29/08/2022
🟩সদকা
🟢ইসলামি পরিভাষায় সদকা বলা হয় দান করাকে। অনেকেই মনে করেন থাকেন, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য নিজ উপার্জিত অর্থ-সম্পদ দান করার নামই হলো সদকা। তবে সুলুল্লাহ (সা.) বলে গেছেন , ‘সব নেক কাজই সদকা।’ (সহিহ বুখারি: ৬০২১)
💠সদকার ধরনঃ যে কোন ধরনের ভালো কাজেই মানুষ সদাকার সওয়াব পেতে পারে। ধৈর্য ধারণ করা সহনশীলতা,, ক্ষমা করা, পরপোকারী হওয়া, কাউকে ভালো কাজের আদেশ ও উপদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ ও বাধা দেয়াও সদকা, এমনকি মানুষের সাথে ভাল আচরণ করাও হতে পারে কারো সদাকা।
💠সম্পর্কিত হাদিসঃ হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ যে কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে বস্ত্র দান করবে, আল্লাহপাক তাকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিধান করাবেন। যে কোন মুসলমান অন্য কোন ক্ষুধার্ত মুসলমানকে আহার করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল থেকে আহার করাবেন। যে কোন মুসলমান অন্য কোন পিপাসার্ত মুসলমানকে পানি পান করাবে, আল্লাহ তাকে ‘রহীকে মাখতুম’ থেকে পান করাবেন। -আবু দাউদ।
🟩সদকায়ে জারিয়া
🟢অন্যদিকে , আরবি শব্দ সদকায়ে জারিয়া । সদকা শব্দের অর্থ দান করা এবং জারিয়া অর্থ প্রবহমান, চলমান। সদকায়ে জারিয়া বলতে এমন দানকে বুঝায় যার কার্যকারিতা কখনো শেষ হবে না এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে। অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত কবরে শুয়ে শুয়ে সদকাকারী ব্যক্তি এর সওয়াব পেতেই থাকবেন। নবী করিম (সাঃ) বলেন -‘যখন আদম সন্তান মারা যায় তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ব্যতীত। ১. সদকায়ে জারিয়াহ্, ২. এমন ইলম বা জ্ঞান যা দ্বারা মানব জাতি উপকৃত হয়, ৩. এমন সুসন্তান যে তার জন্য দোআ করে। [মুসলিম শরীফ]
💠সদকায়ে জারিয়ার ধরনঃ সদাকায়ে জারিয়ার অনেক প্রকার ও উদাহরণ রয়েছে। যেমন—গাছ লাগানো, মসজিদ নির্মাণ, কুপ খনন, মুসহাফ (কুরআনগ্রন্থ) ছাপানো ও বিতরণ, বই-ক্যাসেট ছাপানো ও বিতরণের মাধ্যমে জ্ঞান প্রচার করা।
💠সম্পর্কিত হাদিসঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নিশ্চয় মুমিনের মৃত্যুর পর যে আমল ও যে নেকী তার কাছে পৌঁছে সেটা হলো এমন ইল্ম যা সে শিখিয়ে গেছে কিংবা প্রচার করে গেছে, কোন নেক সন্তান রেখে গেছে, কোন মুসহাফ (কুরআনগ্রন্থ) রেখে গেছে কিংবা কোন মসজিদ বানিয়ে গেছে কিংবা মুসাফিরের জন্য কোন ঘর বানিয়ে গেছে কিংবা কোন নদী খনন করে গেছে কিংবা তার সুস্থতাকালে ও জীবদ্দশায় নিজের সম্পদ থেকে কোন সদকা করে গেছে তার মৃত্যুর পরেও যা তার কাছে পৌঁছে।[সুনানে ইবনে মাজাহ (২৪২); মুনযিরি ‘আত্-তারগীব ওয়াত তারহীব’ গ্রন্থে (১/৭৮) বলেন: এর সনদ হাসান। আলবানী হাদিসটিকে ‘সহিহু সুনানে ইবনে মাজাহ’ গ্রন্থে ‘হাসান’ বলে]
🟩সকল মুমিন ব্যক্তির সদকা ও সদকায়ে জারিয়া আমলের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখা উচিত। তবে দান শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য করতে । আমরা কেউ এ পৃথিবীতে কেউ থাকবো না , সবাইকেই যেতে হবে ।আমাদের সাথে যাবে আমাদের করা আমলের সওয়াব। আর সওয়াবের পাল্লা ভারি করার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে সদকা ও সদকায়ে জারিয়া।