16/03/2024
আ-ত্ম-হ-ত্যা নিয়ে কথা হচ্ছে প্রচুর। মাঝেমধ্যেই আ-ত্ম-হ-ত্যা-র কিছু ঘটনা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়ে যায় এবং তখন এরকম আলোচনা হয় কয়েকদিন ধরে। তারপর আবার যেনো পরের কোনো ঘটনার জন্য অপেক্ষা চলতে থাকে।
এসব আলোচনায় একটা কথা বারবারই বলা হয় যে, আ-ত্ম-হ-ত্যা কোনো সমাধান না। আ-ত্ম-হ-ত্যা-কা-রী কা-পু-রু-ষ। ধর্মে আ-ত্ম-হ-ত্যা-কে ম-হা-পা-প বলা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
অবশ্যই আ-ত্ম-হ-ত্যা কোনো কিছুর সমাধান হতে পারে না। কিন্তু যে দিকটি আলোচনায় খুবই কম আসে তা হলো, একটা মানুষ কখন এরকম সিদ্ধান্ত নেয়। আ-ত্ম-হ-ত্যার মতো সিদ্ধান্ত কি কেউ নেয় নাকি নিতে বাধ্য হয়? কতখানি বিষাদে মন ভরে গেলে আর পারে না বেঁচে থাকার যন্ত্রণা সইতে? কখন সে সব ছেড়েছুড়ে এইভাবে পালাতে বাধ্য হয় পৃথিবী থেকে? সকল ব্যক্তি-মানুষ তো অসীম মানসিক শক্তি আর পরিস্থিতি মোকাবেলার ক্ষমতার মালিক হয় না। সবার সহ্য ক্ষমতাও সৃষ্টিকর্তা সমান দেন না। তো যিনি বিষাদ সইতে পারছেন না, বেঁচে থাকার ফলে রাষ্ট্র সমাজ পরিবারের দেয়া চাপ সইতে পারছেন না, তার সামনে আর কী উপায় রয়েছে?
তার মানে কি আমি আ-ত্ম-হ-ত্যার পক্ষে কথা বলছি? মোটেও না। বরং বলতে চাইছি, আ-ত্ম-হ-ত্যা কেউ করে না। করতে বাধ্য হয়। এবং সেই বাধ্য তাকে করা হয়। কখনো অনেক কিছু মিলে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়ে যায়, তা আর বয়ে বেরানো যায় না। এসবকে অস্বীকার করে যারা নানান তত্ত্ব কপচান, তারা আর যাইহোক, মানুষের মন বুঝতে পারেন বলে আমি মনে করি না। মানুষের মন বুঝতে হলেও মানবিক মনের দরকার। সেই মনের অভাবেও অনেকে মৃ-ত্যু-র দিকে এগিয়ে যায়।
ধর্মীয় পা-প-মহা-পা-পের বিতর্কে যাবো না। কেননা, যতই বলেন না কেনো এই দেশ নব্বই শতাংশ মুসলিমের দেশ। আমি এখানে সত্যি সত্যি ধর্মের বিধান মেনে চলা মানুষ তেমন দেখি না। হয়তো কেউ কেউ আছেন, কিন্তু তাদের দেখা আমি পাই না বলেই মনে হয়। ধর্মকে এখানে সবাই নিজের সুবিধামতো পালন করেন। যেই মানের বিশ্বাসী হলে পরম বিষাদেও সৃষ্টিকর্তার ভয়ে আ-ত্ম-হ-ত্যা থেকে বিরত থাকার কথা সেইমানের বিশ্বাসী অতি নগন্যই আছেন হয়তো। তাই ধর্মীয় আলাপকে এর সাথে মেলাতে চাই না।
আমি যেটা বলতে চাই তা হলো, আমাদের চারদিকের আবহ মানুষরে মন বুঝতে পারার না। মনের স্বাস্থ্যকে আমাদের চারপাশের মানুষেরাই বিষিয়ে তোলো। এবং সকল মানুষ যেহেতু সমান মানসিক শক্তির হয় না, তাই এর ভেতর থেকে কিছু মানুষ সমাজের বা প্রিয়জনের বা পরিবারের থেকে পাওয়া চাপ, দুঃখ, যন্ত্রণা, কষ্ট সইতে পারে না। কেউ হয়তো এক মাধ্যম থেকে পাওয়া চাপেই মুষড়ে পড়ে, কেউ একাধিক দিকের চাপে দিশাহারা হয়। তাই আ-ত্ম-হ-ত্যা-কা-রীকে গা-ল-ম-ন্দ না করে যে ব্যবস্থা তাকে এরকম সিদ্ধন্তে বাধ্য করলো সেই ব্যবস্থার সংশোধনে কাজ করা চাই। মানুষের মনের সুস্থতার পরিবেশ নিয়ে কাজ করা দরকার। না-হলে এই হার আরও বাড়বে, কোনো সন্দেহ নাই।
তাই, আসুন, মনের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেই।