10/03/2025
একটি ঘটনা বলি আপনাদের। ঘটনাটি ঘটেছে
আলফি বিন ফেরদৌস, স্বাদীপ সাহাদাত দ্বীপ এবং সাদ মোহাম্মাদ সাকিব এর সাথে। বিস্তারিত বলা যাক।
সাদ্বীপ শাহাদাৎ দ্বীপ এর লেখা:
ঘড়ির কাটায় রাত ১২ টা, হঠাৎ তেহেরি খাওয়ার শখ জাগলো। যেই কথা সেই কাজ এলাকায় বের হয়ে পড়লাম উদ্দেশ্য তেহেরি খেতে হবে। অনেক খোঁজা-খুঁজির পর একটা কাচ্চির দোকান পাইলাম। কাচ্চি খাওয়া শেষ করে উঠেই বাসার উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলাম হঠাৎ দেখি একটি বাচ্চা পাশে এসে বলছে, "ভাইয়া একটা হাওয়ায় মিঠায় নাও না, সারা দিনে কিছুই বিক্রি করতে পারি নি। এগুলা বিক্রি করে বাসার জন্য বাজার নিয়ে যেতে হবে, আম্মা সেহরি রান্না করবে, তারপর আমরা সেহরী খাবো।"
আমি বললাম, "এখন বাজে রাত ১২ টা তোর পায়ে নাই এক জোড়া জুতা। তুই এই সব কখন বিক্রি করবি আর কখন বাজার করে নিয়ে গিয়ে সেহরী করবি?"
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বললো, "এগুলা বিক্রি করতে না পারলে আম্মায় মারবে। বাসায় ঢুকতে দিবে না।"
ছেলেটার কথা শুনে কেনো জানি অনেক মায়া জন্মে গেলো। বললাম, "তোর নাম কি?"
উত্তরে বললো ' হামজা'।
আলফি কে ইশারা করলাম আর ও বুঝে ফেললো কি করতে হবে। চলে গেলাম একটি মুদির দোকানে, হামজা কে বললাম, " কি কি লাগবে তোর এই দোকান থেকে সবকিছু নিয়ে নে।"
লজ্জা পেয়ে বললো "ভাইয়া তোমরা দাও"....আমি বললাম আরে পাগলা তোর বাসায় কি কি লাগবে তা কি আমি জানি? তোর যা যা লাগবে তুই নিয়ে নে, আর তোর বাসায় কতজন আছে?" বললো, ৭ জন।
৭ জনের হিসাবে আমাদের পক্ষে যতটুকু সামর্থ্য ছিলো সেটা দিয়ে ওকে বাজার করে দিলাম। তারপর ওর বাসায় ওকে নামিয়ে দিয়ে আসলাম। যাওয়ার পথে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম "তোর পায়ের জুতা কই?"
বললো ভাই "ছিড়া গেসে।" যদি দোকান খোলা থাকতো তাহলে হয়তো আল্লাহর ইচ্ছায় ওর পায়ের জুতা টাও দিতে পারতাম।
তারপর বললাম, "পড়াশোনা করিস?" বললো মাদ্রাসায় পড়তাম, আব্বা মারা যাওয়ার পরে আর পড়াশোনা করা হয় নি।"
যাওয়ার পথে আমার বাসা ওকে চিনিয়ে দিলাম। বললাম, "কিছু দরকার পরলে আমার বাসায় চলে আসবি।
ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে বাকি হাওয়ায় মিঠায় গুলা কিনে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। এখন এতো গুলা হাওয়ায় মিঠায় আমরা কি করবো? কারোর লাগলে জানিয়েন হাওয়ায় মিঠায় দিয়ে দিবো ফ্রী তে। 😁😁😁
এই রোযার মাসে আল্লাহ আমাদের এই নেক কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের সকল পাপ মুছে দিক। রমজানের যথার্থতা যেনো আমরা খুজে পায় আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন।
আমরা সবাই সবার সামর্থ্য অনুযায়ী যদি এই শিশুগুলার মুখে হাসি ফুটাতে পারি তাহলে দুনিয়াটা কতটাই না সুন্দর হতো। মানব সেবায় হোক মানুষের প্রধান ধর্ম।
শুভরাত্রি।