসব হারিয়ে গিয়ে জায়গা নিচ্ছে ভোগ আর প্রদর্শনী।

অথচ এই সমাজেই এমন অসংখ্য মানুষ আছে্ন, যারা কোরবানি দিতে পারেন না।
কিন্তু তারা মুখ ফুটে কাউকে বলতেও পারেন না।
তাদেরও সন্তান আছে।
তাদেরও ঈদ আসে।
ঈদের দিন পাশের বাসায় মাংস রান্নার গন্ধ যায়, কিন্তু তাদের হাঁড়ি খালি থাকে।
তারা সাহায্য চাইতে পারে না, কারণ অভাবের থেকেও বড় তাদের আত্মসম্মান।

আপনি যে অতিরিক্ত পোশাকটি কিনছেন, সেটির দাম হয়তো একটি পরিবারের কোরবানির অংশ হতে পারত।
একটি ব্র্যান্ডের জুতার দামে হয়তো কোনো এতিম শিশুর ঈদ হাসিতে ভরে উঠত।
একটি কসমেটিকস সেটি কম কিনলে হয়তো কোনো বিধবা মা তার সন্তানকে নিয়ে ঈদের দিন ভালো খাবার খেতে পারতেন।

বিশেষ করে এখন চলছে যিলহজ্জ মাস—ইসলামের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সময়। এই মাসে দান, সদকা, কোরবানি ও নেক আমলের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূল (স) বলেছেন, যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমল আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
তাহলে এই সময়টাকে কি আমরা শপিং ব্যাগে ভরিয়ে ফেলব, নাকি অভাবীদের মুখে হাসি ফোটানোর সুযোগ হিসেবে নেব?

ইসলাম সৌন্দর্যকে অপছন্দ করে না। পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পোশাক ইসলামের অংশ। কিন্তু ইসলাম অপচয়, অহংকার ও বিলাসিতাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” — সূরা বনী ইসরাইল : ২৭

বিলাসিতা মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে কঠিন করে দেয়।
অতিরিক্ত ভোগ মানুষকে অকৃতজ্ঞ বানিয়ে ফেলে।
যে মানুষ সবসময় “আরো চাই” মানসিকতায় বাঁচে, তার জীবনে কখনো তৃপ্তি আসে না। রিযিকের বরকতও কমে যায়। ঘরে জিনিস বাড়ে, কিন্তু শান্তি কমে।

এই ঈদে হয়তো আমাদের একটু থামা দরকার।
নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—
আলমারিতে এত কিছু থাকার পরও কেন নতুন চাই?
এটা কি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি শুধু অভ্যাস?

Address

Quantum Lab, 31/V Shilpacharya Zainul Abedin Road, Shantinagar
Dhaka
1217

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Quantum Voluntary Blood Donation Program posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Quantum Voluntary Blood Donation Program:

Share