Nusus

Nusus কুরআন ও হাদিসের মূল পাঠকে নুসুস (text) বলা হয়। নুসুসের উপর ভিত্তি করেই আমরা লেখালেখি করি।
(3)

18/03/2026

লাইলাতুল কদরের ৭টি আলামত ও বৈশিষ্ট্য:
▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬
(১) রাতটি হবে শান্তিময়।
আল্লাহ তা‘আলা সুরা কদরে বলেন, ‘‘এটি (কদরের রাত) শান্তিময়—ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত।’’ [সুরা কদর, আয়াত: ০৫]
(২) রাতটি আলোকোজ্জ্বল থাকবে।
ওয়াসিলা ইবনু আসক্বা’ (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কদরের রাতটি হবে আলোকোজ্জ্বল। [শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৫৪৭২; হাদিসটি হাসান সহিহ]
(৩) আবহাওয়া হবে নাতিশীতোষ্ণ।
জাবির (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই রাত (আবহাওয়া) না গরম হবে, না ঠাণ্ডা হবে। [ইমাম ইবনু খুযাইমাহ, আস-সহিহ: ২১৯০; হাদিসটি সহিহ]
(৪) রাতটি সহজ (আরামদায়ক) হবে।
ইবনু আব্বাস (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই রাতটি সহজ (আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময়) হবে। [ইমাম ইবনু খুযাইমাহ, আস-সহিহ: ৯১২; হাদিসটি সহিহ]
তাই, এই রাতে ইবাদত করতে ভালো লাগবে। একটা প্রশান্ত পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে।
(৫) চাঁদটি হবে থালার টুকরোর মতো।
আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে কদরের রাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে কে সেটি (কদরের রাত) স্মরণ রাখবে, যখন চাঁদ উদিত হবে থালার (প্লেটের) একটি টুকরোর ন্যায়।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৯]
(৬) সকালের সূর্যে থাকবে না কিরণ।
উবাই ইবনু কা’ব (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কদরের রাতের আলামত জানিয়েছেন যে, সূর্য এমনভাবে ওঠবে যে, এতে কিরণ বা রশ্মি (ray) থাকবে না। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৭]
একই হাদিসের বর্ধিত বর্ণনায় এসেছে, যে পর্যন্ত সূর্য উপরে ওঠে, ততক্ষণ সূর্য এমন কিরণহীন থাকবে এবং এটি হবে অনেকটা থালার মতো। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৭৮; হাদিসটি হাসান সহিহ]
[চন্দ্র ও সূর্যের মধ্যে গুলিয়ে ফেলবেন না। বলা হয়েছে, সূর্যটা হবে থালার (প্লেটের) মতো আর চাঁদটা হবে থালার (প্লেটের) টুকরোর মতো]
(৭) সকালের সূর্যটি হবে মৃদু রক্তিম।
ইবনু আব্বাস (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এই রাতের পরদিন সকালের সূর্য ওঠে মৃদু লাল অবস্থায়। [ইমাম ইবনু খুযাইমাহ, আস-সহিহ: ২১৯২; হাদিসটি সহিহ]
❑ কোনো ঈমানদারকে কদরের রাতটি স্বপ্নে দেখানো হতে পারে।
একবার কয়েকজন সাহাবি রামাদানের শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর স্বপ্নে দেখেছিলেন। নবিজি তাদের সেই স্বপ্নকে সত্যায়ন করেছিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৫; ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫১]
একটি হাদিসের আলোকে অনেক আলিম বলেছেন, কোনো এক বছর রামাদানের ২১তম রাতে কদর হয়েছিলো। সেই রাতটিতে বৃষ্টি হয়েছিলো। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১]
তবে, কদরের রাতে বৃষ্টি হওয়া জরুরি নয়। এটিই মুহাক্কিক আলিমগণের অভিমত।
কদরের এসব আলামত দেখেও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে না। একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (ঐশী প্রত্যাদেশ) বা ইলহাম ব্যতীত কেউ সুনির্দিষ্টভাবে কদরের রাত চিহ্নিত করতে পারবে না। সুতরাং আমরা সাধ্যানুসারে আমল করবো, তাহলেই কামিয়াব হবো, ইনশাআল্লাহ।

17/03/2026

মক্কায় অদ্ভূত এক নারী ছিলো, যে সুতা পাকিয়ে সুন্দর সুন্দর কাপড়, টুপি, কম্বল ইত্যাদি তৈরি করতো। এরপর সে নিজেই সুতার দুই দিক থেকে টান দিয়ে এগুলোকে নষ্ট করে ফেলতো। এই নারীকে লোকজন পাগল মনে করতো তার এমন কাজের জন্য। সে এত পরিশ্রম করে পাকানো সুতাগুলোকে খামখেয়ালিপনায় টুকরো টুকরো করে ফেলতো।
ইমাম ইবনু কাসির (রাহ.) তাঁর ‘তাফসিরুল কুরআনিল আযিম’-এ বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনুল কারিমে এই নারীর উদাহরণ দিয়ে বলেন—
وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِن بَعْدِ قُوَّةٍ أَنكَاثًا
‘‘তোমরা ওই নারীর মতো হয়ো না, যে পরিশ্রমের পাকানো সুতো টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।’’ [সুরা নাহল, আয়াত: ৯২]
আয়াত দ্বারা যদিও শপথ পাকাপাকি হওয়ার পর তা ভেঙে না ফেলতে বলা হয়েছে, তথাপি শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিল (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর জনপ্রিয় লেকচার সিরিজ Gems of Ramadan (ধূলিমলিন উপহার: রামাদান বই)-এ এই ঘটনাটিকে সামনে এনে রোজাদারদের সতর্ক করেছেন। রোজাদারদের অনেকে সারা মাস রোজা রাখে, আমল করে, কিন্তু রামাদানের শেষ দিকে এসে হাল ছেড়ে দেয়, গুনাহে জড়িয়ে যায় আর সারা মাসের সিয়ামসাধনাকে পণ্ড করে দেয়। এটি খুবই বাস্তব একটি বিষয়। ব্যাপারটি এমন যে, কেউ ৩ ঘণ্টা ধরে পরীক্ষার খাতায় চমৎকার উত্তর লিখেছে। এরপর খাতাটি জমা না দিয়ে ছিঁড়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ কোনো আমল করে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন, সে ওই আমলটি পূর্ণাঙ্গভাবে করবে।’’ [ইমাম বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ৪৯৩০; ইমাম তাবারানি, মু‘জামুল আওসাত্ব: ৮৯৭; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ১৮৮০; হাদিসটি সহিহ]
সুতরাং, রামাদানের এই শেষ লগ্নে এসে আমরা হাল ছাড়বো না, বরং সুন্দর ও যথার্থভাবে রামাদান শেষ করবো। দীর্ঘ এক মাসের সিয়ামসাধনা এবং ইবাদত-বন্দেগি ধরে রাখবো।
এরপর, রামাদান শেষে নতুন করে আবার অন্ধকারময় গুনাহের জীবনে ডুবে যাবো না। রামাদানের মতই সারা বছর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো। বলা হয়, জীবন যদি কাটে রামাদানের মতো, তবে মৃত্যুর মুহূর্তটিও হবে ঈদুল ফিতরের মতো (আনন্দময়)!

16/03/2026

আজ লাইলাতুল কদরের সর্বাধিক সম্ভাবনাময় (২৭তম) রাত। আজ কোনো অবহেলা নয়। আমরা সাধ্যানুসারে আমলে লেগে থাকবো।
▬▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬▬
প্রখ্যাত সাহাবি উবাই ইবনু কা’ব (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে বলেন, ‘‘আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি সেই রাতটি সম্পর্কে জানি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ২৭তম রাতে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) দণ্ডায়মান থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৮]
মু‘আবিয়া (রা.) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি (নবিজি) বলেন, ‘‘রামাদানের ২৭তম রাত হলো কদরের রাত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৮৬; হাদিসটি সহিহ]
তাছাড়া উমার ইবনুল খাত্তাব, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং অন্যান্য অনেক সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করতেন না যে, কদরের রাত ২৭তম রাত। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ]
তবে, এসব হাদিসের বিপরীতে শেষ দশকের অন্যান্য রাত—২১, ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৯ তারিখের ব্যাপারেও সহিহ বর্ণনা রয়েছে যে, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতগুলোতে কদর তালাশ করতে বলেছেন। মূলত, কদরের রাতটি এজন্য গোপন রাখা হয়েছে, যেন সবাই শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করে।
উবাই (রা.) খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে ২৭তম রাতকে কদরের রাত বলেন। তখন অন্যরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘কীসের ভিত্তিতে আপনি এমন কথা বলছেন?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আলামত অথবা নিদর্শনের মাধ্যমে, যেগুলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলে গেছেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৭]
এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, ২৭তম রাত ফ্যাক্ট না, বরং কদরের রাতের আলামত বা Symptoms মিলতে হবে। নবিজির সময়ে একবার ২১তম রাতেও কিন্তু Symptoms বা আলামত মিলেছিলো, যেমনটি আমাদের জানিয়েছেন প্রখ্যাত সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি রা. (সহিহ মুসলিম: ২৬৬১)। (কদরের রাতের আলামত নিয়ে একটি পর্ব দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ)।
সুতরাং কদরের রাতটি ফিক্সড না। শেষ দশকের যেকোনো রাতেই এটি হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২০]
আমরা আরেকটু অগ্রসর হয়ে বলতে পারি, এটি শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে আছে। হাদিসে এসেছে, ‘‘তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৭]
বিজোড় রাতগুলোর মাঝে ২৭তম রাতটি সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। এ ব্যাপারে অধিকাংশ আলিম একমত। তবে, সুনিশ্চিতভাবে এটি বলার অবকাশ নেই যে, ২৭তম রাতটিই লাইলাতুল কদর। এটি অধিক সম্ভাবনার দাবি রাখে কেবল। কারণ, আলিমগণের বড় একটি অংশের মতে, কদরের রাতটি স্থানান্তরিত হতে পারে; প্রতি বছর একই তারিখে কদর হওয়া জরুরি না। এটি আমরা আগেই আলোচনা করেছি। পড়ে নিতে পারেন।
আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা আমলে লেগে থাকার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। রাতের সীমারেখা হলো: মাগরিব থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। আমরা সাধ্যানুসারে পুরো সময়টিতেই বিভিন্ন নেক আমল করবো। হায়েয (পিরিয়ড) ও নিফাসগ্রস্ত নারীরা কুরআন তিলাওয়াত এবং নামাজ বাদে বাকি আমলগুলো করতে পারেন। কদরের রাতের জন্য বিশেষ আমলগুলো জানতে কমেন্টে চোখ রাখুন।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘আমি একে (কুরআন মাজিদকে) অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে (সম্মানিত রাতে)। লাইলাতুল কদরের ব্যাপারে আপনি কি জানেন? লাইলাতুল কদর (সম্মানিত রাতটি) এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা আল ক্বাদর, আয়াত: ১-৩]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪]

15/03/2026

পিরিয়ডে (হায়েজ অবস্থায়) থাকা নারীরা রামাদানের শেষ দশকে এবং লাইলাতুল কদর তালাশে যেসব আমল করতে পারেন: (এই আমলগুলো যে কেউ করতে পারেন)
▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬
(১) দু‘আ করা:
পিরিয়ডকালে দু‘আ করতে কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং, উত্তম হবে—অজু করে লাইলাতুল কদরের মহান রজনীতে আন্তরিকভাবে দু‘আয় মনোনিবেশ করা। এই রাতে দু‘আ কবুল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দু‘আ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। হাদিসে এসেছে, ‘‘দু‘আ হলো ইবাদত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৭৯; হাদিসটি সহিহ]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’’ [সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০]
দু‘আর আদব ও নিয়মগুলো অনুসরণ করে দু‘আ করলেই যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ।
(২) তাওবাহ-ইস্তিগফার পাঠ করা:
এই রাতের গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হলো, আল্লাহর নিকট তাওবাহ্ ও ইস্তিগফার পড়া। ইস্তিগফারের যত বাক্য মুখস্থ আছে, সবই পড়তে পারেন। ইস্তিগফারের জন্য নিচের বাক্যটি খুব সহজ।
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আর কাউকে এটি অধিক পরিমাণে পড়তে দেখিনি—
أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتوبُ إِلَيْهِ
[আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯২৮, হাদিসটি সহিহ]
পাশাপাশি আরেকটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়তে পারেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই ইস্তিগফারটি খুব বেশি পড়তেন—
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
[সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি, আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৯৭৫]
সম্ভব হলে সায়্যিদুল ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়া উচিত। হাদিসের ভাষায় এটি হলো শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৬]
এর পাশাপাশি তাওবাহর শর্তগুলো পূরণ করে অবশ্যই নিজের সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করা উচিত। তাওবাহর তিনটি শর্ত হলো: কৃত গুনাহ স্বীকার করে সেসব আগে ছেড়ে দেওয়া, নিজ অপরাধের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া এবং ভবিষ্যতে এসব গুনাহ আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করা। [ইমাম নববি, রিয়াদুস সলিহিন]
(৩) নবিজির উপর দরুদ পাঠ করা:
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০টি (মর্যাদার) স্তর উন্নীত করবেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৪; হাদিসটি সহিহ]
নামাজের শেষ বৈঠকে যে দরুদ (দরুদে ইবরাহিম) আমরা পড়ি, সেটি সর্বোত্তম। এটি অগ্রাধিকারযোগ্য। তবে, অন্যান্য দরুদও পড়া যাবে।
সহজ দরুদ হিসেবে এটি পড়া যায়।
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ
[আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আ-লি মু‘হাম্মাদ]
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা আমার প্রতি দরুদ পড়ো এবং সাধ্যানুযায়ী দু‘আ করো ও বলো (উপরের দরুদটি)।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯১; হাদিসটি সহিহ]
আবু বকর (রা.)-এর কন্যা আসমা (রা.) যে বাক্য দিয়ে রাসুলের উপর একই সাথে দরুদ ও সালাম পাঠ করতেন, সেটিও পড়া যেতে পারে।
صَلَّى اللّٰهُ عَلٰى رَسُوْلِهِ وَسَلَّمْ
(সল্লাল্লা-হু ‘আলা রাসু-লিহি ওয়া সাল্লাম)
অর্থ: আল্লাহ তাঁর রাসুলের উপর সালাত (দরুদ) ও সালাম বর্ষণ করুন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৮৯৪]
(৪) সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে, তাহলে এত প্রতিদান পাবে, যার ফলে আসমান ও জমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৬৯১১; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]
(৫) সহজ ৩টি যিকর ও তাসবিহ পাঠ করা:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওহে আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস! আমি কি জান্নাতের এক রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না?” আমি বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, “তুমি বলো—
لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
(লা ‘হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ)
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।’’ [ইমাম বুখারি আস-সহিহ: ৬৩৮৪]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তা হলো—
سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ
(সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি সুব‘হা-নাল্লা-হিল ‘আযি-ম)
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, প্রশংসা কেবল তাঁরই; মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৬৮২]
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৩; হাদিসটি হাসান]
(৬) জীবিত ও মৃত সকল মুমিনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভালো দু‘আ করা:
ইবরাহিম (আ.)-এর দু‘আটি পড়তে পারেন—
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَﺍﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏُ
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল ঈমানদারকে আপনি সেদিন ক্ষমা করে দিয়েন, যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে। [সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
হাদিসে এসেছে, কেউ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করলে, ফেরেশতারা বলেন, ‘‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক!’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৮২০]
(৭) বিশেষ একটি দু‘আ বেশি বেশি পড়া:
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তখন ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
[আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘অ্ফু ‘আন্নি]
অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
(৮) সাধ্যানুসারে কিছু দান-সাদাকাহ করা:
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সাদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত লোকদের মাঝে ফয়সালা সমাপ্ত না হবে।” [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৭৩৩৩; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ৮৭২; হাদিসটি সহিহ]
যদি সম্ভব হয়, তবে রাতেই সাদাকাহ করুন। এটাই উত্তম। এক টাকা দান করলে হাজার মাস (৮৩ বছর) ধরে এক টাকা দান করার নেকি পাবেন। এই রাতের প্রতিটি আমল এভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
যদি রাতে দিতে না পারেন, তবে রাতেই কিছু টাকা সাদাকাহ করার জন্য আলাদা করে রেখে দিন। এগুলো দিনের বেলা গরিবদের দিয়ে দিন। আশা করা যায়, নিয়তের বদৌলতে কদরের প্রতিদান পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, হায়েযা অবস্থায় নারীদের কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নেই। এমনকি মুখস্থ পড়াও জায়েয নেই। এটি অধিকাংশ ফকিহের মত।

14/03/2026

লাইলাতুল কদরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহজ আমলগুলো একসাথে দেওয়া হলো। আশা করি, এই আমলগুলো করলে আমরা দারুণ সৌভাগ্য হাসিল করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
▬▬▬▬▬▬▬◖❂◗▬▬▬▬▬▬▬
যেহেতু কুরআনের ভাষায় ‘‘কদরের রাতটি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ’’ তাই এই রাতে একটি নেক আমল করা মানে হাজার মাস যাবত এই নেক আমলটি করা। রামাদানের শেষ দশ দিনে নবিজি কদর তালাশ করতে বলেছেন। তাই, আমরা শেষ দশ দিন নিচের এই আমলগুলো করতে পারি।
(১) তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা:
লাইলাতুল কদরের প্রধান আমল হলো, কিয়াম তথা নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪]
সম্ভব হলে ৮/১০ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়বো। এরপর আন্তরিকতার সাথে দু‘আ করবো। সাধারণ নফলের মতো ২ রাকাত করে পড়তে থাকবো। বিশেষ কোনো নিয়ম নেই।
(২) যত বেশি সম্ভব কুরআন পাঠ করা:
[ক] আমরা শেষ দশকের প্রতিটি রাতে ২০/৩০ বার বা আরও বেশি সুরা ইখলাস পড়তে পারি।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিঃসন্দেহে এটি (সুরা ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০১৩]
[খ] এছাড়াও আমরা যা পড়বো:
আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সুরা মুলক ও বাকি তিন কুল (সুরা কাফিরুন, সুরা ফালাক ও সুরা নাস)।
যারা আরও বেশি সময় তিলাওয়াত করবো, তারা সুরা যুমার, সুরা সাজদাহ ও মুসাব্বিহাত (সুরা হাদিদ, হাশর, সফ, জুমু‘আ, তাগাবুন) সুরাগুলো পড়তে পারি, যেহেতু এগুলো সারা বছর রাতের বেলা পড়ার ব্যাপারে হাদিস আছে। অথবা চাইলে কুরআন থেকে অন্যান্য সুরাও পড়তে পারি।
(৩) কদরের রাতের দু‘আটি বেশি বেশি পড়বো। বিশেষত রামাদানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতে প্রচুর পরিমাণে পড়তে চেষ্টা করবো।
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
[আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি]
অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
(৪) দু‘আয় মনোনিবেশ করা:
এই রাতে দু‘আ কবুল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দু‘আ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। হাদিসে এসেছে, ‘‘দু‘আ হলো ইবাদত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৭৯; হাদিসটি সহিহ]
দু‘আর আদব ও নিয়মগুলো অনুসরণ করে দু‘আ করলেই যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’’ [সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০]
[ক] ব্যাপক অর্থবোধক দু‘আ বারবার পড়া:
উদাহরণস্বরূপ এই দু‘আটি লক্ষ করুন।
​​​​​​​اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
[আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ]
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের আফিয়াত (নিরাপত্তা, সুস্থতা) প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ]
[খ] জীবিত ও মৃত সকল ঈমানদারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভালো দু‘আ করা:
নবি ইবরাহিম (আ.)-এর দু‘আটি দ্বারা সবার জন্য ইস্তিগফার কামনা করা যায়।
رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
‘‘হে আমাদের রর! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিয়েন।’’ [সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
হাদিসে এসেছে, কেউ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করলে, ফেরেশতারা বলেন, ‘‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক!’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৮২০]
[গ] দ্বীনের উপর অটল থাকার দু‘আ করা:
উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু‘আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো–
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلٰي دِيْنِكَ
[ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলু-ব, সাব্বিত ক্বলবি ‘আলা দি-নিকা]
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন।
[ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২২; হাদিসটি সহিহ]
(৫) সাধ্যানুসারে কিছু দান-সাদাকাহ করা।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সাদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত লোকদের মাঝে ফয়সালা শেষ না হবে।” [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৭৩৩৩; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ৮৭২; হাদিসটি সহিহ]
যদি সম্ভব হয়, তবে রাতেই সাদাকাহ করুন। এটিই নিয়ম। এক টাকা দান করলে হাজার মাস (৮৩ বছর) ধরে এক টাকা দান করার নেকি পাবেন। এই রাতের প্রতিটি আমল এভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
যদি রাতে দিতে না পারেন, তবে রাতেই কিছু টাকা সাদাকাহ করার জন্য আলাদা করে রেখে দিন। এগুলো দিনের বেলা গরিবদের দিয়ে দিন। আল্লাহ চাইলে এটিকে কদরের রাতের দান হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।
(৬) তাওবাহ-ইস্তিগফারে লেগে থাকা:
[ক] ইস্তিগফার—০১:
ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি এটি পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।’’
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮْﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
[আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযি লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ু-মু ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৫১৭; হাদিসটি সহিহ]
[খ] ইস্তিগফার—০২:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই ইস্তিগফারটি খুব বেশি পড়তেন—
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
[সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি, আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৯৭৫]
[গ] ইস্তিগফার—০৩: সায়্যিদুল ইস্তিগফার
বেশি বেশি পড়া উচিত। হাদিসের ভাষায় এটি হলো শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার, ইস্তিগফারের নেতা। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৬]
এর পাশাপাশি তাওবাহর শর্তগুলো পূরণ করে অবশ্যই নিজের সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করা উচিত। তাওবাহর তিনটি শর্ত হলো: কৃত গুনাহ স্বীকার করে সেসব আগে ছেড়ে দেওয়া, নিজ অপরাধের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া এবং ভবিষ্যতে এসব গুনাহ আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করা। [ইমাম নববি, রিয়াদুস সলিহিন]
(৭) কিছু যিকর ও তাসবিহ পাঠ করা:
[ক] সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৬৯১১; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]
[খ] একটি ফজিলতপূর্ণ তাসবিহ কমপক্ষে ১০০ বার পড়ার চেষ্টা করবো।
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ
[লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া‘হদাহু লা শারি-কা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদি-র]
অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার এটি পড়বে—
◉ সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
◉ তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
◉ তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
◉ ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
◉ ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩২৯৩; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৭]
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি এগুলোর প্রত্যেকটি ১০ বার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৩৭]
[গ] জান্নাতের রত্নভাণ্ডার যে যিকর:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওহে আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস! আমি কি জান্নাতের এক রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না?” আমি বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, “তুমি বলো—
لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
(লা ‘হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ)
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।’’ [ইমাম বুখারি আস-সহিহ: ৬৩৮৪]
[ঘ] ফজিলতপূর্ণ একটি বাক্য ১০০ বার পড়বো।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তা হলো—
سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ
(সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি সুব‘হা-নাল্লা-হিল ‘আযি-ম)
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, প্রশংসা কেবল তাঁরই; মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৬৮২]
[ঙ] আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যিকর: (১০০ বার)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি—
سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وبِحَمْدِهِ
(সুব‘হা-নাল্লাহিল আযি-মি ওয়া বি‘হামদিহি—অর্থ: মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত; প্রশংসা কেবল তাঁরই) পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৪৬৪; হাদিসটি সহিহ]
(৮) নবিজির উপর দরুদ পাঠ করা:
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি (মর্যাদার) স্তর উন্নীত করবেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৪; হাদিসটি সহিহ]
সহজ দরুদ হিসেবে নিচের দরুদটি ১০০ বার পড়া যায়। দরুদে ইবরাহিমি বা নামাজের শেষ বৈঠকে পঠিত দরুদটি পড়তে পারলে আরও ভালো। কারণ এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ।
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ
[আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আ-লি মু‘হাম্মাদ]
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯১; হাদিসটি সহিহ]
■ বেশি আমল করতে গিয়ে কোয়ালিটির প্রতি উদাসীন হওয়া যাবে না। আল্লাহর কাছে আন্তরিকতাপূর্ণ আমলের মূল্য অনেক বেশি।
■ উপরে উল্লিখিত আমলগুলোর মাঝে একটি বাদে কোনোটিকেই ‘‘শবে কদরের আমল’’ হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়নি কুরআন-হাদিসে। বরং এগুলো সবসময়ের আমল। লাইলাতুল কদরের জন্য নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ বা ইবাদতের কথা সহিহ বর্ণনা থেকে জানা যায় না, কেবল আয়িশা (রা.)-কে শেখানো দু‘আটি ব্যতীত, যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, সব ধরনের নেক আমলই সাধ্যানুযায়ী কদরের রাতে করা উচিত, যেহেতু রাতটি মর্যাদাপূর্ণ।
আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

09/03/2026

ইতিকাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। আমরা পূর্বে ৬ পর্বে “প্রোডাক্টিভ ইতিকাফ” সিরিজ লিখেছিলাম। সবগুলো পর্বের লিংক একত্রে দেওয়া হলো।

প্রথম পর্ব: ইতিকাফের পরিচয়, গুরুত্ব, বিধান ও উদ্দেশ্য
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=412564118130124&id=100081296173024&mibextid=Nif5oz

দ্বিতীয় পর্ব: ইতিকাফের গুরুত্ব লাভ
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=413753091344560&id=100081296173024&mibextid=Nif5oz

তৃতীয় পর্ব: ইতিকাফের আমল
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=414330434620159&id=100081296173024&mibextid=Nif5oz

চতুর্থ পর্ব: নারীদের ইতিকাফ
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=414923527894183&id=100081296173024&mibextid=Nif5oz

পঞ্চম পর্ব: ইতিকাফের নিয়মাবলী
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=415636277822908&id=100081296173024&mibextid=Nif5oz

শেষ পর্ব: কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=416174971102372&id=100081296173024&mibextid=Nif5oz

08/03/2026

যাদের আপনজন কবরবাসী হয়ে আছে, তাদের উচিত ইফতারের আগে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দুআ করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ প্রতি ইফতারে অনেককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এটি প্রতি রাতেই হয়ে থাকে।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২১৬৯৮; ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৬৪৩; হাদিসটি হাসান সহিহ]

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুআ, রোজাদারের ইফতারের সময়কালীন দুআ এবং মজলুমের দুআ। আল্লাহ তাআলা এটি (দু‘আ) মেঘমালার উপর তুলে নেন, তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে যায় এবং মহান রব বলেন—

وَعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ

আমার সম্মানের শপথ! কিছু দেরিতে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করবো।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৫২৬; হাদিসটি সহিহ]

শুধু ইফতারের সময়েই নয়, রোজা থাকা অবস্থায় যেকোনো সময়ে দুআ করলেও কবুল করা হয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—

ثلاثةٌ لا تُردُّ دعوتُهم الصَّائمُ حتَّى يُفطرَ

‘‘তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—রোজাদারের দুআ, যতক্ষণ না সে ইফতার করে...।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৮০৩০; হাদিসটি সহিহ]

তাই, আসুন, বিশেষভাবে আমাদের কবরবাসী মৃত আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের সদস্য ও আপনজনদের জন্য দুআ করি। তারা ভীষণভাবে আমাদের দুআর মুখাপেক্ষী। আমাদের দুআ তাদের জন্য মহা-আনন্দের উপলক্ষ।

06/03/2026

ইফতারের আগে ও পরে ৩টি চমৎকার দু‘আ রয়েছে, এগুলোর অর্থ ও মর্ম অত্যন্ত সুন্দর।

❖ ইফতারের আগে যা পড়বেন:

ইফতারের আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, তখন সে যেন বলে ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে)।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১৮৫৮; হাদিসটি সহিহ]

শুধু “বিসমিল্লাহ” বলবেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম” না।

এরপর একটি দু‘আ পড়তে পারেন, যেটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। তবে, সনদের দিক থেকে হাদিসটি অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট দুর্বল। এটি দুর্বল হলেও আমলযোগ্য। দু‘আটি হলো:

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

(আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযক্বিকা আফত্বরতু)

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার (সন্তুষ্টির) জন্যই রোজা রেখেছি আর আপনার রিযিক দিয়েই ইফতার করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৩৫৮; হাদিসটির সনদ দুর্বল]

ইফতারের আগে আরও একটি দু‘আর কথা হাদিসে এসেছে। ইবনু আবি মুলাইকা বলেন, আমি (সাহাবি) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)-কে ইফতারের সময় দু‘আ পাঠ করতে শুনেছি—

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ اَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْئٍ اَنْ تَغْفِرَ لِيْ

(আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরা‘হমাতিকাল্লাতি ওয়াসি‘আত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি)

অর্থ: হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার রহমত প্রার্থনা করছি, যা সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত—যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৫৩; হাদিসটির সনদ কারও মতে সহিহ আবার কারও মতে দুর্বল, তবে সর্বসম্মতভাবে হাদিসটি আমলযোগ্য]

❖ ইফতারের পরে যা পড়বেন:

ইবনু উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন—

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللّٰهُ

(যাহাবায যমা-উ, ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরু-ক্ব, ওয়া সাবাতাল আজরু, ইনশা আল্লাহ)

অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে, ইনশাআল্লাহ (রোজার) প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৩৫৭; হাদিসটি হাসান]

26/02/2026

রামাদানে শিশুদের রোজা রাখার বিধান:

শিশুরা রোজা রাখতে চাইলে তাদের নিষেধ করা যাবে না। কারণ সাহাবায়ে কিরাম (রা.) তাঁদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের রোজা রাখাতেন, মাসজিদে নিয়ে যেতেন এবং তাদের জন্য তুলা, পশম ইত্যাদির খেলনা বানিয়ে দিতেন। রোজা অবস্থায় (দিনের বেলা) ক্ষুধায় কান্না করলে, তাঁরা শিশুদের খেলনা দিতেন। ওরা খেলনা পেয়ে খেলতো আর খাবারের কথা ভুলে যেতো। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৬০]

যারা বাচ্চাদের নিষেধ করেন—রোজা রাখতে দেন না—তাদের ব্যাপারে আলিমগণ কঠিন কথা বলেছেন। শায়খ মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল উসাইমিন (রাহ.) বলেন, ‘যে অভিভাবক নাবালেগ শিশুসন্তানের সিয়াম (রোজা) পালন থেকে নিষেধ করেন অথবা এ ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করেন, তিনি তাদের জন্য জালিম হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং নিজের জন্যও। হ্যাঁ, যদি তারা সাওম (রোজা) পালন শুরু করে দেওয়ার পর তিনি দেখতে পান যে, সাওম পালনে তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করায় কোনো অসুবিধা নেই।’ [রমযান মাসের ৩০ আসর, পৃষ্ঠা: ৬২]

বাচ্চাদের উপর রোজা রাখা জরুরি না। তবে আমাদের পূর্বসূরি নেককারদের অনুসরণে অভিভাবকগণ নিজদের নাবালেগ সন্তানকে রোজার চর্চা করাবেন, যাতে বালেগ (Adult) হওয়ার পর তাদের জন্য রোজার মতো কষ্টসাধ্য ইবাদত পালন করা সহজ মনে হয়। বর্তমানে অনেক তরুণ রোজা রাখে না; কারণ শিশু অবস্থায় তাদের রোজার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ব্যাপারটি খুবই দুঃখজনক।

উপরে বর্ণিত হাদিস থেকে কেউ যেন এ ধারণা না করেন যে, সাহাবিদের বুঝি দয়া-মায়া কম ছিলো! ব্যাপারটি সেরকম নয়। প্রথমত, শিশুরা নিজেরাই স্বপ্রণোদিত হয়ে সাহরি খেতো এবং রোজা রাখতো, কিন্তু ক্ষুধা লাগলে শিশুরা তো কান্না করবেই। তাদের তো আর রোজার সেই উপলব্ধি নেই।

দ্বিতীয়ত, এটাও হতে পারে যে, বাচ্চারা রোজা না রাখতে চাইলেও মাঝেমধ্যে তাঁরা রাখাতেন, যাতে আল্লাহর আনুগত্যের অভ্যাস হয়, পরবর্তী সময়ে এই কষ্টকর ইবাদত পালন করা সহজ হয়।

মূলকথা, শিশুরা নিজে থেকে রোজা রাখতে চাইলে কোনোভাবেই তাদের বাধা দেওয়া যাবে না। হ্যাঁ, যদি তাদের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে নিষেধ করা যাবে। আর, এমনিতেও অভিভাবকরা তাগিদ দিয়ে হলেও তাদের রোজার অভ্যাস করাবেন, যদিও তাদের আগ্রহ না থাকে। হ্যাঁ, এমন না যে, জোর করে শিশুদের সারা মাস রোজা রাখাতে হবে। তবে, কম করে হলেও অভ্যাস করানো উচিত। ওয়াল্লাহু আলামু বিস সওয়াব।

24/02/2026

রামাদানে দিনের বেলায় কাউকে খেতে দেখলে তার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে মন্দ ধারণা করা উচিত নয়। বেশ কিছু অপারগতা আছে, যেগুলোর কারণে রামাদানে রোজা না রাখার অবকাশ আছে (তবে, পরে কাজা করতে হবে)। যেমন: কেউ যদি অসুস্থ থাকে অথবা সফর অবস্থায় থাকে, তাহলে সে চাইলে রোজা রাখতেও পারে, নাও রাখতে পারে।

বিশেষ করে শহরের হোটেলগুলোতে দিনের বেলায় অপরিচিত কাউকে খেতে দেখলে প্রথমেই আমাদের এই ধারণা রাখা উচিত যে, লোকটি হয়তো সফর অবস্থায় আছে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা এই (রামাদান) মাসে উপনীত হবে, তারা যেন রোজা রাখে। আর তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা সফরে থাকবে, তারা অন্যান্য দিনে গণনা পূর্ণ করবে (কাজা করবে)।’’ [সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪]

আল্লাহ আমাদের এটুকু সুযোগ দিয়েছেন যে, আমরা চাইলে অসুস্থ বা সফর অবস্থায় রোজা রাখতেও পারি, নাও রাখতে পারি (অবশ্য পরে কাজা করতে হবে)। তাই, কেউ এই সুযোগ গ্রহণ করলে তার ব্যাপারে ভালো ধারণা রাখতে হবে। তবে, হ্যাঁ, একই আয়াতে আল্লাহ এটিও বলে দিয়েছেন যে, এসব অবস্থায় সম্ভব হলে রোজা রাখাই উত্তম, পরে কাজা করার চেয়ে। আরেকটি বিষয় হলো: রোজাহীন ব্যক্তিদের জন্য এটি আদব বা শিষ্টাচার যে, তিনি লুকিয়ে খাবার খাবেন। রোজাদার ব্যক্তির সামনে পানাহার করা উচিত নয়। তাছাড়া মানুষের মনে মন্দ ধারণা জন্মাতে পারে, এমন কিছু করা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত।

এবার আসি নারীদের বিষয়ে। নারীদের রোজার ব্যাপারটি আরও প্রশস্ত। তাদের অসুস্থতা এবং সফরের পাশাপাশি হায়েযের (পিরিয়ড) নির্দিষ্ট কিছু দিন থাকে, যে দিনগুলোতে তারা রোজা রাখতে পারেন না। তাই, যেকোনো নারীকে দিনের বেলায় খেতে দেখলে তার প্রতি কুধারণা রাখা অনুচিত। পরিচিত নারীদের ব্যাপারটিও এমন। কোনো নারী আত্মীয়কে ‘‘তুমি রোজা রাখোনি কেন?’’-জাতীয় প্রশ্ন করা খুব বাজে কাজ। অনেকের কাণ্ডজ্ঞান কম থাকে, তারা এই ভুলটা করে। এ ধরনের প্রশ্ন যথেষ্ট বিব্রতকর।

মানুষের মান-সম্মান, অনুভূতি, গোপনীয়তা—এগুলো খুবই দামি ও স্পর্শকাতর বিষয়। আমাদের আরেকটু সচেতন থাকা উচিত।

Address

Dhaka 1000 (Symbolic)
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nusus posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share