Dr. Radheshyam-Pranati Foundation

Dr. Radheshyam-Pranati Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Radheshyam-Pranati Foundation, Charitable organisation, Dhaka.

Dr.Radheshyam-Pranati Foundation (DRP Foundation) is a charitable organization which dedicatedly working to develop the livelihood of elderly persons by ensuring a secured, dignified and most importantly healthy and friendly environment in our country.

18/04/2026
ডিআরপি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও " পরেশ–অঞ্জলী শিক্ষা বৃত্তি-২০২৬" প্রদান অনুষ্ঠানের কিছু স্থিরচিত্র।
22/02/2026

ডিআরপি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও " পরেশ–অঞ্জলী শিক্ষা বৃত্তি-২০২৬" প্রদান অনুষ্ঠানের কিছু স্থিরচিত্র।

19/02/2026

।।সময়ের বাইরে দুজন মানুষ।।
ড. রাধেশ্যাম সরকার
অবসরের পর থেকেই ফজলুর রহমান কিরনের দিনগুলো যেন একঅনন্ত দুপুরে থমকে গেছে। সকালের সূর্য ওঠে, পাখিরা ডাকাডাকিকরে, পাশের ফ্ল্যাটের দরজা খোলে বন্ধ হয় যেন সব কিছু আগেরমতোই চলে, শুধু তিনি আর সেই প্রবাহের অংশ নন। এক সময়অফিসের ব্যস্ততা, মিটিং, ফাইল, ফোন কল, সহকর্মীদের কোলাহলসব মিলিয়ে জীবন ছিল সময়ের সাথে দৌড়ের মতো। এখন সময়অনেক, অথচ সেই সময় যেন তাঁর নয়।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানালার পাশে বসে থাকেন। রাস্তায়মানুষের ভিড়, গাড়ির হর্ন, কেউ কাজে যাচ্ছে, কেউ ফিরে আসছে।সবাই ব্যস্ত, কেবল তিনিই নিস্তব্ধ। কোলে একটা পুরোনো ম্যাগাজিনরাখা, পাতাগুলো নড়ছে না, শুধু তাঁর আঙুলের ফাঁকে আলগা হয়েআছে।
স্ত্রী শরিফা বেগম সংসারে নিজস্ব ছন্দে ব্যস্ত। সব কাজ করেন, কারোসাহায্য লাগে না। কথাবার্তা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তবু তাঁরমুখে একটা নীরব ক্লান্তি লেগে আছে, যা সহজে চোখে পড়ে না কিন্তুঅনুভব করা যায়।
তিনি রান্নাঘর থেকে ডেকে বললেন,
— কী গো, এইভাবে চুপ করে বসে আছো যে!
কিরন সাহেব মাথা না তুলে বললেন,
— কী আর করব! করার কিছুই তো নেই।
শরিফা একটু হেসে বললেন,
— সত্যিই তো, কিইবা করবে? এই একটু টিভি দেখতে পারো, সিরিয়াল, নিউজ, গান, সিনেমা... সময় কাটবে।
— দূর, ভালো লাগে না। আজেবাজে সিরিয়াল! জীবনের সঙ্গে কোনোমিল নেই। আর গান? আমাদের সময়ের গান কেউ আর গায় না। সবকেমন কৃত্রিম, যান্ত্রিক।
— সেটাও ঠিক বলেছো। আচ্ছা, তাহলে কিছু খাবে? আলুর চপদেবো? চা, কফি, না কি বাদাম চানাচুর?
কিরন সাহেবের সবই খেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু শরীরের বয়স আরঅনুমতি দেয় না। কিছু খেলেই হজমের ঝামেলা। আমতা আমতাকরে বললেন,�— ভয় হয়, হজম না হলে আবার সারারাত গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা!
— তাহলে এসো, দুজনে বাইরে হেঁটে আসি। একটু হাওয়া খেলেমনটাও ফুরফুরে হবে।
— আজ পায়ের ব্যথাটা একটু বেড়েছে। শরীরে আর তেমন শক্তিওনেই।
শরিফা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ হেসে বললেন,
— বেশ, তাহলে এসো দুজনে ঝগড়া করি!
কিরন সাহেব তাকিয়ে বললেন,
— ঝগড়া? কী নিয়ে ঝগড়া করব? কোনো কিছুর অভাব আছে নাকি!
তারপর দুজনেই হেসে উঠলেন। কিরন সাহেব বললেন,
— দেখো, লক্ষ কথার এক কথা, অভাব নেই। আগে কত কিছুইচাইতে তুমি; শাড়ি, গয়না, ছেলেমেয়ের জামা... আমি এনে দিতেপারতাম না, আর তুমি অভিমান করতে। এখন আর কিছুই চাও না, তাই ঝগড়াও হয় না। অভাবটা চলে গেছে, তাই জীবনে মজা নেই।
শরিফা মৃদু হেসে লম্বা শ্বাস নিলেন,
— সত্যিই, কী ছেলেমানুষীটাই না করতাম আমি! সামান্য শাড়িনিয়েও মান-অভিমান। ছেলেমেয়ে ছোট ছিল, সংসারে টানাপোড়েন, সবকিছু নিয়েই ঝগড়া হতো। এখন ওরা মানুষ হয়েছে, আমরা বুড়োহয়েছি, সংসার শান্ত।
— শান্তই বটে, তবে একটু বেশি শান্ত। মনে হয়, নীরবতার ভেতরেইবয়সের ভারটা টের পাই।
দুজনেই চুপ করে গেলেন। ঘরের ঘড়িতে টিকটিক শব্দ। বাইরে আলোধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে। শরিফা দৃষ্টি স্থির করে জানালার বাইরে তাকিয়েবললেন,�— তাহলে যাও, একটু ঘুমিয়ে নাও। পুঁটলি হয়ে বসে থেকো নাসারাক্ষণ।
— কত ঘুমাবো? এখন তো ঘুমও আসে না। রাতেও আধো ঘুমেকাটে।
— আচ্ছা, আজ বাবুর ফোন এল? আর মাম এর?
— না, এখনো আসেনি। কী জানি! ওদের ওখানে এখন কটা বাজে কেজানে! এখানে তো সন্ধ্যে ছ’টা বাজতে চলল।
— ওদের তো এখন সকাল। সকালবেলা সবাই ব্যস্ত থাকে, কাজেবেরোয়। ফোন করার সময় কোথায়?
— হুঁ, মিছে চিন্তা করে লাভ নেই। সময় পেলে ঠিকই ফোন করবে। ওরানিজের জায়গায় ভালো আছে, এটাই তো চাই।
শরিফা একটু থেমে বললেন,
— ঠিক বলেছো। তবু না, কখনো কখনো খুব শুনতে ইচ্ছে করে ওদেরকণ্ঠস্বরটা। যেন মনে হয়, ঘরটা আবার ভরে উঠল হাসিতে।
— জানি, আমারও তাই লাগে। কিন্তু সময় বদলায়, জীবনও বদলায়।
— আচ্ছা, তুমি চা খাবে?
— না, বিকেলে বারেকের দোকানে এক কাপ খেয়েছি। আচ্ছা, তোমারমনে আছে, কত কষ্ট করে ওদের মানুষ করেছি?
শরিফা কাছে এসে তাঁর কাঁধে হাত রাখলেন।
— মনে থাকবে না কেন? তবে ওটাই তো আমাদের কর্তব্য ছিল গো।মানুষ না হলে কি আমাদের এই শান্তি মিলত?
কিরন সাহেব মৃদু হেসে বললেন,
— ঠিক বলেছো। একজন ডাক্তার, একজন ইঞ্জিনিয়ার, মানুষের মতোমানুষ হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি একটু কম পড়ত, একটুবেশি মানবিক হতো, তাহলে হয়তো আমাদের পাশে থাকত!
শরিফা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
— দ্যাখো, স্বার্থপরের মতো কথা বলো না। আজকাল যারাবাবা-মাকে সঙ্গে রাখে, তারাও কি সুখে থাকে? সংসারে শান্তি থাকেক’জনের? আমি ভাবি, ওরা সুখে থাকলেই তো ভালো। তবু... কখনোকখনো মনে হয়, যদি পাশে থাকত, এক কাপ চা হাতে বসে গল্পকরত...
কথা শেষ হবার আগেই তাঁর চোখ ভিজে উঠল। কিরন সাহেব হাতবাড়িয়ে শরিফার হাত ধরলেন, ধীরে টেনে নিলেন পাশে।
— এই যে, আবার কান্না! আরে, আমি তো আছি নাকি? আমরাএকসাথে আছি, এই তো সবচেয়ে বড় সুখ। আর ওরা, যেখানেই থাক, আমাদের কথা নিশ্চয়ই মনে রেখেছে।
শরিফা চোখ মুছতে মুছতে বললেন,
— আচ্ছা, তুমি বসো, আমি চা করে আনছি।
— না না, দরকার নেই। এখানেই থাকো। চা পরে হবে। এসো, একটুকাছে বসো।
— কী হয়েছে তোমার আজ? শরীর খারাপ নাকি?
— না গো, শরীর ভালোই আছে। শুধু একটু বলতে ইচ্ছে করছে—শেষ সময়ে এভাবে পাশে থাকবে তো?
শরিফা হেসে তাঁর হাত চেপে ধরলেন,
— বোকা মানুষ! পাশে ছাড়া আর যাব কোথায় বলো!
কিরন সাহেবের কণ্ঠ মৃদু হয়ে এলো। চোখে আলো-ছায়ার খেলা। ধীরেধীরে গুনগুন করে গাইতে লাগলেন—
“যে মাধবী তলে দাঁড়ায়ে প্রথম বলেছিলে ভালোবাসি,
আজো সে লতায় ফুল ফোটে হায়,
এমনই বাজে গো বাঁশি... এমনই বাজে গো বাঁশি।”
গানটা শেষ হতেই ঘরে যেন এক মায়াবী নিস্তব্ধতা নেমে এলো। বাইরেসন্ধ্যার আলো নিভে গেছে, কিন্তু জানালার ওপারে আকাশে দেখাদিয়েছে এক টুকরো চাঁদ দুজন মানুষের জীবনের মতোই নরম, শান্ত, তবু অদ্ভুত উজ্জ্বল।

19/02/2026

━❀ গল্পে গল্পে প্রবীণ কথণ ❀━
।। শেষ বেলার ছায়া ।।
- ড. রাধেশ‍্যাম সরকার
সকাল সাতটা। শহরের কোলাহলে তখনো পুরোপুরি গতি আসেনি। আবু সাইদ ধীর পায়ে বারান্দায় এসে বসলেন। ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা তাঁর পাতলা পাঞ্জাবি কাঁপিয়ে দিল। চোখ লাল, রাতে ভালো ঘুম হয়নি। আজকাল আর ঘুম আসে না ঠিকঠাক, মনটা সারাক্ষণ খারাপ থাকে।
হাত বাড়িয়ে পাশের টেবিল থেকে এক কাপ চা নিতে চাইলেন, কিন্তু সেখানে কিছুই নেই। ভোরে স্ত্রী শয়েলার কাছে বলেছিলেন,
—শায়েলা, একটু চা দেবে? মাথাটা ধরেছে।
শায়েলা মুখে ঘুরিয়ে বলে,
— আর একটু পরে দেই না? ওদিকে বৌমা ডাকছে, চুলায় ডাল চাপানো।
বৌমার ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন একটু, দরজাটা আধা খোলা। নাতিকে স্কুলের জন্য তৈরি করছে।
— চা করো বৌমা, একটু খাই।
— আব্বা, আজকে রিমনকে সময়মতো স্কুলে দিতে হবে। বাস আসবে সাড়ে সাতটায়। হাতে সময় নাই। সাথে সাথে দরজা বন্ধ।
কাজের মেয়েটার দিকে তাকিয়ে একটা মিনতির হাসি ছুঁড়ে বললেন,
— তুই এক কাপ চা করিস তো সুমা।
— খালু, হাতে অনেক কাজ, দোকানে যাবো আইসা করি না চা? হ্যাঁ, পারমু না।

আবু সাইদ একা বারান্দায় বসে থাকেন। নিচে পার্ক দেখা যায়। একসময় সেখানে হেঁটে বেড়াতেন, পুরনো বন্ধুরা থাকতো পাশে, গল্প হতো, হো হো হাসি। এখন? হাঁটতে বের হলেই বৌমা বলেন,
— আব্বা, রিমনকে স্কুলে নিয়ে যান। ড্রাইভার ছুটিতে।
নাতিকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে পার্কে গেলেন আজ। এক কোণের বেঞ্চে বসে রোদে শুকিয়ে যাওয়া পাতা গুনছেন। হঠাৎ পাশে এসে বসলো তাঁর পুরনো বন্ধু হাশেম সাহেব।
— কী রে সাঈদ, আজকাল মুখে হাসি নেই তোর! কেমন আছিস?
— ভালো আছি রে, এমনিই একটু হাঁটতে বের হয়েছিলাম, বলে সাঈদ সাহেব মুখ ফিরিয়ে নেন।
কিন্তু হাশেম সাহেব তো সহজে ছাড়ার পাত্র নন। বললেন,
— তুই কি আমায় এখনো চিনিস না? তোর চোখই সব বলে দিচ্ছে। কিছু তো হয়েছে। বল না, মনটা হালকা কর।
দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে আবু সাঈদ সাহেব ধীরে ধীরে বলা শুরু করলেন।
— জীবনে কী করিনি বল তো? রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সংসার গড়েছি। ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছি। বিয়ে দিয়েছি। এখন সবাই প্রতিষ্ঠিত। বিশাল বাড়ি গাড়ী সবই করেছি।
— তাহলে তো তুই রাজা হয়ে থাকা উচিত! হেসে বললেন হাশেম।
সাঈদ সাহেব কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলেন,
— আমি এখন এই রাজপ্রসাদের রাজাতো নই, যেন এখন এই ঘরের লোক না। আমি যেন বাড়ির পুরানো চেয়ারটা-যেটা কেউ ফেলে দিতে চায়, তাও ফেলা যায় না বলে কোণায় রেখে দেয়। আমি এখন ছায়া হয়ে গেছি, ভাই। চোখে পড়ে না, অথচ পাশে আছি।
দুই বৃদ্ধ চুপ করে বসে থাকেন। মাথার উপর দিয়ে কাক উড়ে যায়, সূর্য আরেকটু উপরে ওঠে। বাড়িতে তখন বৌমা গলায় চিৎকার দিচ্ছেন,
— আব্বা কি এখনও পার্কে? রিমনের স্কুল এখনই ছুটি হবে।
কিন্তু সাইদ সাহেব আর তেমন কিছু শোনেন না। তাঁর ভেতরের কান বহুদিন আগেই শ্রবণশক্তি হারিয়েছে—অবহেলার শব্দ শুনতে শুনতে।
রিমন দাদুকে পার্কের বেঞ্চে দেখতে পেয়ে দৌড়ে এসে আঁকড়ে ধরল। কাঁধে ব্যাগ ঝুলছে, চোখে আলো, মুখে দৃঢ়তা। বললো,
— জানো দাদু, আজ স্কুলে 'হিরো' নিয়ে লিখতে বলেছিল। আমি লিখেছি, “আমার দাদু আমার হিরো।” রিমন দাদুকে কৌতহলী ভঙ্গিতে বললো,
— দাদু, তোমাকে বাড়ির লোকজন পাত্তা দেয় না কেন? সাঈদ সাহেব নির্বিকার।
— থাক দাদু ভাই, তোমার এসব নিয়ে ভাবার দরকার নেই। মন দিয়ে পড়শুনা কর।
দাদু নাতনি হাত ধরা ধরি করে বড়ি পৌছিঁল। তারপর বাড়ির সবাইকে ডেকে গম্ভীর গলায় রিমন বলল,
— তোমরা শোন, এই বাড়িটা দাদুর। দাদু না থাকলে কিছুই হতো না। আর শুনে রাখো সবাই—তোমরা যদি দাদুকে পাত্তা না দাও, মর্যাদা না দাও, আমি স্কুলে সবাইকে বলে দিবো। বলবো, আমার হিরোকে কেউ ঠিকমতো চা পর্যন্ত দেয় না। বলে ছোট্ট হাতটা শক্ত করে দাদুর হাত ধরে টেনে ওঠায়।
দাদু ঘরে পৌঁছতেই শায়েলা ছুটে এলেন।
— আরে, তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? তোমার জন্য চা করে রেখেছি অনেকক্ষণ! একটু গরম করে দেই?
বৌমা পেছন থেকে এগিয়ে এসে ধীরে মাথা নিচু করে বললেন,
— আব্বা, রিমনের মুখেই আজ চোখ খুলে গেল আমাদের। আমরা ভুল করেছি। আমাদের ক্ষমা করে দিন। আপনি ছাড়া এই বাড়ি শুধু দেয়াল আর দরজা। এবার থেকে আপনার সবকিছু ঠিকঠাক দেখবো।
আবু সাইদ কিছু বলেন না। শুধু নাতির মাথায় হাত রাখেন, চোখে জল, কিন্তু সে জল দুঃখের নয়—এটি হালকা হওয়ার, মর্যাদা ফিরে পাওয়ার।
চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়ান তিনি। রোদ এসে পড়েছে মুখে। ছায়া পেছনে সরলেও এখন আর সেটা একাকী নয়, তার পাশে আছে একটি ছোট হাত, যার দৃঢ়তা গোটা পৃথিবীর সমান।
লেখক- চেয়ারম‍্যান, ডিআরপি ফাউন্ডেশন।

Address

Dhaka

Telephone

+8801715421277

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Radheshyam-Pranati Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Dr. Radheshyam-Pranati Foundation:

Share