বাংলাদেশ বুক রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন দেশের তুমুল জনপ্রিয় পাঠক কল্যাণমূলক সংগঠন। এটি কাজ করছে সারাদেশের পাঠকদের নানাবিধ উন্নয়ন ও দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে। দেশের মানুষকে বইয়ের সাথে সম্পৃক্ত তথা বইমুখী করাই এই সংগঠনের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ বুক রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর নিজস্ব গঠনতন্ত্রের ৩ নং অনুচ্ছেদে সংগঠনের জন্য ১৫ টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা রয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নিই বাংলাদ
েশ বুক রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ-
১. দেশের শিক্ষার্থীদের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাময় প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করা। তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা।
২. সৃষ্টিশীল, সামাজিক মানুষ ও সুনাগরিক সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কর্মশালা যেমন- বিতর্ক, কুইজ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিনামূল্যে তথ্য সেবা ও সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
৩. দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের সার্বিক মুক্তির চেতনাকে লক্ষ্য রেখে উৎসঙ্গ সকল কর্মসূচি প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর থাকা।
৪. দেশবাসীর মধ্যে ভাতৃত্ববোধের নিবিড় সম্পর্ক স্হাপনের জন্য ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার কল্যাণে কাজ করা ।
৫. দেশের সকল পাঠক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পেশাগত অসুবিধাসমূহ ও তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের পথে যেসব অন্তরায় বিদ্যমান, সেসব দূরীকরণে যথাযথ উদ্যেগ গ্রহণ করা ।
৬. সমাজ জীবনকে বিপথগামী ও কলুষিত করতে পারে এমন জাতীয় অপসংস্কৃতি অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা ।
৭. সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিমুখ মানুষদেরকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় উজ্জীবিত করা, নবীনদের লেখনিকে পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও বইয়ে প্রকাশ করা এবং তাদের লেখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা ।
৮. বাংলাভাষী সকল প্রথিতযশা ও সম্ভাবনাময় কবি, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, অভিনেতাদের সমাজ বিকাশের স্বার্থে ব্যবহার করা ।
৯. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে স্যাটেলাইট সংস্কৃতির প্রবল প্রভাবে আচ্ছন্ন নিজ দেশীয় সংস্কৃতি। দেহসর্বস্ব, কু-রুচিপূর্ণ অসুস্থ বিনোদনের এই সর্বগ্রাসী প্রভাব রোধ করার জন্য সমান্তরাল সুস্থ সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ধারা সৃষ্টির মাধ্যমে নিজ দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ সাধনের জন্য সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা।
১০. দেশের জনগণের বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান আহরনের লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও অঞ্চল ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
১১. সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা ও বিভিন্ন বিনোদন মূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বিনোদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা।
১২. দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মাদকাসক্ত, জুয়ারী, বখাটে ও অপরাধীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিনোদন, গণ সচেতনতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং কর্মসংস্থানের জন্য উৎসাহ প্রদান করা।
১৩. দেশের ঐতিহ্য সম্পৃক্ত বিলুপ্তপ্রায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পুনঃজীবনের চেষ্টা করা ।
১৪. বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে লালন, বিকাশ, প্রসার ও সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা ।
১৫. সর্বোপরি, দেশের পাঠক সমাজ ও মানবতার কল্যাণের জন্য সকল ধরনের কর্মসূচি এবং কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
•
উল্লেখ্য, সারাদেশের মানুষকে বইমুখী করতে অসামান্য অবদান রাখায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মহসিন কবির রোশান ও সংগঠনটি “আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২২”-এর জন্য মনোনীত হয়েছিলো। এছাড়াও, বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক পদক “গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশীপ এওয়ার্ড-২০২৩” জিতেছে সংগঠনটি।
পাশাপাশি তারা ইতিমধ্যেই “বইফেরী বিশেষ সম্মাননা” ও “বুকওয়ার্ম ও শুনবই বিশেষ সম্মাননা” অর্জন করেছে। যেটা এই সংগঠনকে করে তুলেছে জনপ্রিয় থেকে আরও জনপ্রিয়।