MUIZ Foundation

MUIZ Foundation A small help for people

15/05/2026

জিলহজের প্রথম ১০ দিন: সন্তানের জন্য দুআ
একজন মায়ের নীরব শক্তি

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আবারও এমন এক সময়ের সাক্ষী হচ্ছি, যা আল্লাহর কাছে বছরের সবচেয়ে প্রিয় সময়গুলোর একটি পবিত্র জিলহজের প্রথম ১০ দিন। এই দিনগুলো আমাদের জন্য শুধু কিছু আমল বাড়ানোর সুযোগ নয়, বরং আমাদের হৃদয়ের গভীর চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরার এক অপূর্ব সময়। বিশেষ করে আমরা যারা মা-বাবা, আমাদের জন্য এই সময়ের সবচেয়ে সুন্দর আমলগুলোর একটি হলো আমাদের সন্তানদের জন্য দুআ করা।

আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য অনেক কিছু করি।তাদের ভালো খাবার দেই, ভালো পরিবেশে রাখার চেষ্টা করি, তাদের শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু এর সবকিছুর মাঝেও একটি জিনিস আছে, যা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে সেটা হলো আমাদের দুআ। কারণ আমরা হয়তো সবসময় তাদের সাথে থাকতে পারবো না, কিন্তু আমাদের দুআ সবসময় তাদেরকে ঘিরে রাখতে পারে, তাদেরকে হেফাজত করতে পারে, তাদের জীবনের পথকে আলোকিত করতে পারে।

এই বরকতময় দিনগুলোতে আমার হৃদয়ের দুআ
ইয়া আল্লাহ, আমার সন্তানদের অন্তরকে পবিত্র করুন, তাদের ঈমানকে দৃঢ় করুন এবং তাদের জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন। তারা যেন এমন মানুষ হয়, যারা সত্যকে ভালোবাসে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে এবং সবসময় আপনার ভয় ও ভালোবাসাকে নিজেদের জীবনের কেন্দ্রস্থলে রাখে। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যেন তারা শক্ত হয় কিন্তু অহংকারী না হয়, নম্র হয় কিন্তু দুর্বল না হয়, সাহসী হয় কিন্তু সীমা লঙ্ঘন না করে।

আমার ছেলেদের জন্য দুআ
ইয়া আল্লাহ, তাদেরকে দায়িত্বশীল, সৎ ও তাকওয়াবান পুরুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। তাদের চোখ, অন্তর ও চরিত্রকে সব ধরনের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। তাদেরকে এমন শক্তি দিন, যাতে তারা নিজেদের প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে এবং সবসময় হালালকে বেছে নিতে পারে। তাদের জীবনে নেক বন্ধু, ভালো পরিবেশ এবং পবিত্র সম্পর্ক দান করুন।

আমার কন্যাদের জন্য দুআ
ইয়া আল্লাহ, তাদের বড় হওয়ার প্রতিটি ধাপকে সহজ করুন, তাদের অন্তরে হায়া, প্রজ্ঞা ও আত্মসম্মান দান করুন। তারা যেন নিজেদের মর্যাদা বুঝে, নিজেদের সুরক্ষিত রাখে এবং দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকে। তাদেরকে এমন নারী হিসেবে গড়ে তুলুন, যারা নিজেরা আলো হয়ে অন্যদের পথ দেখায়, যারা তাদের চরিত্র ও আচরণ দিয়ে দীনকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে।

একজন মা হিসেবে নিজের জন্যও দুআ
ইয়া আল্লাহ, আমাকে ধৈর্য দিন যখন আমি ক্লান্ত হয়ে যাই, আমাকে হিকমত দিন যখন আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, এবং আমাকে কোমলতা দিন যখন আমার আচরণ কঠিন হয়ে যায়। আমাকে এমন একজন মা হিসেবে কবুল করুন, যিনি সন্তানদের শুধু দুনিয়ার জন্য নয়, আখিরাতের জন্যও গড়ে তোলেন। আমার ছোট ছোট চেষ্টাগুলো কবুল করুন এবং আমার ভুলগুলো ক্ষমা করুন।

আমাদের ঘরের জন্য দুআ
ইয়া আল্লাহ, আমাদের ঘরকে ঈমান, ভালোবাসা ও শান্তিতে ভরিয়ে দিন। আমাদের ঘরকে এমন একটি জায়গা বানান, যেখানে কুরআনের শব্দ শোনা যায়, যেখানে প্রতিটি কোণে দুআ করা হয়, যেখানে ভালোবাসা ও দয়া একসাথে বাস করে। আমাদের পরিবারকে ঐক্যবদ্ধ রাখুন এবং আমাদের মধ্যে রহমত ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করুন।

এই দুআগুলো শুধু কিছু কথা নয়।এগুলো একজন মায়ের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা, ভয়, আশা এবং স্বপ্নের প্রকাশ। আমরা হয়তো সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, কিন্তু আমরা দুআ করতে পারি। আর সেই দুআই হতে পারে আমাদের সন্তানদের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা, সবচেয়ে সুন্দর পথনির্দেশ।

তাই আসুন, এই জিলহজের ১০ দিনে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য বেশি বেশি দুআ করি। কারণ একজন নেক সন্তানই হতে পারে আমাদের জন্য সদাকায়ে জারিয়া, যা আমাদের মৃত্যুর পরও আমাদের উপকারে আসবে।

আল্লাহ আমাদের সন্তানদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফল করুন এবং তাদেরকে আমাদের জন্য নেক আমলের উৎস বানিয়ে দিন। আমীন। 🤍

collected

08/05/2026

সূরা কাহফ — ৪টা ঘটনা, ৪টা দোয়া যা আমরা খেয়াল করি না

প্রতি জুমায় সূরা কাহফ পড়েন?

বেশিরভাগ মানুষ পড়েন। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করেন না — এই সূরার ৪টা ঘটনার প্রতিটায় একটা করে দোয়া লুকিয়ে আছে।

৪টা ঘটনা। ৪টা ভিন্ন সংকট। ৪টা ভিন্ন দোয়া। আর প্রতিটা দোয়া আমাদের জীবনের একটা করে সমস্যার সমাধান।

আমরা সূরা কাহফ পড়ি — কিন্তু এই দোয়াগুলো ধরতে পারি না। ঘটনা পড়ি — কিন্তু দোয়াটা আলাদা করে আমল করি না।

আজকের পোস্টে এই ৪টা দোয়া আলাদা করে দেখবো — আর জানবো কোন সংকটে কোন দোয়া পড়তে হয়।

সূরা কাহফ মক্কী সূরা। আয়াত সংখ্যা ১১০। নবীজি ﷺ বলেছেন — যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মাঝখানে নূর জ্বলবে। আর এর শুরুর ১০ আয়াত দাজ্জালের ফিতনা থেকে হিফাজতের কারণ হবে। (সহীহ মুসলিম: ৮০৯)

কিন্তু শুধু পড়লেই হবে না — ভেতরের দোয়াগুলো বুঝে আমল করতে হবে।

---

✅ দোয়া ১: আসহাবে কাহফের দোয়া — যখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না

একদল যুবক। চারপাশে শিরক, অন্যায়, চাপ। দুটো পথ — হয় সমাজের সাথে মিশে ঈমান হারাও, নাহয় কষ্ট মেনে নিয়ে ঈমান আঁকড়ে ধরো।

তারা দ্বিতীয় পথ বেছে নিলেন। শহর ছাড়লেন। গুহায় আশ্রয় নিলেন।

কিন্তু গুহায় ঢোকার আগে তারা একটা দোয়া করেছিলেন —

رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ওয়া হাইয়্যিলানা মিন আমরিনা রাশাদা।

"হে আমাদের রব, আমাদের আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের কাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।"
(সূরা কাহফ: ১০)

এই দোয়ায় দুটো চাওয়া — রহমত আর রাশাদ (সঠিক পথনির্দেশনা)।

"রাশাদ" শব্দটা খুব গুরুত্বপূর্ণ — এর মানে সঠিক পথ, সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক দিকনির্দেশনা।

আল্লাহ কী করলেন? তাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখলেন বহু বছর। জাগার পর দুনিয়া বদলে গেছে। তারা নিরাপদ। ঈমানসহ নিরাপদ।

কখন পড়বেন?

জীবনের যেকোনো কঠিন সিদ্ধান্তের আগে। চাকরি বদলাবেন কিনা? বিয়ে করবেন কিনা? দেশ ছাড়বেন কিনা? ব্যবসা শুরু করবেন কিনা? দ্বীন মানতে গিয়ে কোনো কিছু ছাড়তে হচ্ছে কিনা?

যখনই মনে হয় "কোনটা সঠিক পথ?" — এই দোয়া পড়ুন। ইস্তিখারার সাথে পড়ুন। আল্লাহ "রাশাদ" দেবেন — সঠিক পথ দেখাবেন।

---

✅ দোয়া ২: বাগানওয়ালার সঙ্গীর দোয়া — যখন কোনো নেয়ামত পান

দুইজন মানুষ। একজন ধনী — বিশাল বাগান, ফসল, সম্পদ। আরেকজন গরিব — কিন্তু ঈমানদার।

ধনী লোক অহংকার করলো — "এসব কখনো শেষ হবে না। আমিই বড়।"

গরিব সঙ্গী তাকে সতর্ক করলেন — এটা আল্লাহর দান। অহংকার করো না। বরং বলো —

مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: মাশাআল্লাহু লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

"আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।"
(সূরা কাহফ: ৩৯)

ধনী লোক শোনেনি। তারপর? একদিন সব শেষ। বাগান ধ্বংস। সব শুকিয়ে গেল। হাত কচলাতে কচলাতে বললো — "আহা, যদি আমি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক না করতাম!"

কিন্তু তখন আর কী লাভ?

কখন পড়বেন?

যখন কোনো নেয়ামত পান — চাকরি পেয়েছেন, গাড়ি কিনেছেন, বাড়ি বানিয়েছেন, সন্তান হয়েছে, পরীক্ষায় পাস করেছেন, ব্যবসায় লাভ হয়েছে — সাথে সাথে বলুন "মাশাআল্লাহু লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"

এটা শুধু বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া না — এটা অহংকার থেকে বাঁচার দোয়া। নেয়ামত ধরে রাখার দোয়া। কারণ যে নেয়ামতে শুকরিয়া নেই — সেই নেয়ামত একদিন চলে যায়।

---

✅ দোয়া ৩: মুসা (আ.)-এর কথা — যখন কঠিন কিছু শিখতে বা করতে চান

মুসা (আ.) খিজির (আ.)-এর সাথে সফরে যেতে চাইলেন। খিজির (আ.) বললেন — "তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না।"

মুসা (আ.) বললেন —

سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا

উচ্চারণ: সাতাজিদুনি ইনশাআল্লাহু সাবিরান ওয়ালা আসি লাকা আমরা।

"আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করবো না।"
(সূরা কাহফ: ৬৯)

খেয়াল করুন — মুসা (আ.) বলেননি "আমি ধৈর্য ধরবো।" বলেছেন "ইনশাআল্লাহ ধৈর্য ধরবো।" নিজের ওপর ভরসা করেননি — আল্লাহর ওপর ভরসা করেছেন।

কিন্তু সফরে কী হলো? মুসা (আ.) ধৈর্য ধরতে পারলেন না। তিনবার প্রশ্ন করলেন। কারণ বাহ্যিকভাবে ঘটনাগুলো অন্যায় মনে হচ্ছিল।

শেষে খিজির (আ.) ব্যাখ্যা দিলেন — আর তখন বোঝা গেল, যা বাইরে থেকে খারাপ দেখাচ্ছিল, তার পেছনে ছিল রহমত ও হিকমত।

কখন পড়বেন?

যখন কঠিন কিছু শুরু করতে চান — নতুন চাকরি, নতুন ব্যবসা, নতুন পড়াশোনা, হিজরত। যখন জানেন সামনে কষ্ট আছে — কিন্তু যেতে হবে। তখন বলুন — "ইনশাআল্লাহ ধৈর্য ধরবো।"

আর যখন জীবনে এমন কিছু ঘটে যা বুঝতে পারছেন না — চাকরি চলে গেল, সম্পর্ক ভেঙে গেল, সুযোগ হাতছাড়া হলো — তখন খিজির (আ.)-এর ব্যাখ্যা মনে করুন। আল্লাহর পরিকল্পনা আপনার দেখা দৃশ্যের চেয়ে বড়।

---

✅ দোয়া ৪: জুলকারনাইনের কথা — যখন কোনো বড় কাজ করেন

জুলকারনাইন। আল্লাহ তাঁকে দিয়েছিলেন ক্ষমতা, ভূখণ্ড, সামর্থ্য, জ্ঞান। তিনি ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে মানুষকে বাঁচাতে বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করলেন।

এত বড় কাজ। এত বড় অর্জন। এত বড় সাফল্য।

কিন্তু শেষে তিনি কী বললেন?

قَالَ هَـٰذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي

উচ্চারণ: কালা হাযা রাহমাতুম মির রাব্বি।

"তিনি বললেন — এটা আমার রবের রহমত।"
(সূরা কাহফ: ৯৮)

নিজের কৃতিত্ব দাবি করেননি। বলেননি "আমি করেছি।" বললেন — "আমার রবের রহমত।"

কখন পড়বেন?

যখন কোনো বড় কাজ সম্পন্ন করেন — পরীক্ষায় পাস, প্রজেক্ট শেষ, ব্যবসায় সাফল্য, বাড়ি তৈরি, সন্তানকে মানুষ করা — যেকোনো অর্জনের পর বলুন "হাযা রাহমাতুম মির রাব্বি" — এটা আমার রবের রহমত।

এটা বললে কী হয়? অহংকার আসে না। কৃতজ্ঞতা আসে। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর হয়। আর নেয়ামত টিকে থাকে — কারণ শুকরিয়া করলে আল্লাহ বাড়িয়ে দেন।

---

✅ ৪টা দোয়া — এক নজরে

▪️আসহাবে কাহফ — সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না?
"রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ওয়া হাইয়্যিলানা মিন আমরিনা রাশাদা"

▪️বাগানওয়ালার সঙ্গী — কোনো নেয়ামত পেয়েছেন?
"মাশাআল্লাহু লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"

▪️মুসা (আ.) — কঠিন কিছু শুরু করতে চান?
"সাতাজিদুনি ইনশাআল্লাহু সাবিরান"

▪️জুলকারনাইন — বড় কিছু অর্জন করেছেন?
"হাযা রাহমাতুম মির রাব্বি"

৪টা ঘটনা। ৪টা দোয়া। ৪টা জীবনের মোড়। আর প্রতিটায় একটাই শিক্ষা — সব কিছুতে আল্লাহর দিকে ফেরা।

পরেরবার জুমায় সূরা কাহফ পড়ার সময় এই ৪টা দোয়ায় থামুন। শুধু পড়বেন না — অনুভব করবেন। সিদ্ধান্তের আগে "রাব্বানা আতিনা" পড়বেন। নেয়ামত পেলে "মাশাআল্লাহ" বলবেন। কঠিন পথে "ইনশাআল্লাহ সাবিরান" বলবেন। সাফল্যে "হাযা রাহমাতুম মির রাব্বি" বলবেন।

তাহলে সূরা কাহফ শুধু জুমার তিলাওয়াত থাকবে না — জীবনের গাইড হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন!

সূরা কাহফ প্রতি জুমায় পড়েন — কিন্তু কি কখনো ভেবেছেন এই ৪টা দোয়া আলাদা করে আমল করবেন?

সিদ্ধান্তের আগে — "রাব্বানা আতিনা।"
নেয়ামত পেলে — "মাশাআল্লাহ।"
কঠিন পথে — "ইনশাআল্লাহ সাবিরান।"
সাফল্যে — "হাযা রাহমাতুম মির রাব্বি।"

৪টা দোয়া। ৪টা মুহূর্ত। জীবনের প্রতিটা পরিস্থিতিতে একটা করে দোয়া।

আজ থেকে শুধু জুমায় না — প্রতিদিন এই ৪টা দোয়া জীবনে ব্যবহার করুন। দেখবেন — সূরা কাহফ আর শুধু সওয়াবের সূরা থাকবে না, জীবন বদলে দেওয়ার সূরা হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সূরা কাহফ বুঝে পড়ার, এর দোয়াগুলো জীবনে আমল করার, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার, নেয়ামতে কৃতজ্ঞ থাকার, কষ্টে ধৈর্য ধরার, আর সাফল্যে বিনয়ী থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

এই ৪টা দোয়ার মধ্যে কোনটা আপনার জীবনে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার?
কমেন্টে নম্বর লিখুন — ১/২/৩/৪

রেফারেন্স:
— সূরা কাহফ: ১০, ৩৯, ৬৯, ৯৮
— সহীহ মুসলিম: ৮০৯
— তাফসীরে ইবনে কাসীর

26/04/2026

কবে জানি এক বোন বলেছিলেন,
যোহরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে যদি কখনো বেলা ২টা পার হয়ে যায়, তাঁর নাকি ভীষণ মন খারাপ হয়, কান্না আসে, অস্থীর লাগে!

তাই তিনি সবসময় ১টা থেকে ১:৩০ এর মধ্যে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন। বাই এনি চান্স, কখনো ২টা ক্রস করলে তাঁর কান্না চলে আসে।

বোনটার এই কথাগুলো আমার প্রায় সময় মনে পড়ে। মনে মনে ভাবতে থাকি, ইয়া রব! একই তো বান্দা আমরা আপনার, তবে আপনার দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়ার অনুভূতিতে এত কেন পার্থক্য? তবে কি আমরা তাঁর মত করে আপনাকে ভালোবাসতে পারিনি? নাকি আপনার জন্য হৃদয়ে একই রকম টান অনুভব হয় না?

আর যদি সত্যিই ভালোবাসা আর টান একই রকম হয়ে থাকে, তবে কেন আমাদের হৃদয়ে তাঁর মত পেরেশানি লাগে না, কষ্ট হয় না, বুক ব্যথা করেনা, নামাজ আদায়ে দেরি হয়ে যাওয়ার কারণে?

আসমান জমিনের রব যেন আমাদেরকেও এমন একটা হৃদয় দান করেন, যে হৃদয় রবের হক ঠিকঠাক আদায় করতে না পারলেই ভেতরে ভেতরে আত্ম চিৎকার দিয়ে গুমরে ম*রে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত যে ব্যাথা অনবরত চলতেই থাকে।

রবের জন্য কলিজায় ব্যাথা অনুভব হওয়াও তো সৌভাগ্যের!

লেখা : শামছুন্নাহার রুমি

22/04/2026

📌 আমি প্রতিরাতে তাহাজ্জুদ পড়তাম।
একই দোয়া। একই কান্না। একই চাওয়া।
কিন্তু কিছুই বদলাচ্ছিল না।

একদিন একজন আলেম আমাকে এমন একটা কথা বললেন, যা আমাকে নাড়িয়ে দিল:

"তুমি আল্লাহর সাথে কথা বলছো, কিন্তু থেমে তাঁকে তোমার সাথে কথা বলতে দিচ্ছো না।"

আমরা তাহাজ্জুদকে যেন একটা "চাওয়ার সময়" বানিয়ে ফেলেছি।

• আমরা আসি।
• নিজের চাওয়া-চাওয়ি বলি (দোয়া করি)।
• তারপর চলে যাই।

কিন্তু তাহাজ্জুদ শুধু কিছু চাওয়ার সময় না এটা একটা কথোপকথন। তুমি যদি শুধু বলতেই থাকো, তাহলে সম্পর্কের অর্ধেকটাই হারিয়ে ফেলছো।

সেই আলেম বুঝিয়ে বললেন, আল্লাহ তিনটি প্রধান পথে আমাদের সাথে কথা বলেন—

(১) কুরআনের মাধ্যমে→ এটা তাঁর সরাসরি বাণী।
(২) তাকদীর (Al-Qadr)-এর মাধ্যমে→ তোমার পরিস্থিতির পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে।
(৩) সাকীনাহ (As-Sakinah)-এর মাধ্যমে→হঠাৎ হৃদয়ে নেমে আসা অদ্ভুত, ব্যাখ্যাতীত শান্তির মাধ্যমে।

আমি বুঝতে পারলাম, আমি এতটাই ব্যস্ত ছিলাম আল্লাহকে আমার চাওয়া জানাতে, যে তিনি আমাকে কী দিচ্ছেন সেটা শোনারই সময় নিচ্ছিলাম না।

আল্লাহ বলেন—
"নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন তিলাওয়াত উপস্থিত থাকে (সাক্ষী থাকে)।" [১৭:৭৮]

আলেমরা বলেন, ফজর আর রাতের তিলাওয়াত ফেরেশতারা সাক্ষী থাকে। মানে? রাত ৩টার সেই নীরব মুহূর্ত এটা একটা কথোপকথনের জায়গা।

তুমি সিজদায় কাঁদতে কাঁদতে বলো—
"ইয়া আল্লাহ, আমাকে হেদায়েত দিন…"

তারপর উঠে কুরআন বন্ধ করে চলে যাও, অর্থাৎ, যে উত্তরের দরজা খোলা ছিল, সেখান থেকে সরে যাচ্ছো!

পরের রাত থেকে আমি আমার তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম বদলে দিলাম। দোয়া শেষ করেই আর ঘুমাতে যাইনি। চুপচাপ জায়নামাজে বসে রইলাম। কুরআন খুললাম সওয়াবের জন্য না, উত্তরের জন্য।

আর তখনই পেলাম। যে আয়াতটা হাজারবার পড়েছি, সেটাই হঠাৎ নতুনভাবে আঘাত করলো:

"তিনি তো আপনাকে পথহারা অবস্থায় পেয়েছিলেন, অতঃপর পথ দেখিয়েছেন।" [৯৩:৭]

কয়েক মাসের মধ্যেই এমন দরজা খুলতে শুরু করলো, যেগুলোর জন্য আমি কখনো কড়া নাড়িনি। যদি তুমি দোয়া করে করে ক্লান্ত হয়ে যাও, আর মনে হয় "কিছুই হচ্ছে না"

আজ রাতেই এটা চেষ্টা করে দেখো:

১. তোমার সালাত আদায় করো।
২. সম্পূর্ণ ভাঙা মন নিয়ে দোয়া করো।
৩. তারপর অন্তত ১০ মিনিট বসে থাকো। ধীরে
ধীরে কুরআনের এক পৃষ্ঠা পড়ো।

ভাবো। গভীরভাবে চিন্তা করো।

তোমার ঝড় কত বড় এটা আল্লাহকে বলা বন্ধ করো।
বরং শোনো তিনি তোমাকে দেখাচ্ছেন, তিনি কত বড়।

কম বলো। বেশি শোনো। দেখবে, আল্লাহ কীভাবে তোমার জীবনকে বদলে দেন।

✍🏻Afroza's Islamic Shorts

29/11/2025

মৃ'ত্যুকে আপনার মুক্তি বলে মনে হয় তাই না? জীবন থেকে পালানোর বড্ড শখ!
একবার ম'রে গিয়ে দেখুন না! কবরের জীবন কতটা বিভীষিকাময়। এক ফোঁটা শান্তির জন্য আপনি কাতরাবেন, ঠিক পানির পিপাসার মতোন। এই তৃষ্ণা মিঠাতে পারে কেবল স্বজনদের দোয়া এবং সদকায়ে জারিয়া।

বুক ফেটে আর্তনাদ করবেন, “কেউ আমার নামে কিছু দাও! শান্তির বাণী শোনাও।” কিন্তু, কয়েক ফোঁটা অশ্রু ফেলা ব্যতিত কেউই আপনার জন্য কিছুই করবে না।

আপনি মৃ'ত্যুর কথা বলছেন, কয়জন আছে যারা আপনার নামে সৎ কর্ম উৎসর্গ করবে? কয়জন আপনার কবরের পাশে গিয়ে তিলাওয়াত করবে? এবং ঠিক কয়জন আছে, যারা তাদের নামাজে আপনাকে স্মরণ করবে?

সুতরাং বেঁচে থাকাটাকে নেয়ামত মনে করুন এবং নিজের আখেরাত নিজেই গড়ে নিন।

28/11/2025

সূরা বাকারার ২৮৬ নাম্বার আয়াতটা অর্থসহ পড়েছেন কখনো? এটা নিয়ে চমৎকার একটা ব্যাখ্যা পড়েছিলাম।

এই আয়াতের শেষে আল্লাহ আমাদেরকে একটা দুয়া শিখিয়ে দিয়ে সেভাবে দুআ করতে বলেছেন। দুয়াটা হলো, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এমন বোঝা দিও না, যা সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই।

অথচ এই একই আয়াতের শুরুতে আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন, আল্লাহ কোনো প্রাণীকে তার সহ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।

যে দুআ আল্লাহ করতে বললেন তা আল্লাহ আগেই কবুল করে রেখেছেন তার জবাব আগেই জানিয়ে দিয়েছেন।

মানে বুঝতে পেরেছেন বিষয়টা? দুআ মানে শুধু আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া না। আপনার কি কি দরকার আর আর আপনি কতটা কষ্ট আছেন এটা শুধু বলার নাম দুআ না। তিনি আগেই জানেন। আগেই পরিকল্পনা করে রাখেন।

আসলে দুআ হলো, তাঁর দিকে ফিরে যাওয়া, নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা, অহংকার ভেঙে বলা যে আল্লাহ! আমি তোমারই মুখাপেক্ষী। দুআ হলো সম্পর্ক। ভালোবাসা। দাসত্বের স্বীকৃতি।

প্রত্যেকবার দুআর পর নিজেকে প্রশ্ন করবেন। দুআর মাধ্যমে কতটুকু তার দিকে ফিরতে পেরেছেন? কবুল না হলেও আল্লাহর উপর ভরসার জায়গাটা কতটুকু মজবুত রাখতে পেরেছেন? আপনার দুআটা ঠিকঠাক হচ্ছে তো?

Lines collected

23/11/2025
❝দোয়া কবুলের গল্পঃ❞"টাইপ-ওয়ান-ডায়াবেটিস" নামক মরণব্যধী নীরব ঘাতক রোগ কোনো লক্ষণ ছাড়াই আমার ২২বছরের মেধাবী মেয়ের একটা কি...
20/11/2025

❝দোয়া কবুলের গল্পঃ❞

"টাইপ-ওয়ান-ডায়াবেটিস" নামক মরণব্যধী নীরব ঘাতক রোগ কোনো লক্ষণ ছাড়াই আমার ২২বছরের মেধাবী মেয়ের একটা কিডনি নষ্ট করে ফেলেছে। ঢাকায় লাইফ সাপোর্টে থাকা আমার মেয়ে পড়তো পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর হার্টঅ্যাটাক হয়। বাধ্য হয়ে পায়ের আঙুলও কেটে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, "যেকোনো মুহূর্তে খবর পাবেন। সুতরাং লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করে রাখেন।" কিন্তু আমার মন সাঁই দিচ্ছিলো না। আমি বারবার বলছিলাম, "আল্লাহ কিছু একটা করবেন।"

এদিকে আমার মেয়ের অবস্থা অন্তিম পর্যায়ে। মেয়ের চাচা (আমার ভাই) এসে আমাকে বলছিলো, "গ্রামের বাড়িতে কবর খনন করতে বলে দিই ভাই..? কাজটা এগিয়ে থাক..?" কিন্তু আমার মন সাঁই দিলো না। আমি দৌড়ে চলে গেলাম মসজিদে। দু'রাকাত দুখুলুল মসজিদের সালাত আদায় করলাম। সেদিন ছিলো শুক্রবার। গত জুমাবার আমি ইমাম সাহেবের বয়ান থেকে শুনেছিলাম, রাসুল ﷺ বলেছেন, শুক্রবার দিনে এমন একটা বিশেষ মুহূর্ত আছে, যেসময় কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে যে দুআই করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। অতঃপর আমি দু'রাকাত হাজতের নামাজ পড়ে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দু'হাত তুলে মুনাজাতে কান্নায় ভেঙে পড়ি। কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলতে থাকি, "ওহ আল্লাহ! কালকের মধ্যে আমার মেয়েটার জ্ঞান ফিরিয়ে দাও"; "ওহ আল্লাহ! তুমি জ্ঞান ফিরিয়ে সুস্থ করে দাও। আল্লাহ গো! সারা পৃথিবীর কেউ পারছে না। কিন্তু তুমি চাইলে কিছুই অসম্ভব না। তুমি আমার মেয়েটাকে ভালো করে দাও।"

এরপর কি হলো জানেন..? বিজ্ঞ ডাক্তারদের রায় ভুল প্রমাণ করে পরেরদিন শনিবার সকাল দশটার মধ্যে মেয়েটার জ্ঞান ফিরে আসে। সুবাহানাল্লাহ। আমরা পুরো পরিবার সেদিন বলে উঠেছিলাম, সুবাহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি সুবাহানাল্লাহিল আযীম।। সেদিন শুক্রবার আমি এতো কেঁদেছিলাম, জীবনে কোনো দিন এতো বেশি কাঁদিনি। আমার রব আমার ডাক শুনেছেন। আমার বিশ্বাস ছিলো, দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো, সূর্য মিথ্যে হতে পারে কিন্তু রাসূল ﷺ এর হাদিস কখনো মিথ্যে হতে পারে না। আর এই দৃঢ় ইয়াকীন নিয়ে আমার রবকে আমি ডেকেছি, আলহামদুলিল্লাহ। এবং তিনি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।

তাই বলবো, দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দুআ কবুলের প্রতিটা মুহূর্ত এবং প্রতিটা হাতিয়ারকে আকড়ে ধরুন। হেলাফেলা করে দুআ কবুলের সময়গুলোকে নষ্ট করবেন না প্লীজ। আপনার হৃদয়ের দহন আল্লাহর সামনে তুলে ধরুন। তিনি তো নিজেই বলেছেন, *"আমার বান্দারা যখন আমাকে ডাকে আমি সাথে সাথেই তার ডাকে সাড়া দিই"*

~তবে মনে রাখবেন, আল্লাহ উদাসীন অন্তরের দুআ কবুল করেন না। দুআ কবুলের জন্য অন্তরের দৃঢ়তা এবং একাগ্রতা/আন্তরিকতা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের সবার নেক মাকসাদগুলো কবুল করুন, আমিন

—আস্তাগফিরুল্লাহ
— সংগৃহিত

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MUIZ Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share